লগইন রেজিস্ট্রেশন

সাধারণ শিক্ষা ও কওমী মাদরাসা শিক্ষার পার্থক্য 2

লিখেছেন: ' মাসরুর হাসান' @ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১০ (৬:৩১ পূর্বাহ্ণ)

মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান

(গত তারিখ : ৩০/৭/১০ জামিয়া ইসলামিয়া যাত্রাবাড়ী মদরাসার দাস্তার বন্দী মাহফিলে প্রদত্ত বয়ান)

আমি তাকে কিছুক্ষণ পর প্রশ্ন করলাম, আপনি যা বললেন তা ঠিক তো? সে উত্তর দিল, হ্যা ঠিক। আমি বললাম, আপনার সঙ্গে আমি কথা বলতে রাজি নই। কারণ আপনাকে আমি মূর্খ বলতে পারছি না। আমি যদি এখন কথা বলি তাহলে আপনি মূর্খ সাব্যস্ত হবেন। আমি জানি বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের ছাত্ররা মূর্খ হয় না। তারা খুবই কষ্ট স্বীকার করে লেখাপড়া করে। আমার মনে হয় এই শিক্ষানীতি বিদেশ থেকে লিখে আনা হয়েছে। আমি ঐ ব্যক্তিকে প্রশ্ন করলাম, খৃস্টানদের আলোচনা প্রসঙ্গে যদি বাইবেলের কথা লেখা থাকে তাহলে মুসলমান ধর্মের আলোচনার জায়গায় কুরআনের কথা কেন উল্লেখ নেই? যদি বাইবেলের কথা লেখা যেতে পারে তাহলে এটাও লিখতে হবে যে, কুরআনের আলোকে বিশ্ব সমস্যার সমাধান করা হবে। একথাটা কেন আপনারা লিখলেন না? এবার জবাব দিল, হুযুর এটা তো আমাদের ভুল হয়ে গেছে। আমি তাকে বললাম, এই জন্যই তো আপনাকে মূর্খ বলতে পারছিলাম না। এত সজাগ থেকে ‘বাইবেল’ লিখতে পেরেছেন অথচ বাইবেলের অনুসারি বাংলাদেশে ২%ও নেই। কী বিস্ময়কর কথা বললেন যে, ৯০% মুসলিম প্রধান দেশের শিক্ষানীতি লেখার সময় কুরআন-হাদীসের উদ্ধৃতি দিতে আপনারা ভুলে গেছেন। তাহলে আপনাদেরকে মূর্খ না বলে কি আর বলবো।
সরকার প্রাথমিক শিক্ষা আট বছর পর্যন্ত করার খসড়া প্রণয়ন করেছে। যদি তাই হয় তাহলে হাফেয হওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, বর্তমানে প্রাইমারি শেষ করেও একটি ছাত্র বার-তের বছর বয়সে হাফেয হয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা আট বছর করলে প্রাইমারি পড়তেই ছাত্রের বয়স চৌদ্দ পার হয়ে যাবে বিধায় হাফেয হওয়া তার জন্য সম্ভব হবে না। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন একটি নীতিমালা থাকতে হবে যাতে প্রাইমারী থেকেই হাফেয হওয়ার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে বাধ্যতামূলক হওয়ার কারণে যাতে হাফেয হওয়ার রাস্তা বন্ধ না হয়। আসহাবে সুফফার হাফেযদের পরম্পরায় আজ বাংলাদেশে হাজার হাজার হাফেয জন্ম নিচ্ছে। এই হাফেয ছাত্র ও উস্তাদরা যখন শেষ রাতে উঠে চোখের পানি ঝরায় তখন এর উসিলায় বাংলাদেশের উপর শান্তি ও রহমত নাযিল হয়।
বাধ্যতামূলক একক শিক্ষা যদি সমাজে চালু হয় তাহলে এই বরকত বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সরকারের কাছে আমাদের জোরালো আবেদন যে, হাফেয হওয়ার রাস্তা যেন বন্ধ না হয় তেমন ব্যবস্থা আপনারা অতিসত্বর গ্রহণ করুন। হে মুসলিম সরকার আট বছর প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে আমাদের ছেলেরা ঈমান-আকীদা, নামায, অযু গোসলের কিছুই শিখতে পারবে না। যখন চৌদ্দপনের বছরে পৌছবে তখন তারা এই শিক্ষা গ্রহণ করে আক্বীদা বিষয়ের সংঘাতে চলে যাবে। নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির ব্যাপারে উলামাদের পক্ষ হতে আমি কিছু দিক-নির্দেশনা লিখে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠিয়েছি। জাতিয় দৈনিক পত্রিকাতেও ছাপা হয়েছে। সরকারকে একথাও বলছি যে, সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা যেন কুরআন-হাদীসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। আজ সর্বস্তরের লোকজন এখানে উপস্থিত আছেন বিধায় একথাটা বললাম। কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, এমন সংবিধান প্রণয়ন করলে জাতি দাঙ্গাহাঙ্গামা ছাড়া আর কিছুই দেখবে না।
আরেকটি কথা মনে পড়লো। ইসলামী ফতোয়া বন্ধের ব্যাপার নিয়ে দেশে মাঝে মধ্যে আন্দোলন-বিক্ষোভ হয়। ফতোয়া আরবী শব্দ। এর বাংলা হলো সওয়াল জওয়াব তথা প্রশ্নোত্তর। যারা ফতোয়া নিয়ে দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায় তাদের উচিত আলেমদেরকে নিয়ে এ ব্যাপারে পরামর্শ করা এবং আরবী ইসলামী পরিভাষাসমূহ জানা। যদি কেউ প্রশ্ন করেন যে, আরবী পরিভাষা আপনারা ব্যবহার কেন করেন? তাহলে আমরাও প্রশ্ন করবো আপনারা ইংরেজী পরিভাষা ব্যবহার করেন কেন? আমাদের ভাষা বাংলা হওয়ার পরও কেন আপনারা জাতীয় দিবসগুলোর নাম একুশে ফেব্র“য়ারী, ষোলই ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এভাবে ইংরেজী তারিখের দ্বারা রেখেছেন? পৃথিবীতে ইন্টারন্যাশনাল ভাষা চারটি; সাময়িকের জন্য আমাদের বাংলা ভাষাকেও এর মধ্যে নিলাম। বাকি তিনটি হলো আরবী, ইংরেজী ও উর্দু। আপনারা তো কথায় কথায় ইংরেজী ব্যবহার করেন। এ ব্যাপারে একটি বাস্তব ঘটনা মনে পড়ে গেল। আমার সহকর্মী রফিক সাহেব এখানে বসা আছেন, তাকে নিয়ে একবার ওয়াপদার অফিসে গেলাম। যাওয়ার পর অফিসের লোকেরা নাইনটি নাইন, ফোরটি ফোর, এভাবে ইংরেজীতে কি যেন বলছিল। আমরা বেশির ভাগ না বোঝার কারণে বোকার ন্যায় বসে রইলাম। অতঃপর আমি বুদ্ধি করে হুযুরকে বললাম, তারা ইংরেজী বলছে, আমরাও আরবী এভাবে বলি- আহাদুন ছাবউন, সিত্তুন, মিয়াতুন আলফুন ইত্যাদি। আমাদের আরবী কথা শুনে অফিসের একজন বলে উঠলো, এ জন্যই আমরা বলি যে, হুযুররা অসামাজিক। আমি তার কথার প্রেক্ষিতে বললাম, হুযুররা আপনার মা-বাবার বিবাহটা পড়িয়ে দিয়ে অসামাজিক হয়েছে তাই না? হুযুরকে একশত টাকা দিয়ে বিদায় করে যত অসামাজিক কাজ আছে তা তো আপনারাই করেন। এরপরও আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, আমরা অসামাজিক কীভাবে? উত্তরে সে বললো এমন একটি জায়গায় আপনি আরবীতে কথা বলছেন কেন? আমি বললাম, আপনারা যে ইংরেজী বলছেন? আমি লোকটিকে আরো বললাম, আপনি আগে ইংরেজী বলে অসামাজিক কাজ করেছেন। আমি বলেছি, কুরআন ও জান্নাতের ভাষা আর আপনি বলেছেন ইসলামের প্রধান শত্র“দের ভাষা।
যাদের কুরআন-হাদীসের সঠিক জ্ঞান আছে তাদের সাথে মুনাযারা তথা তর্ক-বিতর্ক করে পৃথিবীর কেউই জিততে পারবে না। আজ আমি আপনাদের সামনে যে ওয়াজ করছি তা লিখে আনিনি। একটু আগে মুখস্থ করছি তাও নয়। এভাবে আমি ফজর পর্যন্ত বয়ান করতে পারবো, ক্লান্ত হবো না। কিন্তু আপনারা ক্লান্ত হয়ে যাবেন।
ভায়েরা আমার আমাদের মাদরাসার শিক্ষানীতিতে সমস্ত ভাষাই পড়ানোর কথা বলা আছে। মেট্রিক পর্যন্ত আমরা বাংলা, অংক, ইংরেজী শিক্ষা দেই। ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক এমন শিক্ষা দিতে আমরা কোন দিনও রাজি হবো না।
ফতোয়ার অর্থ না জেনে ফতোয়া বন্ধ করে দেয়া হলে সর্ব প্রথম আদালত বন্ধ হয়ে যাবে। তার কারণ, ফতোয়ার অর্থ হলো প্রশ্নোত্তর। প্রত্যেকটি আদালতেই এ কাজ হয়। আদালতে উকিল ও জজ সাহেব সাক্ষীর কাছ থেকে প্রশ্নের মাধ্যমে জবাব নিয়ে তারপর আদালতে ফয়সালা দেয়। পৃথিবীতে যত শিক্ষা ব্যবস্থা আছে তার মধ্যে প্রশ্নোত্তর হলো সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম। প্রশ্নোত্তরকে আমরা ফতোয়া এ জন্যই বলি যে, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্নোত্তরকে ফতোয়া নামে আখ্যায়িত করেছেন। সরকার যদি ফতোয়া শব্দ বন্ধ করে দেয় তাহলে আমরা প্রশ্নোত্তর শব্দ ব্যবহার করবো। ফতোয়ার অর্থ প্রশ্নোত্তর নেয়া হলে তখন আবার স্কুল-কলেজে প্রশ্নোত্তর করা, পরীক্ষা দেয়া বন্ধ হয়ে যাবে। ফতোয়ার অর্থ হলো প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একটি বিষয়কে জানা। একাজ আদৌ অবৈধ হতে পারে না।মূল অর্থ না বুঝে অনেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
আদালতের জজ সাহেব যে কাজটা করেন মুফতি সাহেবও সেই কাজটাই করে থাকেন। আমাদের দেশের মুফতি সাহেবরা মানুষের জিজ্ঞাসার ভিত্তিতে তার সাথে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে কোন একটি বিষয় জায়েয নাজায়েয হওয়ার কথা বলেন ও লিখেন। আদালতের জজ সাহেব যদি মুফতী হন তাহলে আর বে সরকারী মুফীতদের এ কাজটা করার প্রয়োজন হয় না।
অপরাধ দু ধরনের [১] যেগুলোতে কোন দণ্ডের বিধান নেই। [২] যেগুলোতে দণ্ডের প্রয়োগ জরুরী হয়। যেমন, চুরি, যিনা, মদপান। চুরি করলে হাত কর্তন, যিনা করলে বেত্রাঘাত কিংবা পাথর মারা আর মদপান করলে আশি দুররা মারা। উপমা স্বরূপ এই তিনটির কথা বললাম।
মুফতি সাহেবের তদন্তের মাধ্যমে যদি প্রমাণ হয় যে, অমুকে চুরি, যিনা বা মদ পান করেছে তাহলে ইসলামী সরকার হলে মুফতি সাহেব লিখিত একটি কপি সরকারের নিকট পৌছে দিবে। সরকার মুফতী সাহেবের লিখিত মতামতের উপর ভিত্তি করে আসামীর সাজার ব্যবস্থা করবে। দণ্ড প্রয়োগের অধিকার মুফতি সাহেবের নেই। যদি মুফতি সাহেব এই অনাধিকার চর্চা করতে যায়, তাহলে এটা তার জন্য হারাম হবে। দেশের দু একটি ঘটনার কারণে সরকার বিভ্রান্ত হচ্ছে। দেখা যায় অনেক স্থানে পঞ্চায়েত কমিটি, গ্রামের সরদারররা মিলে চুরি, যিনা ও মদপানকারীকে বিভিন্ন প্রকার শাস্তি দিয়ে থাকে। আমি পূর্বেই বলেছি অপরাধের শাস্তি কোন আলেম, মুফতী, পঞ্চায়েত সরদার দিতে পারবে না। যদি কোনো পঞ্চায়েত সরকার মুফতী সাহেবের কাছ থেকে ফতোয়া নিয়ে অপরাধীকে সরকারের কাছে সোপর্দ না করে নিজেই দণ্ড প্রয়োগ করে তাহলে তো এর জন্য মুফতি সাহেব ও তার প্রদত্ত ফতোয়া দায়ী হতে পারে না। আদালতের রায় সরকার কার্যকর করবে, তবে যদি অন্যকেউ করেও ফেলে সে জন্য তো আদালত বন্ধ হয় না। ভুল ডাক্তারির কারণে তো মেডিকেল কলেজের ডাক্তারি শিক্ষা বন্ধ হয় না। অতএব দু-একজন মানুষের ভুলের কারণে ইসলামী শিক্ষার প্রধান অঙ্গ ফতোয়া বন্ধ হবে কেন?
ফতোয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাদের প্রধান কাজ ছিল। আল্লাহপাকও কুরআনে সুস্পষ্ট শব্দে ফতোয়া দিয়েছেন। অতএব এটা বন্ধ করার অধিকার কারো নেই। যদি মানুষকে বোঝানো হয় তাহলে মানুষ বোঝে। এর প্রমাণ আমি নিজেই। শিক্ষানীতি ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমি যখন সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি তখন তারা বলেছে, হুযুর, আমাদেরকে তো কেউই এভাবে বোঝায় না। বোঝালে এমন ভুল হতো না। দেশে হাফেয তৈরি না হোক তা আমরা চাই না। আমরা চাই দেশে লক্ষ লক্ষ হাফেয আলেম তৈরি হোক।
তবে কিছু সংখ্যক নাদান ও স্বার্থবাজ আলেমদের কারণে দেশ জাতি, সরকার ও প্রকৃত আলেমগণ বিভ্রান্তিতে পড়েছে। এটা কারোরই কাম্য নয়। সরকার যদি দেশে শান্তি আনতে চায় তাহলে জনগণের চরিত্র সংশোধন করতে হবে। আর জনগণের চরিত্র সংশোধন করতে চাইলে সরকারেরও চরিত্র সংশোধন করতে হবে। মানুষের চরিত্র সংশোধনের জন্য আল্লাহ পাক কুরআন-হাদীস পাঠিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে আমার উম্মতরা, তোমাদের মাঝে আজ দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, যদি তোমরা এ দুটি বস্তু আকড়ে ধরে রাখো তাহলে তোমাদের কোন দিনও পদস্খলন ঘটবে না। সে দুটি হলো কুরআন ও হাদীস।
শরীয়তের ও হকের সার হলো- {১}কুরআন {২} হাদীস {৩} সাহাবা {৪} আয়েম্মায়ে মুজতাহিদীন। যে সমস্ত ভায়েরা নবী ও সাহাবাদের সমালোচনা করে, নবীদেরকে পাপী বলে, আলেম ও ইমামদের সমালোচনা করে তারা দুনিয়া ও আখেরাতে লাঞ্ছিত হবে। এ আযাব থেকে মুক্তি লাভ করতে চাইলে খাটি মনে তাওবা করে শেষ রাতে আল্লাহর নিকট চোখের পানি ফেলতে হবে। তাহলেই হয়তো আল্লাহর রহমত নাযিল হবে। উল্লেখিত চারটি জিনিস আমি বানিয়ে বলিনি। বুখারী শরীফের কিতাবে পেয়েছি। আসলে কিতাবটার নাম বুখারী নয়। নাম হলো- ‘আলজামে আসসহীহ আলমুসনাদ আল মুখতাছার মিন হাদীসে রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সুনানিহী ও আইয়ামহী। এই কিতাব এমন এক ব্যক্তি লিখেছেন যার পূর্ব পুরুষরা কাফের ছিল। লেখকের নাম মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন মুগিরা। বুখারা লেখকের জন্মস্থান। এই জায়গার দিকে নিসবত করে কিতাবের নাম হয়ে গেছে বুখারী শরীফ। ইমাম বুখারী রহ. তার কিতাবের শুরু ও শেষে লিখেছেন যে, হে দুনিয়ার মানুষ যদি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের নিরাপত্তা, ঈমানী মৃত্যু ও কবরের আযাব, পুলসিরাত ও হাশরের ভয়াবহতা থেকে সহজে পার পেতে চাও, আল্লাহর দিদার লাভ করতে চাও তাহলে কুরান, হাদীস, সাহাবা ও মুজতাহিদীনদের অনুসরণ-অনুকরণ করো।
কুরআন কী জিনিস, এর যাহেরী-বাতেনী ঘ্রাণ কী? এ সম্পর্কে একটি ঘটনা আপনাদের শোনাই। ক্বারী আছিম রহ. নামে একজন বিশ্ব বরেণ্য কারী ছিলেন। তিনি সত্তর বছর মসজিদে নববীর ইমাম ছিলেন। ইমামতির পর তিনি ছাত্রদেরকে কুরআন শরীফ শিক্ষা দিতেন। ইমাম আছিম যখন কুরআন পড়তেন তখন তার মুখ থেকে এমন ঘ্রাণ বের হত যার সাথে দুনিয়ার কোন ঘ্রাণকে তুলনা করা যায় না।এক ছাত্র একদিন সাহস করে প্রশ্ন করলো, হুযুর, তেলাওয়াতের সময় আপনার মুখ থেকে এমন সুঘ্রাণ বের হওয়ার কারণ কী? ছাত্রের প্রশ্ন শুনে উস্তাদ মাথা নীচু করে ফেললেন। বারবার আবেদনের পর শেষ পর্যন্ত তিনি বললেন, একদিন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম এমন সময় স্বপ্নে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আছিম তুমি একটু কুরআন তেলাওয়াত করো, তোমার তেলাওয়াত খুবই সুন্দর। আমি তোমার কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত শুনতে এসেছি।
কুরআন নাযিল হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখস্থ করার জন্য বর্তমান যুগের ছাত্রদের ন্যায় ঠোট নেড়ে কসরত করতেন। কিন্তু বিশেষ কারণে আল্লাহপাক তার ঐ কসরতকে স্থগিত রাখতে বলেছিলেন। তবে রাসূলের এই সুন্নতকে আল্লাহ পাক হাফেযদের মাধ্যমে সারা বিশ্বে জারী করে রেখেছেন। হযরত আছিম রহ. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কুরআন তো আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে, আমি কেমন করে তা আপনাকে পড়ে শোনাবো? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি পড়া শুরু করো। আছিম রহ. পড়তে লাগলেন। এক পর্যায়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আছিম রহ. কে বললেন, হে আছিম তুমি আমার নিকটে আসো। তোমার সুন্দর তেলাওয়াতের জন্য তোমার জিহবায় একটু চুমা দেই। এই বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জিহবায় চুমা দিলেন। এরপর হতে আমি যখন কুরআন তেলাওয়াত করি তখন আমার মুখ দিয়ে এমন সুগন্ধী বের হয়।
কুরআন মুসলমানদের জন্য মারেফতের ও নূরের খাযানা। তাই কুরআন ও হাফেযদের নিয়ে বিদ্রুপ করা মহা অন্যায়। আমার শেষ কথা হাদীস সম্পর্কে। ইমাম বুখারী রহ. ইন্তেকাল করার পর যখন তাকে কবরস্থ করা হলো, তখন তার কবর থেকে সুঘ্রাণ বের হয়ে চতুর দিকে ছড়াচ্ছিলো। এক লোক আমাকে একদিন বললো, হুযুর আপনার কথা শুনে একবার আমি বুখারা গিয়ে ইমাম বুখারীর কবরের পাশে যখন দাড়ালাম তখন আমিও কবর থেকে সুগন্ধ পাচ্ছিলাম। সুবহানালাহ
ইমাম বুখারীর শরীরের সুগন্ধী কবরের মাটি ভেদ করে বের হতে লাগলো। এখন প্রশ্ন হলো এই সুগন্ধী কী কারণে কোথা থেকে আসতো? নবুয়ত প্রাপ্ত হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে দুটি গুণ বৃদ্ধি হয়েছিল। [১] তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিশালী [২] শরীর হতে সুগন্ধী বের হওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাস্তায় বের হতেন তখন পুরা এলাকা সুগন্ধময় হয়ে যেত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীর থেকে নির্গত কিছু রক্ত এক সাহাবীর হাতে দিয়ে বলা হয়েছিল, তুমি এই রক্ত ভালো স্থানে রেখে দিও। সাহাবী ভাল জায়গা খুজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তা পান করে নিয়েছিলেন। রক্ত পান করার পর এই সাহাবীর শরীরে একশত পুরুষের শক্তি এসে গিয়েছিল। তিনিও রাস্তা দিয়ে চলার সময় এলাকা সুগন্ধময় হয়ে যেত। এতে বুঝা যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রক্তের মাঝেও সুঘ্রাণ ছিল।
ইমাম বুখারীর মাঝে যে সুগন্ধী এসেছে তা হয়তো সহীহ হাদীসের এই বিশাল খেদমত আঞ্জাম দেয়ার কারণে। বুখারী শরীফ সম্পূর্ণ সহী হাদীসের একটি কিতাব। তার মানে এই নয় যে, এই কিতাবের বাইরে আর কোনো সহীহ হাদীস নেই। তবে এই কিতাবের মধ্যে উল্লেখিত সব হাদীসই সহীহ। এখানে এই কিতাবের শেষ হাদীস পড়া হবে এরপর দোয়া হবে। আল্লাহপাক আমাদেরকে কুরআন-হাদীসের সাথে আত্মার সম্পর্ক স্থাপনের তাওফীক দান করুন। আমীন।
www.dawatul-haq.com

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৯১ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)