লগইন রেজিস্ট্রেশন

রফে ইয়াদাইন না করার স্বপক্ষে দলীল

লিখেছেন: ' মুনিস মোর্শেদ' @ মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬, ২০১০ (৯:১৪ পূর্বাহ্ণ)

রফে ইয়াদাইন অর্থ উভয় হাত উত্তোলন করা । নামাজে তাকবীরে তাহরীমার সময় রফে ইয়াদাইন অনুমোদিত হওয়ার ব্যাপারে সকল ইমামগন একমত । শুধুমাত্র শিয়াদের মধ্য থেকে যায়েদিয়া সম্প্রদায় রফে ইয়াদাইন এর বিরুদ্ধ মত পোষন করে । অনুরূপ সিজদায় যাওয়া এবং সিজদা থেকে উঠার সময় হাত উঠানো সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখাত । তবে রুকুতে যাওয়া এবং রুকু থেকে উঠার সময় রফে ইয়াদাইন করা হবে কি হবে না , এ বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে । শাফেঈ ও হাম্বলীগন এ দুঅবস্হায় রফে ইয়াদাইন এর পক্ষে । অপরপক্ষে ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ:) এবং ইমাম মালেক (রহ:) এর মত হলো তরকে রফে ইয়াদাইন বা হাত উত্তোলন না করা । যদিও ইমাম মালিক (রহ:) থেকে একটি মত ইমাম শাফিঈ এর অনুরূপ পাওয়া যায় । কিন্তু স্বয়ং ইমাম শাফিঈ (রহ:) ইমাম মালেক এর মত রফে ইয়াদাইন না করা বলে উল্লেখ করেছেন । ইমাম মালেকের শাগরিদ ইবনুল কাসেমও এটি বর্ননা করেছেন ।

এছাড়া ইবনে রুশদ মালেকী বেদায়াতুল মুজতাহিদ গ্রন্হে এটাকেই ইমাম মালেক (রহ:) এর পছন্দনীয় উক্তি বলে সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছেন । একই ভাবে মালেকীদের কাছে মুফতা বিহী বা এর উপরই ফতোয়া তা হলো রফে ইয়াদাইন না করা ।

মুলত: এ ব্যাপারে হাদিস শরীফ সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় , রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) থেকে রফে ইয়াদাইন করা বা না করা , উভয় পদ্ধতিই প্রমানিত এবং সহীহ । তবে সময়ের পার্থক্য আছে । মুলত হানাফী মাযহাবে শেষ দিকের আমলকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে । কিন্তু আল্লাহর রসুলের সকল সময়ের আমলই উম্মতের জন্য রহমত , বরকত ও সাকীনা অর্জন করার উসীলা বা মাধ্যম । তাই আল্লাহ পাক চার মাযহাবের মাধ্যমে আল্লাহর রসুলের সকল সুন্নতগুলো জিন্দা রেখে উম্মতের উপর সীমাহিন ইহসান করেছেন । কারন কেউ যদি চোখে কাজল দেয় তবে সে তো আর সুরমা লাগাতে পারবেনা । আর কোনো জীন ও মানবের পক্ষেই আল্লাহর রসুলের পূর্ন অনুসরন , অনুকরন সম্ভব নয় । তাই বিষয়টি ঝগড়ার বিষয় নয় , বরং আমলের বিষয় ।
রফে ইয়াদাইন যারা করে তারাও ঠিক আছে আবার রফে ইয়াদাইন যারা করে না করার আমলও ঠিক আছে ।

তবে আমলের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুসরন করা আবশ্যক । কিছু আমল এ মাযহাব আবার কিছু আমাল অন্য মাযহাব অনুসরন করা জায়িজ নেই , একে তাখফীফ বলে । এতে দ্বীনি বিষয় খেল তামাশায় পরিণত হওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে । দ্বীন ইসলাম মানুষের নাফসানী ফাহেশাতের বা খেয়াল খুশীর বিষয়ে পরিণত হবে ।
যেহেতু চার মাযহাব হক , তাই যেকোনো একটি মাযহাব সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে ।

যেহেতু রফে ইয়াদাইন না করার আমল এখানে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে , তাই সে সম্পর্কে কিছু কথা লিখতে হচ্ছে ।

মুলত তর্কে রফে ইয়াদাইন বা হাত উত্তোলন না করাকে প্রমান করে এমন সহীহ হাদিস অনেক আছে । উপরন্তু রফে ইয়াদাইন না করার হাদিস আমলের দিক থেকে মুতাওয়াতির অর্থ্যাৎ না করার উপর ধারাবাহিক আমল পাওয়া যায় এবং এর সাক্ষী এত অধিক যে তা মিথ্যা বলা অসম্ভব ।

দলীল : ইসলামি বিশ্বের দুটি ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ কেন্দ্র অর্থাৎ মদীনা তাইয়েবা এবং কুফা নগরীতে প্রায় কোনরূপ ব্যতিক্রম ছাড়াই রফে ইয়াদাইন না করার উপায় ধারাবাহিক আমল প্রচলিত ছিল ।

মদীনা তাইয়েবায় রফে ইয়াদাইন না করবার আমল প্রচলিত থাকার সমর্থনে আমরা প্রমানস্বরূপ ইবনে রুশদ মালেকী (রহ:) এর বেদায়াতুল মুজতাহিদ গ্রন্হে বর্নিত বর্নিত বক্তব্য উপস্হাপন করতে পারি । তিনি লিখেছেন ইমাম মালেক (রহ:) রফে ইয়াদাইন না করার মাসলাক মদিনাবাসীর আমল দেখেই গ্রহন করেছেন । আর কুফাবাসীর আমল সম্পর্কে নসর মারওয়াযী লিখেছেন – “রফে ইয়াদাইন না করার ব্যাপারে কুফাবাসি একমত ।

— চলবে ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৬২৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২৩ টি মন্তব্য

  1. ভাই সরাসরি কোরআন-হাদীস থেকে দলীল থাকলে, সেগুলি দিবেন কি?
    কারণ রফে ইয়াদাইন করার পক্খে সরাসরি বুখারী-মুসলিম এর হাদীস এর দলীল আছে।

    সালাম।

  2. কি ভাই আপনার পোষ্টে দেখি কেউ কোন কমেন্ট করলেন না? যা হোক আপনি কষ্ট করে পোষ্ট করার জন্য পিস ইন ইসলামের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আর কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ যাতে প্রতিটি পোস্টে প্রেরণাদায়ক ভাল মন্দ মন্তব্য করেন।

    হয়তো আমাকে কেউ প্রশ্ন করবেন কেন আমি দেইনি। এর কারণও আছে। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহর হক যে আদায় করেনা কিংবা গাফলাতি করে তাকে আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করতে পারবেন এবং আমার বিশ্বাস আল্লাহ যেহেতু রাউফুর রহিম, আল্লাহ রহমান সেহেতু আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন। কিন্তু আল্লাহ বার বার আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন তার সৃষ্ট মাখলুকের হক যদি তসরুপ করা হয়। মাখলুকের হক আদায় না করা কারণে আল্লাহর মাখলুকের ক্ষতি হলে সেই অপরাধীকে আল্লাহ কখনও ক্ষমা করবেন না। তাই আমি মনে করি এই ব্লগে শুধু আমল আর আকিদা নিয়ে নয় বেশী বেশী করে বান্দার হক মাখলুকের হক নিয়ে আলোচনা হোক যাতে এই বিষয়ে মানুষকে অধিক মনোযোগী হতে সহায়ক হয়। মনে খালি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেই সালাত আদায় হয়না, যাবার পথে দেখলেন কলার ছিলা পড়ে আছে আর তা সরানোও তখন সালাত হয়ে যায়। কেউ যদি দেখেন আর ক্ষমতা থাকা সত্বেও না সরান তিনিও সালাত তরকের অপরাধে অপরাধি হবেন।

    তাই আমি বান্দা ও মাখলুক রিলেটেড পোস্টে আমি মন্তব্য করতে পছন্দ করি। আলোচ্য পোস্ট যেহেতু এক নফল বিষয় নিয়ে যা দ্ধারা না বান্দার হক না আল্লাহর হকের ক্ষতি বা ফায়দা লাভ হবে, তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করে এনার্জি নষ্ট করতে চাইনা। ধন্যবাদ।

    deshibhai007

    @মুনিম,

    মনে খালি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেই সালাত আদায় হয়না, যাবার পথে দেখলেন কলার ছিলা পড়ে আছে আর তা সরানোও তখন সালাত হয়ে যায়। কেউ যদি দেখেন আর ক্ষমতা থাকা সত্বেও না সরান তিনিও সালাত তরকের অপরাধে অপরাধি হবেন।

    আপনার এই কথার কোন প্রমাণ আছে কি? ইসলামের ব্যাপারে প্রমাণ ছাড়া কোন কথা বলা উচিত নয়।

    সালাম।

    হাফিজ

    @মুনিম ভাই,

    মাখলুকের হক আদায় না করা কারণে আল্লাহর মাখলুকের ক্ষতি হলে সেই অপরাধীকে আল্লাহ কখনও ক্ষমা করবেন না। তাই আমি মনে করি এই ব্লগে শুধু আমল আর আকিদা নিয়ে নয় বেশী বেশী করে বান্দার হক মাখলুকের হক নিয়ে আলোচনা হোক যাতে এই বিষয়ে মানুষকে অধিক মনোযোগী হতে সহায়ক হয়। মনে খালি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেই সালাত আদায় হয়না, যাবার পথে দেখলেন কলার ছিলা পড়ে আছে আর তা সরানোও তখন সালাত হয়ে যায়। কেউ যদি দেখেন আর ক্ষমতা থাকা সত্বেও না সরান তিনিও সালাত তরকের অপরাধে অপরাধি হবেন।

    মুনিম ভাই, সুন্দর বলেছেন, সহমত ।

    মুনিম

    @হাফিজ, ধন্যবাদ।

    মুনিম

    @হাফিজ,অধিকাংশ হক আলেম যে ফতোয়া দিবেন সেটাই আমাদের গ্রহন করতে হবে । ইবনে হযম বা ইউসুফ আল কারজাভীর কোনো ফতোয়া যদি অধিকাংশ আলেমের বিপক্ষে যায় সেটা আমরা কোনমতেই মেনে নিতে পারি না।

    মানলাম আপনি অধিকাংশ আলেমের রায়কে নিলেন, আর এটি মানা রাষ্ট্রের ঐক্য মুসলিম উম্মাহর সংহতির জন্য। কিন্তু আল্লাহ আপনাকে একটি বিবেক দিয়েছেন এবং সেই বিবেক যদি ঐ অধিক সংখ্যক আলেমের রায়কে গ্রহণ করতে চায় না কিংবা আপনি ডিটার মাইন্ড যে আপনার ঐ বেশীর ভাগ আলেমের কোথায় ভ্রান্তি আছে, আপনি ভ্রান্তি বুঝার পরও কি তাদের ভুলকে মেনে নিতে পারবেন?

    আর মানলে কত টুকু মানতে পারবেন? (………) এই ব্যাকেট ছেড়ে দিলাম কারন আমি আপনার আপন জন বিলভ কাউকে নিয়ে প্রশ্ন করতাম কিন্তু স্থান ও কালের জন্য করলাম না।
    শুধু একটি জিনিস জেনে নিন। আমাদের এই বঙ্গদেশে কেন মুসলমানরা যুগ যুগ ধরে অশিক্ষিত ছিল? শুধু এইটুকুর ইতিহাস জেনে তখন দেখবেন অধিকাংশ আলেম সব সময় যুগ উপযোগী সিদ্ধান্ত দিতে পারেননা। আর সেই কারণে অ আলিম স্যার আহমদের মতো একক ব্যক্তির ও প্রয়োজন পড়ে। ধন্যবাদ।

    হাফিজ

    @মুনিম ভাই,

    আমি আমার নিজস্ব বিবেকের চেয়ে “কোরান” , “হাদিস” এর দলীল কে বেশী প্রাধান্য দেই । ইসলামে বিবেককে প্রাধান্য দেয়া মানে “নফস” কে প্রাধান্য দেয়া ।

    যেসকল আলেম হক তাদের অধিকাংশের ফতোয়া গ্রহন করাই ইসলামের বিধান । সেটাই আমি সাপোর্ট করি ।

    হাফিজ

    @মুনিম ভাই,

    শুধু এইটুকুর ইতিহাস জেনে তখন দেখবেন অধিকাংশ আলেম সব সময় যুগ উপযোগী সিদ্ধান্ত দিতে পারেননা। আর সেই কারণে অ আলিম স্যার আহমদের মতো একক ব্যক্তির ও প্রয়োজন পড়ে। ধন্যবাদ।

    কোরান হাদিসের বিপক্ষে যে ফতোয়া দিবে সে যত বড় জ্ঞানী হোক না কেন , একজন মুসলমানের তাকে প্রাধান্য দেয়া উচিত নয় । স্যার সৈয়দ আহমদকে অনেকের বিশাল ব্যক্তিত্ব মনে হতে পারে , কিন্ত এটা ভুলে গেলে চলবে না উনার অনেক আকীদা সরাসরি ইসলামি আকিদার বিপক্ষে । তার মধ্যে একটি হলো “উনি জ্বীন বিশ্বাস করতেন না” ।

    আরো অনেকগুলো পয়েন্ট আছে যেটা সময়ের অভাবে লিখলাম না ।

    মুনিম

    @হাফিজ, ইতিহাস পড়ে জানুন, আপনারা আরব সাহিত্য সংস্কৃতির কত বড় ক্ষতি করেছেন? ৬০০ খৃঃ থেকে ৮০০ খৃঃ এই দু’শ বছর মুসলমানরা আরব সাহিত্যের অপরিসীম ক্ষতি করেছেন!

    কিভাবে ক্ষতি করেছেন বলবেন কি ?

    তার আগে আমাকে বলুন ইসলামের কি কোন সাহিত্য আছে ? যাকে ইসলামী সাহিত্য বলে দাবি করা যায় ? যদি থাকে তবে ঐ সাহিত্যে ইসলাম গত ১৪ শত বছরে কয়টি মৌলিক যেমন শব্দ ভাষা সংযোজন করেছে ? এবং ইসলামী ভাষা কি ? ইসলামী বর্ণমালা বা কি ? আমি শুধু আপনাকে নয় এই ব্লগ বা ব্লগের বাইরে তামাম ইসলামী তমদ্দুনের দাবিদার কাছে এই প্রশ্নটি রাখলাম। ধন্যবাদ।

    দ্য মুসলিম

    @মুনিম,

    আমরা আপনার কাছ থেকে বেশী বেশী মাখলুক ও বান্দা রিলেটেড পোষ্ট আশা করছি। ধন্যবাদ

    মুনিম

    @দ্য মুসলিম, আপনি কেন নয়? ধন্যবাদ।

    দ্য মুসলিম

    @মুনিম,

    অবশ্যই আমিও চেষ্টা করে যাব। তবে আমি “তিন ধরণের হক্ব”-কেই সমান গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করে থাকি।

    হাফিজ

    @দ্য মুসলিম ,

    অবশ্যই আমিও চেষ্টা করে যাব। তবে আমি “তিন ধরণের হক্ব”-কেই সমান গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করে থাকি।

    সহমত ।

    দ্য মুসলিম

    @মুনিম,

    কিছু মনে না করলে একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি। আপনি চাইলে ইগনোর করতে পারেন।

    আমার ব্লগে আপনার অনেক কবিতা ও দুনিয়াদারি পোষ্ট দেখলাম। ওটা তো নফলের ধারে কাছেও পড়েনা। ওগুলোতে কেন এনার্জি নষ্ট করছেন? ওগুলো থেকে নফল নিয়ে আলোচনা কি কিছুটা হলেও ভালো নয়? আমরা যারা মুসলমান তাদেরতো সব সময় আল্লাহর জিকির ইত্যাদির মধ্যে সময় কাটানো উচিত। অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পরিহার করা উচিত, তাই না?

    (বিষয়টা শুধু আলোচনার জন্য উপস্হাপন করলাম। অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয়।)

    মুনিম

    @দ্য মুসলিম, ব্যক্তিগত প্রশ্ন খোলা আম করেন! আবার মনে কিছু করব না এবং ইগনোর এর নসিয়ত করবেন এ কেমন কথা?

    ওকে, আমি মাইন্ড করিনি তবে আপনার প্রশ্নের ধরণে বুঝা যায় কোথায় যেন আপনার জ্বলছে! আমি মুনিম সিদ্দিকী আমার বাড়ি মৌলভী বাজার। আমি নিকের আড়ালে কেউ নই। আমি না বুঝে মর্দে মুমিন নিক নিয়েছিলাম। কিনতু যখন আমি নিজে বুঝতে পারলাম যে আমি তো দ্য মুসলিম হতে পারিনি তো দ্য মর্দে মুমিন কেমনে হই?
    সক্রেটিস বলেছেন না নো দাই সেলফ আমি সেই পর্যায়ে এখনও পড়ে আছি। যে চিনেছে নিজকে সে চিনেছে আল্লাহকে! আমি এখন বুঝতেছিনা আমি কে?
    তবে আমি বুঝেছি আমার একমাত্র পরিচয় আমি মানুষ। আর এটিই পরম সত্য এবং এই পরম সত্যকে সামনে রেখে আমি এগিয়ে যাবার চেষ্টায় আছি। আমি নিফাকি পছন্দ করিনা। শুনেন মানুষ হবার মসলা (ইসলামিক ফ্যানাটিক কিংবা ইসলামিক আহম্মক হবার জন্য নয়) ইসলামে কি আছে তা আমি খুঁজছি, মুসলিম হবার মসলা খুঁজেছিনা। আর এই মানুষ হবার মসলা খুঁজার জন্য চিন যাব। গাছের পাতার এনাটমি তন্ন তন্ন করে খুঁজব। আদম হওয়ার গন্দুম রহস্য নিয়েও গভীর পর্যবেক্ষণ করব। আপনার তাতে কোন অসুবিধা?

    ইতিহাস পড়ে জানুন, আপনারা আরব সাহিত্য সংস্কৃতির কত বড় ক্ষতি করেছেন? ৬০০ খৃঃ থেকে ৮০০ খৃঃ এই দু’শ বছর মুসলমানরা আরব সাহিত্যের অপরিসীম ক্ষতি করেছেন! এখনও কি সেইটি করতে চাচ্ছেন? ধন্যবাদ।

    দ্য মুসলিম

    @মুনিম,

    না ভাই, আপনি বোঝেননি। আমার কোথাও জ্বলছেনা। আসলে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি জানার ইচ্ছে ছিলো তাই এ প্রশ্ন করছিলাম। যাই হোক ভালো থাকবেন। আল্লাহ পাক আমাদের সবার নেক ইচ্ছা গুলো পুরো করার তৌফিক দিন। আমিন।

    দ্য মুসলিম

    @মুনিম,

    সক্রেটিস বলেছেন না নো দাই সেলফ আমি সেই পর্যায়ে এখনও পড়ে আছি। যে চিনেছে নিজকে সে চিনেছে আল্লাহকে! আমি এখন বুঝতেছিনা আমি কে?

    চাইলে ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর “কিমিয়ায়ে সা’আদাত” বইটি পড়তে পারেন। নিজেকে চেনার কিছু সহজ টিপস দেয়া আছে। বইটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনুদিত হয়েছিলো। বইটির বাংলা নাম “সৌভাগ্যের পরশমণি”।

    হাফিজ

    @মুনিম,

    ইতিহাস পড়ে জানুন, আপনারা আরব সাহিত্য সংস্কৃতির কত বড় ক্ষতি করেছেন? ৬০০ খৃঃ থেকে ৮০০ খৃঃ এই দু’শ বছর মুসলমানরা আরব সাহিত্যের অপরিসীম ক্ষতি করেছেন!

    কিভাবে ক্ষতি করেছেন বলবেন কি ?

    মুনিম

    @দ্য মুসলিম, চাইলে ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর “কিমিয়ায়ে সা’আদাত” বইটি পড়তে পারেন। নিজেকে চেনার কিছু সহজ টিপস দেয়া আছে। বইটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক অনুদিত হয়েছিলো। বইটির বাংলা নাম “সৌভাগ্যের পরশমণি”।

    দেখুন। কিমিয়ায়ে শাআদাত এটির বাংলা “সৌভাগ্যের পরশমণি” হয় কেমন করে বলবেন কি? কিমিয়া কি ? শাআদাত ?

    বইটি ১৯৭৮ সালে পড়েছিলাম। কেন বইতে কি বিশেষ কিছু আছে ? কোন খণ্ড কোন চাপ্টার পড়তে হবে বলেন কারণ এখন আর সম্পূর্ণ কিতাব পড়া যাবেনা।
    শুনেন এই ব্লগে যখন ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর বক্তব্য যখন আমার পক্ষে পেশ করেছিলাম তখন আপনাদের বাংলা মৌলভী সাহেব বলেছিলেন যে ইমাম গাজ্জালী (রঃ) ফিকাহবিদ নয় কাজেই উনার সিদ্ধান্ত মানতে হবে এমন কথা নয়। সে দিন দেখলাম ইবনে হাজমের এক সিদ্ধান্ত হাফিজ সাহেব দেখিয়েছেন যা উনার পক্ষে যায়। অথচ হাফিজ সাহেব ও বাংলা মৌলভী সাহেব দুই জন আমি যখন সঙ্গীতের পক্ষে ঐ ইবনে হাজম ও ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর মন্তব্য কোট করেছি তখন দুই জনই মেনে নেন নাই।

    তার মানে দাঁড়াচ্ছে আমরা আমাদের হয় বাবার কাছ থেকে না হয় উস্তাদের কাছ যা শুনি তাকে আল্লাহর কালামের সমতুল্য ভেবে বুকের সিমেন্টের মত সানবান্ধা ঘাট বানিয়ে ফেলি । এর পর শুরু হয় ঐসব পূর্ব ধারণাকে কেমন করে লজিক দিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তির কোটেশন দিয়ে সত্য প্রমাণ করার অদ্ভূত প্রচেষ্টা করে থাকি? আমার কথা কঠোর হয়ে যাচ্ছে তাইনা ?ভুল বলে থাকলে প্রমাণ করুন। মা আস সালাম।

    হাফিজ

    @মুনিম,

    শুনেন এই ব্লগে যখন ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর বক্তব্য যখন আমার পক্ষে পেশ করেছিলাম তখন আপনাদের বাংলা মৌলভী সাহেব বলেছিলেন যে ইমাম গাজ্জালী (রঃ) ফিকাহবিদ নয় কাজেই উনার সিদ্ধান্ত মানতে হবে এমন কথা নয়। সে দিন দেখলাম ইবনে হাজমের এক সিদ্ধান্ত হাফিজ সাহেব দেখিয়েছেন যা উনার পক্ষে যায়। অথচ হাফিজ সাহেব ও বাংলা মৌলভী সাহেব দুই জন আমি যখন সঙ্গীতের পক্ষে ঐ ইবনে হাজম ও ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর মন্তব্য কোট করেছি তখন দুই জনই মেনে নেন নাই।

    ইমাম গাজ্জালী (রহ:) অসাধারন দার্শনীক , সুফি , আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গ ছিলেন । ওনার এই সংক্রান্ত যেকোন লেখা সবাই মাথায় পেতে নেয় । কেউ যদি নিজের চরিত্র সংশোধন করতে চায় তাহলে ইমাম গাজ্জালী (রহ:) এর এহইয়াউল উলুমুদ্দিন , কিমিয়ায়ে সাআদাত, মিনহাজুল আবেদীন ইত্যাদি বইগুলো পড়ে অবশ্যই উপকৃত হবে । আর বাংলা মৌলভী যেটা বলেছিলেন সেটা মাসআলাগত ব্যাপার। মাসআলার ব্যাপারে যেটা বলা হয় , কোন একটি বিষয়ে অধিকাংশ আলেম যে ফতোয়া দিবে সেটাই গ্রহনযোগ্য হবে । কোনো একটি বিষয়ে কারো ফতোয়া যদি অধিকাংশ আলেমের বিপক্ষে যায় তাহলে তারটা গ্রহনযোগ্য হবে না । তেমনই একটি বিষয় সংগীত । ইমাম গাজ্জালী (রহ:) শাফিঈ মাজহাবের ছিলেন এবং ওনারা শুধুমাত্র বিবাহের সময় দফ বাজানো সাপোর্ট করেন ।

    সমস্ত জমহুর আলেমের মতো হলো সংগীত হারাম ( যেটা বাদ্যযন্ত্র সহ গাওয়া ) হয় । সেখানে দুই একজন ( যেমন ইউসুফ আল কারজাভী , ইবনে হযম ) যদি বলেও সংগীত জায়েজ সেটা গ্রহনযোগ্য নয় , যেহেতু এটা ইজমার পর্যায়ে গিয়েছে যে বাদ্যযন্ত্র হারাম ।

    আর এটাই সঠিক পন্হা যে , অধিকাংশ হক আলেম যে ফতোয়া দিবেন সেটাই আমাদের গ্রহন করতে হবে । ইবনে হযম বা ইউসুফ আল কারজাভীর কোনো ফতোয়া যদি অধিকাংশ আলেমের বিপক্ষে যায় সেটা আমরা কোনমতেই মেনে নিতে পারি না। এর অর্থ এই নয় যে আমাদের সুবিধামতো আমরা আলেম পছন্দ করছি । এর অর্থ হচ্ছে – অধিকাংশ আলেম যে বিষয়ে ফতোয়া দিচ্ছে সেটা আমরা গ্রহন করছি । সেটা আমাদের পছন্দ না হলেও ।

    আশাকরি বুঝতে পেরেছেন ।

    হাফিজ

    @মুনিম,

    তার মানে দাঁড়াচ্ছে আমরা আমাদের হয় বাবার কাছ থেকে না হয় উস্তাদের কাছ যা শুনি তাকে আল্লাহর কালামের সমতুল্য ভেবে বুকের সিমেন্টের মত সানবান্ধা ঘাট বানিয়ে ফেলি । এর পর শুরু হয় ঐসব পূর্ব ধারণাকে কেমন করে লজিক দিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তির কোটেশন দিয়ে সত্য প্রমাণ করার অদ্ভূত প্রচেষ্টা করে থাকি?

    এটা তাদের ক্ষেত্রে সত্য যারা দলীল ছাড়া কথা বলে, আর যদি কেউ দলীল দিয়ে কথা বলে , তাহলে সেটা সে পূর্ব পূরুষ থেকে পেলো নাকি চাচা শশুর থেকে পেলো সেটা ব্যাপার না । কথা হবে দলীল দ্বারা ।

    দ্য মুসলিম

    @মুনিম,

    কিমিয়ায়ে শাআদাত এটির বাংলা “সৌভাগ্যের পরশমণি” হয় কেমন করে বলবেন কি? কিমিয়া কি ? শাআদাত ?
    শাব্দিক অর্থ বলতে পারবো না। মনে হয় বইটির বিষয় বস্তুর দিকে তাকিয়ে অনুবাদক নাম সিলেক্ট করেছেন।

    বইটি ১৯৭৮ সালে পড়েছিলাম। কেন বইতে কি বিশেষ কিছু আছে ? কোন খণ্ড কোন চাপ্টার পড়তে হবে বলেন কারণ এখন আর সম্পূর্ণ কিতাব পড়া যাবেনা।
    ভাই, তখন তো আপনি অনেক ছোট ছিলেন। কষ্ট করে “সৌভাগ্যের পরশমনি” বইটির প্রথম খন্ড পড়ুন। আশা করি কিছু শিখতে পারবেন।

    আমার কথা কঠোর হয়ে যাচ্ছে তাইনা ?ভুল বলে থাকলে প্রমাণ করুন। মা আস সালাম।
    না ভাই আপনার কথা কঠোর হচ্ছেনা। আর আপনিতো তেমন কিছু বলেন ই নি যে ভুল প্রমাণ করবো।

  3. @মুনিস মোর্শেদ’,

    ভাই ভালো লিখেছেন। চালিয়ে যান। ধন্যবাদ।