লগইন রেজিস্ট্রেশন

কৌতুক নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন: ' আবু আনাস' @ সোমবার, এপ্রিল ২৬, ২০১০ (১২:১৬ পূর্বাহ্ণ)

সবাই বেশ ভাল কৌতুক করছিল দেখে আমিও একটু করছিলাম। কিন্তু কৌতুকের শব ব্যবচ্ছেদ শুরু হয়ে গেছে। যদি স্রেফ তর্কের খাতিরে ডাক্তার আর কবিরাজের মধ্যে পার্থক্য করা হয়ে থাকে তাহলে কিছু বলা নেই। আর যদি মাযহাব নামক সাম্প্রদায়িক দৃষ্টি থেকে ভাগ করা হয় তাহলে সময় নষ্ট করেও তারপরেও বলি –

১। বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল, আজ যা আবিষ্কার হয় কাল তা বদলে যেতে পারে, যায়। ডাক্তারদের মধ্যে অনেক সময় এমন হয় যে একজন এমন কিছু আবিষ্কার করেন যা আগের সব ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে। হেলিকোব্যাক্টর পাইলরি নামে একটা ব্যাক্টেরিয়ার আবিষ্কার গ্যাস্ট্রিক আলসারের কারণ এবং চিকিৎসা প্রায় পুরোটাই বদলে দিয়েছে। এই আবিষ্কারের বয়স বড় জোর বছর ত্রিশেক।

২। কবিরাজদেরও কলেজ আছে – হেকিমি কলেজ, তারাও পূর্ববর্তী চিকিৎসকদের শিষ্য হয়ে কবিরাজী শেখেন। কবিরাজীও একটা চিকিৎসা শাস্ত্রের ধারা। এতেও অনেক রোগ সারে এবং এর বেশ কিছু সুবিধাও আছে।
তবে ভন্ড কবিরাজের কথা বাদ। কিন্তু সেরকম ভন্ড ডাক্তারও কিন্তু আছে, পেপারে এদের কথা প্রায়ই আসে। ভন্ডামি ডাক্তারি, হোমিওপ্যাথ বা কবিরাজি কোথাও ধর্তব্য নয়।

৩। ইসলাম অন্য ধর্ম থেকে আলাদা হওয়ার একটা কারণ এতে সাধারণ মানুষকে শরিয়তের উৎস থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়নাই। বাইবেলের ব্যাখ্যা পাদ্রীরা দিবে, শুধু ব্রাক্ষ্মণরা বেদ পড়বে এমন ভাওতাবাঁজি ইসলামে নাই। জুমার সময় কোন রিকশাওয়ালা যদি আমাকে বলে আপনি ঘাড়ের উপর দিয়ে সামনে না গিয়ে এখানেই বসুন, তাহলে আমি সেটা মেনে নেব কারণ তা সহিহ হাদিস থেকে প্রমাণিত। কে বলল এটা বড় কথা নয়, কার কথা বলল এটা বড় কথা। রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কথা যার মুখ থেকে আসুক না কেন তা যদি সহিহ প্রমাণিত হয় তবে মুসলিম হিসেবে সেটা মেনে নেয়াই ঈমানের দাবী।
আল ক্বুরান আর গ্রে’স এনাটমি এক জিনিস না। হারপারের বায়োকেমিস্ট্রি আর গাইটনের ফিজিওলজির সাথে বুখারি আর মুসলিমের তুলনা করা ঠিক নয়। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে আল-ক্বুরান, বুখারি আর মুসলিম দিয়ে একজন মুসলিম তার জীবনের ৮০% সমস্যার সমাধান করতে পারবে। ফিক্‌হি কিছু ব্যাপারে বা কোন মাসআলা বের করতে হলে অবশ্য স্পেশালিস্ট তথা আলিমদের সাহায্য দরকার।

এখন কোন স্পেশালিস্টের কাছে আমি যাব তা নির্ভর করে কাকে আমি শ্রদ্ধা করি – তার জ্ঞান এবং তাকওয়ার জন্য। তেমন একজন আলিমের কাছে আমি আমার সমস্যা উপস্থাপন করলাম, তিনি ক্বুরান এবং হাদিসের আলোকে যে মত দেবে তা আমি মেনে নিলাম। তার মতামত আমি অবশ্যই যাচাই করতে পারি দ্বিতীয় কোন আলিমের কাছ থেকে। এমনটি আমরা হরহামেশাই করি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। বড় কোন অপারেশন তো বটেই, ছোটখাট সমস্যার ক্ষেত্রেও আমরা দু’তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে আমরা পরামর্শ নেই। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমরা কখনই তাদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে গবেষণা করিনা। যদি তারা একমত না হতে পারেন তবে আমরা আরো বড় কোন ডাক্তারের কাছে যাই বা মেডিকেল বোর্ডের ব্যবস্থা করা হয়। ঠিক তেমনি নতুন কোন সমস্যা যা রসুলের যুগে ছিলনা, তার সামাধান করতে গিয়ে আমরা সেসব আলিমদের সাহায্য নেই যারা ক্বুরান-হাদিসের মূলনীতির আলোকে তার সমাধান আমাদের দেন। তেমন বড় কোন ব্যাপার হলে তারাও বৈঠক করে সেই সমস্যার সমাধানে একমত হয়ে সমাধান দেন। এটা আমাদের দেশে তেমন প্রচলিত না থাকলেও সৌদি আরবে কেন্দ্রীয় উলামা কমিটির চমৎকার উদাহরণ আমাদের সামনে রয়েছে।

ধরুন সুদি ব্যাংকের চাকুরির ব্যাপারে মিশরের আলিম ইউসুফ আল কারদাভির বক্তব্য হচ্ছে তিনি এতে কোন সমস্যা দেখেননা। যদিও তিনি সুদ নিরুতসাহিত করেছেন এবং বলেছেন যে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে সুদ ঠেকানো, তাও তিনি জিনিসটি হালাল করেছেন রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর এ হাদিসটি এনে – “এমন এক সময় আসবে যখন সবাই সুদ খাবে এবং যে খাবেনা সেও সুদের ধূলার সংস্পর্শে আসবে।” তাঁর বক্তব্য কোন একজন যদি সুদি চাকরি প্রত্যাখান করে তাতে কোন যায়-আসে না। কারণ এতে সমগ্র সুদি ব্যবস্থা তো আর বন্ধ হয়ে যাবেনা। ভালো যুক্তি। ইসলাম অনলাইন.নেট এ এই ফতোয়া পাওয়া যাবে।

অপর দিকে সৌদি স্কলার সালিহ আল উসাইমিন এ ব্যাপারে বলেছেন যে ব্যাংকে চাকরি হারাম। আল্লাহ সুরা মায়িদার ২ নম্বর আয়াতে বলেছেন “তোমরা একে অপরকে পাপ ও সীমা লঙ্ঘনে সহায়তা করোনা।” যেহেতু ব্যাংকের একজন ড্রাইভার/দারোয়ানও ব্যাংক ঠিকভাবে চালাতে সাহায্য করে অর্থাৎ সে তার অন্য মুসলিম ভাইকে সুদ খেতে,দিতে বা হিসেব রাখতে সাহায্য করছে তাই সে একটি পাপে সহায়তা করছে – এই যুক্তিতে ব্যাংকের চাকরিকে হারাম বলা হয়েছে। আবার “একজন যদি সুদি চাকরি প্রত্যাখান করে তাতে কোন যায়-আসে না” এই ব্যাপারটাকে চমৎকার করে বোঝানো হয়েছে যে ব্যাপারটি হয়ত সামগ্রিক পর্যায়ে যায় আসেনা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে যায়-আসে। এবং এই চাকরি ছেড়ে দেয়া যে একজন মুমিনের জন্য কত ভাল তার উদাহরণ দিতে গিয়ে মুসনাদের আহমাদ থেকে সেই সহিহ হাদিসটি আনা হয়েছে যেখানে রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন কেউ যদি আল্লাহকে খুশি করতে কোন কিছু ছেড়ে দেয় তবে আল্লাহ সেই জিনিসের বদলে তাকে উত্তম কোন কিছু দেন। এই ফতোয়াটি ইসলাম কিউ-এ থেকে নেয়া।
এখন ব্যাংকে চাকরির ব্যাপারে আমি কার কথা মেনে নেব? সালিহ আল উসাইমিনের দেয়া দলিল ও তার বিশ্লেষণ অনেক বেশি যুক্তিগ্রাহ্য ও শক্তিশালী। আমি তাই তার সিদ্ধান্তটি বেছে নিয়েছি। এক্ষেত্রে তারা কে কোন মাযহাব মেনে চলেন তা নিয়ে কোন গবেষণা না করে তাদের উপস্থাপিত বিষয়ের দিকে আমি বেশি লক্ষ্য করেছি। এখানে কেউ যদি ভাবে আমি দু’জ়ন ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপশন মিলিয়ে নিজের মত ঔষধ খাচ্ছি তাহলে ভুল হবে। আমি আসলে একজনের কাছে গিয়েছি – তার রোগ নির্ণয়-পরামর্শ পছন্দ না হওয়ায় অন্য আরেকজন স্পেশালিস্টকে দেখিয়েছি এবং দ্বিতীয় প্রেসক্রিপশনের নিয়ম অনুসারে ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়েছি।
আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ খুঁজে পেতে এবং তারপর তা মেনে নেবার তৌফিক দিন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩৪৪ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৪.০০)

১৪ টি মন্তব্য

  1. লেখা সুন্দর হয়েছে, ইসলামে পোপ গিরির কোন স্থান নেই, সে যে যাই বলুক। আল্লাহ পাক ও তার রাসূল সঃ এর কথা শুনে কোন মাধ্যম লাগে না তা বুঝার জন্য।

    এখন আসুন, কেউ যদি এখন ইউসুফ আল কারদাভির এর ফতোয়া মানে, তাহলে তাকে কি কেউ জাহান্নামি বলবে না কি ? সরাসরি ঊত্তর দিবেন? এর পর আরেক জন , আরেক আয়াতের সহায়তায় কাফির ফতোয়া যে দিবে না তার প্রমান কি? এগুলোই হচ্ছে মূল সমস্যা।

    কোন উগ্র পন্থাই ভাল নন। হানিফীরা হানিফি মাহজাব মানল, এতে তারা জাহান্নামী হইল কিভাবে? জাহান্নামী ফিকরা কিভাবে হয়? দেখুন নরেন্দ্র মেদীর নেত্রীত্রে ঝাপিয়ে পরা হিন্দু গনের যদি একটুকু বিকেক থাকত, একটুকু ভালবাসা থাকত, তাহলে কি পারত এভাবে অসহায় মুসলিম জনগুস্টির উপর হামলে পরতে ? আপনি-ই বলুন?

    উগ্র নাস্তিক রা সারা দুনিয়ার ধর্ম বাতিল করে, তাদের ধ্বংশ করতে ইচ্চুক। আমার ব্লগে বাংজ্ঞালি এক লেখকের লিখায় পড়েছিলাম সে দেখেছে একজায়গায়, বাংলাদেশের নাকি ডুবে মরে যাওয়া উচিত কারন আর কিছুই নয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। এই হচ্ছে নাস্তিক যুক্তিবাদীদের আসল উগ্র রূপ। উগ্র জাতিয়তা বাদি হিটলার কে তো চেনেন ই। উগ্র ধর্মবাদী ইহুদীদের কি চিনেন? ইসরাঈলেও অনেক ভাল ঈহুদী আছে, কিন্তু উগ্র গুলোর চেয়ে তাদের সংখ্যা ০ এর কাছা কাছি, তাই শুধু মাঝে মধ্যে পত্রিকায় চিল্লাইতে পারে। আর কিছুই করতে পারে না।

    মনপবন

    @ফুয়াদ ভাই, কেউ যদি বুঝে শুনে কারদাভির ফতোয়া মেনে নেয় তাহলে আমি তার জন্য দু’আ করতে পারি। আর কেউ যদি ব্যাংকে চাকরিকে জায়েয বানানোর জন্য কারদাভির ফতোয়া মেনে নেয় তাহলে সে সেই জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহী করবে।
    আমরা একটা কথা বারবার বলি – আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহ -এর আক্বিদা হল যে আমরা মুসলিমদের কাজকে বিচার করব – সেই ব্যক্তিকে নয়। কেউ যদি কুফরি করে তবে সে কাজটি আমরা উল্লেখ করব তাকে সংশোধন করার জন্য, তাকে কাফির প্রতিপন্ন করার জন্য নয়। যদি কেউ প্রকাশ্য কুফরিতে জড়িত থাকে তবে একমাত্র ইসলামি সরকারের এক্তিয়ার আছে তাকে কাফির প্রতিপন্ন করে তার সংশোধন অথবা শাস্তির ব্যবস্থা করবে। এক্ষত্রেও আমাদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাফির বলার অধিকার নাই।

    ফুয়াদ

    @মনপবন,

    আপনার জবাব শুনে ভাল লাগল, কিন্তু বাস্তব অবস্থা আপনি অস্বীকার করতে পারেন না। বহু দেশেই এমন কান্ড হইতেছে। যাইহোক, সবাই আল্লাহ পাকে কাছে জবাব দিহিতা করতে বাধ্য। আপনিও বাধ্য কেন আপনি সালিহ আল উসাইমিন বক্তব্য মেনে নিলেন ? আল্লাহ পাক ই একজন ফয়সালা দিবেন।

    কিছু পয়েন্ট বুঝতে চেষ্টা করুন।
    এখন এক দরিদ্র ঘরের সন্তান যার বোন টাকার জন্য বিবাহ হইতেছে না, এখন সে যদি তার ক্ষেত্রে ইউসুফ আল কারদাভির কেই সঠিক মনে করে, তাতে আপনার কিছু বলার থাকার কথা নয়, পৃথিবীর এক একটি ব্যাক্তি সমুদ্র ঘেরে এক একটি দ্বিপের মত, যেখানে প্রত্যেকটি ব্যাক্তি একেক ব্যাক্তি থেকে আলাদা। অতএব, সবার পরিস্তিথি এক রকম নয়। তাই, প্রত্যেকের ই অধিকার আছে, তার পরিস্থিতি তে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার। এবং এই বিষয় শুধু মাত্র তার এবং আল্লাহ পাকের বিষয়। আল্লাহ পাক এবং তার বান্দার মধ্যকার সম্পর্কের ভিতরে কেউ নাক গলানোর অধিকার রাখে না। আর যদি কেউ অনাধিকার প্রয়োগ করে, তাহলে তাকেও তার জবাব দিতে হবে।

    ধরুন আমি বললাম আমি তোমাকে ভালবাসি।
    এই কথার অর্থ কারো কাছে মনে হতে পারে, আমি তুমি নামক মানুষকে ভালবাসি।
    আরেকজনের কাছে মনে হতে পারে, আমি তার কাজ কর্মকে ভালবাসি।
    আরেক জন মনে করতে পারে, আমি তার বংশগত মর্জাদার দিক থেকে ভালবাসি।
    সে প্রেমিকা হলে, মনে করবে, প্রেমিক হিসাবে ভালবাসি।
    সে মা হলে, মনে করবে, ছেলে হিসাবে ভালবাসি।
    সে ভাই হলে, মনে করবে, ভাই হিসাবে ভালবাসি।

    কিন্তু আল্লাহ পাক সমস্থ বিষয় জানেন। অতএব, আল্লাহ পাক আর তার বান্দা এই দুই বিষয় খুব ভাল করে মাথায় রেখেই কথা বলবেন আশা করি। আপনার কাছে নিশ্চই ওহী আসে না। অতএব, এখন ই কেয়ার ফুল হন। সব বিষয় বুঝতে, এবং আল্লাহ পাকের সৃষ্টিকে ভালবাসতে শিখুন। তকদির কে ভয়ানক ভাবে বিশ্বাস করুন প্লিজ।

    দ্য মুসলিম

    @ফুয়াদ,

    এখন এক দরিদ্র ঘরের সন্তান যার বোন টাকার জন্য বিবাহ হইতেছে না, এখন সে যদি তার ক্ষেত্রে ইউসুফ আল কারদাভির কেই সঠিক মনে করে, তাতে আপনার কিছু বলার থাকার কথা নয়

    এই অংশটুকু দ্বিমত। উক্ত ব্যক্তি যদি সুদকে হালাল করার জন্য বা নিজের আর্থিক অসংগতি কাটানোর জন্য কারদাভি সাহেবের ফতোয়া মেনে থাকেন, তাহলে এটা হবে নফসের প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং এর জন্য অবশ্যই মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকটি কাজ-কর্ম-কথা ইত্যাদি হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য এবং তা হবে রাসুলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরীকায়। সুতরাং কে কোন ফতোয়া গ্রহণ করছে তার ফলাফল নির্ভর করবে নিয়তের উপর। আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই মানুষকে বিপদে ফেলে সুদের হারাম টাকা খাওয়ানোর জন্য সুদকে হারাম করেন নি। বরং কেউ যদি সঠিক নিয়তে চেষ্টা করে হারাম থেকে বেঁচে থাকার তবে মহান আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন, এটা কোরআনের বহু আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
    সুতরাং কেউ যদি উপরোক্ত অবস্হায় নফসের প্রবৃত্তি অনুসরণ করে ফতোয়া গ্রহণ করে তবে বলতে হবে যে সে তাকদিরকে ভয়ানক ভাবে বিশ্বাস করতে শিখেনি।
    আল্লাহ পাকের একটি বানী তুলে ধরলামঃ আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। (২:২৮৫)

    তকদির কে ভয়ানক ভাবে বিশ্বাস করুন প্লিজ। সহমত!

    হাফিজ

    @দ্য মুসলিম,

    কোনো বিষয়ে যদি ইউসুফ আল কারজাভীর ফতোয়ার সাথে পৃথিবীর আরো ৫০০ আলেমের ফতোয়া না মেলে , এটা কি সাধারন জ্ঞানের মধ্যে পড়ে না যে ইউসুফ আল কারজাভীর মাসআলা গ্রহন না করে , অন্যান্যদেরটা গ্রহন করাই অধিক যুক্তিসংগত ।

    দ্য মুসলিম

    @হাফিজ,

    সেটা অবশ্যই যুক্তিসংগত। এই জন্যই আমি নিয়তের কথা বলেছি। কেউ যখন দেখবেন যে তিনি এমন আলিমের ফতোয়া গ্রহণ করছেন যার বিপরীতে বেশী ফতোয়া আছে, তবে তিনি নিয়ত ঠিক রেখে ঐ ফতোয়া গ্রহণ করতে পারবেন না।

    ফুয়াদ

    @দ্য মুসলিম,

    যে বারা বারির আশংকা করেছিলাম তাই আপনি করলেন। আমি যা বুঝাতে চেয়েছিলাম তা হল এই যে কোন একজন আলেম এর অনুষরন করলেই এই প্রমান হয় না যে তার নিয়ত খারাপ ছিল। কারন তার সময় এবং পরিস্থিতি তে ঐ একজন আলেমের বক্তব্য ই সঠিক মনে হয়েছে। কারন আমাদের কারো কাছে ওহী নাজিল হয় না, তাই কারো মনের ব্যাপারে আমরা বারাবারি করতে পারি না।

    দ্য মুসলিম

    @ফুয়াদ,

    বাড়াবাড়ি ব্যপারটি আসলে আপেক্ষিক। কারো কাছে যেটা বাড়াবাড়ি মনে হয়, অন্যজনের কাছে সেটা নরমাল।
    আপনার আর আমার কথার মাঝে আসলে কোন প্রার্থক্য নেই, শুধু একটা ব্যপারটা ছাড়া।
    সেটা হলোঃ ঐ পরিস্হিতে ঐ ব্যক্তির ঐ আলেমের বক্তব্য সঠিক মনে হয়েছে, এই মনে হওয়াটা শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন? আর দলিল ছাড়া এই পরিস্হিতির উপর নির্ভর করে কোন আলেমের ফতোয়া গ্রহণ করলে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে কি তা গ্রহণযোগ্য হবে?

    ফুয়াদ

    @হাফিজ,

    সংখ্যা দিয়ে ফান্ডামেন্টাল বিষয় কোন কোন সময় বিবেচনা করা যায়, কিন্তু সকল ক্ষেত্রে আগে দলিল।

    ফুয়াদ

    @দ্য মুসলিম,

    নিয়তের ব্যাপারে এক মত। কিন্তু আমার কথা কি বুঝেছেন? আমি বলতেছি একেক সময়ে একেক কারনে একেক আলিম কে সঠিক মনে হবে, তা বুঝবেন না, তা যতক্ষন আপনি নিজে ঐ পরিস্থিতি তে না পরেন। আর এই ব্যাপারটি আল্লাহ পাক ভালই জানেন।

    দ্য মুসলিম

    @ফুয়াদ,

    তকদির কে ভয়ানক ভাবে বিশ্বাস করুন প্লিজ।

    বর্তমান সময়ে কাউকে যদি বলা হয় যে, সুদ থেকে বেঁচে থাক। বেশীর ভাগ মানুষই বলে যে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্হিতিতে সুদ থেকে বেঁচে থাকা এক কথায় অসম্ভব। এর উদাহরণ হিসেবে বলে, আমরা যে দোকান থেকে খরচ করি, যে বাসে চড়ি, যে বাসায় ভাড়া থাকি সবই সুদের উপর প্রতিষ্ঠিত।
    তাদের এই ভ্রান্ত ও ভয়ানক ধারনাই তাদেরকে মাজবুর করে সুদের সাথে আরো জড়িয়ে যাওয়ার জন্য। তাকদিরে বিশ্বাস করলে এমনটি আর হয়তোবা হতোনা।

    ফুয়াদ

    @দ্য মুসলিম,

    ধৈর্য ধরার কোন বিকল্প নেই। তাই ধর্য ধরুন, আর আল্লাহ পাকের উপর ভরসা রাখুন। এটা আপনি নয় আমার নিজের উদ্দোশ্যেই বলতেছি। সহ সবাইকেই বলতেছি। ভয় পাবারর কোন কারন নেই।

    যাইহোক, আপনি কি আমার উপরের পয়েন্ট বুঝতে পেরেছেন? জেনে নিন, সব মানুষের মানষিক ক্ষমতা এক নয়, আল্লাহ পাক তাদের ভাগ্য যা রেখেছেন তাই ঘটবে, যেমন আমারত ক্ষেত্রে ঘটবে। আমার ৮৮ বছর বয়সের দাদা, যিনি প্রথম মহাযুদ্ধ থেকে দ্বিতীয় মহা যুদ্ধ, ৪৭ এর পাকিস্থান, ৭১ বাংলাদেশ সহ মর্ডান পৃথিবীর সকল আবিষ্কার দেখেছেন, এবং পাচ টির মত ভাষা শিখেছেন, তিনি আমাকে এই কথাই বলেন, শেষ বয়সে, তকদিরে যা আছে তাই ঘটে, আসলে মানুষ কিছু চাইলেও কিছু চেইঞ্জ করতে পারে না। যা আল্লাহ পাকের ইচ্ছা তাহাই ঘটে। এখানে আমাদের দুয়া করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

    তাই, সকল প্রকার উগ্র পন্থা থেকে দূরে থাকুন, আল্লাহ পাক কে ভালবাসুন, ভালবাসুন তার নবী রাসূল গন কে, আর তার সকল সৃষ্টিকে। একটি মানুষ সে যতই খারাপ হোক, সে আল্লাহ পাকের সৃষ্টি, অতএব তার মর্যাদার ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত। খুব সাবধানে পৃথিবীতে ড্রিল করতে হবে, যাতে মানুষের ভাল করতে গিয়ে ক্ষতি না হয়ে যায়। চীন কে দেখুন, কমিউনিজমের নামে দেশের উন্নতি করতে গিয়ে উন্নত হইলো ঠিকি-ই, কিন্তু কিসের বিনিময়ে উন্নতি হইলো, লক্ষ মানুষের রক্তের শিরি বেয়ে, এই উন্নতির কি দরকার? মানুষের জন্য যদি উন্নতি হয়, আর এই উন্নতি যদি মানুষকেই পিষে মারে তাহলে লাভ হল কি? আজও চীনে মানব অধিকার নেই, কেউ মুসলমান হইতে চাইলেও পারে না, মুসলিম নাম রাখলে সমস্যা কত কি?

    নিজের সপ্নের পৃথিবী না বানিয়ে, আল্লাহ পাকের আদেশ বানানোই ভাল, আমি বিশ্বাস করি, একদিন না একদিন আল্লাহ পাকের কথা পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে রাসূল সঃ এর সম্মান। তাই পৃথিবীর বুকে আমি যা বলার তাই বলি, কিন্তু কোন বৃশৃংকলায় যাই না। ভালবাসাই ভাল, ঘৃনা ভাল নয়। তবে অবশ্য-ই মানুষের ভুল ধরিয়ে দিবেন, কিন্তু নিজের কথা কে ১০০% সহী মনে করে অন্যকে পুশ করবেন না । কারন, কেউ ভুল ত্রুটির উর্ধে নন। মানুষের দুর্বলতাকে বুঝতে চেষ্টা করুন। পৃথিবীর সকল মানুষ খারাপ না রে ভাই। তাই, তাইমিয়া রঃ কিংবা আলবানী রঃ, কিংবা আবু হানীফা রঃ, কিংবা জাফর আস সাদীক রঃ, কিংবা আশরাফ আলী থানবী রঃ, কেউ ই খারাপ নন। তাদের মত পার্থক্য তাদের সময়, আর অবস্থার কারনে, দেখুন ভাল করে, কে কোথায় জন্ম গ্রহন করেছেন, এবং তা কোন সময়ে, এই সময়ে প্রক্ষিতে সিদ্ধান্ত গুলি বিবেচনা করুন বুঝতে পারবেন। আর সবার ই ভুল থাকতে পারে, আমরা শুধু শুদ্ধ গুলি-ই নিব, আর আমাদের মধ্যে কেউ ভুল গুলি নিলে বুঝিয়ে দিব, কিন্তু কখন-ই তার দিকে এগুবো না, যে পর্যন্ত সে অন্য কাউরো অধিকারে হাত দেয়। একটি কবিতা শুনুন, নাছাড়া বলে আশা করি ইগনোর করবেন না। (ভাষা সংকেত নাজি-হিটলারের দল)

    যখন নাজি্রা কমিওনিস্টদের জন্য এসেছিল,
    আমি নিরব ছিলাম,
    আমি কমিউনিস্ট নই,
    যখন তারা সামাজিক গনতন্ত্রবাদীদের বন্দী করল,
    আমি নিরব ছিলাম,
    আমি সামাজিক গনতন্ত্রবাদী নই।

    যখন তারা শ্রমিক সমিতিদের জন্য আসল,
    আমি নিরব ছিলাম,
    আমি শ্রমিক সমিতির কেউ নই।

    তারা যখন ইহুদীদের জন্য আসল,
    আমি নিরব ছিলাম,
    কারন আমি ইহুদী নই।

    যখন তারা আমার জন্য এল,
    তখন কেউ ছিলনা আমার পক্ষে কথা বলার।
    -মারটিন নিমোলার

    দ্য মুসলিম

    @ফুয়াদ,

    আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন এবং সেই অনুযায়ী চলার তৌফিক দান করুন। (F)

    মেরিনার

    @ফুয়াদ,

    তকদির কে ভয়ানক ভাবে বিশ্বাস করুন প্লিজ।

    ইসলামের সবচেয়ে talked about বিষয়সমূহের একটা হচ্ছে “তক্বদীর”। যাদের সুযোগ আছে তারা তক্বদীরের উপর এই অদ্ভূত সুন্দর ভিডিওগুলি দেখতে পারেন:

    http://www.aswatalislam.net/DisplayFilesP.aspx?TitleID=50017&TitleName=Mokhtar_Maghraoui