লগইন রেজিস্ট্রেশন

ইসলামের আইন তত্ত্বে ‘সুন্নাহ’ শব্দটির সংজ্ঞা

লিখেছেন: ' মেরিনার' @ শনিবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০০৯ (২:৩৫ পূর্বাহ্ণ)

[আমরা দেখবো কিভাবে স্কলারভেদে সুন্নাহর সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়। ফিকাহ শাস্ত্রবিদ, হাদীসের স্কলার, ইসলামী আইনতত্ত্ববিদ বা উসূলি এবং আক্বীদাহ্ বিশেষজ্ঞ - এই চার শ্রেণীর স্কলাররা যে ভাবে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় সুন্নাহর সংজ্ঞা দিয়ে থাকেন, তার সবক'টির সাথে পরিচিত না হয়ে, সুন্নাহ সম্বন্ধে কথা বলতে গিয়ে আমরা অনেক সময়েই বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়াই! ]


ইসলামের আইন তত্ত্বে ‘সুন্নাহ’ শব্দটির সংজ্ঞা

যারা ইসলামী শরীয়াহ/আইন তত্ত্বের বিশেষজ্ঞ বা আইতত্ত্ববিধ [আরবী: উসূলি], তাদের একটা লক্ষ্য হচেছ, কোন জিনিসটা শরীয়াহ আইনের একটা সূত্র বা ভিত্তি এবং কোন জিনিসটা তা নয় – সেটা নির্ধারণ করা৷ একজন উসূলি আসলে ঠিক সত্যিকার আইনটি নিয়ে ভাবিত নন ৷ কিন্তু আইনের উৎসসমূহ ও পদ্ধতিসমূহ হচেছ উসূলিদের গবেষণার বিষয়৷ সুতরাং তাঁরা যখন ”সুন্নাহ” শব্দটির সংজ্ঞা দেন, তখন তাঁরা এই দৃষ্টিকোণ থেকে তা দিয়ে থাকেন ৷ তাই , যখন এমন একটা তথ্য পাওয়া যায় যে, রাসূল (সা.) সম্পর্কে কোন কিছু বর্ণিত হয়েছে বা তাঁর কাছ থেকে কোন বর্ণনা এসেছে, তখন তাঁরা চেষ্টা করেন এসব বর্ণনার কোনগুলো অথরিটি এবং কোন গুলো মুসলিমদের জন্য অনুসরণযোগ্য উদাহরণ তা নির্ধারণ করতে; এবং সেগুলোকে, যেসব তথ্য বা বর্ণনা এই শ্রেণীভূক্ত নয়, তা থেকে শুদ্ধ বর্ণনাগুলোকে পৃথক করে দেখাতে ৷ তাঁদের সংজ্ঞা হাদীস বিশারদদের সংজ্ঞার চেয়ে নিশ্চিত ভাবেই ভিন্ন হবে, কেননা তার পরিসর হাদীস বিশেষজ্ঞদের পরিসরের চেয়ে অনেক ছোট ৷

ইসলামী আইনতত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাপ্ত, “সুন্নাহ”র সবচেয়ে প্রচলিত সংজ্ঞা এরকম: কুর’আন ছাড়া নবী (সা.)-এঁর কাছ থেকে কথা, কাজ বা নীরব অনুমোদন এসবের মাধ্যমে যা কিছু আমাদের কাছে এসেছে ৷ তাঁর কথার মাঝে তিনি যা আদেশ করেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, অনুমোদন করেছেন, যা অনুমোদন করেন নি বা নিষধে করেছেন তার সবই অন্তর্ভুক্ত ৷ তাঁর কার্যকলাপকে ইসলামী আইনের একটা ভিত্তি বলে জ্ঞান করা হয়, কেননা মুসলিমদের আদেশ করা হয়েছে তাঁকে এক অনুসরণযোগ্য উদাহরণ বলে গণ্য করার জন্য৷ তাঁর নীরব সম্মতিও ইসলামে আইনের একটা ভিত্তি, কেননা নিজ উপস্থিতিতে একটা খারাপ বা ভুল কিছু ঘটতে দেখে চুপ করে থাকাটা নবী (সা:)-এঁর জন্য সঠিক হতো না; তাই তাঁর নীরবতা তাঁর অনুমোদনের সাক্ষ্য দেয়, আর তাঁর অনুমোদনের নিহিতার্থ হচেছ এই যে, কাজটি শরীয়াহ অনুযায়ী শুদ্ধ ৷

এই সংজ্ঞায় উসূলিরা স্পষ্টতই কুর’আনকে বাদ দিয়ে গেছেন – কিন্তু হাদীস কুদসী সুন্নাহর এই এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত৷ তাঁকে “নবী (সা.)” বলে সম্বোধন করে, তাঁরা তাহলে নবুওয়্যত লাভের পূর্বে তিনি যা বলেছেন, করেছেন অথবা অনুমোদন করেছেন – সে সবকে বাদ দিয়ে থাকেন ৷ ঐসব ব্যাপারেগুলো ইসলামী আইনের কোন ভিত্তি বলে গৃহীত হয় না৷

উপরের সংজ্ঞায় যদিও রাসূল (সা.)-এঁর কাজ বা কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে ইসলামী আইনতত্বের বিশেষজ্ঞরা অর্থাৎ উসূলিরা তা দ্বারা আসলে কেবল কিছু নির্বাচিত কাজ বা কর্মকান্ড বুঝিয়ে থাকেন ৷ অর্থাৎ রাসূল (সা.)-এঁর এমন কিছু কর্মকান্ড রয়েছে, যেগুলো অন্যদের জন্য অনুসরণযোগ্য মনে করা হয় না৷ উদাহরণস্বরূপ এমন বর্ণনা রয়েছে যে, রাসূল (সা.)-এঁর ঘুমন্ত অবস্থায়, তাঁর সামান্য নাক ডাকত ৷ এখানে লক্ষ্য করুন যে, হাদীসের স্কলাররা সুন্নাহ শব্দটির যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী এই বর্ণনাটিও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হতো ৷ কিন্তু এই কাজটির যেহেতু কোন আইনী গুরুত্ব নেই – এই অর্থে যে কোন মুসলিমকে তা অনূসরণ করতে হবে না। তাই ইসলামী আইনে “সুন্নাহ”র যে সংজ্ঞা এটা তার অর্ন্তভুক্ত হবে না ৷ উপরন্ত এমন কিছু আইন ছিল, যা কেবল রাসূল (সা.)-এঁর উপর প্রযোজ্য ছিল এবং মুসলিমদের জন্য যা অনুসরণীয় নয় ৷ এই শ্রেণীর আইন বা অনুশাসনের একটি উদাহরণ হচেছ তাঁর বারজনের অধিক স্ত্রী গ্রহণের ব্যাপারটি ৷ এটা কেবল রাসূল (সা:)-এঁর জন্য অনুমোদিত ছিল, কিন্তু তারপর আর কারো জন্যই নয় ৷ হাদীস স্কলারদের সংজ্ঞা অনুযায়ী এ ব্যাপার ‘সুন্নাহর’ অন্তর্ভুক্ত হবে ৷ কিন্তু সঠিক ভাবে বলতে গেলে, ইসলামী আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী তা “সুন্নাহ” বলে পরিগণিত হবে না, কেননা ঐকাজে রাসূল (সা:)-কে অনুসরণ করাটা কারো জন্য অনুমোদিত নয় ৷

[Page17~18, The Authority and Importance of Sunnah - Jamaal al-Din M. Zarabozo থেকে অনুদিত।]

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১১৪ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)