লগইন রেজিস্ট্রেশন

রোযা অবস্থায় যে কোন ধরনের ইনজেকশন, স্যালাইন, ইনসুলিন ও ইনহেলার নেয়া হোক না কেন তাতে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে

লিখেছেন: ' মুহম্মদ তুষার' @ মঙ্গলবার, অগাষ্ট ২৪, ২০১০ (৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ)

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ অথবা মুসাফির তারা অন্য সময় রোযা রাখলেও চলবে।” আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “রোযা অবস্থায় শরীরের ভিতরে কিছু প্রবেশ করলে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।” মহান আল্লাহ পাক তিনি ইসলামকে বান্দাদের জন্য কঠিন নয় সহজ করেছেন। কিন্তু ইহুদী, নাছারার দালাল কতিপয় নীম হেকিম ও নীম মোল্লারা রোযা অবস্থায় ইনজেকশন, স্যালাইন ইনসুলিন ও ইনহেলার গ্রহণের কথা বলে দ্বীনকে কঠিন করতে চায় ও ফরয রোযা নষ্ট করতে চায়। শরীয়তের ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য ফতওয়া হলো- রোযা অবস্থায় যে কোন ধরনের ইনজেকশন, স্যালাইন, ইনসুলিন ও ইনহেলার নেয়া হোক না কেন তাতে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এর খিলাফ আক্বীদা পোষণ করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
রোগ নিরাময়ের জন্যে মুসলমানরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে ওষুধ সেবন করে এর মধ্যে ইনজেকশন ও ইনসুলিন গ্রহণও একটি পদ্ধতি। ওষুধ মূলত রক্তস্রোতের মাধ্যমেই শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকে। অর্থাৎ রক্ত হচ্ছে এমন একটি মাধ্যম, যার মধ্য দিয়ে খাদ্য, অক্সিজেন, পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান টিস্যুসমূহে পৌঁছে এবং বর্জ্য দ্রব্যসমূহ বহন করে নিয়ে আসে। এটা এক ধরনের সংযোগ কলা। সুতরাং ওষুধ শরীরের সর্বাংশে ছড়ায়, অর্থাৎ মগজে পৌঁছে। ইনজেকশন যেভাবে রক্তস্রোতের দ্বারা মগজে পৌঁছে একই কায়দায় সব ধরনের স্যালাইনই মগজে পৌঁছে। এ প্রসঙ্গে ‘মাবসূত’ কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে, “হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রোযা ভঙ্গের কারণ হলো- রোযা ভঙ্গকারী কোন কিছু ভিতরে প্রবেশ করা, সুতরাং পৌঁছাটাই গ্রহণযোগ্য ।”
আর ফতহুল ক্বাদীর ২য় জিলদ ২৬৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে যে “হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট পৌঁছাটাই গ্রহণযোগ্য।”

অতএব মূল রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করুক অথবা মূল রাস্তা ব্যতীত অন্য যে কোন স্থান দিয়েই প্রবেশ করুক না কেন, যদি মগজ অথবা পেটে পৌঁছে, তবে রোযা অবশ্যই ভঙ্গ হয়ে যাবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে ইনজেকশনের দ্বারা প্রবেশকৃত ওষুধ পাকস্থলী ও মগজে পৌঁছে থাকে। আর শরীয়তের বিধান হলো, পাকস্থলী বা মগজে কিছু প্রবেশ করলেই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে; তা যে ভাবে এবং যে স্থান দিয়েই প্রবেশ করুক না কেন।
“হেদায়া মা’য়াদ দেরায়া” কিতাবের ১ম খণ্ডের ২২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “এবং যদি কোন ব্যক্তি ইনজেকশন নেয়…. তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে। কারণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, কিছু ভিতরে প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হবে।”
“বাহরুর রায়িক” কিতাবের ২য় খণ্ডের ২৭৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “যদি কোন ব্যক্তি ইনজেকশন নেয়… তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে। কারণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, কিছু ভিতরে প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হবে এবং বের হলে রোযা ভঙ্গ হবেনা।”
“ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ১ম খণ্ডের ২০৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “যদি কোন ব্যক্তি ইনজেকশন নেয়….. তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে।” অনুরূপ “ফতওয়ায়ে শামী” কিতাবেও উল্লেখ আছে।

কোন কোন জাহিল মৌলভী বলে থাকে যে, উল্লিখিত ফিক্বাহর কিতাবসমূহে যে ‘হুকনা’ বা ‘ইহতাক্বানা’ শব্দ উল্লেখ আছে তার অর্থ ইনজেকশন নয়। বরং তার অর্থ হলো ‘ডুশ বা সাপোজিটর’। যা বায়ুপথে দেয়া হয়। তাদের উক্ত বক্তব্য চরম জিহালতি, ধোঁকা, প্রতারণা, গুমরাহীমূলক ও কুফরীর শামিল। কারণ, সমস্ত আরবী কিতাব ও অভিধানগ্রন্থে ‘হুকনা’ বা ‘ইহতাক্বানা’ শব্দের অর্থ সরাসরি ইনজেকশন বা সিরিঞ্জ বলে উল্লেখ আছে। যেমন, আরবী-উর্দূ অভিধান ‘কামুস আল জাদীদ’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ‘হুকনাতুন- অর্থ ইনজেকশন, সিরিঞ্জ।’ ‘আধুনিক আরবী-বাংলা’ অভিধান গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ‘ইহতাক্বানুন’ অর্থ ইনজেকশন এবং সরাসরি ইহতাক্বানা ‘ইনজেকশন নেয়া’ শব্দটিও উল্লেখ রয়েছে। এমনিভাবে সমস্ত লোগাত বা অভিধানগ্রনে’ ‘ইহতাক্বানা’ শব্দের অর্থ ইনজেশকশন বলে উল্লেখ রয়েছে।
তারা তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস থেকে একটি দলীলও পেশ করতে পারবে না। তারা তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে যে সকল দেওবন্দী কিতাবের নাম উল্লেখ করছে যেমন ইমদাদুল ফতওয়া, আপকে মাসায়িল, আহসানুল ফতওয়া, ফতওয়ায়ে রহিমিয়া, ফতওয়ায়ে মাহমুদিয়া এসকল কিতাবগুলো দেওবন্দীদের নিজস্ব লেখা যা সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য নয় কেননা, উল্লিখিত কিতাবসমূহে ইনজেকশন সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণই ভুল ও দলীলবিহীন। তাছাড়া তাদের উক্ত কিতাবের বক্তব্য সকলের নিকট অনুসরণীয়, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বখ্যাত ফিক্বাহের কিতাব হিদায়া, বাহরুর রায়িক্ব, ফতওয়ায়ে আলমগীরী, ফতওয়ায়ে শামী, ফতহুল ক্বাদীর ইত্যাদি কিতাবের বক্তব্যের বিপরীত হওয়ায় তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য।
সুতরাং রোজা অবস্থায় ইনজেকশন, স্যালাইন, ইনহেলার, ইনসুলিন নেয়া হারাম ও রোজা ভঙ্গের কারণ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৭৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

Comments are closed.