লগইন রেজিস্ট্রেশন

শুদ্ধ আক্বীদাহ্ বা বিশ্বাসের গুরুত্ব – ২

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০০৯ (১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
السلام عليكم ورحمة الله و بركاته

ইসলামের বড় স্কলারদের মত হচ্ছে এরকম যে, কারো দ্বীন [অর্থাৎ আমরা মোটামুটিভাবে ধর্ম বলতে যা বুঝি - যদিও দ্বীন বলতে সম্পূর্ণ জীবন ব্যবস্থা বোঝানো হয়ে থাকে] যদি একটা শরীরের মত হয়, তবে আক্বীদাহ্ বা বিশ্বাস হচ্ছে মাথার মত। কারো মাথা কেটে ফেলে দিয়ে, তার শরীরের পরিচর্যা করার যেমন কোন মানে হয় না – তেমনি নষ্ট বা ভ্রান্ত আক্বীদাহ্ নিয়ে কেউ দ্বীনের অন্যান্য আমল বা কাজ যতই করুক না কেন তা একরকম অর্থহীন। এ সংক্রান্ত আগের পোস্টটাতে আমরা যেমন বলেছি যে, [বড়] শিরকের উপর কেউ মৃত্যু বরণ করলে, সে নিশ্চিত জাহান্নামী – কারণ আল্লাহ্ বলেছেন তিনি শিরক ক্ষমা করবেন না। [বলা বাহুল্য যে শিরক হচ্ছে আক্বীদার বড় ধরনের একটা ত্রুটি।] যেমন আল্লাহ্ বলছেন:

Allah forgiveth not that partners should be set up with Him; but He forgiveth anything else, to whom He pleaseth; to set up partners with Allah is to devise a sin most heinous indeed. (Qur’an, 4:48)

“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে মাফ করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যার জন্য তিনি চান, তিনি মাফ করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে।” (কুর’আন, ৪:৪৮)

They do blaspheme who say: “Allah is Christ the son of Mary.” But said Christ: “O Children of Israel! Worship Allah, my Lord and your Lord.” Whoever joins other gods with Allah, Allah will forbid him the Garden, and the Fire will be his abode. There will for the wrongdoers be no one to help. (Qur’an, 5:72)

“অবশ্যই তারা কুফরী করেছে, যারা বলেছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন মারইয়াম পুত্র মাসীহ’। আর মাসীহ বলেছে, ‘হে বনী ইসরাঈল, তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদাত কর।’ নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার জন্য অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।”(কুর’আন, ৫:৭২)

আমরা দৈনন্দিন জীবনেই দেখতে পাই যে, আমাদের সকল কর্মকান্ড আমাদের বিশ্বাস দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রত হয়। আমরা সাপ দেখলে যে আৎকে উঠি, দৌড়ে পালাই বা সাপ মারার আয়োজন করি এর মূলে রয়েছে আমাদের এই বিশ্বাস যে, সাপ একটা বিষধর প্রাণী – কামড়ে দিলে আমরা মারা যেতে পারি। আবার একটা খরগোশ দেখলে আমরা মোটেই ভয় পাই না – এর মূলেও রয়েছে আমাদের এই বিশ্বাস যে, খরগোশ একটি নিরীহ প্রাণী। যারা অংক জানেন তাদের জন্য বলতে পারতাম যে, আমাদের জীবনের সকল কর্মকান্ড তথা ইবাদত – আমরা কি করি আর কি অবহেলা করি – সবই হচ্ছে আমাদের বিশ্বাসের function।

আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, পাগলা বাবার মাজারে আপনার জন্য প্রাপ্তি রয়েছে, তবে আপনি সেখানে বার বার ছুটে যাবেন, মানত করবেন বা সন্তান চাইবেন। আবার আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, মৃত মানুষের কিছুই করার ক্ষমতা নেই – বরং কেউ যদি মনে করে যে, কোন মৃত ব্যক্তি তাকে কিছু দিতে পারে বা তার জন্য আল্লাহর কাছে মধ্যস্থতা করেত পারে, তবে সে বড় শিরকে লিপ্ত হয়ে চিরতরে জাহান্নামী হবে – তবে আপনি অতি অবশ্যই মাজরে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

এজন্যই সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর প্রতিষ্ঠিত হবার জন্য, সঠিক দ্বীন পালন করার জন্য এবং জাহান্নাম থেকে নিজেকে এবং নিজের পরিবারবর্গকে রক্ষা করার জন্য – একজন মুসলিমের জন্য সঠিক আক্বীদাহ্ [বা set of beliefs] কি সেটা জানাটা এত জরুরী। আপনি যে আল্লাহর ইবাদত করতে যাচ্চ্ছেন, সেই আল্লাহ্ যে আবু জাহলের আল্লাহ্ নন বরং রাসূল(সা.) -এঁর আল্লাহ্ – তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফি আমানিল্লাহ্।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১০৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে মাফ করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যার জন্য তিনি চান, তিনি মাফ করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে।” (কুর’আন, ৪:৪৮)

    তবে মাজারে যাওয়াটা ইনটেনশনের উপর নির্ভর করছে কে শরীক করছে আর কে শরীক করছে না।

    ভাল বলেছেন চলুক (Y)

  2. আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, পাগলা বাবার মাজারে আপনার জন্য প্রাপ্তি রয়েছে, তবে আপনি সেখানে বার বার ছুটে যাবেন, মানত করবেন বা সন্তান চাইবেন। আবার আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, মৃত মানুষের কিছুই করার ক্ষমতা নেই – বরং কেউ যদি মনে করে যে, কোন মৃত ব্যক্তি তাকে কিছু দিতে পারে বা তার জন্য আল্লাহর কাছে মধ্যস্থতা করেত পারে, তবে সে বড় শিরকে লিপ্ত হয়ে চিরতরে জাহান্নামী হবে – তবে আপনি অতি অবশ্যই মাজরে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

    ভাই একটা প্রশ্ন , দুনিয়াতে আমরা সাধারনত দেখি বড় কোনো পোস্টের কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি না পাওয়া গেলে আমরা তার পি এ কে ধরি । আমরা ডাক্তারের কাছে যেয়ে বলি যে ডাক্তার সাহেব যেভাবে হোক আমাকে বাচান । কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি মুল বাচাবেন আল্লাহ তাআলা কিন্তু অসিলা হিসেবে ডাক্তার সাহেব হয়ত সঠিক অষুধ দিয়ে দিবেন ।

    তাই আসলে মুল হলো কে কি বিশ্বাস করছে । মাজারে যাক বা না যাক সেটা ভিন্ন বিষয় । যেটা মর্দে মুমিন সুন্দর বলেছেন ।

    তবে মাজারে যাওয়াটা ইনটেনশনের উপর নির্ভর করছে কে শরীক করছে আর কে শরীক করছে না।