লগইন রেজিস্ট্রেশন

শিয়া-doctrine-এর ফাঁদে পা দেবার আগে নিজের দ্বীনকে জানুন – শেষ পর্ব

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ রবিবার, জানুয়ারি ১৭, ২০১০ (৬:১০ পূর্বাহ্ণ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

আস সালামু আলাইকুম!

আমি আগেই বলেছি যে, blog-এ কখনো কোন ধরনের বিতর্কে জড়ানোর আমার কোন অভিপ্রায় ছিল না। আমি চেয়েছিলাম, ভাই-বোনদের সন্তর্পনে আমাদের দ্বীনের একেবারে basic কিছু তথ্য জানাবো । খুবই নগন্য প্রয়াস – তবু, কে জানে, একটি জীবনও যদি ঘুরে দাঁড়ায় – তার সাফল্য গগণচুম্বী হতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন বাতিল ফিরক্বা তথা নাস্তিকদের অবারিত প্রচরণা ও “চিকা মারা” দেখে মনে হলো, মূলধারা ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত বা অর্ধ-প্রতিষ্ঠিত ভাইবোনদের জন্য কিছু “quick tips” দেয়া প্রয়োজন। আমি যদিও শুদ্ধ-বিশ্বাস বিষয়েই লিখতে শুরু করেছিলাম, তবু শিয়া-doctrine তথা ”মানবতাবাদী” ও ”সক্রেটিস/আইনস্টাইনপন্থী” ইসলামের মুখপাত্রদের ছড়ানো বিভ্রান্তি নিয়ে লেখাটা জরুরী হয়ে ওঠাতে, এমন কিছু বিষয়ে হাত দিতে হয়েছে যা priorityতে হয়তো তৌহীদ, কুফর, শিরক ইত্যাদি প্রথমিক বিষয়ের অনেক পরে আসতো। এরকম আরো একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে আপাতত “শিয়া-doctrine-এর ফাঁদে পা দেবার আগে নিজের দ্বীনকে জানুন” বিষয়ক আলোচনা শেষ করবো ইনশা’আল্লাহ্ ! সে বিষয়টি হচ্ছে “আহল আল-বাইত” [কেউ কেউ ”আহলে বাইত” বলে থাকেন] বা সোজা বাংলায় “রাসূল (সা.)-এঁর ঘরের লোকদের” প্রসঙ্গ। আন্তর্জাতিকভাবে শিয়ারা যেমন এই প্রসঙ্গটা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং পানি ঘোলা করে থাকে, তেমনি আমাদের দেশের নব্য বাঙ্গালী শিয়ারাও মূলধারা মুসলিমদের এই প্রসঙ্গটা নিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে থাকে।

আপনাকে যদি কেউ “রাসূল (সা.)-এর ঘরের মানুষ” এই কথাটুকু বলে, তাহলে আপনার মনে কি চিত্র জেগে ওঠে? আমার মনে তো প্রথমেই আয়শা (রা.)-এঁর গৃহের কথা জেগে ওঠে। কুর’আনের বহু আয়াতের তফসীর প্রসঙ্গে, হাদীসে এবং রাসূল (সা.)-এঁর জীবনী বা “সীরাহ্” প্রসঙ্গে আয়েশা (রা.) এবং তাঁর গৃহের কথা এসেছে। তাঁর কোলে মাথা রেখে, তাঁর ঘরেই রাসূল(সা.) ইহলোক ত্যাগ করেছেন এবং সেই ঘরেই তিনি সমাহিত হয়েছেন। তথাপি শিয়ারা আয়েশা (রা.)-কে “আহল আল-বাইত” বা ”রাসূল (সা.)-এঁর ঘরের মানুষ” মনে করে না! কি অদ্ভূত ব্যাপার তাই না!! শুধু তাই নয়, রাসূল(সা.)-এঁর আরো যে সব স্ত্রীদের কথা কুর’আন, হাদীস বা “সীরাহ”তে উল্লেখযোগ্যভাবে বর্ণিত আছে যেমন: জয়নব বিনতে জশ (রা.) বা উম্ম সালামাহ্(রা.) বা শাফিয়া (রা.) – যাঁদের আমরা উম্মুল মু’মিনীন মনে করি – তাঁদেরকেও তারা “রাসূল (সা.)-এঁর ঘরের মানুষ” বলে মানতে নারাজ। কেবল ফাতিমা (রা.) এবং (স্বভাবতই শিয়া আলী বা আলীর দল হিসেবে) আলী (রা.) ও তাঁদের বংশদরদের তারা “আহল আল-বাইত” মনে করে – ঠিক যেভাবে হাতে গোনা কয়েকজন সাহাবী ছাড়া, বাকী সবাইকে তারা ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট মনে করে (নাউযুবিল্লাহ্!)।

আহলুস সুন্নাহ্ ওয়া আল জামা’আর মতে, “আহল আল-বাইত”এর মাঝে রাসূল (সা.)-এঁর সকল স্ত্রীগণ অন্তর্ভূক্ত, যাঁদেরকে আল্লাহ্ নিজে কুর’আনে ”আহল আল-বাইত” বলে সম্বোধন করেছেন:

O Consorts of the Prophet! ye are not like any of the (other) women: if ye do fear (Allah), be not too complaisant of speech, lest one in whose heart is a disease should be moved with desire: but speak ye a speech (that is) just. And stay quietly in your houses, and make not a dazzling display, like that of the former Times of Ignorance: and establish Regular Prayer, and give Regular Charity; and obey Allah and His Messenger. And Allah only wishes to remove all abomination from you, ye Members of the Family, and to make you pure and spotless. (Qur’an, 33:32-33)

আমরা এদের সবাইকে নিস্পাপ মনে করি এবং তাঁরা দুনিয়ায় ও আখেরাতে রাসূল (সা.)-এঁর স্ত্রী বলে মনে করি। এদের মাঝে সবচেয়ে মর্যাদাশীল হচ্ছেন খাদিজা (রা.) ও আয়েশা (রা.)। আয়েশা (রা.)-কে আল্লাহ্ নিজে কুর’আনে নিষ্পাপ বলে ঘোষণা করেছেন। যে/যারা আল্লাহর ঘোষণার বিপরীতে তাঁর নামে কোন কলঙ্ক লেপন করে, আহলুস সুন্নাহ্ ওয়া আল জামা’আ তাকে/তাদেরকে অবিশ্বাসী মনে করে। (দেখুন: পৃষ্ঠা#১৮৪ -১৮৬, A Brief Introduction to the ‘Aqeedah of Ahl Assunnah wal-Jama’ah – ‘Abd-Allah al-Athari. Published by IIPH. ISBN: 9960-850-22-6 ).

ফি আমানিল্লাহ্!

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৩৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. আহলে বাইত সম্পর্কে শিয়া মতবাদ খুব্ই জঘন্য। তারা আয়েশা রযি: কে পতিতা তার বাবাকে ক্ষমতালোভী এবং ক্ষমতার জন্য অল্প বয়ষ্কা কন্যাকে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের সাথে বিবাহ দিয়াছেন বলে রটণা করে, আবু বকর রযি এর নাম যতবার আসসিয়াসাতুল ইসলামিয়্যায় উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে রযি্ এর পরিবর্তে লানুতুল্লাহি উল্লেখ করেছে। এটা শিয়াদের বহুল প্রসিদ্ধ ইমাম রুহুল্লাহ খুমাইনির প্রসিদ্ধ কিতাব।