লগইন রেজিস্ট্রেশন

ক্রান্তিলগ্নে ইসলাম – ৬

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ সোমবার, জুলাই ১৮, ২০১১ (৮:৪৬ অপরাহ্ণ)

বিসমিল্লাহির রাহমানি রাহিম
আস সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

…….পূর্বে প্রকাশিত লেখার সূত্র ধরে…..

গত সংখ্যায় আলোচনা করা Islam at the Crossroads বইয়ের “The Open Road of Islam” অধ্যায়ে, এরপর মুহাম্মাদ আসাদ বলেন:

“….the Islamic teaching contends that man is born pure…It is said in the Holy Qur’an:

“Verily We create man in the best conformation” – but in the same breath the Qur’an continues:
“… and thereafter We reduce him to the lowest of low – excepting only such as attain to faith and do good works” [Surah 95: 4-6] (Page#23, Islam at the Crossroads – Muhammad Asad)

অর্থাৎ: ” …ইসলামী শিক্ষা আমাদের বলে যে, মানুষ জন্মগতভাবেই ভালো/নিষ্পাপ। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:“আমরা অবশ্যই মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম গঠনে” – কিন্তু একই সাথে কুর’আন বলতে থাকে, “অতঃপর আমরা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছি নীচতমদের নীচে – কেবল তাদেরকে ছাড়া যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে।” (কুর’আন, ৯৫: ৪-৬)

আমরা হয়তো প্রায়ই সবাই জানি যে, ইসলাম বলে: সকল শিশুই আল্লাহ-প্রদত্ত ইসলামের “ফিতরার” উপর জন্মগ্রহণ করে থাকে, যেমনটা রাসূল(সা.)-এঁর নিম্নলিখিত হাদীসে আমরা দেখতে পাই: “প্রতিটি নবজাত শিশুই ফিতরার (সহজাত স্বাভাবিক প্রবণতা – অর্থাৎ ইসলামী একেশ্বরবাদের) উপর জন্মগ্রহণ করে; তারপর তার পিতা-মাতা তাকে একজন ইহুদী, খৃস্টান বা মাজুসিতে পরিণত করে।” (মুসলিম)। এই ধারণা এই অধ্যায়ের নামকে আরো যথার্থতা প্রদান করে – ইসলামে প্রবেশ করার পথটা হচ্ছে সকলের জন্যই একটা উন্মুক্ত পথ।

উপরে উদ্ধৃত আয়াতগুলো প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ আসাদ বলেন:

In these verses is expressed the doctrine that man is originally good and pure; and furthermore that disbelief in God and lack of good actions may destroy his original perfection. On the other hand, man may retain, or regain that original, individual perfection if he consciously realizes God’s Oneness and submits to His laws.(Page#23, Islam at the Crossroads – Muhammad Asad)

অর্থাৎ: “এই আয়াতগুলোতে যে মতাদর্শ প্রকাশ করা হয়, তা হচ্ছে এই যে, মানুষ আদতে [জন্মগতভাবেই] ভালো এবং পরিশুদ্ধ; কিন্তু তদুপরি আল্লাহয় অবিশ্বাস এবং সৎকর্মবিহীন জীবন, তার সেই আদি পূর্ণতাকে নষ্ট করে দিতে পারে। অন্যভাবে বলা যায়, মানুষ তার সেই আদি ও ব্যক্তিগত পূর্ণতাকে ধরে রাখতে পারে অথবা [হারিয়ে থাকলে] পুনরুদ্ধার করতে পারে, যদি সে সচেতনভাবে আল্লাহর একত্ব বা “তৌহীদ”কে অনুধাবন করতে পারে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে পারে।”

আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে প্রতিটি মানুষই সুন্দর, ভালো, পরিশুদ্ধ এবং পরিপূর্ণ – কিন্তু এর আগে আমরা যেমন বলেছি – আল্লাহ বলেছেন:মানুষকে তিনি সৃষ্টিই করেছেন কেবল তাঁর ইবাদত করার জন্য। এই উদ্দেশ্যটা যখন ব্যর্থ হয়, তখন তার জীবনটা অকেজো ও অর্থহীনতায় পরিণত হয়। সে আর সেরা সৃষ্টি থাকে না বরং lowest of the lowতে পরিণত হয়। ধরুন আপনাকে কেউ একটা BMW গাড়ী দেখাচ্ছে – বলছে এর ট্র্যান্সমিশন পৃথিবীর সর্বাধুনিক, এর সব অপশন রয়েছে – পাওয়ার উইন্ডো, পেছনে ক্যামেরাযুক্ত নেভিগেশন সিস্টেম, চার চাকা ড্রাইভ, খুবই ফলপ্রসু এয়ার কন্ডিশনিং ইত্যাদি ইত্যাদি। সবশেষে বর্ণনাকারী ব্যক্তিটি বললো যে, কেবল একটি সমস্যা – ঐ গাড়ীটি রাস্তায় চলে না বা চলবে না! আপনি কি বলবেন? আগে এত কথা বলা হলো, কত গুণগান গাওয়া হলো, তার সবই অর্থহীন বাক্যব্যয় – কারণ একটা গাড়ী কেনার বা রাখার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, তা রাস্তায় বাহন হিসাবে চলবে। তাই যদি না হয়, তবে ঐ গাড়ীটি অকেজো বা অর্থহীন।

এর পরপরই আসাদ বলেন:
.

..Islam ….teaches us,…not to attribute to earthly life that exaggerated value which modern Western civilization attributes to it. While the Christian outlook implies that earthly life is a bad business, the modern West – as distinct from Christianity – adores life in exactly the same way as the glutton adores his food: he devours it but has no respect for it. Islam on the other hand looks upon earthly life with calm and respect. It does not worship it, but regards it as an organic stage on our way to a higher existence……Human life, therefore, is of tremendous value; but we must never forget that, it is a purely instrumental value. In Islam there is no room for the materialistic optimism of the modern West which says: “My kingdom is of this world alone” – nor for the life-contempt of the Christian saying: “My kingdom is not of this world”(Page#26, Islam at the Crossroads – Muhammad Asad)

অর্থাৎ: “ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়: আমরা যেন পার্থিব জীবনকে ঐ ধরনের অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিই, যেমনটা আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতা দিয়ে থাকে। পার্থিব জীবনের প্রতি খৃষ্টধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী নেতিবাচক হলেও, তার বিপরীতে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা পার্থিব জীবনের ‘পূজা’ করে থাকে – যেমনটা কোন খাদক ব্যক্তি তার খাবারের পূজা করে: সে (কোন খাদক) খাবার সাবাড় করে, কিন্তু খাবারের প্রতি তার মনে কোন সম্মানবোধ থাকে না। অপরপক্ষে ইসলাম পার্থিব এই জীবনকে সংযত দৃষ্টিতে ও সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। ইসলাম এর পূজা করে না সত্যি, কিন্তু পরবর্তী চিরস্থায়ী জীবনের যাত্রাপথে পার্থিব জীবনকে একটা অপরিহার্য পর্যায় বলে মনে করে। ……..মানব জীবন তাই (ইসলামের দৃষ্টিতে) সাংঘাতিক মূল্যবান; কিন্তু আমরা কখনোই যেন ভুলে না যাই যে এই মূল্যায়ন কেবলই নিমিত্তস্বরূপ (অর্থাৎ পার্থিব জীবনটা আখেরাতের জীবনে সফলভাবে পৌঁছানোর একটা ধাপ/উপায় বা means, কিন্তু নিজেই কোন উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য বা end নয়)। ইসলামে ঐ পশ্চিমা বস্তুবাদী আশাবাদের কোন অবকাশ নেই, যার উপর ভিত্তি করে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা বলে থাকে যে: ‘আমার রাজত্ব হচ্ছে কেবল মাত্র এই পৃথিবীর’ – অথবা একজন সনাতন খৃষ্টানের ঐ জীবন-বিমুখতার অবকাশও ইসলামে নেই, যার ভিত্তিতে সে বলে থাকে:‘আমার রাজত্ব এই পৃথিবীর (কিছু) নয়’ ।”

উপরের কথাগুলোকে সহজে বলতে গেলে আমরা বলতে পারতাম যে, ইসলাম এই পৃথিবীর জীবন থেকে আমাদের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু “গ্রহণ” করতে বারণ করে না, বরং আখেরাতের জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসাবে, আমাদের এই পৃথিবীতেও একটা সুস্থ, সবল, সুন্দর জীবন চাই – কিন্তু ভোগবাদী মনোবৃত্তির বশবর্তী “উপার্জনের জন্য জীবন” না ভেবে, ইসলাম বরং আমাদের “জীবনের প্রয়োজনের জন্য উপার্জন” ভাবতে শেখায়। আমরা তাই রাসূল(সা.)-কে দোয়া করতে দেখি যে, আল্লাহ যেন তাঁকে পর্যাপ্ত (রিযিক) দেন, কিন্তু অতিরিক্ত নয়!

মুহাম্মাদ আসাদ এরপর মুসলিম জীবনের এমন একটা দিক আলোচনা করেন, যা খুব সম্ভবত ইসলামকে সকল ধর্মের চেয়ে পৃথক এবং অদ্বিতীয় একটা অবস্থানে দাঁড় করায়:

The well-known injunction of the Gospels’ “render unto Caesar that which belongs to Caesar, and render unto God that which belongs to God” has no place in the theological structure of Islam, in which firstly, everything is regarded as belonging to God, and secondly, because Islam does not admit of the existence of a conflict between the moral and the socio-economic requirements of our life. In everything there can be only one choice: the choice between Right and Wrong – and nothing in-between. Hence the intense insistence on action as an indispensable element of morality.(Page#27, Islam at the Crossroads – Muhammad Asad)

অর্থাৎ: “বাইবেলের (নতুন নিয়মের) নির্দেশনায় বলা হয়: ‘সিজারের (অর্থাৎ সরকারের বা শাসনকর্তার) যা প্রাপ্য তা তাকে দাও, আর ঈশ্বরের যা প্রাপ্য, তা ঈশ্বরকে দাও’। ইসলামের ধর্মতত্ত্বের কাঠামোয় এই ধরনের বক্তব্যের কোন স্থান নেই – যেখানে প্রথমত সব কিছুই আল্লাহর বলে গণ্য করা হয়! দ্বিতীয়ত, ইসলাম যেহেতু আমাদের জীবনের নৈতিক ও আর্থ-সামাজিক দাবীসমূহের মাঝে কোন বিরোধের অস্তিত্ব স্বীকারই করে না। সেহেতু, যে কোন ব্যাপারেই বেছে নেয়ার কেবল একটি মাপকাঠি রয়েছে:

    শুদ্ধ এবং ভুলের মাঝ থেকে (শুদ্ধকে) বেছে নেয়া

– এবং মাঝামাঝি কিছুই নয়! তাই নৈতিকতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে “আমল” বা বাস্তব কর্মকান্ডের উপর এত জোর দেয়া হয়ে থাকে।”

লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, দেশ শাসনের ব্যাপারে ইউরোপীয় বা পশ্চিমাদের কাছে ধর্মনিরপেক্ষতা যে সঙ্গত, তার প্রাথমিক ধারণাটা তারা হয়তো বাইবেল থেকেই পেয়ে থাকেন – যেখানে মানুষের জীবনকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে আর সেই সঙ্গে তার অনুগত্যকেও – ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে স্কলাররা হয়তো এটাকে “আনুগত্যে শিরক” বলবেন। ইসলাম মনে করে যে, আনুগত্য কেবলই আল্লাহর প্রাপ্য – আর সকল আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্যের আওতাধীন হতে হবে। ইসলাম জীবনের সকল ক্ষেত্রকে অতি অবশ্যই আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার অধীন মনে করে। তাহাজ্জুদে বা ফজরে ঘুম ওঠা থেকে শুরু করে, রাতে আবার ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত একজন মানুষের জীবনে যত কর্মকান্ড রয়েছে তার প্রতিটির ব্যাপারেই ইসলামের কোন না কোন কিছু বলার আছে বা say আছে। ধরুন ঘুম থেকে উঠে আপনি বসবেন, তখন সুনির্দিষ্ট দোয়া রয়েছে। এরপর টয়লেটে যাবেন – প্রবেশের দোয়া আছে; টয়লেটে কিভাবে প্রবেশ করবেন বা বসবেন সে ব্যাপারে ইসলামের say আছে। ওখানে কি করা যাবে বা যাবে না সে ব্যাপারে ইসলামের দিক-নির্দেশনা আছে। যেমন টয়লেটে বসা অবস্থায় কোন দোয়া পড়বেন না বা সালামের উত্তর দেবেন না। এরপর টয়লেট শেষে বের হবার সময় কি দোয়া পড়বেন এবং কোন পা আগে দিয়ে বের হবেন – তাও ইসলাম আপনাকে বলে দেয়। এভাবে সারাদিনের প্রতিটি ব্যক্তিগত বা দৈনন্দিন কাজও ইসলামের আওতাভুক্ত বা অন্য কথায় বললে, আমরা বলতে পারতাম যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কাজেও আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার ব্যাপার রয়েছে। একই সাথে, আল্লাহর প্রতি অবাধ্যতা যেখানে আসবে, সেখানে আর কারো প্রতি আনুগত্যের কোন প্রশ্নই ওঠে না! আনুগত্যের সবচেয়ে বড় দাবিদাররা হচ্ছেন: সাধারণ মুসলিমদের জন্য তাদের খলিফা/আমীর, সন্তানের জন্য বাবা-মা আর স্ত্রীর জন্য স্বামী – কিন্তু এসকল দাবীই বিকল হয়ে যাবে, যখন কেউ এমন কিছু দাবী করবেন, যা আল্লাহর আদেশ-নিষেধের সীমা লঙ্ঘন করবে। এই ব্যাপারটা বর্তমান দুঃসময়ে বহু মুসলিমই বুঝতে অক্ষম – অন্য ধর্মাবলম্বীদের কথা না হয় বাদই দিলাম। এই বিষয়টা বুঝলে, কেউ, একজন বিশ্বাসী মুসলিম হয়ে কিছুতেই আর ধর্মনিপেক্ষতার গুণগান গাইতে পারতেন না!

এরপর আসাদ বলেন:

Every individual Muslim has to regard himself as to some extent personally responsible for all happenings around him, And to strive for the establishment of Right and the abolition of Wrong at every time and in every direction. A sanction for this attitude is to be found in the Qur’anic verse:

“You are indeed the best community that has ever been brought forth for [the good of] mankind: you enjoin the doing of what is right and forbid the doing of what is wrong..”(3:110)

This is the moral justification of the aggressive activism of Islam, a justification of the early Islamic conquests and of it’s so called “expansionism”.(Page#28, Islam at the Crossroads – Muhammad Asad)

অর্থাৎ:“প্রতিটি ব্যক্তি মুসলিমের, তার চারপাশে যা ঘটে চলেছে সেসব ব্যাপারে নিজেকে ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা হলেও দায়িত্বশীল মনে করতে হবে। এবং সময়ের যে কোন একটা প্রস্থচ্ছেদে তাকে সবদিক থেকে যা সঠিক সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করার এবং যা অঠিক সেটাকে দূর করার চেষ্টা করতে হবে। কুর’আনের নিম্নলিখিত আয়াতে এই দৃষ্টিভঙ্গীর অনুমোদন দেখতে পাওয়া যায়:

‘তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের (কল্যণের) জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, …’(কুর’আন, ৩:১১০)

ইসলামের সক্রিয় দাওয়াতী তৎপরতাকে নৈতিকভাবে যথার্থ (বা সঠিক) মনে করার পেছনে এটা হচ্ছে একটা কারণ – আর একারণেই ইসলামের প্রথমযুগের দেশজয় বা তথাকথিত “সম্প্রসারণবাদ”কেও যথার্থ বা ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করা হয়।”

রাস্তায় চলতে আজ যেমন হয়, ১০ গজ দূরে কাউকে ছিনতাই করা হচ্ছে দেখে একজন পথচারী “ঝামেলা এড়াতে” মুখ ফিরিয়ে নেন – অথবা – একটা মেয়ের প্রতি যখন কোন বখাটে ছেলে একটা অশ্লীল মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়, তখন পাশে চলতে থাকা “প্রথম শ্রেণীর” নাগরিকটি নির্বিকার গবাদি পশুর মত তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেন – এই ব্যাপরগুলো একটা মুসলিম সমাজে অকল্পনীয় এবং দারুন রকমের “অমুসলিম সুলভ”। কারণ, মুসলিম সমাজের কোন নাগরিকই “যা খুশী তাই করতে পারেন না” – তাকে অবশ্যই মুসলিম সামাজিকতাকে সমীহ করে চলতে হয়/হবে। অপরদিকে, মুসলিম সমাজের প্রতিটি নাগরিকই যেহেতু “সৎকাজে আদেশ ও মন্দকাজে নিষেধ” করাকে ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করেন, সেহেতু, তিনিও জনসম্মুখে একটা অন্যায় ঘটে চলেছে দেখে চুপ করে থাকবেন না! এই সূত্র ধরেই পার্শ্ববর্তী কোন ভূমিতে কোন অনাচার বা অবিচারের সংবাদে বা নিগৃহীত কোন মানুষের আহ্বানে স্বর্ণযুগের মুসলিম সেনাবাহিনী সেই অন্যায়, অবিচার বা জুলুম নির্মূল করতে সমুদ্র পাড়ি দিয়েও সেখানে ছুটে গিয়েছে। এভাবেই একজন অসহায় রমণীর আহ্বানে সাড়া দিতে গিয়ে মুসলিম বালক-সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম তার অজেয় সেনাবাহিনী নিয়ে করাচির অদূরে সিন্ধুর মাটিতে প্রথম পা রেখেছিলেন এবং এক নতুন ইতিহাস ও অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।

A mere Platonic discernment between Right and Wrong, without the urge to promote Right and to destroy Wrong, is a gross immorality in itself, for morality lives and dies with the human endeavour to establish its victory upon earth.(Page#28, Islam at the Crossroads – Muhammad Asad)

অর্থাৎ, “শুদ্ধকে প্রতিষ্ঠা করা এবং ভুলকে ধ্বংস করার বাসনা ছাড়া, ‘শুদ্ধ/ঠিক ও অশুদ্ধ/অঠিক এই দুইয়ের মাঝে কেবল একটা বায়বীয় পার্থক্য নির্ধারণ করেই তৃপ্ত হয়ে যাওয়াটা’

    নিজেই একটা বড় ধরনের অনৈতিকতা

, কেননা পৃথিবীতে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে মানুষের সংগ্রাম ও প্রচেষ্টার উপর নির্ভর করবে নৈতিক মূল্যবোধ টিকে থাকবে কি না!”

ধর্ম তথা ঈশ্বরে বিশ্বাস হারানো ফরাসী বিপ্লবের হোতারা মনে করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, মানুষ যখন (তাদের সংজ্ঞায়িত আধুনিকতার আলোতে) আলোকিত হবে, তখন পৃথিবীতে এমনি এমনিই কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে – অনেকটা goodness for the sake of goodness হবে ব্যাপারটা। কিন্তু আজ প্রায় ৫০০ বছর পরেও তেমনটি ঘটে নি – কেন? মানুষ এমনি এমনিই তার লোভ, লালসা, কাম, ক্রোধ বা স্বার্থপরতা ত্যাগ করে না। আমরা সবাই জানি যে, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ঘন্টাখানেক হাঁটা, ব্যায়াম করা বা শরীর সচল রাখার অভ্যাসটা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। কিন্তু ক’জন তা করি?? আমার তো মনে হয় জনসংখ্যার ১% ও আপনা আপনি তা করি না । কিন্তু মিলিটারী একাডেমী বা মেরিন একাডেমীর মত জায়গায় ১০০% শিক্ষার্থীই রোজ সকালে শারীরিক ব্যায়াম করেন – কেন? কারণ, কাজগুলো করলে “লাভ” এবং না করলে “ক্ষতি”র বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে – তাই তারা ঐ সব কমর্কান্ডের আপাত “কষ্ট”টা স্বীকার করে নেন। একজন বিশ্বাসী মুসলিম যখন বিশ্বাস করেন যে, তাকে “আল্লাহ-নির্ধারিত” একটা “শুদ্ধ” ব্যাপার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে হবে – অথবা তার সামনে ঘটতে থাকা একটা অন্যায়ের প্রতিকারের চেষ্টা করতে হবে – তা না হলে তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে একটা অন্যায়কে মেনে নিয়ে complacent বা পরিতৃপ্ত থাকলে, তাকে জাহান্নামী হতে হবে, তখন তিনি অবশ্যই “সক্রিয়” হবেন এবং শুদ্ধকে প্রতিষ্ঠা এবং অশুদ্ধকে নির্মূল করতে চাইবেন। তা নাহলে নীতিকথা কেবল বইয়ের পাতায়, কবিতায় আর গানেই থেকে যাবে – “মানুষ মানুষের জন্য” গান গাওয়া সাম্যবাদী ভূপেন হাজারিকারা পরমুহূর্তে উগ্র হিন্দু মৌলবাদী দল বি,জে,পি-র টিকেটে নির্বাচন করবেন অথবা মানুষ গড়ার কারিগর পরিমলরা নিজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করতে দ্বিধা বোধ করবে না। সুতরাং, goodness for the sake of goodness-এর মত বায়বীয় কথায় পৃথিবীতে কখনো কোন কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি কখনো হবেও না। দ্বীন ইসলামকে নিজের জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে মুসলিমদের ভিতর যে সক্রিয় আকাঙ্খা থাকবার কথা – পরিবর্তনের সেই সক্রিয় আকাঙ্খা ও চেষ্টা থাকা ছাড়া এমনি এমনিতেই কোন কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবার নয়!

[ইনশা'আল্লাহ্ চলবে.....]

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৭০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৮ টি মন্তব্য

  1. অনেক দিন পর ব্লগে আপনাকে দেখে ভাল লাগল। ধন্যবাদ

    মুসলিম৫৫

    @রাসেল আহমেদ, আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ! (F)

  2. চালিয়ে যান সাথে আছি। ধন্যবাদ আপনাকে

    মুসলিম৫৫

    @সত্যের সন্ধানী ১০০%, আপনাকেও ধন্যবাদ!

  3. জাযাকাল্লাহ।

    মুসলিম৫৫

    @anamul haq, আপনাকেও আল্লাহ্ উত্তম প্রতিদান দিন!

  4. সুন্দর হয়েছে, চালিয়ে যান।

    মুসলিম৫৫

    @মুসাফির, ধন্যবাদ!