লগইন রেজিস্ট্রেশন

সামিঈনা ওয়া আত্বইনা

লিখেছেন: ' আবু আনাস' @ সোমবার, অগাষ্ট ৩০, ২০১০ (৪:০৬ অপরাহ্ণ)

একজন মুসলিম আল্লাহর ইচ্ছা যা তার রসুলের(সাঃ) মাধ্যমে মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন তার কাছে আত্মসমর্পণ করে। সে বলে – “সামিঈনা ওয়া আত্বইনা” শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আমি জন্মগতভাবে আহলে হাদিস। এখনো আমার দেশের বাড়িতে অনেক আহলে হাদিস মসজিদে নামাযের পর হাত তুলে মুনাযাত হয়। আমি যখন বললাম এটা বিদ’আত তখন শুনলাম আমি ফিতনাবাজ। তখন বুঝলাম এ দেশের মানুষ বুঝে ধর্ম মানেনা, জোশে মানে। যা হয়ে আসছে তা ভুল হলেও ঠিক। বাপ-দাদা-মুরুব্বি সবসময় ঠিক। হাদিস-কুর’আন ব্যাপার না।
আমি এখন হানাফি না – কিন্তু আমি ইমাম আবু হানিফাকে অনুসরণ করি। তিনি বলেছেন – সহিহ হাদিস আমার মাযহাব – আমি মেনে নিয়েছি।
আমি এখন আর আহলে হাদিস না কিন্তু আমি সহিহ হাদিস মেনে নেই। আমি জ্ঞান হবার পর থেকে বুখারিতে যেভাবে ইক্বামাত শিখানো আছে সেভাবে ইক্বামাত দিয়ে নামায পড়ে আসছি, অর্থাৎ আল্লাহু আকবার এর পর বাকি সব বাক্য একবার করে বলতাম। খালি ক্বদকামাতিস সালাহ দুইবার। শেষে আল্লাহ আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লালা মোট বাক্য সংখ্যা ১১। বহু মানুষকে বুখারি খুলে দেখিয়েছি, বলেছি এভাবে ইক্বামাত দাও।

একদিন এক হালাক্বায় এক বড় ভাইকে দেখলাম প্রচলিত অর্থাৎ হানাফিদের অনুসৃত পদ্ধতিতে (১৭ বাক্য) ইক্বামাত দিচ্ছেন। নামাযের পর জিজ্ঞেস করলাম দলিল কোথায়। তিনি দলিল দিলেন – http://islamqa.com/en/ref/10458
আমি মেনে নিয়েছি। দুটোই ঠিক সেটা মেনে নিয়েছি। নিজে যেভাবে দিতাম সেটা ছাড়াও নতুন যেভাবে শিখলাম সেভাবে ইক্বামাত দিয়েছি। যেটা সহিহ সেটা আমার ২০ বছরের সলাতি জিন্দেগির বিপক্ষে গেলেও সেটা মেনে নিয়েছি।

আল্লাহর কসম সামনেও মেনে নেব ইনশাল্লাহ। অনেকে ঘৃণা করেন , অনেকে ভুল বোঝেন। মুসলিম তো হয়েছি আল্লাহর হুকুম মেনে নেয়ার জন্য, এর পর তো আমার মত বলে আর কিছু রাখিনি। যেটাকে ঠিক মনে হয় তার পক্ষে দলিল খুঁজিনা, দলিল যেটাকে ঠিক বলে সেটা মেনে নেই। দলিল মানে কুর’আন আর সহিহ সুন্নাহ।
অন্যের দোষ ধরিনা, মানুষকে ঠিকটা জানাতে চাই। কোন জিনিসকে ভুল বলার আগে আল্লাহর রসুল (সাঃ) ছাড়া আর কাউকে ভুলের উর্ধে মনে করিনা, তাই সবকিছুতে তাকেই মাথা নিচু করে মেনে নেই, খুশি মনে মেনে নেই।
আমি বিশ্বাস করি সবাই যদি নিজের/নিজের হুজুরের/নিজের বাপ-দাদার মতটা ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর রসুল(সাঃ) এর মতটা গ্রহণ করতেন তাহলে আমরা খুব সহজেই এক হয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু আল্লাহ আমাদের উম্মাতের কপালে বিভক্তি লিখেছেন – তার কারণ আমরা আমাদের যেটা মানতে ভালো লাগে বা যেটা এতদিন মেনে এসেছি সেটা ছাড়তে পারিনা। আমরা রসুল(সাঃ) বাদ দিয়ে অন্য মানুষকে আমাদের একনিষ্ঠ অনুসরণের যোগ্যতা দিয়ে দিয়েছি।
আমরা বিশ্বাস করি ইজতিহাদ করার মত আলিমরা ইজতিহাদ করবেন, তা ঠিক হলে তারা দুই নেকি পাবেন, ভুল হলে এক নেকি। ইজতিহাদি ফতোয়ার মধ্যে দলিল দেখে, বিবেচনা করে নিজের কাছে যেটা বেশি তাকোয়াপূর্ণ হবে সেটা গ্রহণ করবো। যারা অন্য ফতোয়া মেনে চলছে তাদের ঘৃণা করবোনা, নিজের দলিলটা পেশ করতে পারি।
শরীয়তের ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য ফতওয়া হলো- রোযা অবস্থায় যে কোন ধরনের ইনজেকশন, স্যালাইন, ইনসুলিন ও ইনহেলার নেয়া হোক না কেন তাতে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এর খিলাফ আক্বীদা পোষণ করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

ইজতিহাদি ব্যাপারে এত সহজে কুফরির ঘোষণা দেবনা।

যারা এরপরেও ভুল বুঝবে, গালি দেবে, ঘৃণা করবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে অভিযোগ ন্যস্ত করি, তাদের জন্য ক্ষমা চাই, হিদায়াত চাই।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৪৪ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. শরীয়তের ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য ফতওয়া হলো- রোযা অবস্থায় যে কোন ধরনের ইনজেকশন, স্যালাইন, ইনসুলিন ও ইনহেলার নেয়া হোক না কেন তাতে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এর খিলাফ আক্বীদা পোষণ করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। –

    ইজতিহাদি ব্যাপারে এত সহজে কুফরির ঘোষণা দেবনা।

    ঠিক বলেছেন । রাজারবাগী সম্বন্ধে জানতে গেলে আমার পূর্বের পোস্টগুলো পড়ে দেখতে পারেন । ধন্যবাদ ।