লগইন রেজিস্ট্রেশন

শিয়া-doctrine-এর ফাঁদে পা দেবার আগে নিজের দ্বীনকে জানুন-৩

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ শুক্রবার, জানুয়ারি ৮, ২০১০ (১:১১ অপরাহ্ণ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

আস সালামু আলাইকুম!

বাতিল ফিরক্বার লোকজন সব সময় সাধারণের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে থাকে এবং ‍”ঘোলা পানিতে মাছ শিকার” করে থাকে। সেজন্য আমাদের উচিত নিজের দ্বীনকে ভালো ভাবে জানা। আপনি যদি জানেন সত্য কোনটা, তাহলে আপনাকে মিথ্যা দিয়ে কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবে না। এ সংক্রান্ত আগের পোস্টগুলোর ধারাবাহিকতায় আসুন আমরা কুর’আন সম্বন্ধে একটু details জানি। ব্যাপারটাকে বলা হয় “কুর’আনিক সাইন্স” বা ‘Uloomul Qur’an। ইংরেজীতে, চাইলেই, হাতের কাছে ‘Uloomul Qur’an-এর ৩টি বই পাবেন – Yasir Qathi, Ahmad Von Denfer এবং Dr. Hasanuddin Ahmed লেখা। আমরা এর একটির রেফারেন্স দেবো ইনশা’আল্লাহ্, যেটির লিংক আপনাদের দেয়া যাবে, যাতে আপনারা চাইলে সরাসরি দেখতে পারেন।

কুর’আনে আল্লাহ্ নিজেকে “আল্লাহ্” ছাড়াও, “আর রহমান”, “আর রহীম”,
“আল মালিক”, “আস সামাদ” ইত্যাদি অপূর্ব সুন্দর সব নাম ও গুণাবলীতে প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এর অর্থ কি এই যে “আর রহমান” বললে আল্লাহ্ ছাড়া আর কাউকে বোঝায়? কোন নাম সর্বস্ব মুসলিমও, উন্মাদ না হলে যেমন এহেন সম্ভাবনার কথা বলবে না – তেমনি কুর’আন নিয়ে সামান্য পড়াশোনা করা কোন কাফির মুশরিকও এধরনের কথা বলবে না। বরং আমি দেখেছি আল্লাহর ৯৯ নাম নিয়ে বিধর্মীদের মাঝেও একধরনের বিস্ময় মিশ্রিত সমীহ ও শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে [উদাহরণ স্বরূপ The Prophet Muhammad বইয়ের লেখক Barnaby Rogerson আল্লাহর নামগুলোতে এতই অভিভূত হয়েছেন যে, রাসূল(সা.)-এঁর জীবনীর বইয়ের শেষে, কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক ভাবেই তিনি আল্লাহর ৯৯ নামের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে একটা অধ্যায় সংযোজন করেছেন। ]

একইভাবে আল্লাহর কালাম বা speech কুর’আনকে, আল্লাহ্ নিজে কুর’আনে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করেছেন যার সংখ্যা ৫৫টির কম নয়। এগুলোর কয়েকটি হচ্ছে:

# আল ফুরক্বান (২৫:১ আয়াতে উল্লিখিত)

# আল যিকির (১৫:৯ আয়াতে উল্লিখিত)

# আল তানযিল (২৬:১৯২ আয়তে উল্লিখিত)

# আল মাজিদ (৫০:১ আয়াতে উল্লিখিত)

# আল কারিম (৮০:১৩ আয়াতে উল্লিখিত)

# আল হাকিম (৩১:২ আয়াতে উল্লিখিত)

# আল কিতাব (২১:১০ আয়াতে উল্লিখিত)

# আল কিতাব মুবিন (৫:১৫ আয়াতে উল্লিখিত)

# আল কিতাব মুবারাকা (৬:১৫৫ আয়াতে উল্লিখিত)

# আল ক্বাউল ফায়সাল (৮৬:১৩ আয়াতে উল্লিখিত)

“কুর’আন” ছাড়া বাকী নামগুলো কুর’আনের সিফাত বা গুণ ব্যক্ত করে – ঠিক যেমন “আল্লাহ্” ছাড়া বাকী নামগুলো আল্লাহর গুণ ব্যক্ত করে। কুর’আনে অন্তত ১৪০ স্থানে কুর’আনকে ঐ সব গুণবাচক নাম দিয়ে উল্লেখে করা হয়েছে। আমার গোটা জীবনে আমি কোথাও কাউকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ প্রকাশ করতে দেখিনি যে, উপরোক্ত আয়াতগুলোতে “আল ফুরক্বান” বা “আল যিকির” বলতে কুর’আন ছাড়া অন্য কিছু বোঝানো হয়েছে।

এসবই আপনাদের জানা উচিত। কারণ ব্লগে [somewhereinblogএ] একজন‍ “বাঙ্গালী শিয়া” [মেঘে মেঘে কত বেলা হয়ে গিয়েছে যে, আমরা এখন "বাঙ্গালী শিয়াদের" মুখোমুখি হচ্ছি] তথা শিয়া-doctrine-এর প্রচারক এই বলে পানি ঘোলা করতে চেয়েছেন যে, ১৫:৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তো যিকিরের কথা বলেছেন, কুর’আনের কথা বলেন নি – আর এই বলে তিনি ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন যে, কুর’আন পরিবর্তন করা যেতে পারে (নাউযুবিল্লাহ্)। এধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা “যিন্দিক”দের কাজ – যারা মুসলিম সেজে ভিতর থেকে ইসলামকে ধ্বংস করার কাজে আত্মনিয়োগ করে – পরস্পর বিরোধী যুক্তি দিয়ে যারা মানুষকে confused করে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে হালকা বা অর্থহীন করে তোলে, সাহিত্যের ভাষায় যেটাকে বলা হয় deconstruction! আল্লাহ্ আমাদেরকে ঈমান সহকারে মৃত্যুবরণের তৌফিক্ব দান করুন। আমীন!

বিস্তারিত ও সরাসরি দেখতে চাইলে ক্লিক করুন:

http://www.netnavigate.com/hasan/studyquran/ch1.html

ফি আমানিল্লাহ্!

muslim55.swib@gmail.com

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২২১ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৮ টি মন্তব্য

  1. somewhereinblog এর সেই জনৈক ব্লগার আবার নিজেরে শিয়া দাবি করেন না কিন্তু “নাহজ-আল-বালাগাহ” কে কোরআন এর উপরে স্থান দেন। বড়ই বিচিত্র বুদ্ধিমত্তা।

    আল্লাহ আমাদের কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তৌফিক দান করুন । আমীন।

    দ্য মুসলিম

    @মালেক_০০১, এ প্রসঙ্গে একটা ঘটনা মনে পড়লোঃ

    আমার এক বন্ধু মোটামুটি ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী। যদিও সে মুসলমান কিন্তু আগে নামাজ পড়তোনা। কিন্তু এখন আস্তে আস্তে নতুন করে সব কিছু শুরু করতে চাচ্ছে। তো মুল ঘটনা হলো যে, সেখানে শিবিরের ছেলেরা কয়েকদিন আগে কুরআনের দরস চালু করেছিলো এবং ওকে দাওয়াত ও দিয়েছিলো। তখন সে শর্ত দিয়েছিলো যে আমি মুসলমান হিসেবে কুরআন শিখার জন্য আসবো, শিবির করার জন্য নয়। কিন্তু বাধ সাধলো তার এক বড় ভাই। যিনি তাবলীগ পছন্দ করতেন বা করতেন। বলতে লাগলেন যে ওখানে যাওয়ার দরকার নাই। তার চাইতে ভালো হবে যদি আমরা যদি ফাজায়েলে আমল নিয়ে বসবো।

    চিন্তা করে দেখেন ওদের কাছে মাঝে মাঝে ওদের ফাজায়েলে আমাল কোরআনের চাইতে বড় হয়ে যায়।

  2. আপনার একটা লিংকও কাজ করছেনা। পারলে ঠিক করে দিন। ধন্যবাদ।

    মুসলিম৫৫

    @দ্য মুসলিম, এখানেও লিংকটা ঠিক করতে পালাম না – কপি-পেস্ট করলে পাওয়া যাচ্ছে, ক্লিক করে যাওয়া যাচ্ছে না!

    দ্য মুসলিম

    @মুসলিম৫৫,সমস্যা খুজে বের করা গেছে। লিংক এ ডান বাটন ক্লিক করে প্রোপার্টিজ এ দেখুন আপনার লিংক এম্পটি দেখাচ্ছে। যাই হোক আমি লিংক গুলো আবার ট্রাই করলাম। দেখি হয় কিনা।

    http://www.netnavigate.com/hasan/studyquran/ch1.html

  3. কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

    এখানে দেয়া লিংক [http://www.netnavigate.com/hasan/studyquran/ch1.html] ক্লিক করলে error দেখাচ্ছে, কিন্তু ঐ একই লিংক কপি-পেস্ট করলে, গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। Has it got something to do with your system OR settings??

  4. শিয়ারা আসলে ইসলামকে পরিবর্তন করতে চায়,তারা যে কত হাজার শিরক এ লিপ্ত তা তার খেয়াল করে না,তারা পবিত্র কুরআনের মর্ম বুঝে না

  5. আসসালামুওয়ালাইকুম.
    প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা আজ আমরা দুনিয়ায় এক কঠিন সময় এর মধ্য দিয়ে আমাদের দিন অতিবাহিত করছি, আর এটা তো হবেই কারন কিয়ামত যে খুবই সন্নিকটে। এই অবস্থার মদ্ধেই তো ইমান ঠিক রাখার পরীক্ষা হচ্ছে, আপনার আমার অনিচ্ছা সত্তেও এই পরীক্ষায় আপনাকে আমাকে অংশ নিতে হচ্ছে। তাই আসুন আমরা এক আল্লাহকে বিশ্বাস করি, উপরোক্ত লিখাটি আমি পড়েছি খুব সুন্দর ভাবে বিষয়টির লেখকভাই বিষয়টি বুঝাবার চেষ্টা করেছেন। আসলে মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার অনেক সুন্দরতম নাম রয়েছে, তাই বলে এটা নয় যে তিনি বহু। আসলে কুলাঙ্গার সব খানেতেই ছিল, হুজুরে পাক (সাঃ) এর মৃত্যু হওয়ার পরে মুহূর্তের মধ্যে অনেক সাহাবি মুরতাদ (ইমানহিন) হয়ে গেছে, শিয়াদের মদ্ধেও আছে, জামায়াতে ইসলামেও আছে, তাবলীগেও আছে পৃথিবীর সকল মুসলিম জনগোষ্ঠীর মদ্ধেই এরা আছে আর কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে এটা আল্লাহ্‌ই ঘোষণা করেছেন, তাই বলে এটা বলা ঠিক হবে না যে সকল জনগোষ্ঠী ,সকল তাবলীগওয়ালা আর সকল সাহাবারা বেইমান হয়ে গেছে। একটু চিন্তা করুন আমাদের মাথাটা তো আল্লাহপাক চিন্তা করার জন্য দিয়েছেন, পশুপাখির মাথার মত নয় এটা( যাদের কোন দুনিয়ার আর আখেরাতের চিন্তা নেই) কিছু নির্বোধ তো সবসময় দুনিয়াতে এসেছে তারা ইসলামকে কুলসিত করার জন্য আদা জল খেয়ে নেমেছে, তাতে তো আর ইসলামের আর আল্লাহর কোন ক্ষতি নাই, আপনার আমার ইবাদত করার ফলে মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার কোন লাভ হয় না আর গুনাহ করলে তার কোন খতিও হয় না, যা হবার হয় আমাদের কিছু দেখা যায় আর কিছু দেখা যাবে চুরান্ত দিনে কেয়ামতের ময়দানে। আল্লাহ্‌ বলেন তোমরা অপেক্ষা করো আমিও অপেক্ষা করছি।
    আসুন ভাই এইসব দুনিয়াবি খারাপ কাজ আল্লাহতে অবিশ্বাস, আল্লাহ্‌র বিরদ্ধচারন, হিংসা, বিদ্বেষ, অহঙ্কার, দুনিয়াবি স্বার্থ, লোভ-লালসা, খনিকের সুখ এসব থেকে বিরত থাকি।দুনিয়াবি এমন কিছু দেখান যা মানুষকে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সুখ দিয়েছে? নাই এমন কোন বস্তু নাই, আছে একমাত্র আখেরাতে যেখানে কোন প্রকার অশান্তি নাই, হানাহানি নাই, মিত্থা নাই, যেখানে আছে সুধু শান্তি আর শান্তি। ভাই সময় খুবই কম আসুন কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেই, আল্লাহ্‌কে ভয় করি, ভাইরে একলা অন্ধকার ঘরে একটু আলো না থাকলে আমরা কত ভয় পাই আর ঐ কবরে কম করে হলেও চল্লিশ হাজার বছর থাকতে হবে ভাই আসুন দুনিয়াকে না সাজিয়ে কবরকে সাজাই, জান্নাতকে সাজাই। আল্লাহ্‌ আমাদের সকলের হেদায়েত দান করুন (আমিন)।