লগইন রেজিস্ট্রেশন

মুসলিম উম্মাহ ও দাওয়াতুল হক

লিখেছেন: ' মাসরুর হাসান' @ সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১১ (৮:৩২ অপরাহ্ণ)

রচনা : আল্লামা মাহমূদুল হাসান দা. বা.
দীর্ঘ সময় ধরে ইসলাম-বিবর্জিত তাহজীব-তামাদ্দুন, ইসলাম বিরোধী শিক্ষা-সংস্কৃতি, মুসলিম-অমুসলিমের অবাধ মেলামেশা, শত্র“দের মিডিয়া ভিত্তিক অপপ্রচারের কারণে এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, যারা শিক্ষিত-জ্ঞানী তারাও মনে করে যে, ইসলাম মূলত আকীদা-বিশ্বাস ও নিছক কিছু ইবাদত-বন্দেগীর নাম; মুআমালাত, লেন-দেন, মুআশারাত, আচার-ব্যবহার, আখলাক-চরিত্র, রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনা এবং সামাজিক ক্ষেত্রে ইসলামে কোন দিক-নির্দেশনা নেই, একশ্রেণীর লোকের মধ্যে এরকম ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে। এমনকি অনেক নামাযী এবং ইসলাম সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও গবেষক দাবীদার কিছু লোকও এ ধরনের উক্তি করে থাকে। তারা জীবনের সর্বদিক পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামের অনুশীলনের ব্যাপারে চরম উদাসীনতা ও অবজ্ঞা প্রদর্শনের সাথে সাথে এমন এমন কর্মকাণ্ড করে থাকে, ইসলামের সাথে যার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই এবং যা একেবারেই ভিত্তিহীন। তাদের প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে এক শ্রেণীর সরল-সোজা মুসলমান বিশেষ করে যুবসমাজ অধঃপতনের চরম স্তরে উপনীত হয়েছে। তারা তাদের জীবনের কোন স্তরেই ইসলামের আনুগত্যকে প্রয়োজন মনে করে না, বরং বাড়াবাড়ি ও অনধিকার চর্চা মনে করে। লেন-দেন ও চরিত্রগত উদাসীনতার কারণে আজ মুসলিম উম্মাহ মারাত্মক ধ্বংসের শিকার। যদি ইসলামের সঠিক মূল্যায়ন ও অনুশীলন হতো তাহলে উম্মতের এই দুরবস্থা হতো না মোটেই।
মুসলিম উম্মাহর চারিত্রিক অধঃপতন লেন-দেনসহ সর্ব বিষয়ে ভয়াবহ বিকৃতি, আমলের প্রতি অনিহা ও উদাসীনতা ইত্যাদি থেকে বিভিন্ন ধরনের আক্বীদাগত বিভ্রান্তি জন্ম নেয়। মুজাদ্দিদে ইসলাম হযরত থানবী রহ.-এর যুগে তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করেন যে, কেবল সাধারণ মানুষই নয়, বরং অনেক ইসলামী ব্যক্তিত্ব, এমনকি উলামা-মাশায়িখ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গও আক্বীদাগত বিভ্রান্তির শিকার হয়ে আছে। তারা হাতে গোনা কতিপয় আক্বীদা বিশ্বাস ও ভিত্তিহীন প্রথাগত কিছু বিষয়কে মূল ইসলাম মনে করে বসে আছে। অথচ এরূপ ধারণা নিতান্ত ভুল ও অবান্তর। তাই এর সংশোধন কল্পে হযরত থানবী রহ. সংস্কারমূলক সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলেন, আপনারা অত্যন্ত মনযোগের সাথে শ্রবণ করুন যে, শরীয়তের অংশ হচ্ছে পাঁচটি। যথা-
১. আকায়েদ : অর্থাৎ বিশ্বাসগত বিষয়াদি। আকায়েদের সারমর্ম হচ্ছে আন্তরিক ও মৌখিকভাবে স্বীকার করা যে, আল্লাহ ও তার রাসূল যে সমস্ত বিষয়াদি যেভাবে পরিবেশন করেছেন, কেবল তাই সত্য এবং হক। ‘তালীমুদ্দীন’ ও ‘হায়াতুল মুসলিমীন’সহ আকীদার কিতাবসমূহে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
২. ইবাদত : নামায, রোযা, যাকাত, হজ্ব ইত্যাদি। এর মধ্যে ফরয, ওয়াজিব সুন্নত, মুস্তাহাব ইত্যাদি বিষয়াদি রয়েছে।
৩. মুআমালাত : যথাÑ লেন-দেন, ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ-তালাক, ক্ষেত-কামার, কৃষ্টি-কালচার ইত্যাদি। এসব বিষয়াদিও শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত।
এ সকল বিষয়াদি শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, জমিতে বীজ বপনের নিয়ম কী বা কোন ধরনের মালের ব্যবসা করলে বেশি লাভ করা যায় ইত্যাদি। বরং শরীয়তের অংশ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, এ সমস্ত কর্মকাণ্ডে শরীয়ত ঝগড়া-কলহ ও জুলুম-অত্যাচার করাকে নিষেধ করে থাকে এবং এ ব্যাপারে হালাল-হারাম ও জায়েয-নাজায়েরে বিষয়ে দিক-নির্দশনা প্রদান করে।
৪. মুআশারাত : যথাÑ আচার-ব্যবহার, উঠা-বসা, চলা-ফেরা, মেলা-মেশা, অতিথি আপ্যায়ন, মেহমানদারী, ইত্যাকার বিষয়াদিতে নিয়ম শৃংখলার পথ অবলম্বন করা। পরিবার পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, চাকর বাকর ও সাধারণ লোকজনের সাথে আচরণ বিধি মেনে চলা।
৫. তাসাউফ : যা শরীয়তের পরিভাষায় ইসলাহে নফস বা তাযকিয়ায়ে বাতেন অর্থাৎ আত্মশুদ্ধি নামে অভিহিত হয়ে থাকে। হযরত থানবী রহ. বলেন, অনেকেই মনে করে যে, ইসলাহে নফসের জন্য পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে, অথচ এরূপ ধারণা একেবারেই ভুল। মোটকথা এই পাঁচটি বিষয় শরীয়তের প্রধান অংশ। এ পাঁচটি অংশ মিলেই হচ্চে ইসলাম। এর যে কোন একটি বাদ দিলে ইসলাম অসম্পূর্ণ হয়ে যাবে। যেমন, যদি কারো হাত না থাকে তাহলে সে অসম্পূর্ণ সৃষ্টি, তেমনি উপরোক্ত পাঁচটির কোন একটি না থাকলে ইসলাম অসম্পূর্ণ বিবেচিত হবে। হযরত থানবী রহ. তাঁর সংস্কারমূলক ওয়াজ-নসীহত ও বইপুস্তকে এ বিষয়টি অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে প্রমাণ করেছেন।
মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থা
একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ যে ধরনের বিপজ্জনক অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে, অতীতে এর নজীর বিরল প্রায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছেÑ
ক. ইসলাম ও ইসলামের হুকুম আহকামের প্রতি চরম উদাসীনতা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন।
খ. অহংকার, আমিত্বভাব, স্বার্থপরতা ও পদমর্যাদার অভিলাষ।
গ. পরশ্রীকাতরতা, অনৈক্য ও পরস্পর আস্থাহীনতা ইত্যাদি।
এর অনিবার্য পরিণামে পরিস্থিতি ও পরিবেশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনৈক্যের বিষাক্ত ছোবলে মুসলিম সমাজ জর্জরিত হয়ে পড়েছে। মুসলমানদের এ দুর্বলতার সুযোগে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে ইসলাম ও মুসলমানের শত্র“ শক্তি প্রকাশ্যে খোদাদ্রোহিতা ও প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শানে বেয়াদবীমূলক আচরণের ধৃষ্টতা প্রদর্শন করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। পবিত্র ইসলাম ও শরীয়তের বিরুদ্ধে অবমাননাকর উক্তি, আলেম-উলামাদের উপর নির্যাতনমূলক বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও খোদাদ্রোহী কর্মকাণ্ড চালিয়ে গোটা সমাজ ব্যবস্থাকে পাশ্চাত্যের ভাবধারায় নাস্তিকতার আধারে আবদ্ধ করে ফেলেছে। যার ফলে অধিকাংশ মুসলমানের মধ্যেই আজ ঈমান আমলের যেন কোন অনুভূতিই নেই।
পরিশুদ্ধি অভিযান
মুসলিম উম্মাহর এ চরম অধঃপতন হঠাৎ করে সংঘটিত হয়নি। মুসলমানদের সরলতার সুযোগে এবং এক শ্রেণীর স্বার্থবাজদের সহায়তায় খোদাদ্রোহীচক্র বহুকাল থেকে চক্রান্তের কালো অভিযান পরিচালনা করে মুসলিম উম্মাহকে এক কঠিন সংকটের সম্মুখীন করে তুলেছে। এই মহাসংকট থেকে মুক্তির পথ সহজ সাধ্য ব্যাপার নয়। এজন্য প্রয়োজন হবে মহাঐক্যের এবং সুচিন্তিত ও সদূর-প্রসারী বাস্তবমুখী কর্মসূচীর। সে কর্মসূচী বাস্তবায়নে পরম ত্যাগ, কুরবানী ও সাহসী ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। আর এ মুহূর্তেই প্রয়োজন হচ্ছে-
ক. কুফর-শিরক ও নাস্তিকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।
খ. দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ইসলামের এমন দূর্গ স্থাপন করা, যার মাধ্যমে একদিকে মুসলমানদের ঈমান, আমল ও শিক্ষা-সংস্কৃতির পরিপূর্ণ হেফাযত হয়, অপর দিকে কুচক্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
মজলিসে দাওয়াতুল হক : প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম
এ লক্ষ্যে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত সুন্নতভিত্তিক যুগোপযোগী কর্মসূচীর আবশ্যকতা যে কত অধিক তা বলাই বাহুল্য। কেননা এ কর্মসূচী একদিকে যেমন হবে সর্বস্তরের মুসলমানদের জাহেরী-বাতেনী পরিশুদ্ধির জন্য পথ ও পাথেয়। অপর দিকে হবে ইসলাম বিদ্ধেষী ষড়যন্ত্রকারী মহল ও তাদের লালিত অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে যথার্থ প্রতিরোধ। এ ধরনের সামগ্রিক দিক বিচেনা করেই হাকীমুল উম্মাত মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত থানবী রহ. কর্মসূচী প্রণয়ন করেছেন। আল্লাহপাক হযরত হাকীমুল উম্মাত থানবী রহ. কে প্রকৃত অর্থেই হাকীমুল উম্মত ও মুজাদ্দিদ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। মুসলিম উম্মাহর প্রতি মুহাব্বত, স্নেহ-মায়া ও তাদের কল্যাণে নিবেদিত থাকাই ছিল হযরত থানবীর স্বভাবগত গুণ। কি করে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ করা যায, ইসলাম ও মুসলমানের চরম শত্রুচক্রের সর্প-ছোবল থেকে মুসলমানদেরকে কি করে রক্ষা করা যায়, এসব চিন্তায় হযরত থানবী রহ. সর্বদা অস্থির থাকতেন। পানাহার ও নিদ্রার ব্যাপারে হযরত থানবী সব সময় উদাস ও অন্যমনস্ক থাকতেন। এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, পানাহারের পূর্বে উম্মতের দুরবস্থা মনে হলে আর ক্ষুধা থাকে না। শোয়ার সময় তা মনে হলে ঘুম আসে না। তিনি তাঁর রচিত হায়াতুল মুসলিমীন, তালমিুদ্দীন, তাফহীমুল মুসলিমীন ও তানজীমুল মুসলিমীনসহ বিভিন্ন কিতাবে মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ দিক-নির্দেশনা দান করেছেন। আকায়েদ, ইবাদাত, মুআমালাত, মুআশারাত ও আখলাকসহ ইসলামের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সর্ব বিষয়েই তিনি কলম ধরেছেন, দিক-নির্দেশনা দান করেছেন এবং সর্বদিক চিন্তা-ভাবনা করে কর্মসূচী প্রণয়ন করেছেন। সর্বযুগের সর্বস্তরের মুসলমানের জন্য সর্ব বিষয়ে উপকারী হাকীমুল উম্মতের ঐ কর্মসূচীই দাওয়াতুল হক নামে অভিহিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে।
দাওয়াতুল হকের চিন্তাধারা
হযরত থানবী রহ. ও হযরত মুহিউস সুন্নাহ রহ.-এর রচনাবলীতে দাওয়াতুল হকের চিন্তাধারা প্রসঙ্গে সুস্পষ্ট আলোচনা বিদ্যমান রয়েছে। আমি ‘দাওয়াত ও তাবলীগের পথ ও পাথেয়’ পুস্তকে এ সম্পর্কে আলোকপাত করেছি। সেখানে বলা হয়েছে-
ক. মজলিসে দাওয়াতুল হক একটি তালিমী ও তরবিয়তী নেজাম এবং নেহায়েত নিরপেক্ষ ইসলাহী কর্মসূচী। এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও কর্মসূচী হাকীমূল উম্মতের রচনাবলীতে বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে দাওয়াত্তুদ্দায়ী, তানজীমুল মুসলিমীন, তাফহীমুল মুসলিম ও হযরত মুহিউস সুন্নাহ শাহ আবরারুল হক রহ.-এর আশরাফুন্নেজাম ও আশরাফুন্নাসায়েহ কিতাবে বিস্তারিত আলোচনা বিদ্যমান রয়েছে। ‘মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ’ বাংলা ও আরবী ভাষায় এর কর্মসূচী ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রকাশ করেছে। এ কর্মসূচী একান্ত অরাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিকভাবেই কেবল উপকারী। মাঠ পর্যায়ে বা সরাসরি রাজনৈতিক ভূমিকার কর্মসূচী এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে এই সংগঠনটি শরীয়তের হুদুদ ও সীমারেখার অনুসরণে পরিচালিত হক্কানী উলামা-মাশায়েখদের রাজনীতি সমর্থন করে।
খ. মজলিসে দাওয়াতুল হক হযরত ইলিয়াস রহ. পরিচালিত তাবলীগী জামাতকে সমর্থন করে। তাদের সাথে মিলে কার্যক্রম পরিচালনা ও সর্বপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতাকে ঈমানী দায়িত্ব মনে করে। তাবলীগী জামাতের মেহনত ও কার্যক্রম সারা বিশ্বজুড়ে পরিচালিত রয়েছে। উলামা-মাশায়েখ, মাদরাসার আসাতেজা, তালাবা, মসজিদের ইমাম-খতীব ও মুআজ্জিনদের সমর্থন ও সাহায্য-সহযোগিতায় তা আরো অধিক ফলপ্রসু হতে পারে বিধায় এদিকে বিশেষভাবে মনযোগী হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
গ. দ্বীন ও শরীয়ত বিশ্ব মানবতার জন্য এক সামগ্রিক জীবন-বিধান। এর যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা কোন একটি অথবা দুটি জামাতের মাধ্যমে সম্ভব নয়। শরীয়ত কর্তৃক এরূপ কোন নির্দেশও নেই। অতএব ইসলামের উসূল ও নিয়ম অনুসরণ করে যে কোন দল বা জামাত দ্বীনের কাজ করছে, দাওয়াতুল হক তাদেরকে সমর্থন করে এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক প্রয়াসী।
দাওয়াতুল হকের ধারাবাহিকতা
১৩৫৮ হিজরীতে মজলিসে দাওয়াতুল হক প্রতিষ্ঠিত হয়। হযরত থানবী রহ. শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত (১৯৪৩ ইং) তিনি নিজে সরাসরি এর কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অতঃপর ১৯৪৭ ইং পর্যন্ত হযরত থানবী রহ.-এর খুলাফা ও মুহিব্বীনদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ১৯৪৭ ইং ভারত দ্বিখণ্ডিত হয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর যথাক্রমে -
১. হযরত আরিফ বিল্লাহ মসীহুল্লাহ খান সাহেব রহ.
২. হযরত আরিফ বিল্লাহ আব্দুল গনী ফুলপুরী রহ.
৩. হযরত আরিফ বিল্লাহ ওসীউল্লাহ সাহেব রহ.
৪. হযরত খাজা আজীজুল হাসান মাজযুব সাহেব রহ.
৫. হযরত মুহিউস সুন্নাহ আবরারুল হক সাহেব রহ.
হযরত মুহিউস সুন্নাহ রহ.-এর তত্ত্বাবধানে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দাওয়াতুল হকের কার্যক্রম চালু হয়।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশে দাওয়াতুল হকের কর্মসূচী অব্যাহত থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানে-
১. শায়খুল ইসলাম জাফর আহমাদ উসমানী রহ.
২. মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.
৩. হযরত মাওলানা খায়ের মুহাম্মাদ জলন্ধরী রহ.
৪. হযরত মুফতী জামীল আহমাদ থানবী রহ.
৫. হযরত ডাক্তার আব্দুল হাই সাহেব রহ.
৬. মাওলানা ফকীর মুহাম্মাদসহ অনেকেই দাওয়াতুল হকের কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখেন।
আর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে-
১. হযরত মাওলানা আতহার আলী রহ.
২. হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব পীরজী হুজুর রহ.
৩. হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব হাটহাজারী রহ.
৪. হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ.
৫. হযরত মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.সহ শীর্ষস্থানীয় আরো অনেক উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে দাওয়াতুল হকের কার্যক্রম চালু থাকে। হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. এই কাজে সর্বাধিক মনযোগী হন।
দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ
হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ছিলেন বাংলাদেশে হযরত থানবী রহ.-এর সর্বশেষ খলীফা। তাঁর মৃত্যুর কারণে যেমন এ দেশের শিক্ষা সংস্কার ও তাযকিয়া তথা আত্মশুদ্ধির কাজে শূন্যতার সৃষ্টি হয়, তেমনি দাওয়াতুল হকের কার্যক্রমেও শৈথিল্য দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে হযরত মাওলানা ফজলুর রহমান রহ. যিনি একদিকে হযরত শামসুল হক ফরিদপুরী রহ.-এর বিশেষ খাদেম ছিলেন, অপরদিকে ছিলেন হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ.-এর সাথে আধ্যাত্মিকভাবে সম্পৃক্ত। হযরত হাফেজ্জী হুজুরের ওয়াফাতের পর তিনি মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেবের সাথে বায়আতের সম্পর্ক গভীর করে তোলেন এবং খেলাফতপ্রাপ্ত হন। অতঃপর তিনি স্বীয় মুর্শিদের নির্দেশ ও দিক-নির্দেশনায় দাওয়াতুল হকের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
মজলিসুল উমারা
হযরত মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেব ছিলেন অত্যন্ত মুখলিস ও মুসলিম-দরদী মানুষ। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হযরত মুহিউস সুন্নাহ শাহ আবরারুল হক রহ. বাংলাদেশে তাশরীফ আনেন। তিনি এ দেশের সর্বস্তরের ওলামা-মাশায়েখদের সাথে দীর্ঘ পরামর্শের পর ৩ জিলক্বদ ১৪১৩ হিজরী মোতাবেক ২৪ এপ্রিল ১৯৯৩ ইংরেজী তারিখে দাওয়াতুল হকের কাজ গতিশীল করে তোলার জন্য সর্বমোট ১৩টি হালকা গঠন করেন। প্রত্যেক হালকার জন্য একজন আমীর ও একজন নায়েবে আমীর নির্ধারণ করে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন। মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের পরিচিতিতে ঐ সমস্ত হালকাসমূহের বিবরণ রয়েছে। অবশ্য পরবর্তীতে নতুন থানা বৃদ্ধির ফলে কাজের সুবিধার্থে ঢাকার হালকাসমূহ বৃদ্ধি পায়। ঢাকার হালকাসমূহের আমীর ও নায়েবে আমীরগণের সমন্বয়ে একটি ‘মজলিসে উমারা’ কায়েম হয়। এই মজলিসের মাধ্যমেই দেশের সর্বত্র দাওয়াতুল হকের কাজ সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে।
আল্লাহ আমাদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৩০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ যে ধরনের বিপজ্জনক অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে, অতীতে এর নজীর বিরল প্রায়। (Y) (Y)