লগইন রেজিস্ট্রেশন

মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের ১৭ তম বার্ষিক ইজতিমায় দেশবরেণ্য উলামা-মাশায়েখ ও দাওয়াতুল হকের মুরব্বীদের বয়ান

লিখেছেন: ' মাসরুর হাসান' @ শনিবার, এপ্রিল ৯, ২০১১ (১:৪৫ অপরাহ্ণ)

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব
মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহ.-এর বিশিষ্ট খলীফা মুফতী মানসূরুল হক সাহেব বলেন, দাওয়াতুল হকের কাজ খুবই আহাম কাজ। হযরত ওয়ালা হারদুয়ী রহ. পূরো জীবনকে ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন একাজের জন্য। হযরত হাকীমুল উম্মতের হাতে রোপিত দাওয়াতুল হকের ছোট্ট চারা হারদুঈ হযরতের মাধ্যমে চারিদিকে ডাল-পালা ছড়িয়ে আজ এক প্রকাণ্ড বৃক্ষের রূপ পরিগ্রহ করেছে। হযরত হাকীমুল উম্মৎ রহ. ছিলেন গত শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আর হযরত হারদুঈ রহ. ছিলেন এই শতাব্দীর মুজাদ্দিদ। আমাদের বাংলাদেশে এই তাজদীদী কাজ পরিচালনার প্রধান জিম্মাদারী হযরত মাওলানা মাহমূদুল হাসান সাহেবের উপর ন্যস্ত। হযরত হারদুঈ রহ. নিজেই তাঁকে আমীর নিযুক্ত করেছেন। এমন কি ইন্তেকালের আগে অসিয়তনামা লিখে রেখে গেছেন যে, “হযরত মাওলানা মাহমূদই আজীবন বাংলাদেশের আমীর থাকবেন।” প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ পাক একজন যোগ্য ব্যক্তিকেই জিম্মাদার বানিয়েছেন। আমরা সবাই তাঁর হেদায়েত মুতাবিক সারা বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় একাজকে ছড়িয়ে দেয়ার মেহনত করবো ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা রফীক আহমাদ সাহেব
মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহ.-এর খলীফা, মতিঝিল মাদরাসার মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস মাওলানা রফীক আহমাদ সাহেব বলেন, জান্নাতে যাওয়ার সহজ আমলসমূহ থেকে একটি অন্যতম আমল হলো সালাম। সালাম দাতাকে নিশ্চিতভাবেই জানা যায় যে, তিনি মুসলমান। এ ব্যাপারে আমাদের খুব উদাসীনতা রয়েছে। সালামের হাকীকত ও ফায়দা কী? হাকীকত হলো দুইটি – ১. এর দ্বারা অপর ভাইকে ইকরাম তথা সম্মান করা হয়। ২. সালাম একটি দোয়া। যাকে সালাম করা হলো তার জন্য দুনিয়ার সার্বিক শান্তি ও কল্যাণের দোয়া করা হয়।
মূল ফায়দাও দুইটি – ১.যে সব কারণে বান্দার আমল একদম বরবাদ হয়ে যায় তন্মধ্যে একটি হলো কিবির, অহংকার অর্থাৎ নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করা। হাদীসে আছে সালামের মাধ্যমে সালাম দাতার কিবির দূর হবে। দু’জনের দেখা হলে প্রথম যে সালাম দিবে তার অন্তরে কিবির থাকবে না। ২. হাদীসের মধ্যে আছে কয়েকটি কাজ আছে যা করলে সহজে জান্নাতে যাওয়া যাবে তার একটি হলো সালাম। আমরা যারা একটু দামী হয়ে গেছি তারা কেবল অন্যের সালাম কামনা করি। আমাদের হারদুঈ রহ. এই সুন্নতটির প্রসারের ব্যাপারে আমাদেরকে খুবই সতর্ক করতেন এবং সালাম ও তার জওয়াবের শাব্দিক বিশুদ্ধ উচ্চারণের বিষয়ে অত্যন্ত জোর তাগিদ দিতেন।

হযরত মাওলানা হিফযুর রহমান সাহেব
ঐতিহ্যবাহী জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম, মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহ.-এর বিশিষ্ট খলীফা মাওলানা হিফযুর রহমান সাহেব বলেন, শুধু কিতাব পড়ে কিংবা শুধু আলেম হলেই সঠিকভাবে আমল করা সম্ভব হয়না; যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর কোন অলীর সুহবতে থেকে তার কাছে প্রাক্টিক্যালভাবে শেখা না হয়। আমরাও কিতাবাদি পড়েছি, পড়িয়েছি কিন্তু হারদুঈ হযরতের কাছে যাওয়ার পূর্বে আমাদের সকল আমল সুন্নত তরীকায় করা সম্ভব হয়নি। হারদুঈ হযরতের ছোহবতে যাওয়ার পর কুরআনের আয়াত كونو مع الصادقين -এর মর্ম ভালোভাবে উপলব্ধি করতে থাকি।

প্রফেসর হামীদুর রহমান সাহেব
হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহ.-এর বিশিষ্ট খলীফা প্রফেসর হামীদুর রহমান সাহেব বলেন, আমরা আজ মজলিসে দাওয়াতুল হকের ইজতিমায় একত্রিত হয়েছি। মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা আবরারুল হক রহ. ইহইয়ায়ে সুন্নত তথা সুন্নতকে যিন্দা করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন এবং তার ভক্ত অনুরাগীদেরকেও এ কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। মুহিউস সুন্নাহ রহ. মজলিসে দাওয়াতুল হকের কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, ‘যারা মজলিসে দাওয়াতুল হকের কাজ করবে না, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। দাওয়াতুল হকের কাজ মানে নবীজীর সুন্নাত যিন্দা করার কাজ। হযরত মুহিউস সুন্নাহ রহ. কুরআনে কারীমের যে আয়াত খানা বেশি বেশি পড়তেন, আমি আপনাদের সম্মুখে সেই আয়াতখানা তেলাওয়াত করেছি- وذكر فان الذكري تنفع المؤمنين যার অর্থ হলো- “হে নবী আপনি মনে করিয়ে দিন, এটা অবশ্যই মুমিনদের উপকারে আসবে।” মুহিউস সুন্নাহ রহ. একই বিষয় নিয়ে বার বার আলোচনা করতেন। সর্বস্থানেই তিনি আযান ইকামত ও মসজিদে প্রবেশ করা ও বের হওয়ার সুন্নাত সম্পর্কে আলোচনা করতেন। এমনকি হজ্বের মৌসুমে মক্কা মদীনাতেও তিনি একই আলোচনা করতেন। হজ্বের সফরে ভারত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের লোকেরা বিকাল বেলা মুহিউস সুন্নাহ রহ. এর সাথে দেখা করতে আসলে তিনি তাদেরকে বলতেন, আচ্ছা আপনারা তো লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে হজ্ব করতে এসেছেন, আপনারা কি আজ ফজর ও যোহরের সময় বাইতুল্লাহর মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুন্নাতসমূহ আদায় করেছেন?

যরত মাওলানা আশরাফ আলী সাহেব
আরিফ বিল্লাহ শাহ হাকীম আখতার সাহেব দা. বা.-এর খলীফা, দাওয়াতুল হক কুমিল্লা জেলার আমীর, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার নায়েবে আমীর, কুমিল্লা কাসেমুল মাদরাসার শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা আশরাফ আলী সাহেব বলেন, মুহতারাম উলামায়ে কেরাম! আজকে যদি আমরা আমাদের দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে মুসলমানের সংখ্যা অনেক বেশি, আগের তুলনায় উলামায়ে কেরামের সংখ্যাও অনেক বেশি। অন্যদিকে সাহাবায়ে কেরামের সংখ্যা যদি আমরা দেখি তাহলে দেখা যাবে সাহাবায়ে কেরামের সংখ্যা বর্তমান মুসলমানদের তুলনায় অনেক অনেক কম। এই অল্প সংখ্যক সাহাবায়ে কেরামই সারা পৃথিবীতে শান-শওকত অর্জন করেছিলেন।
পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য হযরত সাহাবায়ে কেরামের মোকাবেলায় খানখান হয়ে গিয়েছিল। কী শক্তি ছিল তাদের? তাঁদের শক্তি ছিল এত্তেবায়ে সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নবী মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিপূর্ণ অনুকরণ অনুসরণ করেছিলেন বলেই আল্লাহ পাক তাঁদের এমন সম্মান-মর্যাদা দান করেছিলেন।
আমি যা বলছি তার প্রথম মুখাতাব আমি নিজে। আমরা উলামায়ে কেরাম। সত্য কথা বলতে হলে ইমাম গাযালী রহ. এর একটি কথা বলতে হয়। তিনি বলেছেন, উম্মতের পদস্খলন, ধ্বংস ও অবনতির জন্য দুটি দল দায়ী। উলামা এবং উমারা অর্থাৎ আলেমরা এবং যারা সমাজে নেতৃত্ব দেয় তারা দায়ী। এটা বাস্তব সত্য। আজকে উলামায়ে কেরাম এত অধিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সেই মান-মর্যাদা নেই। কারণ তাদের মাঝে সুন্নাতের যথাযথ অনুসরণ বা চর্চা নেই। তাই সাধারণ জনতা তাদের থেকে যা পাওয়ার তা পাচ্ছে না।
যথাযথভাবে সুন্নাতের উপর আমল করার জন্য অনুশীলন দরকার। যার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে মজলিসে দাওয়াতুল হক। একেবারে নামায থেকে শুরু করে খানা-পিনা, পেশাব-পায়খানা, আচার অনুষ্ঠান প্রত্যেকেটি কাজ কিভাবে সুন্নাত অনুযায়ী করা যায় তার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কাজেই দাওয়াতুল হকের প্রোগ্রামকে আমরা প্রতিটি মাদরাসায় এবং মাদরাসাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি এলাকা ও মহল্লার মসজিদে মসজিদে চালু করার চেষ্টা করব। আল্লাহপাক আমাদেরকে তাওফীক দান করুন!

হযরত মাওলানা ইমরান মাযহারী
লালবাগ শাহী মসজিদের খতীব, মিরপুর খাদেমুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস মাওলানা ইমরান মাযহারী সাহেব বলেন, আল্লাহপাক মনুষকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষ যখন তার ইবাদতের দায়িত্ব পরিপূর্ণ পালন করে তখন তাকে খেলাফত দেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, ইবাদত দুই প্রকার : ১. ব্যক্তি জীবনে ইবাদত। ২. সামাজিক জীবনে ইবাদত। অর্থাৎ ব্যক্তি জীবনে ইবাদত করে অন্যদেরকে ইবাদতের প্রতি আহবান করা, দাওয়াত দেয়া। প্রত্যেক পরিবারের অভিভাবকের দায়িত্ব হলো, অধীনস্তদেরকে ইবাদতের জন্য নির্দেশ দেয়া। এই পদ্ধতিতে দায়িত্ব পালন করলে এক সময় দেখা যাবে, সর্বস্থানে ইবাদতের হাওয়া চালু হয়ে গেছে।
হাদীস শরীফে এসেছে سوءالعين صدق অর্থাৎ মানুষের কুদৃষ্টি সত্য। বদনজর যেহেতু বিশ্বাসগতভাবে সত্য তাহলে নেক দৃষ্টিও সত্য। আল্লাহপাক যেমন বদনযরওয়ালা মানুষ বানিয়েছেন ঠিক তেমনি নেকনযর ওয়ালা লোকও বানিয়েছেন। এযুগেও আল্লাহর এমন নেকবান্দা আছেন যাদের নেকনযরে বে-নামাযী মানুষ নামাযী হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, নেক দৃষ্টিসমপন্ন লোক হতে হলে শুধু ফরজ আদায় ও তাসবীহ গুনলে হবে না, বরং শেষ রাতে চোখের পানি প্রবাহিত করতে হবে। মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহ. ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ যেখানেই তাশরীফ নিয়েছেন, সেখানেই মানুষের মধ্যে ইত্তেবায়ে সুন্নাতের প্রতি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। ভারত উপমহাদেশের যেখানেই মানুষের মাঝে সুন্নতওয়ালা সালাম, যিকির, তেলাওয়াত এবং সুন্নতওয়ালা নামায ও আযান-ইকামতের প্রচলন রয়েছে, খবর নিলে দেখা যাবে মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহ. সেখানে তাশরীফ নিয়েছিলেন।

হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস

ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া ফরিদাবাদের সুযোগ্য প্রিন্সিপ্যাল মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা আবরারুল হক সাহেব রহ.-এর খলীফা হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব কুরআনে কারীম শিক্ষার গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে বলেন, কুরআনে কারীমের একটি আয়াত শিক্ষার সওয়াব একশত রাকাত নফল নামাযের চেয়ে বেশি। তিনি বলেন, দুনিয়াবী শিক্ষা যেমন- ডাক্তারী, ইঞ্জিনিয়ারী, এ শিক্ষার উপকারিতা দুনিয়াতেই শেষ, মৃত্যুর পর আর কাজে আসে না; কিন্তু কুরআন শিক্ষার লাভ হলো তেলাওয়তকারীর জন্যে মৃতুর পর সকল ঘাটিতে আল্লাহপাকের দরবারে কুরআন সুপারিশ করবে। কুরআন বলবে, হে প্রভু! আপনি আমাকে বান্দার হেদায়েতের জন্য পাঠিয়েছিলেন। আপনার এ বান্দা তার সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আমাকে তেলাওয়াত করেছে, সুতরাং জান্নাতে পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত আমি তাকে একা ছেড়ে যাব না।

হযরত মাওলানা আহমদুল্লাহ আশরাফ
হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ.-এর বড় ছেলে, ঢাকা কামরাঙ্গীর চর নূরিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ সাহেব বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, দাওয়াতুল হকের কাজের মাধ্যমে সব ধরনের মানুষের দ্বীনী উপকার হচ্ছে। হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. পুরো জীবনটাই দ্বীনের মেহনতে ব্যয় করেছেন। তিনি এক সময় শুধু মাদরাসা, খানকা ও মজলিসে দাওয়াতুল হকের কার্যক্রমে নিজেকে সীমাবন্ধ রেখেছিলেন। সিয়াসত তথা রাজনীতি তিনি পছন্দ করতেন না। এই অপছন্দের কথা তিনি সরাসরি বলতেন। কিন্তু আপনারা জানেন যে, এক সময় তিনি সক্রীয়ভাবে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। রাজনীতির ময়দানে অবতরণ করে তিনি বলেছিলেন, আমি এই ময়দানে এসেছি এ কথা জানাতে যে, প্রচলিত পদ্ধতির রাজনীতি করা আমাদের কাজ নয়। আমাদের কাজ হলো জাতিকে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া, হকের দাওয়াত দেয়া। আমাদের আকাবিরগণ এটাই করেছেন। বস্তুত হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. এক ইসলাহী মিশন নিয়ে সিয়াসাতের ময়দানে সক্রীয় হয়েছিলেন। সব সময় তিনি মানুষদেরকে কুরআনের দুটি আয়াত বেশি বেশি শোনাতেন এবং এ বিষয়ে উপদেশ দিতেন। আয়াত দুটি হলো-
كونوا مع الصادقين
অর্থ : হে মানব জাতি! তোমরা সত্যপন্থীদের সাথে থাকো।
توبواالي الله جميعا ايهاالمؤمنون لعلكم تفلحون

অর্থ : হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই একতার সাথে আল্লাহর দিকে ফিরে এসো, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে।
আল্লাহপাক আমাদেরকে আমলী জীবন লাভের সৌভাগ্য দান করুন।

হযরত মাওলানা আনোয়ারুল হক সাহেব
মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহ.-এর খলীফা, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আনোয়ারুল হক সাহেব বলেন, আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে নবুওয়াতের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, কিন্তু নবীওয়ালা কাজ কিয়ামত পর্যন্ত জারী থাকবে। অন্য নবীগণ দুনিয়া হতে বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আসমানী কিতাবের হুকুমও রহিত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিদায়ের পরও সর্বশেষ আসমানী কিতাবের বিধান চালু আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। নবীর দায়িত্ব উলামায়ে কেরামের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তাই আহলে ইলমদের অন্তরে এই অনুভূতি আসা প্রয়োজন যে, আমার উপর কী মহা দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে!
ইলমের নেয়ামত সবচেয়ে বড় নেয়ামত। এ নেয়ামত আল্লাহ পাক তাদেরকেই দান করেছেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসেন। ইলমের সম্পর্কের সাথে যারা সম্পৃক্ত তারা আল্লাহ পাকের মাহবুব। হাদীস শরীফে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আলেম হও, না হয় শিক্ষার্থী হও, অথবা আলেমের সাহায্যকারী হও; তাও না পারলে তাদেরকে মুহাব্বত করো। সাবধান এই চারের বাইরে (পঞ্চম নম্বর হতে) যেওনা। ইলমের মত এই মহা মূল্যবান বস্তু পাওয়ার তাওফীক যাদের হয়েছে তাদের উচিত ইলমের মূল্যায়ন করা। নবীর ওয়ারিস হিসেবে ইলমকে মানুষের মাঝে সঠিকভাবে প্রচার-প্রসার করা। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারাটি জীবন অতিবাহিত করেছেন শুধু দ্বীনকে মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে। আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো নবীর কাজ সর্বপ্রথম নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা এর পর তা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দেয়া। দাওয়াতুল হকের এই এজতেমার উদ্দেশ্য হলো নবীর সুন্নতকে মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা করা।

মুফতী উবাইদুল্লাহ সাহেব
মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহ.-এর বিশিষ্ট খলীফা মুফতী উবাইদুল্লাহ সাহেব বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণী যে, আমাদের সকলের মধ্যে আল্লাহ দ্বীনের ফিকির দিয়েছেন। দ্বীনের ফিকির না থাকলে সময় ব্যয় করে এ মজলিসে আসা হতো না। এই যে উপস্থিতি এটাই যথেষ্ট, আর কিছু লাগে না। এজন্যই কুরআনে বলা হয়েছে كونوا مع الصادقين
অর্থাৎ তোমরা ছাদিক্বিনদের সাথে থাকো, তাদের সান্নিধ্য ও সাহচর্য গ্রহণ করো। দেখুন, বয়ান শোনা মূল মাকসাদ নয়। এখানে এসে বসতে পারাটাই আসল।
হযরত থানবী রহ. এর বিশিষ্ট খলীফা ছিলেন শাহ আব্দুল গনী ফূলপুরী রহ.। তিনি একদিন আসরের নামাযের পর এসে মুরীদদেরকে বসালেন এবং বললেন, আজকে মাগরিব পর্যন্ত কোন বয়ান হবে না। শুধু চুপ করে বসে থাকো। এই চুপ করে বসে থাকাই হবে বড় বয়ান। আমাদের হারদুঈ রহ. বলতেন, ফুলের ঘ্রাণ সবখানে ছড়িয়ে যায়, ফুল বয়ান করে না, চিৎকার করে না। তদরূপ আল্লাহওয়ালারা যেখানে আসেন, ছাদিকিনরা যেখানে আসেন, সে জায়গার চারপাশে তাঁদের ইশকে ইলাহীর ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে।
বয়ান আর কী করবো। বয়ান তো কালিমায়ে তায়্যেবার মধ্যেই রয়েছে। কালিমার মর্মকথার মধ্যে শরীয়তের মৌলিক সব কথা রয়েছে।
সমস্ত শিরিক থেকে মুক্ত হও, সমস্ত গুনাহ ও নাফরমানী বাদ দাও, এটা হলো لااله এর অর্থ। আর الاالله ¦ এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর উপর ঈমান আনো পাকাপাকিভাবে। তাঁর মারেফাত অর্জন করো। তার সমস্ত হুকুমকে মানো ও আমল কর। এখলাসের সাথে আল্লাহর রেযামন্দি অনুযায়ী চলো। আর محمدالرسول الله এর অর্থ হচ্ছে- হুযুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের খেলাফ কোন দিন চলা যাবে না। নবীর তরিকার উপর চলতে হবে, যার উপর সাহাবায়ে কেরাম চলতেন। এই হলো পুরো কালিমায়ে তায়্যেবার অর্থ।
এখানে অনেক বড় বড় বুযুর্গ আছেন, বড় বড় আলেম উপস্থিত হয়েছেন। তাদের কাছে আসার দ্বারা, এবং তাদের সঙ্গে দুইদিন থাকার দ্বারা তাঁদের রংঢং আমাদের শরীরে মেখে যাচেছ। কারণ তরমুযের সাথে মিশার দ্বারাই তরমুয রঙীন হয়। দাওয়াতুল হকের রূহ তো এটাই যে, একজনকে আরেকজনের কাছাকাছি এনে একই রঙ্গে রঙ্গীন করা। আল্লাহপাক আমাদেরকে কবুল করুন।

মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী
বগুড়া জেলা শাখা দাওয়াতুল হকের আমীর ও বগুড়া জামিল মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী বলেন, মজলিসে দাওয়াতুল হক এমন একটি সংগঠন যার দ্বারা রিসালাতে হাকীকীর প্রচার-প্রসার ও তাবলীগ হচ্ছে। পবিত্র কুরআনে শুধু নামাযের নির্দেশ এসেছে, কিন্তু নামায কিভাবে পড়বে তা বলা হয়নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নির্দেশকে শুধু বলার উপরই সীমাবদ্ধ রাখেননি তা বাস্তব জীবনে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হযরত সাহাবায়ে কেরামগণকে শিক্ষা দিয়ে বলেছেন, তোমরা সেভাবেই নামায পড়ো যেভাবে তোমরা আমাকে নামায পড়তে দেখেছ। প্রিয় হাযিরীন! রেসালাতের সেই দায়িত্ব পুঙখানুপুক্সক্ষভাবে মজলিসে দাওয়াতুল হক আদায় করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাই আমরা সকলে যদি এ কাজের সঙ্গে আন্তরিক ভাবে জড়িত হই তাহলে আশা করা যায় দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা আমাদের নসিব হবে।

মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল ফরিদী সাহেব
জামিয়া ইসলামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীর মুহাদ্দিস, মাসিক “আল-জামিয়া’-এর সম্পাদক, মুহিউস সুন্নাহ দা. বা. এর সুযোগ্য জামাতা মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল ফরিদী বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য দুনিয়াতে অনেক মেহনত আছে, তন্মধ্যে সুন্নতে নববী জিন্দা করণ ও তার প্রচার-প্রসারের মেহনত হলো সবচেয়ে দামী মেহনত। দ্বীনের কাজের মধ্যে এ কাজের চেয়ে বড় কোন কাজ নেই। এই কাজের জন্যই আল্লাহপাক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জগতের বুকে পাঠিয়েছিলেন।
প্রতিবছর এই ইজতেমায় হাজার হাজার আলেমের পদার্পণ ঘটে তাদের প্রত্যেকেরই একটাই কথা থাকে যে, কিতাবী ইলম তো অনেক শিখেছি কিন্তু আমাদেরকে হারদুয়ী রহ. প্রতিটি আমল ও ইবাদতের ক্ষেত্রে সুন্নতের সহী তরীকা শেখার প্রতি মনোযোগী করেছেন, তা আমরা আগে কোথাও পাইনি।
আমীরে দাওয়াতুল হক হযরত মাওলানা মাহমূদুল হাসান দা. বা. দাওয়াতুল হকের এই কাজ নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাত-দিন সফর করার বরকতে অনেক এলাকাতে এমন অনেক যুবক তৈরি হয়েছে, যারা সেচ্ছাশ্রম দিয়ে নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে দাওয়াতুল হকের জন্য মেহনত করছে। এদের লেবাস-পোশাক দেখলে মনে হয় এরা মাদরাসার ছাত্র বা শিক্ষক। অথচ তারা কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্র।

হযরত মাওলানা ইমদাদুল্লাহ
ঐতিহ্যবাহী জমিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জের মুহাদ্দিস, মুহিউস সুন্নাহ মাওলানা আবরারূলহক সাহেব রহ.-এর বিশিষ্ট খলীফা হযরত মাওলানা ইমাদুদল্লাহ সাহেব মুহিউস সুন্নাহ রহ.-এর বাণী উল্লেখ করে বলেন, এদেশের সার্বিক অবনতি ও বিশৃংখলা দূর হবে না এবং মসীবত দূর হবে না যতদিন এদেশের উলামায়ে কেরাম সুন্নতের উপর পুরোপুরি আমল শুরু না করবে।

হযরত মাওলানা আব্দুল গাফফার,
ঢালকানগর মাদরাসার মুহাদ্দিস ও করাচী হযরতের খলিফা হযরত মাওলানা আব্দুল গাফফার সাহেব বলেন, প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব হলো- আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির কাজ করা এবং অসন্তুষ্টির কাজ থেকে বিরত থাকা। আল্লাহপাক কালামে পাকে ইরশাদ করেন, হে নবী! বলে দিন যে, হে মানুষ সকল! তোমরা যদি আল্লাহর মুহাব্বতের দাবি কর তাহলে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহপাক তোমাদেরকে মুহাব্বত করবেন। নবীর ইত্তেবায়ে কামেল তথা পরিপূর্ণ অনুসরণের কারণে আল্লাহপাক সাহাবায়ে কেরামকে দুনিয়াতে সেরা সম্মান-মর্যাদা দিয়েছেন। আমরাও যদি নবীর সুন্নত মুতাবেক চলি তাহলে আমাদেরকেও তিনি সেই ইজ্জত সম্মান দান করবেন। আল্লাহপাক আমাদেরকে সুন্নত তরীকায় জীবন যাপন করার তাওফীক দান করুন!

প্রফেসর মাওলানা গিয়াসুদ্দীন

মুহিউস সুন্নাহ মাওলানা আবরারুল হক সাহেব রহ.-এর বিশিষ্ট খলীফা লালবাগ থানা মজলিসে দাওয়াতুল হকের আমীর প্রফেসর গিয়াসুদ্দীন সাহেব মজলিসে দাওয়াতুল হকের কর্মপদ্ধতি ও নিজস্ব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, আমরা এলাকার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে মজলিস করতাম এবং তাদের একজনকে বলতাম যে, আগামী জুমায় আমরা আপনার মসজিদে মুসল্লীদেরকে আযান, ইকামত ও নামাযের মশকে আমলী করাবো। আমরা জুমার দিন নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে মুসল্লীদের সম্মুখে ইত্তেবায়ে সুন্নতের ফাযায়েল বয়ান করে সুন্নতের আমলী মশক করাতাম। আমাদের মশকে আমলী দেখে মুসল্লীরা খুশি হয়ে আগামী জুমাতেও ্তাদের মসজিদে গিয়ে মশকে আমলী করানোর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করত। তিনি বলেন, লালবাগ থানার দু-চারটি মসজিদ ব্যতীত প্রায় সকল মসজিদেই আমরা মজলিসে দাওয়াতুল হকের পক্ষ থেকে মুসল্লীদেরকে আযান ইকামত ও নামাযের মশকে আমলী করিয়েছি। এতে অনেক ফায়দা পরিলক্ষিত হয়েছে।

হাফেয মাওলানা উমর আহমাদ
মুজাহিদে আযম হযরত ছদর সাহেব রহ.-এর বড় সাহেবযাদা হাফেয মাওলানা ওমর আহমাদ সাহেব বলেন, মহান রাব্বুল আলামীন হযরাতে আম্বিয়ায়ে কেরামের আগমনের ধারাবাহিকতা আখেরী নবী হযরত মুহম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, “মুহাম্মাদ তোমাদের কোন পুরুষের পিতা ছিলেন না তবে তিনি আল্লাহর রাসূল ও আখেরী নবী ছিলেন।”
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে (তরজমা) “হে নবী আমি আপনাকে সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনরকারীরূপে প্রেরণ করেছি।” নবীজী এসেছিলেন আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে। তাঁর ইন্তেকালের পর দায়িত্ব অর্পিত হয় হযরাতে ওলামায়ে কেরামের উপর। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে- ‘ওলামায়ে কেরাম হলেন নবীদের ওয়ারিস, আর নবীগণ টাকা পয়সার মিরাস রেখে যান না, তারা ইলমের মিরাস রেখে যান। যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল সে পরিপূর্ণ অংশ গ্রহণ করল। দাওয়াতুল হকের সকল কাজ এই ওয়ারিছে নবীদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আল্লাহপাক এই মেহনত কবুল করুন!

মাওলানা আব্দুল খালেক
ভোলা জেলার মজলিসে দাওয়াতুল হকের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক সাহেব তার জেলায় মজলিসে দাওয়াতুল হকের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, মুরব্বীদের পরামর্শে কাজ করে দেখেছি মানুষ দওয়াতুল হকের কাজ অতি সহজে সানন্দে গ্রহণ করে। তিনি বলেন, মানুষের সাধারণ অভ্যাস হলো মুখে বলার চেয়ে হাতে-কলমে দেখিয়ে দিলে অর্থাৎ প্রাক্টিক্যালি দেখালে সহজে গ্রহণ করে। মজলিসে দাওয়াতুল হকের কাজও প্রাক্টিক্যালি শিখিয়ে দেয়া। আল্লাহ পাক আমাদেরকে এ কাজে আরো বেশি করে সময় ব্যয় করার তাওফীক দান করুন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩২২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৪.৫০)

৩ টি মন্তব্য

  1. আল্লাহ তায়ালা দাওয়াতুল হক এর কার্যক্রমকে কবুল করুন। আপনাকে ধন্যবাদ (F)

    সত্যের সন্ধানী ১০০%

    @রাসেল আহমেদ, সহমত।