লগইন রেজিস্ট্রেশন

***ইলম থেকে লাভবান হওয়া***

লিখেছেন: ' manwithamission' @ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৮, ২০১০ (১২:৪০ পূর্বাহ্ণ)

ইলম থেকে লাভবান হওয়া

ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু:৭৫১ হিজরী) বলেন,
আমি বিভিন্ন মাশায়েখের সাথে দেখা করেছি যাদের জ্ঞানের বিষয় একজন অপরজনের থেকে ভিন্নতর ছিল এবং তাদের জ্ঞানের ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রেও ভিন্নতর ছিল। আমি এতজন মাশায়েখের মধ্যে তার নিকট থেকেই বেশী লাভবান হয়েছি যিনি যা জানতেন আর ঠিক সে অনুযায়ী তা পালন করতেন পক্ষান্তরে হয়তো তার চেয়েও অধিক জ্ঞানী ব্যক্তি ছিল কিন্তু তারা যা জানতো তা পালন করতো না।

আমি একদল ব্যক্তির সাথে দেখা করেছিলাম যারা অনেক জানতো এবং হাদীস মুখস্থ করেছিল যদিও তারা মানুষের বাহ্যিক ধরণ দেখে নিন্দা করাকে অনুমোদন করতো। তারা হাদীস বর্ণনা করার জন্যে অর্থ গ্রহণ করতো আর কেউ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে খুব দ্রুত তার উত্তর দিয়ে দিতো এই আশংকায় যদি তাদের স্ট্যাটাস কমে যায়, যদিও তারা উত্তরের ক্ষেত্রে ভুল করতো।

আমি আব্দুল ওয়াহাব আল আনমাতী এর সাথে দেখা করেছিলাম, তিনি সালাফদের (সালাফ =আল্লাহর রাসূল ﷺ, সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীন) অনুসরণ করতেন। তার উপস্থিতিতে কেউ কারো নিন্দা করেছে এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। তিনি হাদীস বর্ণনা করার জন্যে কোন অর্থ গ্রহণ করতেন না। আমি যখনই তার সামনে কোন হৃদয়গ্রাহী কোন হাদীস পড়তাম তিনি কেঁদে ফেলতেন। আমি সে সময় অনেক ছোট ছিলাম আর তার কান্না আমার হৃদয়ে রেখাপাত করেছিল। তিনি শান্ত এবং ধীর স্থির গুণ বিদ্যমান ছিল ঠিক যেমনটি আমরা বর্ণনাগুলোর(হাদীস বর্ণনা) মধ্যে পেয়ে থাকি।

আমি আবু মানসুর আল জাওয়ালীকির সাথে দেখা করেছিলাম, তিনি পান্ডিত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করতেন আর তিনি তারা বক্তব্যের ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক থাকতেন। মাঝে মাঝে তাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হতো, প্রশ্নটিকে সহজ বলে মনে হতো কিন্তু তিনি হুট করে কোন উত্তর দিয়ে দিতেন না ঠিক যেমনটি আমাদের তরুন কাউকে জিজ্ঞাসা করলে দ্রুততার সাথে উত্তর দিয়ে দেয়। তিনি উত্তর দেওয়া থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিরত থাকতেন যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। তিনি অনেক রোজা রাখতেন আর নীরব থাকতেন। এইভাবে আমি এই দুইজন ব্যক্তির নিকট থেকে যতটা লাভবান হয়েছি ঠিক ততটা অন্য কারো নিকট থেকে লাভবান হয়নি আর আমি তাদের নিকট থেকে বুঝতে পারলাম, “মানুষকে সঠিক পথে আহবান করার ক্ষেত্রে কথা যতটা না অবদান রাখে, তার চেয়ে বাস্তবে সেটা করে দেখিয়ে আহবান করলে তা মানুষকে বেশী উদ্দীপ্ত করে।” কাজেই আল্লাহর শপথ, যে যা জানে সে অনুযায়ী তা তার জীবনে বাস্তবায়ন করাটাই হচ্ছে তার জন্যে অনেক বড় ভিত্তি। সত্যিকার অর্থে মিসকিন হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে শুধু শিখেই তার জীবনটা নষ্ট করে দিল অথচ সে যা জেনেছে সে অনুযায়ী তার জীবন পরিচালিত করলো না। আর এভাবে সে পার্থিব জীবনের এবং আখিরাতের সুখ-আনন্দ হারিয়ে ফেলে, সে কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো অকাট্য প্রমাণের অভিযোগসহ শূন্য অবস্থায় উপস্থিত হবে।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৭৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৩ টি মন্তব্য

  1. আলহামদুলিল্লাহ, আমরা জান্নাতের জন্য জানবো, জানাবো। আল্লাহ অহংকার থেকে আমাদের হিফাজাত করুন