লগইন রেজিস্ট্রেশন

আপনার ধর্ম-বিশ্বাসকে শুদ্ধ করুন – ৩

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ রবিবার, নভেম্বর ১৫, ২০০৯ (৬:১৫ পূর্বাহ্ণ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
السلام عليكم ورحمة الله و بركاته

আপনাকে একটা গাড়ীর বর্ণনা দিতে গিয়ে কেউ বললো যে, ঐ গাড়ীর সব অপশন রয়েছে – অর্থাৎ সবকিছু অটোমেটিক – সুইচ্ টিপে জানালাগুলো খোলা যায়, অটো গিয়ার, খুব ভালো এ,সি, রয়েছে, সীটগুলো খুব আরামদায়ক, রংটা খুব সুন্দর, রেডিয়্যাল টায়ার, খুবই আকর্ষণীয় এলয় রীম চাকা, ডিভিডি প্লেয়ার সহ গানের যন্ত্র ইত্যাদি ইত্যাদি। এক কথায় গুণের কোন শেষ নেই। আপনি খুবই impressed । এমতাবস্থায় সবশেষে বর্ণনাকারী আপনাকে বললো, “তবে গাড়ীটা অচল, কখনো সচল হবার সম্ভাবনাও নেই!” আপনি এখন হয়তো ভাববেন, কি অর্থহীন ঐ গাড়ীর একটু আগে বর্ণনা করা সব মহিমা – যা শুনে আপনি শুধু শুধু সময় নষ্ট করলেন।

আমাদের জীবনের ধর্ম-কর্মও এমন বিফল ও নিস্ফল হয়ে যেতে পারে, যদি তাতে বড় ধরনের কোন আক্বীদাহর (অর্থাৎ বিশ্বাসের) ত্রুটি থেকে যায়। ইংরেজিতে একটা কথা আছে: There is no use running , when you are on the wrong road. আসলেই তো, ভেবে দেখেছেন বাস্তবে ব্যাপারটা কত সত্যি? চট্রগ্রাম যাচ্ছেন ভেবে আপনি ময়মনসিংহ রোডে, ময়মনসিংহমুখী হয়ে যদি ১০০ মাইল বেগেও গাড়ী চালান, তবে আপনি চট্রগ্রাম থেকে কেবল দূর থেকে আরো দূরেই চলে যাবেন।

আমরা সবাই যেন শুদ্ধ বিশ্বাস সম্পন্ন মুসলিম হতে পারি, সেই চেষ্টায় আমরা আগে যেখানে শেষ করেছিলাম, তার পর থেকে আক্বীদাহর পয়েন্টগুলো তুলে দিচ্ছি – অর্থাৎ “আল আক্বীদাহ্ আল তাহাভীয়ার” ৬১ নম্বর থেকে ৭০ নম্বর পয়েন্টগুলো তুলে দিচ্ছি:

৬১। কেউ তার বিশ্বাস থেকে খারিজ হয় না যতক্ষণ না সে অস্বীকার করে যা তাকে বিশ্বাসে এনেছিল।
৬২। ঈমান স্থাপিত হয় মৌখিক উচ্চারণ ও আন্তরিক বিশ্বাসের দ্বারা।
৬৩। এবং শরীয়াহ ও তার ব্যাখ্যা (কুরআন ও ইসলাম সম্পর্কে) সম্বন্ধে যা কিছু নবী (সা.)-এঁর কাছ থেকে প্রমাণিত, তা সবই সত্য।
৬৪। ভিত্তিমূল পর্যায়ে ঈমান সকলের জন্য সমান, কিন্তু একের উপর অপরের ঈমানের প্রাধান্যের কারণ হচ্ছে তাদের ভয় ও আল্লাহ সম্পর্কে সচেতনতা, তাদের নিজ প্রবৃত্তির বিরোধিতা, এবং তাদের আল্লাহর বেশী পছন্দনীয় যা কিছু তা বেছে নেওয়া।
৬৫। সকল মুমিনই আল্লাহর ‘বন্ধু’ এবং তাদের মধ্যে তারাই আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত যারা সবচেয়ে বেশি বাধ্য এবং যারা সবচেয়ে বেশী কুরআনের অনুসরণ করে।
৬৬। ঈমান হচ্ছে আল্লাহতে বিশ্বাস করা, তাঁর ফেরেশতাসমূহে, তাঁর কিতাবসমূহে, তাঁর রাসূলগণে, শেষ বিচারের দিনে, ভাগ্যের ভাল-মন্দে—তার মিষ্টত্বে এবং তিক্ততায় ও তা আল্লাহর কাছ থেকেই আসে এতে বিশ্বাস করা।
৬৭। আমরা এসবই বিশ্বাস করি। আমরা রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য করি না, তাঁরা যা এনেছেন আমরা তার সত্যতায় বিশ্বাস করি।
৬৮। মুহাম্মাদ (সা.)-এঁর উম্মতের যারা গুরুতর পাপ করেছে, তারা জাহান্নামে যাবে, কিন্তু চিরকালের জন্য নয়, এই শর্তে যে তারা মুমিন হিসাবে আল্লাহর একত্ববাদে দৃঢ় অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, যদিও তারা অনুতাপ না করে। তারা তাঁর ইচ্ছা ও বিচারের আজ্ঞাধীন। তিনি চাইলে তাদেরকে তিনি তাঁর উদারতায় মাফ করবেন, যেভাবে তিনি বলেছেন বলে কুরআনে উল্লেখ আছে, ‘এবং তিনি এর চেয়ে ছোট, (শিরক ছাড়া) যে কোন পাপ মাফ করেন যাকে ইচ্ছা’ (আন নিসা, ৪:১১৬) এবং যদি তিনি চান, তিনি তাঁর সুবিচারের দ্বারা যাকে ইচ্ছা আগুনের শাস্তি দেবেন এবং তারপর তাদেরকে আগুন থেকে বের করে আনবেন তাঁর দয়া দিয়ে এবং তাঁদের সুপারিশে যারা তাঁর বাধ্য। এবং তাদের জান্নাতে পাঠাবেন। এটা এজন্যই যে যারা তাঁকে স্বীকৃতি দেয় তিনি তাদের সংরক্ষক এবং তাদের সাথে তিনি আখিরাতে অন্যদের মত ব্যবহার করবেন না যারা তাঁকে অস্বীকার করে, যারা তাঁর হিদায়াত থেকে বঞ্চিত এবং যারা তাঁর সংরক্ষণ পেতে ব্যর্থ হয়েছে। হে আল্লাহ, আপনি ইসলাম ও তার অনুসারীদের হেফাজতকারী, আমাদেরকে আপনার সাথে সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত ইসলামে সুদৃঢ় রাখুন।
৬৯। আমরা কিবলার অনুসারী সৎকর্মশীল বা অসৎকর্মশীল কারো পিছনে সালাত আদায়ের ব্যাপারে একমত, এবং যখন তাদের যে কেউ মারা যাবে, তার জানাজায় যোগ দিতেও প্রস্তুত।
৭০। আমরা কাউকে শ্রেণীভুক্তভাবে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলি না, এবং আমরা কাউকে কুফর (অবিশ্বাস), শিরক (আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করা) অথবা নিফাক (কপটতা) এর দোষে অভিযুক্ত করি না যতক্ষণ না সে প্রকাশ্যভাবে এগুলির কোনটি প্রদর্শন করে। আমরা তাদের অন্তরের রহস্য আল্লাহর উপর ছেড়ে দেই।

আল্লাহ্ হাফিজ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১২৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৪ টি মন্তব্য

  1. প্রিয়তে রাখার ওপশন থাকলে আপনার এই পোস্টটা আরকাইভ করতাম, আরবী যেহেতু জানি না তাই “আল আক্বীদাহ্ আল তাহাভীয়ার” পড়ি নাই। যাহোক এখানে পড়তে পারছি ।

  2. সব কিছু বুঝলাম, কিন্তু ৬৯ নম্বর টা বুঝলাম না। ক্লিয়ার করলে ভাল হয়। ওভার অল আলহামদুলিল্লাহ। (F) (F) (F) (F)

    muslim55

    দৈনন্দিন জীবনে দেখা যায় যে, একজন মানুষ হয়তো কোন পাপ করেছে বলে জানা যায় – ব্যস – কেউ হয়তো তার পিছনে সালাত আদায় করার ব্যাপারে hesitate করে। এটা ঠিক নয়! যতক্ষণ কারো উপর “রিদ্দার” বা “কাফির হয়ে যাওয়ার” হুজ্জত কায়েম না করা হয় বা evidence নিশ্চিত করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে ruling জারি না করেন, ততক্ষণ তার পিছনে সালাত আদায় করতে হবে – সে মারা গেলে তার জানাযাও পড়তে হবে। উদাহরণ স্বরূপ খলিফা মামুনুর রাশিদ ও তার ঠিক পরবর্তী শাসকগণ বহু কুফরী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। তথাপি, আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.) তার/তাদের বিরোধিতা করলেও, তার/তাদের পিছনে সালাত আদায় করেন এবং তাদেরকেই নেতা/আমীর মানেন। এভাবে দেখতে শিখলে extremism-এর প্রসার ঘটতো না এবং এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়া আল জামা’আর আক্বীদাহ্!