লগইন রেজিস্ট্রেশন

যে সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করে তার বেলায় বিধান – ২

লিখেছেন: ' মেরিনার' @ রবিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০০৯ (১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ)


দ্বীনের এমন কিছু অস্বীকার করা যা কিনা নিশ্চিতভাবেই এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

[আমরা আগের একটা পোস্টে বলেছিলাম যে, প্রায় ১১৮টি মহামূল্যবান classical বইয়ের রেফারেন্স সমৃদ্ধ, স্প্যানিস ধর্মান্তরিত মুসলিম Jamal al-Din M Zarabozo-র গবেষণা গ্রন্থ "The Authority and Importance of Sunnah" থেকে, আমরা কিছু অংশ অনুবাদ করে করে তুলে দেবো আপনাদের জন্য, যা পড়লে যে কেউ বুঝবেন যে, হাদীস বা সুন্নাহর ব্যাপারে classical স্কলাররা কত serious ছিলেন। আজ সেই বই থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের একাংশ তুলে দেবো ইনশা'আল্লাহ্, যে অধ্যায়ের নাম হচ্ছে:"যে সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করে তার বেলায় বিধান" । মূল বইটি সংগ্রহ করতে চাইলে বা ঐ বই সম্বন্ধে জানতে চাইলে, নীচের লিংকে ক্লিক করুন: http://www.al-basheer.com/cgi-bin/category.cgi?item=10007&type=store]


যে ব্যক্তি সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করে তার ব্যাপারে বিভিন্ন স্কলারদের বক্তব্য

একজন মুসলিমকে একজন অমুসলিম থেকে পার্থক্যকারী বিষয়সমূহ নিয়ে ইসলামের যেসব স্কলার আলোচনা করেছেন, তারা এ ব্যাপারে একমত যে, নবীর (সা.) সুন্নাহকে নিখুঁত উদাহরণ বলে মেনে নেয়ার বাধ্যবাধকতাকে যে অস্বীকার করে, সে মুরতাদ হয়ে যায়।
ইবন হাজম লেখেন “একজন ব্যক্তি যদি বলে, ‘আমরা কেবল কুর’আনে যা পাই তাই অনুসরণ করি’ তবে এই (মুসলিম) জাতির ইজমা মতে সে একজন কাফির হয়ে গেছে।”
আল-শাওকানী বলেন, “সুন্নাহর অবস্থান এবং আইনের এক স্বনির্ভর উৎস হিসাবে এর মর্যাদা হচ্ছে এমন এক জ্ঞানের অংশ যা প্রত্যেক মুসলিমেরই জানা রয়েছে। এবং ইসলামের সাথে যাদের সম্পর্ক নেই তারা ছাড়া আর কেউই এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করে না।”
যে ব্যক্তি সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করে এবং কেবল কুর’আন অনুযায়ী জীবন যাপন করে, তার ব্যাপারে শায়খ আল দাওসিরিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন:
“…..এটা হচ্ছে যিন্দিক এবং উৎপথগামীদের দাবী, যারা কিনা ঈমানের অর্ধেক অস্বীকার করে এবং তারা কুর’আনকে সম্মান দেখাচ্ছে বলে মানুষকে বোকা বানায়। তারা হচ্ছে মিথ্যাবাদী কেননা কুর’আন নিশ্চয়ই রাসূলের (সা.) প্রতি আনুগত্যের আদেশ দেয় আর যা কিনা কেবল সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমেই করা সম্ভব…..। এ ব্যাপারে আর কারো কাছ থেকেই কোন ভিন্নমত নেই, কেবল তারা ছাড়া যাদের সাথে দ্বীন ইসলামের কোন ধরণের কোন সম্পর্ক নেই।”
আবদুল আযীয বিন বায লিখেছেন: “সুন্নাহ অস্বীকার করা এবং সেটাকে প্রযোজ্য নয় বলে মনে করা হচ্ছে কুফর ও রিদ্দার একটা কাজ, কেননা যে কেউ যে সুন্নাহ অস্বীকার করে সে আসলে কুর’আনই অস্বীকার করে। আর যে কেউ যে (কুর’আন ও সুন্নাহর) যে কোন একটি অথবা দুটোই অস্বীকার করে সে আসলে সকল মাযহাবের মত অনুযায়ী কাফির।”

আস-সূয়ুতী বলেন: “নবী (সা.)-এঁর হাদীস যা তাঁর কোন একটি কথা বা কাজের বর্ণনা (এবং যা কিছু সহীহ হবার শর্তগুলা পূরণ করে) সেটাকে দলীল বলে গ্রহণ করতে যে অস্বীকার করে, তোমাদের জানা উচিত, এবং আল্লাহ তোমাদের সকলের উপর রহম করুন, যে সে একজন কাফির হয়ে গেছে। এবং (কিয়ামতের দিন) তাকে ইহুদী ও খৃষ্টানদের সাথে, অথবা আল্লাহ তাকে অন্য যে দলের সাথে ইচ্ছা করেন, সে দলের সাথে একত্রিত করবেন।”

এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে – যে সুন্নাহ অস্বীকার করে, তার অবিশ্বাস বা কুফর যে কেবল কিছু মানুষ বা স্কলারদের অনুসিদ্ধান্ত, আর তাই সেটা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে, ব্যাপারটা কিন্তু সেরকম নয়, অথবা ব্যাপারটা কিন্তু এমনও নয় যে, তা কেবলই স্কলারদের ইজমা, যা হলে অবশ্য সেটার বিরোধিতা করা আরো কঠিন হতো। বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, এমন বেশ কতগুলো আয়াত যেগুলো আমরা ইতোমধ্যেই উপস্থাপন করেছি, তা থেকে পরিস্কারভাবে বোঝা যায় যে, যে সুন্নাহকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে (বা সুন্নাহর কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে) তার অন্তর ঈমানশূন্য এবং সে অবিশ্বাসীদের একজন। বিশেষভাবে যে কারো উচিত পূর্বে আলোচিত নিম্নলিখিত আয়াতগুলো খেয়াল করে দেখা:
কিন্তু না, তোমার রবের শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকার বিশ্বাস করে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের বিচার-ফয়সালার ভার তোমার উপর ন্যস্ত করে না, এবং তুমি যা ফয়সালা দাও সে ব্যাপারে মনে কোন অসন্তোষ বোধ করে না এবং পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে।” (সূরা নিসা, ৪:৬৫)

“যখন তাদেরকে বলা হয় ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার কাছে আস এবং রাসূলের কাছে আস’ তুমি তখন মুনাফিকদের বিরক্তিভাবে তোমার দিক থেকে পিঠ ফিরিয়ে নিতে দেখ।” (সূরা নিসা, ৪:৬১)

“বলুন, আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর। আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রাখ যে আল্লাহ কাফিরদের ভালবাসেন না।” (আলে ইমরান, ৩:৩২)

বাস্তবে গোটা সুন্নাহকে অস্বীকার করার মাঝেই এই কুফর বা অবিশ্বাস সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাসূল (সা.)-এঁর বরাত দিয়ে, যে কেউ যা কিছু শোনে, সে যদি নিশ্চিত হয় যে সত্যিই তা রাসূল(সা.)-এঁর কাছ থেকে এসেছে, তবে সেটা অস্বীকার করার নামই কুফর। সুলায়মান ইবন সাহমান বলেন, “স্কলারদের ভিতর এ ব্যাপারে কোন মতপার্থক্য নেই যে, কোন ব্যক্তি যদি কিছু কিছু বিষয়ে নবীকে (সা.) বিশ্বাস করে এবং কোন বিষয়ে নবীকে (সা.) অস্বীকার করে, তবে সে ইসলামে প্রবেশ করে না; সে হচ্ছে তার মত যে কোন ফরজ কাজ অস্বীকার করে…..।” ইবন বাত্তাহ বলেন, “রাসূল (সা.) যা নিয়ে এসেছেন, কোন ব্যক্তি যদি তার একটি ছাড়া সবকিছুতেই বিশ্বাস করে এবং সেই একটিকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে সে সকল স্কলারের মতানুযায়ী একজন কাফের।” উপরন্তু নবীর (সা.) কোন বক্তব্য সে বিশ্বাস করতে চায়, আর কোন বক্তব্য সে বিশ্বাস করতে চায় না এ ব্যাপারে নিজস্ব খেয়াল খুশির স্বাধীনতা তার নাই। নবীর (সা.) উপর যে কারো বিশ্বাস এই দাবী রাখে যে, সে নবীর (সা.) বলা সবকিছুকে বিশ্বাস করবে।

আমরা যা আলোচনা করছি তা যেন কেউ ভুল না বোঝে এবং তার যেন অপপ্রয়োগ না হয় সেজন্য তিনটি বিষয় উল্লেখ করার রয়েছে। প্রথমত, একটা হাদীস সহীহ কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা এবং একটা হাদীসকে সহীহ জেনেও তার বক্তব্যের সত্যতাকে অস্বীকার করার ভিতর তফাত রয়েছে। উপরে বর্ণিত দ্বিতীয় ব্যাপারটা হচ্ছে অনেকটা এরকম যে কেউ বলছে, “আমি জানি নবী (সা.) বলেছেন, কিন্তু আমি তা বিশ্বাসযোগ্য মনে করি না [অর্থাৎ আমি তা ঠিক মনে করি না]।” এটাই হচ্ছে সালমান ও ইবন বাত্তাহর মত স্কলাররা সেটাকে অবিশ্বাস বলে বর্ণনা করেছেন। পূর্ববর্তী উদাহরণ যেখানে কেউ একটা হাদীস সহীহ কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, সেটা একটা অবিশ্বাস বা কুফরের কাজ নাও হতে পারে – অবশ্য তা নির্ভর করবে ঐ নির্দিষ্ট হাদীসটি কতটুকু প্রতিষ্ঠিত ও সর্বজনবিদিত তার উপর। সে যাই হোক, হাদীস সহীহ কিনা সেটা বাছবিচার করা হচ্ছে হাদীস বিশেষজ্ঞদের কাজ। আলেম বা বিশেষজ্ঞ নন এমন একজন মানুষের নিজের থেকে হাদীসের বাছ-বিচার করার স্বাধীনতা নেই। দ্বিতীয়ত, কুর’আনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও, সুন্নাহ সম্মন্ধে কারো অজ্ঞতা ক্ষমা করা যেতে পারে; যেমনটা একজন নতুন ধর্মান্তরিত ব্যক্তির বেলায় ঘটতে পারে। যে কুর’আনের দলীল প্রমাণের সংস্পর্শে আসেনি অথবা সে কেবল ঐ ধরণের লোকের সংস্পর্শে এসেছে যারা সুন্নাহ অস্বীকার করে। একবার যখন তাকে প্রমাণ দেখানো হবে, তখন তার সে সব বিশ্বাস করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। সবশেষে, কাউকে কাফির ঘোষণা করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ব্যাপারটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যে কাউকে কাফির ঘোষণা করার আগে এমন বহু শর্ত আছে যেগুলিকে পূরণ করতে হবে।
এখানে আর একটি বিষয় ভুললে চলবে না যে, তওবার দরজা সবসময় খোলা রয়েছে। যে কেউ যখন বিশ্বস্ততার সাথে ও অনুশোচনার সাথে তওবা করে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ সেটা খুবই পছন্দ করেন। কেউ সুন্নাহ অস্বীকার করার পর্যায়ে অথবা নবীর কোন একটি সুনির্দিষ্ট হাদীস অস্বীকারের পর্যায়ে কেন পতিত হতে পারে, তার বহুবিধ কারণ সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহই অবগত – বিশেষত আজকের এই দিনক্ষণে যখন সুন্নাহর উপর অবিশ্বাসীদের পক্ষ থেকে যেমন আক্রমন আসছে, তেমনি দুঃখজনকভাবে খোদ মুসলমানদের পক্ষ থেকেই আক্রমন করা হচ্ছে। ব্যাপারটা এরকমও হতে পারে যে, একজন মুসলিমের ”সুন্নাহর অবস্থান ও মর্যাদা” সম্পর্কে পড়ার সৌভাগ্যই কখনো হয়নি। ব্যাপারটা এরকমও হতে পারে যে, যারা সুন্নাহ অনুসরণ করতে অস্বীকার করে, অথবা, যারা ইসলামে এর মর্যাদা ও কর্তৃত্ব অস্বীকার করে – একজন মুসলিম কেবল তাদের দ্বারাই পরিবেষ্টিত থেকেছে। বাস্তবে ব্যাপারটা যাই হোক না কেন আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং সুন্নাহর সাথে লেগে থাকার সংকল্প এবং বিশ্বস্ত নিয়ত, যে কারো অতীতের সমস্ত গুনাহ মুছে দিতে পারে। এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার ও জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য এনে দিতে পারে।

উপসংহার

ইসলামে সুন্নাহর অবস্থানকে অস্বীকার করা, এটা অস্বীকার করা যে, নবী (সা.) যা বলেছেন তা বিশ্বাস করাটা আমাদের জন্য ফরজ, এটা অস্বীকার করা যে তাঁর আদেশ ও নিষেধ আমাদের জন্য শিরোধার্য অথবা এটা অস্বীকার করা যে, তিনিই হচ্ছেন সেই উদাহরণ যা প্রতিটি মুসলিমকে অনুসরণ করতে হবে – এ সবই হচেছ কুফর বা অবিশ্বাসের কাজ। পরিস্কার প্রমাণ দেখানোর পরে বা ব্যাখ্যা করার পরেও যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করে বা জেনেশুনে ঐ ধরণের বিশ্বাস [সুন্নাহর মর্যাদা অস্বীকার করার মত বিশ্বাস] ধারণ করা অব্যাহত রাখে, তবে সে ইসলামের গন্ডীর বাইরে চলে যায় বরং সে একজন কাফের। এই পৃথিবীতে তাকে একজন অবিশ্বাসী বা কাফির বলে গণ্য করতে হবে। একজন মু’মিন ভাইয়ের প্রতি যে কারো যে ভালবাসা ও সম্মান দেখানোর কথা, সে সেটা পাবার যোগ্য নয়। মৃত্যুর পূর্বে সে যদি তওবা না করে, তবে তার সকল সৎকর্ম তার কোন কাজে আসবে না এবং আখিরাতে সে চিরতরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।

এর অর্থ এই নয় যে, আমরা তাড়াতাড়ি করে অন্যদের কাফের বলে সম্মোধন করবো। যে কাউকে এ ধরণের ব্যাপারে সবসময়ে সতর্ক থাকা উচিত এবং নিশ্চিত করা উচিত যে, যারা দ্বীনবিরোধী বিশ্বাস পোষণ করে তাদের কাছে পরিস্কার দলিল উপসথাপন করা হয়েছে। (বাস্তবে সবচেয়ে ভাল হচ্ছে এ ধরণের ব্যাপারগুলো দ্বীনের ব্যাপারে যাদের গভীর জ্ঞান রয়েছে, সেই ধরণের স্কলারদের হাতে ছেড়ে দেয়া) তবে কুর’আন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ স্পষ্ট। সেগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে এবং সেগুলো অবশ্যই প্রকাশ্যে বলতে হবে। এ ধরণের ব্যাপারে আবেগের কোন স্থান নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত না কুর’আন এবং সুন্নাহর দলীল থেকে পরিস্কার ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে যে, ঐরকম একজন ব্যক্তিকে কাফের বলে গণ্য করতে হবে এবং এই রায়ের পথে কোন অন্তরায় নেই, ততক্ষণ পর্যন্ত আরেকজন ব্যক্তিকে কাফের ঘোষণা করার অধিকার কারো নেই। একইভাবে কারো উচিত নয় অপর কোন ব্যক্তিকে মুসলিম বলে গণ্য করা, যতক্ষণ কুর’আন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে তা প্রমাণিত হয় না যে ঐরকম একজন ব্যক্তি মুসলিম। পরিস্কার এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করার পরও যদি কোন ব্যক্তি সুন্নাহ বিশ্বাস করার ও তা অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতাকে অস্বীকার করে, তবে সে একজন মুসলিম হিসাবে গণ্য হবার অথবা সুবিধা পাবার অধিকার হারাবে। এটাই হচ্ছে কুর’আন, সুন্নাহ ও স্কলারদের ইজমার ঘোষণা।

[Page217~222, The Authority and Importance of Sunnah - Jamaal al-Din M. Zarabozo থেকে অনুদিত।]

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৪০৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১৮ টি মন্তব্য

  1. পরিস্কার এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করার পরও যদি কোন ব্যক্তি সুন্নাহ বিশ্বাস করার ও তা অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতাকে অস্বীকার করে, তবে সে একজন মুসলিম হিসাবে গণ্য হবার অথবা সুবিধা পাবার অধিকার হারাবে।

    একমত। এদেরকে আমরা মানুষ হিসেবে সম্মান করতে পারি, কিন্তু মুসলমান হিসেবে ভাই বলে বুকে টেনে নিতে পারিনা।

  2. উল্লেখ্য :
    আল্লাহর কালামকে কেউই সরাসরি অস্বীকার করে না, কারন আল্লাহ সাধারণ কোন ব্যক্তির নিকট সরাসরি “ওহী” নাযিল করেন না বরং তিনি রসূলের মাধ্যমে “ওহী” নাযিল করেন, সুতরাং আবু জাহল – ওত্ বা -শাইবারা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম তা নিজ জবান মোবারকে তাদের কাছে পেশ করার পরই রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের মুখের উপরই টক্বর লাগাতো।


  3. আমার এই পোস্টে “কোরান অনলি”দের কোন মতামত বা “মতবাদ” acceptable নয়!!!

  4. শুরু হইল কাফির বলা বলি , কে আপনাকে অধিকার দিয়েছে কাউকে কাফির বলার । আপনাকে আগেই বলেছি , কাউকে সহজে কাফির বলিয়েন না ।
    তাহলে আপনি জবাব দিন
    ১ ইবনে সিনা কে কি আপনি কাফির মনে করেন (যে মারা যাবার তিন দিন আগে থেকে আল কোরান পাঠ আর শুনে কেটেছে) ?
    ২ (এক দল আরেক দল কে কাফির বললে কি হয় দেখেন , যারা অমুসলিম দের সাথে বন্দুগিরি করে, তাদের ও যদি কাফির ধরেন, তাহলে সৌদি রাজারাও কাফির । হেন তেন ঘুরাইয়া অন্যদের ও কাফির বলা যায়) সৌদি দের কি কাফির মনে করেন ? আব্দুল ওহাবিদের কে কি আপনি কাফির মনে করেন ?
    ৩ শিয়া দের কাফির মনে করেন কি ? যেমন ঃ জাবির ইবনে হাইয়ান, ইমাম জাফর সাদিক
    ৪ (ঘুরাঈয়া -ফিরাঈয়া, আমাদের দেশের বিশেষ প্রকার সুন্নিকেও কাফির বলে যায়, যেমনঃ কবরে শেজদাহ দেওয়া) তাদের কে কি আপনি কাফির মনে করেন ?
    ৫ (আপনার জীবন ঘাটলে আপনাকেও কাফির বলা যাবে, কোননা কোন ভুল বার করে ) আপনি নিজে নিজে কে কি কাফির মনে করেন ?
    ৬ ইমাম বুখারি বা মুসোলিমকেও নাকি কাফির বলা হয়েছিল । ্যাঈ কৈ বলেন ?

    ৭ কেঊ আবার যারা মাহজাব মানে তাদের কাফির কয় । তারাও কি কাফির বলে আপনি মনে করেন ?

    সবাই যদি কাফির হয় তাহলে মসুলমান কে ?

    কাঊকে কাফির বলিয়েন না, সিন সিয়ার হন । যদি আজ আপনি একজন কে কাফির বলেন, তাহলে কালকে আপনাকেও আরেক জন কাফির বলবে । এর পর কাফির মারো বলা শুরু করলে, কি হবে মুসলিম দের। মারো কাটো, আর মর । মর মসুলিম মর, নিজেরা নিজেরা মাইর কইরা মর ।

    (আপনাদে মত মানুষের সাথে , আমি রাসূল সঃ উম্মত, আল্লাহ পাকের বান্দা, নাই )

    দ্য মুসলিম

    @fuad,
    আমরা আম জনতা কাউকে কাফির বলে ঘোষনা দেওয়া থেকে বিরত থাকে উচিৎ। তবে স্কলাররা চাইলে সম্মিলিত ভাবে কাউকে কাফির বলে ঘোষনা দিতে পারেন বলে মনে হয়। যেমন (আমি যতদুর জানি) কাদিয়ানিদেরকে কাফির বলে ঘোষনা দেয়া হয়েছে। তবে সাধারণ ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহার না করা উচিৎ।

    mariner

    @fuad, আমি কাউকে ‘কাফির” বলিনি – বলার প্রশ্নই ওঠে না। যারা সুন্নাহ মানে না তাদের সম্বন্ধে বিধান কি, তা আমি একটা scholarly বই থেকে হুবহু তুলে দিয়েছি – একটি লাইনও আমার নিজের নয়। আপনাকে আমি “সামু” থেকে চিনি। এখানে আপনার লেখাটা surprisingly বেশ অসংলগ্ন ও অপ্রাসঙ্গিক মনে হলো।

    “তাকফির” [অর্থাৎ কাউকে "কাফির" সাব্যস্ত করা] খুব সিরিয়াস একটা ব্যাপার। ইমাম মালিকের একটা “আসার” আছে, যার সারমর্ম হচ্ছে এরকম যে, ১০০ টা দিক বিবেচনা করে যদি দেখা যায় যে, ৯৯টা বিষয়ে কেউ “কুফরির” উপর রয়েছে – কিন্তু ১টা বিষয়ে তাকে ঈমানদার মনে হয়, তবে তিনি (ইমাম মালিক) ঐ ব্যক্তিকে “মুসলিম”-ই মনে করবেন। কারণ ঐ একটা বিষয়ের জন্য যদি আল্লাহ তাকে মুসলিম হিসেবে কবুল কের নেন, তাহলে তাকে “কাফির” “ব্র্যান্ড” করার জন্য, ব্যাপারটা (তাকফির) হয়তো তার (ইমাম মালিকের) উপরই উল্টা applicable হবে [এই সংক্রান্ত রাসূল(সা.)-এর প্রসিদ্ধ হাদীস অনুযায়ী]। ভবিষ্যতে ইনশা’আল্লাহ্ “তাকফির” সংক্রান্ত একটা পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করবো।

    fuad

    @mariner,
    আমি দুখিত ।

    mariner

    @fuad, না ঠিক আছে। তবে আপনার উপরোক্ত মতামতের আলোকে, আপনাকে আরো ২ টা ব্যাপার জানানো আবশ্যক মনে করছি – ক) ইবনে সিনাকে অনেক বড় বড় আলেম “তাকফির” করেছেন যাদের অন্যতম হচ্ছেন ইমাম গাজ্জালী। খ) ঈমান বিনষ্টকারী বিষয়গুলোর ১ টি হচ্ছে “কাফির”কে কাফির মনে না করা!!

    fuad

    @mariner,

    বুঝলাম, ইবনে সিনার ব্যপারটা । সে কিন্তু মৃত্যুর তিন দিন আগ থেকে আল কোরান পাঠ ও শুনে কেটে ছিল । তাকে আপনি এখন কি বলবেন ? জীবনের কোন সময় হয়ত একটি মানুষ ভুল করতে পারে । পরে হয়ত শুদ্ধ হয়ে যেতে পারে যা বই পুস্তকে আসে নি । কেউ তওবা করতেও পারে । আমি তাওকালতুল ফালাসাফি(ইমাম গাজ্জালি রঃ) আর ইবনে তাইমিয়ার রঃ ফতোয়া সম্পর্কে জানি । কিন্তু সবাই সব বিষয়ে ১০০ % সঠিক নয়, মানুষ ভুল করতে পারে । ইমাম গাজ্জালি রঃ, আর ইবনে তাইমিয়া রঃ এর উর্দ্ধে নন ।

    আমরা সুন্নিরা তো মাঝে মধ্যে এমন ভাবে বক্তব্য দেই, যেন ইমামা হোসাইন রঃ এর সব দোষ, আর ইয়াজিদ নিরাপরাদ। ইয়াজ়ীদের ব্যপারে প্রমান চাওয়া হয় যে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাফির ছিল, ইবনে সিনার ব্যপারে চাওয়া হয় না । আবার অন্যদিকে, হযরত নিজামউদ্দিন আল তুসী রঃ আর ইমাম গাজ্জালি রঃ কে সাব্বির হোসাইনের মত ব্যক্তিরা (গবেষনা করে) ক্রিমিনাল অব ইসলাম ও বলে । কেউ কেউ বলে এই দুই জন ব্যক্তির জন্ম না হইলে আরবরা নিউটন, গ্যালালিও এর জাতি হইত ।

    আমাকে ভুল বোঝবেন না, যা সত্য আমি তা তুলে ধরেছি। আমি ইমাম গাজ্জালি রঃ এর ভক্ত ছোট বেলা থেকেই । সাব্বির হোসেন
    হোসাইন দের বক্তব্য আমি পড়েও দেখি নাই ।

    আপনার মন্তব্য শুনতে চাই । অপেক্ষায় রইলাম ।
    ইবনে সিনার বক্তব্য
    The blasphemy of somebody like me is not easy and exorbitant,
    There isn’t any stronger faith than my faith,
    If there is just one person like me in the world and that one is impious,
    So there are no Muslims in the whole world.
    :( :( :(

    fuad

    @mariner,

    আল্লাহ পাক আমাদের ক্ষমা করুন ।

    mariner

    @fuad, আল্লাহর অশেষ রহমত যে, কমবয়সে পড়শোনা কম থাকায় – আমি কোনদিন কারো ভক্ত হয়ে উঠিনি: না ইবন সিনার না আবু হামিদ আল গাজ্জালীর। পরে আল্লাহ যখন পড়াশোনার তৌফিক্ব দিয়েছেন, তখন দেখেছি মুসলিমদের জন্য কেবল একজন মানুষই infallible এবং তাঁকেই কেবল সকল অবস্থায় অনুসরণ করতে হবে (বুঝলেও অথবা না বুঝলেও) – তিনি হচ্ছেন রাসূল(সা.)। যে কোন যুগের বড় আলেমরা যখন কারো ব্যাপারে “হুজ্জত” বা evidence কায়েম করবেন যে, সে “কাফির”, তখন আমরা সেটা গ্রহণ করবো – যেমন আমাদের সময়ে আমিনাহ্ ওয়াদুদের বেলায় ঘটেছে – অথবা কেউ যদি নিজেই নিজের অবিশ্বাসের ঘোষণা দেয় – যেমন হুমায়ূন আযাদ বা তসলিমা নাসরিন প্রমুখ। এছাড়া আমরা সাধারণ মানুষরা কাউকে “কাফির” বলবো না। কেউ “কুফর”-এর কাজ করছে বলা একটা ব্যাপার, আর তাকে “কাফির” বলা ভিন্ন একটা ব্যাপার।

    ইবন সিনার মারাত্মক আক্বীদাহর ত্রুটি ছিল – তিনি physical resurrection-এ বিশ্বাস করতেন না। জন্মগতভাবে তিনি শিয়া ছিলেন। তাছাড়া তিনি মনে করতেন যে, সাধরণের জন্য “দ্বীনের” বিধি-বিধান বা বক্তব্য এক রকম (যেমন ধরুন জাহান্নামের শাস্তি, জান্নাতের পুরস্কার – এসব কেবলই সাধারণ মানুষকে প্রলোভন বা ভয় দেখানোর জন্য বলা হয়েছে) আর “খাস” মানুষের বেলায় সেসব অন্যরকম।

    fuad

    @mariner,

    http://www.somewhereinblog.net/blog/irinblog/28990335 এই লিখাটি একটু পড়েন দয়াকরে ।

    mariner

    @fuad,

    তার বিরুদ্ধে কাফের ফতোয়া দেয়া হয় নিম্নোক্ত তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। প্রথমত: ইবনে সিনা তার দর্শনে বিশ্বকে চিরজীবী দাবী করেন যার কোন শুরু নেই। যেখানে মুসলিমরা বিশ্বাস করেন আল্লাহ শূন্য থেকে এই পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। দ্বিতীয়ত: তিনি বলেন, আল্লাহ সৃষ্টি এবং ধ্বংস সম্পর্কে সাধারন ভাবে জানেন, কিন্তু পুংখানুপুঙ্খ ভাবে নয়। যেখানে মুসলিমরা বিশ্বাস করে থাকেন, আল্লাহ আক্ষরিক অর্থেই প্রতিটি বিষয় অবগত। তৃতীয়ত, তিনি শারীরীক পুনরুথ্থান নয়, বরং আত্মিক পুনরুথ্থানের উপর জোড় দেন। মূলত এই তিনটি কারনে ইমাম গাজালী ইবনে সিনাকে কাফের সাব্যস্ত করা বাধ্যতামূলক বলে দাবী করেন।

    এখন দেখা যাক, এই আপাত বিতর্কিত্ ইস্যু গুলো নিয়ে ইবনে সিনা আসলে কি বলেছিলেন।

    ইবনে সিনা এটা বিশ্বাস করতেন যে, এই বিশ্ব চিরজীবী বা আদি অন্ত বিহীন। তবে এটাও বিশ্বাস করতেন যে, বিশ্ব একটি সৃষ্ট বস্তু। তিনি ব্যাখা দেন, সৃষ্ট হবার অর্থ এই নয় যে সময়ের প্রেক্ষিতে তার কোন শুরু আছে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বের অস্তিত্বের পেছনে কার্যকরন ও প্রয়োজন বিদ্যমান। আল্লাহ এই বিশ্বকে হতে দিয়েছেন, যার শুরু থাকতেও পারে কিংবা নাও থাকতে পারে। তবে শেষ নেই। ইমাম গাজালী চ্যালেন্জ্ঞ দিয়ে বলেন, আল্লাহ যদি একমাত্র স্বাধীন অমূখাপেক্ষী সত্ত্বা হন তবে বিশ্বকে তার পরেই সৃষ্ট হতে হবে, তা অস্তিত্ব ও সময় – দুটোরই মানদন্ডে। সুতরাং তা অনাদি অনন্ত হতে পারে না। এই দর্শনকে কুফরী বলে আখ্যায়িত করেছেন ইমাম গাজালী।

    উপরের উদ্ধৃতিটুকু আপনার দেয়া “সামুর” লিংক থেকে নিয়ে আসলাম – প্রথম প্যারাগ্রাফে ইবনে সিনার প্রতিটি ধারণা নির্ভেজাল “কুফর”। শুধু ইবন সিনাহ নন – খলিফা হারুনুর রশীদ ও তার ছেলে খলিফা আল-মামুন, গ্রেকো-রোমান pagan philosophy সহ পৃথিবীর তাবত “মানব রচিত ও ভাবনা উদ্ভূত” দর্শনের জন্য Islamdom এর দরজা যখন খুলে দেন, তখনই ইসলামে ভেজাল ঢুকতে শুরু করে – এবং তার মত আরো অনেক “ফালসুফা” সম্পন্ন লোকদের জন্ম হয়। আজও সেই অভিশাপ থেকে আমরা মুক্ত হতে পারি নি। আমাদের বুঝতে হবে যে, কেউ “by being a Muslim” or “by having a Muslim name” ইসলামকে “ধন্য” করার যোগ্যতা রাখেন না – ইবনে সিনা না, ইমাম গাজ্জালি না, আব্দুস সালাম (পদার্থ বিদ্যায় নোবেল বিজয়ী ক্বাদীয়ানী) না – বরং যিনি সত্যি সত্যি আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজেকে সমর্পণ করবেন, তিনিই ধন্য হয়ে যাবেন। দুর্ভাগ্যবশত পশ্চিমে থাকা এবং পশ্চিমা প্রভুদেরকে শ্রেয় মনে করে হীনমন্যতায় ভোগা কিছু মুসলিম apologetic ও modernist – ওদের কাছে ইসলামের মাহাত্ম্যকে তুলে ধরতে, ইবন সিনার মত এসব মুসলিম নামধারী deviant-দেরকে ফলাও করে প্রকাশ ও প্রচার করেন। Maryam Jameelahর মত ২/৪ জন ব্যতিক্রম ছাড়া, খুব কম সমকালীন মুসলিম চিন্তাবিদকেই এই দীনতা অতিক্রম করতে দেখা যায়। ইসলামের ব্যাপারে “নস” বা text হচ্ছে authority-র উৎস। অহীভিত্তিক text-এর বিপরীতে গিয়ে ইব সিনা, ফারাবী, ইকবাল, রুমী, রুশো, ভল্টেয়ার, মিশেল ফুকো বা বদলেয়ার – কে কি বললেন তাতে কিছুই আসে যায় না।

    Revealed truth হচ্ছে absolute truth – পক্ষান্তরে acquired knowledge হচ্ছে conditional এবং অনেক ক্ষেত্রেই কেবলই conjecture – আর সেজন্যই আল্লাহ বা তাঁর রাসূল(সা.) কোন ব্যাপারে যা কিছু বলেছেন, সেটাই চূড়ান্ত – নিজের-পিঠটাও-ঠিকমত-চুলকাতে-না-পারা অসহায় ও নশ্বর মানুষের তার উপর মতামত প্রকাশের মত ধৃষ্টতা দেখানো একেবারেই অসহনীয় একটা অন্যায়!

  5. নুরুজজামান মানিকের একটি লেখার কিছু

    প্রচলিত অর্থে যিনি নামাজে নেতৃত্ব দেন , তিনি ইমাম। কিন্তু এখানে “ইমাম” হিসেবে যাদের কথা বলা হবে, তারা এই অর্থে ইমাম ছিলেন না যেমন , ইমাম বুখারী (রঃ) , ইমাম মনসুর হাল্লাজ (রঃ)। আব্বাসীয় খেলাফতকালে প্রথমে “ইমাম” উপাধির প্রচলন হয়। ইসলামী আইনের স্কুল তথা সুন্নি মাজহাবের37 প্রধানদের “ইমাম ” হিসেবে অভিহিত করা হয় , যেমন ইমাম আবু হানিফা (রঃ), ইমাম শাফী (রঃ), ইমাম মালিক (রঃ) , ইমাম হাম্বল (রঃ) প্রমুখ । শিয়া মজহাবে “ইমাম” বিশেষ অর্থ বহন করে। শিয়া মতানুসারে, আধ্যাতিক শক্তি ব্যতিরেকে কেউ ইমাম হতে পারে না এবং আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জামাতা হযরত আলী রাঃ এর উপর উত্তরাধিকার সুত্রে বর্তায় । আল্লাহর এই পবিত্র নূর লাভ করায় ইমাম একইসাথে নিষ্পাপ ও সমস্ত দোষের ঊর্দ্বে এবং এই নূর উত্তরাধিকার সুত্রে পিতা থেকে পুত্রে গড়ায় 38।

    গৌরচন্দ্রিকা দিলাম , এখানে যাদের কথা বলব, তাদেরকে আমরা যেন আমাদের পাড়া মহল্লার মসজিদের পেশ ইমাম বা নামজে নেতৃত্বদানকারীর সাথে গুলিয়ে না ফেলি ।

    আজ সারা মুসলিম জাহান যে সকল মহান ইমামদের নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে , যাদের ফঁতুয়া /আইন (সুন্নি/শিয়া মাজহাব ) কিংবা যাদের সংকলিত হাদিসের উদ্ধৃতি (যেমন ,ইমাম বুখারী রঃ কৃত বুখারী শরীফ ) ছাড়া আমাদের আলেম -ওলামা-মুফতি-মুহাদ্দেস-পীর মাশায়েখদের ওয়াজ সম্পন্ন হয় না , আসুন একটু দেখে নেই ,তাদের উপর কিরূপ আচরন করেছিল রাস্ট্র কিংবা আলেম সমাজ ।

    আমাদের পেয়ারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রওজাত মোবারক রয়েছে যে শহরে সেই মদীনার পথে দেখুন ইমাম মালিক (রঃ) এর হাত পা বেঁধে মারছে খলিফার সৈন্যরা ,মুচরে মুচরে শরীর থেকে তার হাত ভেঙ্গে ফেলেছে । এর পর চলে যান অন্দকার কারাগারে ,যেখানে বন্দী ইমাম শাফি (রঃ) আর ইমাম হাম্বল (রঃ) । দেখুন তাদের উপর কি নিষ্ঠুর অত্যাচার হচ্ছে । ঐ দেখুন , ইমাম নাসায়ী (রঃ) কে যেন খুন করে গেল।39 আর ইমামুল আজম বলে খ্যাত, বিশিষ্ট তাবেয়ী , মুসলিম ব্যবহারশাস্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীন চিন্তা সমর্থক ইমাম আবু হানিফা কে কুফার কাযীর পদ গ্রহনে অস্বীকৃতির জন্য খলিফা আল মনসুর আদেশে প্রকাশ্যে ১১ দিন ধরে প্রত্যহ ১০ ঘা মারার পর তাকে ছাড়া হয়।কিন্তু খলিফার দু:শাসন ও হত্যাকান্ডের সমালোচনা থেকে ইমাম সাহেবকে বিরত রাখা যায়নি । তাই, খলিফা ইমাম আবু হানিফাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন এবং কারাগারেই বিষ প্রয়োগে তাকে হত্যা করান40 । খলিফা আল মনসুর বিষ প্রয়োগে আরো হত্যা করেন রসায়ন শাস্ত্রের জনক জাবীর ইবনে হাইয়ান এর ওস্তাদ মশহুর আলেম ইমাম জাফর সাদেক(রঃ) কে41 । খলিফা হারুনুর রশীদের আদেশে চার বছর জেলখানায় বন্দী থাকাকালীন সিন্দি ইবনে শাহিক বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন ইমাম মুসা কাজেম কে ৭৯৯সালে42 । খলিফা আল মামুন বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন ইমাম রেজা (রঃ) কে ২৬ মে ৮১৮ সালে ইরানের তুস নগরে43।

    বিশ্ববরেন্য মুহাদ্দেস, কোরআনের পরই সবচেয়ে বেশি পঠিত বিশুদ্ধ গ্রন্থ44 আ ল জামেউস সহীহ (সহীহ বুখারী ) এর সংকলক, যুগশেষ্ঠ ইমাম আবূ আবদুল্লাহ মুহম্মদ ইবনে ইসমাইল আল বুখারী (৮০৯-৮৬৯) কে বৃদ্ধাবস্থায় ধর্মদ্রোহ (কুফুরী) এর অভিযোগে মোল্লাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে (যে আন্দোলনের পেছনে স্বয়ং গভর্নরের হাত ছিল )আজীবন নির্বাসনদন্ড দেন বুখারার গভর্নর খালিদ ইবনে আহমদ জহলি 45 । ইমাম সাহেব বুখারা থেকে বহিস্কৃত হয়ে বয়কন্দ নামক স্থানে উপস্থিত হন কিন্তু সেখানেও তার বিরুদ্ধে অপপ্রাচার চলতে থাকে46 ।তখন তিনি সমরখন্দবাসীদের আমন্ত্রনের প্রেক্ষিতে সমরখন্দের দিকে যাত্রা করেন । কিন্তু পথিমধ্যেই বখরতঙ্গ নামক নিভৃত পল্লীতে নিকট আত্বীয় গালীব ইবনে জিবারিলের গৃহে গুরুতর পীড়ায় আক্রান্ত হন47 । এমতাবস্থায় সমরখন্দবাসীদের পক্ষ থেকে উপর্যপুরি দরখাস্ত আসার প্রেক্ষিতে তিনি তথায় যাবার মনস্থ করেন ,কিন্তু পরে জানতে পারলেন বুখারায় তার বিরুদ্ধে ছড়ানো বিদ্বেষের অগ্নিশিখা সমরকন্দকেও গ্রাস করেছে48 । ইমাম বুখারী দু’হাত তুলে প্রার্থনা করেলেন :”হে আল্লাহ! আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও-এ দুনিয়া আমার জন্য ছোট হয়ে গেছে 49।” পরে সমরখন্দবাসীগণ তাদের ভুল বুঝতে পেরে ইমাম সাহেবকে তথায় নিয়ে যাবার ইচ্ছা করলে তিনি মোজা ও পাগড়ি পরিধান করে দু’ব্যক্তির কাধে ভর করে সওয়ারীর উপর আরোহনের জন্য অগ্রসর হন কিন্তু ১৫/২০ কদম অগ্রসর হয়েই বললেন :”আমাকে ছেড়ে দাও, আমার দূর্বলতা বেড়ে চলেছে “। কিছুক্ষন পরেই নিভে গেল ইমাম বুখারী (রঃ) এর প্রাণ প্রদিপ 50। দিনটি ছিল ২৬৫ হিজরির ঈদুল ফিতরের পবিত্র দিন রোজ রোববার51 ।

    দ্য মুসলিম

    @fuad,
    সত্যিই অদ্ভুদ। কিন্তু কি বুঝাতে চাইলেন কিছু বুঝলাম না। মানে আপনার এই মন্তব্যটা অপ্রাসঙ্গিক মনে হলো তাই বললাম। আশা করি উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন। তাছাড়া ইমামদের ব্যপারে যা কিছু লিখলেন তার কিছু অংশ আমার আগেই জানা ছিলো। আর কিছু অংশ নতুন। আর তথ্য গুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন দলিল দিলে ভালো হতো। আরো কিছু শিখতে পারতাম।

    হাফিজ

    @fuad,ভাই আমিও বুঝলাম না আপনার কথা । এই টপিকসের সাথে কি সম্পর্ক ?

    fuad

    @হাফিজ,
    এক জন আরেক জনকে কাফির বললে কি হতে পারে তা বুঝানোর জন্য দিয়েছিলাম