লগইন রেজিস্ট্রেশন

আল্লাহ্ কি সত্যিই আছেন? – ২

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ শুক্রবার, নভেম্বর ১৩, ২০০৯ (৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
السلام عليكم ورحمة الله و بركاته

……[আগের লেখার ধারাবাহকিতায়] আল্লাহর সৃষ্টির সমন্বিত কর্মকান্ড দেখেই আমাদের বোঝা উচিত যে, আল্লাহ্ আছেন – সেজন্য তাঁকে দেখার প্রয়োজন নেই। আগে যেমন বলেছি, এখানে আমাদের জানাটা হবে inferential । আল্লাহ্ নিজেও তাঁর নিদর্শনের দিকে তাকিয়ে দেখতে বলেছেন, কুর’আন মজিদের বহু আয়াতে। যেমন একটি আয়াতে আল্লাহ্ বলেন:

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآَيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ

Behold! in the creation of the heavens and the earth, and the alternation of Night and Day, there are indeed Signs for men of understanding. (Qur’an, 3:190)
নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে বিবেকসম্পন্নদের জন্য রয়েছে বহু নির্দশন। (কুর’আন, ৩:১৯০)

উপরের আয়াতে আল্লাহ্ প্রথমে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে দেখতে বলেছেন – ভেবে দেখতে বলেছেন। আমরা যখন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে জানতে গিয়ে গবেষণা করি বা পড়াশোনা করি, তখন এতদিনের প্রচেষ্টায় এপর্যন্ত যতটুকুই আমরা জানতে পেরেছি, তা সম্বন্ধে ভাবতে গেলেও বিস্ময়ে নির্বাক হয়ে যেতে হয়। মহাবিশ্বের সূচনালগ্নে বা বিগব্যাঙ্গ-এর পর পর ছড়াতে থাকা “টুকরোগুলোর” ভর, গতি বা শক্তির হিসাব এতই চুলচেরা হওয়া আবশ্যক ছিল যে, সামান্য হের ফের হলেই আর প্রক্রিয়াটা সফল হতো না বরং সবকিছু “গুবলেট” হয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতো। অথচ নাস্তিকদের বিশ্বাস: মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রক্রিয়া থেকে আপনার আমার মত জটিল প্রাণীর উদ্ভব, সবই নাকি কাকতালীয়ভাবে ঘটেছে – দুর্ঘটনার মত করে।

আমার মনে আছে, বেশ ক’বছর আগে একজন একটা সমস্যার কথা বলে পরামর্শ চাচ্ছিলেন। একটা বাসায় কেবল এক চাকুরীজীবী দম্পতি থাকতেন – তৃতীয় কোন প্রাণীর উপস্থিতি ছাড়া। একদিন তাদের একজন ঘরে ঢুকে সদর দরজা আটকে ভিতরে এসে ডাইনিং টেবিলের উপর চাবীর গোছা রেখে বাথরুমে যান। বাথরুম থেকে এসে দেখেন, টেবিলের উপর চাবীর গোছাটা নেই। অজানা ভয়ে তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। তবু তিনি, ভুলে আর কোথাও চাবী রেখেছেন কিনা, সেই সন্দেহে বাকী ঘরগুলো দেখে হতাশ হয়ে ফিরে এসে দেখেন যে, চাবীর গোছাটা টেবিলের উপরে পড়ে আছে। এধরনের ঘটনা ঐ দম্পতির দুজনের বেলায় আলাদা আলাদা ও একত্রে আরো কয়েকবার ঘটার পর, তারা যখন ঐ বাসায় “মিলাদ” দেবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছিলেন, তখন আমি ঘটনাটা শুনি। ঐ অবাক করা উদ্ভট ঘটনাবলীর একটা ব্যাখ্যা দেয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি বরং বলতে চাচ্ছি এই যে, ঐ “আধুনিক” দম্পতি যখন তাদের “আধুনিক” যুক্তি দিয়ে একটা ব্যাখ্যা বের করতে ব্যর্থ হলেন, তখন কিন্তু অশরীরী কিছুর উপস্থিতি ধরে নিয়ে “সেকেলে” ধর্মীয় তদবীরের শরণাপন্ন হলেন – তবু তারা ভাবেন নি যে, চাবীর গোছাটা এমনি এমনি বা নিজে নিজেই কোথাও চলে যাচ্ছিল। তাদের মস্তিষ্কের অতি সাধারণ যুক্তিই তাদের বলে দিচ্ছিল যে, [অদৃশ্য হলেও,] ঐ ঘটনার পিছনে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। অথচ, মহাবিশ্বের মত শত শত কোটি সমন্বয় সাধনকারী সৃষ্টিকেও যারা “কাকতালীয়” মনে করতে পারেন তাদের কি বলবো? জেগে ঘুমানো কিছু মানুষ?

একজন ধর্মান্তরিত পশ্চিমা ‘আলেম তার একটা বক্তৃতায় বলছিলেন যে, অধিকাংশ মানুষই আসলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে – তারা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাঁটছে, কাজ করছে, সংসার করছে, পড়াশোনা করছে, খেলাধূলা করছে। তারপর একসময় মৃত্যু এসে সত্যিকার অর্থে তাদের জাগিয়ে তুলছে। somnambulism বলে বাস্তবে একটা রোগ আছে – সোজা বা “non-technical” ভাষায় যেটাকে বলা হয় “sleepwalking” বা “ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাঁটা”। এসব রোগীরা হয়তো হঠাৎই ঘুমন্ত অবস্থায়ই বিছানা থেকে উঠে বাইরে গিয়ে খানিকটা হেঁটে এসে বা অন্য কোন কাজ করে এসে আবার শুয়ে পড়বে – অথচ তারা জানবেও না বা তাদের মনেও থাকবে না যে, তারা ঘুমন্ত অবস্থায় এমন কিছু কাজ করে এসেছে, যা কেবল জাগ্রত মানুষেরই করা মানায়। অন্য কথায়, তাদের ঐ সব কর্মকান্ড দেখে, কেউ যদি তাদের জাগ্রত মনে করেও থাকেন, তবু প্রকৃত পক্ষে তারা ঘুমিয়েই ছিলেন বা ঘুমন্তই ছিলেন। আমাদের উপরোল্লিখিত ‘আলেম “অধিকাংশ মানুষ আসলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে” বলতে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, জীবনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য[*] সম্বন্ধে অজ্ঞ, অসচেতন ও অজ্ঞাত অধিকাংশ মানুষই একধরনের অন্ধ মোহে – নেশা বা পেশার পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবন অতিবাহিত করে দিচ্ছে। এই পৃথিবী বা মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হলো? এগুলো কেন সৃষ্টি করা হলো? আমরা এখানে কি করছি? আমাদের কেন সৃষ্টি করা হয়েছে? আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য বা পরিণতি কি? – এসব নিয়ে ভাবার তাদের অবকাশই হয় না। যদি একটু অবকাশ নিয়ে তারা ভাবতে পারতো, তাহলে এই রচনায় আমরা অতি সরল যেসব সমীকরণ বোঝানোর চেষ্টা করছি, সেগুলো হয়তো তারা সহজেই বুঝতে পারতো এবং একটা নিষ্ফল জীবন অতিবাহিত না করে, বরং যে জন্য তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য সফল করার চেষ্টা করতে পারতো। কিন্তু সেরকম অবকাশ না থাকাতে, হঠাৎ যখন মৃত্যু-ঘন্টা বেজে ওঠে, তখন তারা জেগে ওঠেন (ঐ ‘আলেম যেমনটা বলতে চেয়েছেন) বা সচেতন হন – কেউ হয়তো এটুকু ভেবে আফসোস করার সুযোগ পান যে, জীবনটা একেবারেই বাজে খরচ হয়ে গেল, আবার কারো হয়তো সে সুযোগটুকুও হয় না।

উন্নত বিশ্বে, অথবা, আজকাল আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক লোক দেখা যাবে, যারা একটা অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে ভীষণ ব্যস্ত থেকে জীবন পার করে দেন। উদাহরণ স্বরূপ “পাখি দেখা” অনেকের শখ – যাদেরকে “বার্ড-ওয়াচার” বলা হয়। এজন্য অনেক সাজ সরঞ্জাম রয়েছে – দূরবীন, টেলিফটো লেন্স সমেত ক্যামেরা, আরো কত কি? এমনিতে পাখি দেখা দোষের কিছু নয় – তবে পাখি দেখার জন্য বেঁচে থাকা এবং পাখি দেখতে দেখতেই বনে-জঙ্গলে বা দূর-দূরান্তে ঘুরতে ঘুরতে একদিন মরে যাওয়া, এটা জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্য হতে পারে? বোধকরি না! যিনি তা করতে করতে মরে গেলেন, তিনিও যদি তার নেশা থেকে একটু অবকাশ ও অবসর নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখতেন, তবে সম্ভবত জানতেন ও বুঝতেন যে, তাকে কেবল পাখি দেখে জীবন কাটিয়ে দেয়ার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। একই কথা ঐ সব মানুষের বেলায় প্রযোজ্য, যারা সম্পদের পাহাড় গড়তে গড়তে একদিন হঠাৎই মরে যান। আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে – এমনকি বস্তুবাদী ভোগ-সুখের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবলেও – জীবনের জন্য উপার্জন, উপার্জনের জন্য জীবন নয়।

আজকাল সংখ্যার বিন্যাস নিয়ে কত ধরনের খেলা বেরিয়েছে – খবরের কাগজে বা ম্যাগাজিনে অনেক সময়ই দেখা যায়, কতগুলো সংখ্যা লিখে দিয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে যে, এই সংখ্যাগুলো কোনভাবে সম্পৃক্ত কিনা। তা দিয়ে আবার উত্তরদাতার বুদ্ধিবৃত্তির বা মেধারও বিচার করা হয়। এসব ক্ষেত্রে যে ব্যাপারটি সন্তর্পণে আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়, তা হচ্ছে এই যে, কুইজ বানাবার জন্য “কেউ একজন” সংখ্যাগুলোকে ওভাবে বেছে নিয়েছেন। উদাহরণ স্বরূপ ১, ৩, ৫, ৭, ৯, ১১ এই সংখ্যাগুলো লিখে কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন যে এই সংখ্যাগুলোর কোন সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে কিনা? তাহলে, যে কেউ দেখেই বলে দিতে পারবেন যে, ওগুলো হচ্ছে স্বাভাবিক সংখ্যার সেট থেকে, ছোট থেকে বড় ক্রমবিন্যাসে বেছে নেয়া কয়েকটি বিজোড় সংখ্যা। আবার ঘুরিয়ে বললে কেউ বলতে পারতেন যে, এগুলো হচ্ছে ১ দিয়ে শুরু হওয়া একটি ধারা, [প্রথমটি ছাড়া] যার প্রত্যেকটি সংখ্যা পূর্ববর্তী সংখ্যা থেকে ২ বেশী (যেমন: ৩, ১ থেকে ২ বেশী)। এখানেও নেপথ্য বা লুকানো ব্যাপার হচ্ছে “কেউ একজন” সংখ্যাগুলোকে এভাবে বেছে নিয়েছেন আমাদের জন্য একটা “কুইজ” তৈরী করার উদ্দেশ্যে। স্বভাবতই বদ্ধ পাগলও ভাববে না যে, সংখ্যাগুলো নিজেরাই নিজেদের বেছে নিয়ে সংবাদপত্র বা ম্যাগাজিনের [বা আমাদের এই লেখার] পাতায় উঠে এসেছে।

কোন একটা সমন্বয় বা “ব্যবস্থার” আরেকটা সহজ উদাহরণ হচ্ছে রাস্তার ট্রাফিক বাতি। “সবুজ-হলুদ-লাল-হলুদ-সবুজ” – এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে বাতিগুলো জ্বলতে থাকে। আমরা হয়তো সবসময় ওভাবে ভেবে দেখি না, কিন্তু যদি দেখতাম তবে সহজেই জানতাম যে, ঐ বাতিগুলো এভাবে একটা নিয়ম মেনে যে একটা নির্দিষ্ট সময়কাল পর পর জ্বলছে বা নিভছে, তা কোন কাকতালীয় ব্যাপার নয়, বরং “কেউ একজন” এই “ব্যবস্থা” সুচিন্তিতভাবে উদ্ভাবন করেছেন। আমরা তাকে কখনো দেখিনি – সেই “কেউ একজন” ঠিক কে আমরা তা জানিনা – তবু বদ্ধ পাগল বা অবুঝ শিশু ছাড়া সবাই অবশ্যই স্বীকার করবে যে, এই “বাতি-ব্যবস্থার” পিছনে “একজন হোতা” অবশ্যই আছেন। আলোচিত “বাতি-ব্যবস্থার” অস্তিত্বই এর উদ্ভাবক বা প্রস্তুতকারক থাকার অকাট্য প্রমাণ। অথচ লক্ষ-কোটি ব্যবস্থা বা সমন্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারে আমাদের নিশ্চয়তার অভাব পরিলতি হয় – কি হাস্যকর ব্যাপার তাই না?

এখন আসুন পৃথিবী, সৌরজগত বা মহাবিশ্বের সমন্বয়গুলোর কয়েকটি নিয়ে আমরা একটু ভেবে দেখি। সবচেয়ে সাদামাটা হচ্ছে “রাত-দিন-রাত” এই “ব্যবস্থাটি”। উদাহরণস্বরূপ মনে করুন কোন দেশে ১২ ঘন্টার একটি রাত রয়েছে। এর পর দেখা যাবে ১২ ঘন্টার একটি দিন আসছে (২/১ মিনিট কমবেশী হতে পারে, যদি সে দেশের ঋতু পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে – এমন হয়। মোট কথা রাত এবং দিন মিলে ২৪ ঘন্টা হবে)। ব্যাপারটা আমাদের কাছে আজ আর ভাবনা উদ্রেককারী কোন বিষয় নয়। তবু, একটু অবকাশ নিয়ে ভাবলে আপনিই বুঝবেন যে, এই পর্যায়ক্রমিক “রাত-দিন-রাত”-এর জন্য মহাজাগতিক কর্মকান্ডের কি বিশাল সমন্বয়ের “আয়োজন” করতে হয়েছে। এজন্যই আল্লাহ্ কুর’আনে বহু জায়গায় এই আপাত অতি সাধারণ প্রাকৃতিক বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখতে বলেছেন। এই অতি সাধারণ ব্যবস্থা বা সমন্বয় থেকে শুরু করে আমাদের অতি পরিচিত “গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ-হেমন্ত-শীত-বসন্ত-গ্রীষ্ম” – ঋতু পরিবর্তনের এই পর্যায়ক্রমিক “সমন্বিত ব্যবস্থা” -অথবা- আপনার প্রতিটি নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সময় যেভাবে অক্সিজেন, রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে আপনার অগণিত কোষে পৌঁছে যাচ্ছে এবং মুহূর্তে অগণিত কোষ প্রাচীরের ওপার থেকে বয়ে নিয়ে আসা কার্বন-ডাই-অক্সাইড যেভাবে আপনি অনেকটা নিজের অজান্তেই বায়ুমন্ডলে ত্যাগ করছেন – একটা সমন্বিত ব্যবস্থা, যার “স্বয়ংক্রিয়” সমন্বয়, পৃথিবীর সবচেয়ে sophisticated automated plant-এর চেয়েও বিস্ময়কর – এই সবই কেবল একটি নিশ্চিত অনুসিদ্ধান্তের দিকে দৃষ্টিপাত করতে আপনাকে বাধ্য করে, যা হচ্ছে : এসবের পেছনে নিশ্চয়ই একজন পরিকল্পনাকারী, সমন্বয়কারী ও নিয়ন্তা সৃষ্টিকর্তা আছেন [যাকে আমরা মুসলিমরা আল্লাহ্ বলে থাকি]! অবশ্য যদি আপনি বদ্ধ পাগল হয়ে থাকেন বা উপরে বর্ণিত somnambulism রোগের রোগী হয়ে থাকেন তবে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে জেগে থাকার আচরণ করলেও, আপনি আসলে গভীর ঘুমে মগ্ন – ঘুমন্ত! অথবা, হতে পারে, আপনার অযৌক্তিক দাবীই আপনার কাছে “যুক্তি” বলে মনে হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা কেবল আপনার আরোগ্যের জন্য দোয়াই করতে পারি।

নাস্তিকতা বা সংশয়বাদের প্রধান ভিত্তি হচ্ছে এই দাবী যে, মহাবিশ্ব বা আমাদের পৃথিবী বা আমাদের জীবন, সবই এমনি এমনি সৃষ্টি হয়েছে কোন পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য ছাড়া – একেবারে কাকতালীয় ভাবে – একটা “দুর্ঘটনার” মত করে। সত্যিই যদি দুর্ঘটনা বা কাকতালীয় কোন ঘটনার ফলশ্রুতিতে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে তাতে কোন সমন্বয়, হিসাব, শৃংখলা বা বিন্যাস থাকার কথা নয়। দুর্ঘটনার ফলশ্রুতিতে একটা বিল্ডিং ভেঙ্গে যদি ফুটপাতে বহু ভাঙ্গা ইঁট ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে, তবে আপনার বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয় যে, ঐ ইঁটগুলো কোন “পরিকল্পিত” উপায়ে ওখানে রাখা হয়নি। কিন্তু ধরুন একটা প্লটের পাশ দিয়ে যেতে যেতে, আপনি যদি দেখেন যে একের উপর এক এবং একের পাশে একটি করে ইঁট রেখে ইঁটের একটা stack তৈরি করে সুবিন্যস্তভাবে রাখা আছে – আপনি কি ভাববেন? কেউ কোন স্থাপনা তৈরী করার জন্য বা কোন কাজ করার জন্য ইঁটগুলো কিনে এনে জমা করেছেন, এই তো? নাকি আপনি ভাববেন দেশের প্রত্যন্ত কোন গ্রামাঞ্চলে কিছু মাটি নিজেরা নিজেদের খুঁড়ে, ছাঁচ তৈরী করে পুড়িয়ে ইঁট হয়ে, দৈবাৎ কোন অজানা উপায়ে, ঐ প্লটের কাছে এসে নিজেদের একের পর এক সারি সারি করে বিন্যস্ত করে রেখেছে?!!

এই লেখাটার শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, এই লেখাটা একদম সাদামাটা হবে জন-গণ-সাধারণের জন্য – কোন তত্ত্ব কপচানো হবে না এতে। তবু শেষ করার আগে বিশ্ববিখ্যাত এক প্রয়াত বৃটিশ বৈজ্ঞানিক – Sir Fred Hoyle – যিনি বিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনী নিয়ে লেখালেখি করতেন, তার একটা উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করছি। প্রথম জীবনে পাঁড় নাস্তিক থাকলেও, শেষ জীবনে তার নাস্তিকতায় চিড় ধরে বলেই মনে হয়। তার একটা বইতে ["The Intelligent Universe" (1983)] তিনি লিখেছেন: “Life as we know it is, among other things, dependent on at least 2000 different enzymes. How could the blind forces of the primal sea manage to put together the correct chemical elements to build enzymes?”

এর পর Fred Hoyle নিয়ে আলোচনাকারী প্রবন্ধকার বলছেন:
According to his calculations, the likelihood of this happening is only one in 10 to the 40 000 power (1 followed by 40 000 zeros). That is about the same chance as throwing 50 000 sixes in a row with a die. অর্থাৎ, তার হিসেব মতে, [জীবন যে ২০০০ এনজাইমের উপর নির্ভরশীল, সঠিক দ্রব্যের সংমিশ্রণে এমনি এমনি সেই এনজাইমগুলো গঠিত হয়ে যাবে] কাকতালীয়ভাবে এই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা হচ্ছে ১ এর পরে ৪০০০০টা ০ (শূন্য) বসালে যে সংখ্যা দাঁড়াবে, তত ভাগের এক ভাগ। এই সম্ভাবনা কত “অসম্ভব” তাই বুঝাতে বলা হয়েছে যে, একটি [লুডুর ৬ তল বিশিষ্ট ডাইয়ের মত] ডাই পর পর ৫০,০০০ বার ছুড়ে প্রতিবারই একটা “ছক্কা” পাওয়া যেমন অসম্ভব, ব্যাপারটা তেমনি অসম্ভব!!

ফ্রেড কাকতালীয়ভাবে জীবনের উদ্ভবের “অসম্ভাব্যতা” বুঝাতে গিয়ে আরো সুন্দর একটি উদাহরণ দেন ঐ একই বইয়ে: “The chance that higher life forms might have emerged in this way is comparable with the chance that a tornado sweeping through a junk-yard might assemble a Boeing 747 from the materials therein… I am at a loss to understand biologists’ widespread compulsion to deny what seems to me to be obvious.” (”Hoyle on Evolution”, Nature, Vol. 294, 12 November 1981, p. 105) [**]

অর্থাৎ, উন্নত জীবশ্রেণী এভাবে [অর্থাৎ এমনি এমনি] বা কাকতালীয়ভাবে, গঠিত হবার সম্ভাবনাকে, একটা ঝড় হঠাৎ পুরানো লোহা লক্কড়ের স্তুপের ভিতর দিয়ে বয়ে যেতে যেতে লোহা লক্কড় থেকে যন্ত্রাংশ তৈরী করে বোয়িং ৭৪৭ বানিয়ে ফেলার সম্ভাবনার সাথে তুলনা করা যায়…………।

আমার মনে হয় আল্লাহ্ সত্যিই আছেন কিনা, সেই আলোচনার “কথা” এখানেই শেষ হওয়া সমীচীন ……… এর পরে শুধু অনুভব ও গভীর পর্যবেক্ষণের অবকাশ নিতে পারি আমরা।

[*] দেখুন: কুর’আনে ৫১:৫৬ নম্বর আয়াত, যেখানে মানুষ সৃষ্টির উদ্দশ্যের কথা স্পষ্টত বলা হয়েছে – “আমি জ্বীন এবং মানুষ জাতিকে আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করি নি।”
[**]সরাসরি এই লিংক থেকে দেখুন : http://en.wikipedia.org/wiki/Sir_Fred_Hoyle

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৮২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. আল্লাহ অবশ্যই আছেন………..এ নিয়ে আমাদের কোন সংশয় থাকা উচিত নয়।

  2. সংশয় থাকা উচিত নয়, তবে সংশয় আছে! “সামু” ও আমার ব্লগের পাতা জুড়ে এদের লেখাই প্রকাশিত হয়। এরা জন্মগত নাস্তিক বা কাফির নয়। এরা সুদীর্ঘ সামাজিক/সাংস্কৃতিক “কাফিরায়ন” প্রক্রিয়ার ফসল।
    এ সম্বন্ধে “সামুতে” একটা মন্তব্যে আমি লিখেছিলাম:

    আমাদের এই কাফিরায়ন একদিনে হয়নি। গর্বভরে যেদিন আমাদের বাবা-মায়েরা ছেলে-মেয়েদের, ন্যূনতম দ্বীন-শিক্ষায়-শিক্ষিত resilient brain গঠিত হবার আগেই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়তে পাঠিয়েছেন, “সিনডারেলা” বা “স্নো-হোয়াইট এন্ড সেভেন ডোয়ার্ভস” বা “ঠাকুরমার ঝুলি” পড়তে শিখিয়েছেন, অন্তরার গানে “তেলের শিশি ভাঙ্গলো বলে” লিরিকের আড়ালে “অখন্ড ভারত মাতার” মন্ত্র শিখিয়েছেন, ছায়ানট বা বাফায় নাচ বা গান শিখাতে নিয়ে গিয়েছেন অথবা “হীরক রাজার দেশে” দেখিয়ে কালচারড বানানোর চেষ্টা করেছেন – সেদিনই এই কাফিরায়ন প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে! আজ তো আমরা কেবল end product দেখতে পাচ্ছি – as you sow, so you reap নিয়মের আওতায়। “মুক্তমনা”, “ভিন্নমত” বা “সচলায়তন” একদিনে মাটি ভেদ করে উঠে আসেনি। সময়ের upstream-এ বহু বছর আগে, কেউ যে বীজ বপন করেছিল proactive চিন্তা থেকে, আজ তারই ফসল হচ্ছে নাস্তিক ও এগনোস্টিক অধ্যুষিত আমাদের নগর ও মহানগর। সৌভাগ্যবশত আমাদের বঞ্চিত জনসংখ্যা ওসবের অশুভ ছায়া থেকে এতদিন বেঁচে থাকলেও, আমাদের বদ-নসীব যে, এখন আর তা থাকছে না – ২০টাকা মূল্যের পর্ণো সিডি এখন পৌঁছে গেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল বা সিলেটের কানাইর ঘাটের মত প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকেই একবার প্রশ্ন করুন, আপনি নিজে কি ঐ অশুভ-ছায়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত??

    আবার “আমার ব্লগেও” এপ্রসঙ্গে মন্তব্য করতে হয়:

    বিশ্বাস থাকলে জীবনে তার effect ও manifestation থাকতে হবে – কারণ মানুষর সকল কমর্কান্ডই হচ্ছে তার বিশ্বাসের function ও variable । একটা ছোট্ট উদাহরণ হিসবে কুর’আনের নীচের আয়াতটা খেয়াল করুন:

    If ye do it not, take notice of war from Allah and His Messenger: but if ye turn back, ye shall have your capital sums; deal not unjustly, and ye shall not be dealt with unjustly.(২:২৭৯)

    এখানে সুদের লেনদেন ত্যাগ না করলে আল্লাহ, মানুষের বিরুদ্ধে তাঁর ও তাঁর রাসূলের(সা.) পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এই আয়াতের বক্তব্যে বিশ্বাস করলে কি কোন মুসলিম, কখনো, সুদের কারবারে জড়িত হতে পারতো? নিশ্চয়ই না! তাহলে পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিমরা কেন সুদের সাথে জড়িত? সরল উত্তর হচ্ছে আল্লাহ ও আখেরাত সম্বন্ধে যে ভাবে convinced হলে, তাদের conviction থাকতে পারতো – তারা সে ভাবে convinced নয়! আর বিশ্বাস দৃঢ় করতে চাওয়া দোষের কিছু নয়। আল্লাহ নিজে মানুষকে প্রাথমিকভাবে খুব সহজ যুক্তি দিয়ে বিশ্বাসের দিকে ডেকেছেন। নীচের আয়াতে দেখুন একজন নবী কিভাবে “কিছু দেখে” তার বিশ্বাসকে আরো শক্ত করতে চেয়েছেন:
    Behold! Abraham said: “My Lord! Show me how Thou givest life to the dead.” He said: “Dost thou not then believe?” He said: “Yea! but to satisfy my own understanding.” He said: “Take four birds; tame them to turn to thee; put a portion of them on every hill, and call to them; they will come to thee, (flying) with speed. Then know that Allah is Exalted in Power, Wise.”

    সংশয়বাদীদের জন্য জ্ঞতব্য:

    আমি আসলেই মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি না। পৃথিবীতে কি মুসলিমের সংখ্যা এমনিতেই কম আছে? নামসবর্স্ব মুসলিমের সংখ্যা আরো কিছু বাড়িয়ে কি লাভ? আমি, যারা নিজেদের মুসলিম ভাবতে পছন্দ করেন, তাদের এবং সেই সঙ্গে নিজেকেও আহ্বান করছি নিজেদের জীবন নিয়ে ভাবতে – আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কি? আমরা এখানে কি করছি??
    বিশ্বাস থাকলে জীবনে তার effect ও manifestation থাকতে হবে – কারণ মানুষর সকল কমর্কান্ডই হচ্ছে তার বিশ্বাসের function ও variable । একটা ছোট্ট উদাহরণ হিসবে কুর’আনের নীচের আয়াতটা খেয়াল করুন:

    If ye do it not, take notice of war from Allah and His Messenger: but if ye turn back, ye shall have your capital sums; deal not unjustly, and ye shall not be dealt with unjustly.(২:২৭৯)

    এখানে সুদের লেনদেন ত্যাগ না করলে আল্লাহ, মানুষের বিরুদ্ধে তাঁর ও তাঁর রাসূলের(সা.) পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এই আয়াতের বক্তব্যে বিশ্বাস করলে কি কোন মুসলিম, কখনো, সুদের কারবারে জড়িত হতে পারতো? নিশ্চয়ই না! তাহলে পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিমরা কেন সুদের সাথে জড়িত? সরল উত্তর হচ্ছে আল্লাহ ও আখেরাত সম্বন্ধে যে ভাবে convinced হলে, তাদের conviction থাকতে পারতো – তারা সে ভাবে convinced নয়! আর বিশ্বাস দৃঢ় করতে চাওয়া দোষের কিছু নয়। আল্লাহ নিজে মানুষকে প্রাথমিকভাবে খুব সহজ যুক্তি দিয়ে বিশ্বাসের দিকে ডেকেছেন। নীচের আয়াতে দেখুন একজন নবী কিভাবে “কিছু দেখে” তার বিশ্বাসকে আরো শক্ত করতে চেয়েছেন:
    Behold! Abraham said: “My Lord! Show me how Thou givest life to the dead.” He said: “Dost thou not then believe?” He said: “Yea! but to satisfy my own understanding.” He said: “Take four birds; tame them to turn to thee; put a portion of them on every hill, and call to them; they will come to thee, (flying) with speed. Then know that Allah is Exalted in Power, Wise.”

    সংশয়বাদীদের জন্য জ্ঞতব্য:

    আমি আসলেই মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি না। পৃথিবীতে কি মুসলিমের সংখ্যা এমনিতেই কম আছে? নামসবর্স্ব মুসলিমের সংখ্যা আরো কিছু বাড়িয়ে কি লাভ? আমি, যারা নিজেদের মুসলিম ভাবতে পছন্দ করেন, তাদের এবং সেই সঙ্গে নিজেকেও আহ্বান করছি নিজেদের জীবন নিয়ে ভাবতে – আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কি? আমরা এখানে কি করছি??বিশ্বাস থাকলে জীবনে তার effect ও manifestation থাকতে হবে – কারণ মানুষর সকল কমর্কান্ডই হচ্ছে তার বিশ্বাসের function ও variable । একটা ছোট্ট উদাহরণ হিসবে কুর’আনের নীচের আয়াতটা খেয়াল করুন:

    If ye do it not, take notice of war from Allah and His Messenger: but if ye turn back, ye shall have your capital sums; deal not unjustly, and ye shall not be dealt with unjustly.(২:২৭৯)

    এখানে সুদের লেনদেন ত্যাগ না করলে আল্লাহ, মানুষের বিরুদ্ধে তাঁর ও তাঁর রাসূলের(সা.) পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এই আয়াতের বক্তব্যে বিশ্বাস করলে কি কোন মুসলিম, কখনো, সুদের কারবারে জড়িত হতে পারতো? নিশ্চয়ই না! তাহলে পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিমরা কেন সুদের সাথে জড়িত? সরল উত্তর হচ্ছে আল্লাহ ও আখেরাত সম্বন্ধে যে ভাবে convinced হলে, তাদের conviction থাকতে পারতো – তারা সে ভাবে convinced নয়! আর বিশ্বাস দৃঢ় করতে চাওয়া দোষের কিছু নয়। আল্লাহ নিজে মানুষকে প্রাথমিকভাবে খুব সহজ যুক্তি দিয়ে বিশ্বাসের দিকে ডেকেছেন। নীচের আয়াতে দেখুন একজন নবী কিভাবে “কিছু দেখে” তার বিশ্বাসকে আরো শক্ত করতে চেয়েছেন:
    Behold! Abraham said: “My Lord! Show me how Thou givest life to the dead.” He said: “Dost thou not then believe?” He said: “Yea! but to satisfy my own understanding.” He said: “Take four birds; tame them to turn to thee; put a portion of them on every hill, and call to them; they will come to thee, (flying) with speed. Then know that Allah is Exalted in Power, Wise.”

    সংশয়বাদীদের জন্য জ্ঞতব্য:

    আমি আসলেই মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি না। পৃথিবীতে কি মুসলিমের সংখ্যা এমনিতেই কম আছে? নামসবর্স্ব মুসলিমের সংখ্যা আরো কিছু বাড়িয়ে কি লাভ? আমি, যারা নিজেদের মুসলিম ভাবতে পছন্দ করেন, তাদের এবং সেই সঙ্গে নিজেকেও আহ্বান করছি নিজেদের জীবন নিয়ে ভাবতে – আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কি? আমরা এখানে কি করছি??

    এখনকার situation সত্যিই খুব serious!!