লগইন রেজিস্ট্রেশন

সুরা আল-ইমরানের ১০৩ নং আয়াত এবং মুসলিম ঐক্য

লিখেছেন: ' muslima' @ সোমবার, মে ৩, ২০১০ (৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ,

সুরা আল-ইমরানের ১০৩ নং আয়াতটিতে তিনটি বিষয় উল্লেখিত হয়েছে। (১) কুরআনের বিধান অক্ষরে অক্ষরে পালন করা (২) পরস্পর একতাবদ্ধ থাকা এবং কখনো বিচ্ছিন্ন না হওয়া এবং (৩) আল্লাহ প্রদত্ত সকল নেয়ামতের জন্য আল্লাহর নিকট শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

পরম করুনাময় আসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
“আল্লাহ যে দড়ি [তোমাদের জন্য প্রসারিত করেছেন] তা তোমরা দৃঢ়ভাবে ধর; এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না; এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ কর। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে ভালোবাসার বন্ধন সৃষ্টি করেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে তোমরা তো অগ্নিকুন্ডের প্রান্তসীমায় ছিলে; এবং তিনি তা থেকে তোমাদের রক্ষা করেন। এভাবেই আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদের নিকট স্পষ্ট ভাবে বিবৃত করেন যেন তোমরা সৎ পথে পরিচালিত হতে পার।” (সুরা আল-ইমরান: ১০৩)

মুসলমানদের অবস্থা ঠিক ঐ ব্যক্তিদের মতো যারা কোন উচুঁ পাহাড়ে ওঠার সময় নিশ্চিত পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য শক্ত দড়ি ধারণ করে । এখানে “আল্লাহর দড়ি” বলতে বুঝানো হয়েছে আল-কুরআনকে অর্থাৎ ইসলামের বিধানকে । আল্লাহ সব মুসলমানদের এই দড়ি এক সাথে ধরতে বলেছেন এবং পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে নিষেধ করেছেন। সত্যিকারের মুসলমানদের আল্লাহর বিধানে বিশ্বাসী হতে হবে এবং তাদের একতাবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। কারন সম্মিলিত মুসলিম সমাজের নিরাপত্তা জোরদার হবে তখনই যখন তারা একতাবদ্ধভাবে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে সমস্ত বিপদ আপদের মোকাবেলা করবে।

একটা জাতির মধ্যে অধঃপতনের যতগুলো লক্ষণ ফুটে ওঠে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হচ্ছে পরস্পর বিছিন্নতা। আজ মুসলমানরা আল্লাহর সেই দড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছে; অর্থাৎ ইসলামের বিধানকে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সমাজ জীবনে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা অনেকটাই ব্যর্থ। তাই তাদের মধ্যে মুনাফেকী, মিথ্যাচার, প্রতারণা, অন্যায়-অত্যাচার এত প্রবল। হানাহানি, খুনোখুনি তাদের আজ ধ্বংসের প্রান্তসীমায় দাঁড় করিয়েছে। মুসলিম বিশ্বে মিথ্যা, ঘুষ, অন্যায়-অত্যাচারে আজ প্রতিদিনের জীবন বিভক্ত। ইসলামের নামে অনেক ইসলাম বিরোধী কাজকর্মের অনুপ্রবেশ ঘটছে সমাজ কাঠামোতে। যে সমাজে ন্যায় ও সত্য অনুপস্থিত, সে সমাজ কখনও আল্লাহর রহমত পেতে পারে না। একমাত্র কুরআন ও হাদিসের বিধান অনুযায়ী জীবনবোধই পারে এই ধ্বংস থেকে বাঁচাতে।

একটি ইটের সাথে আরেকটি ইট গেঁথে যেমন একটা বাড়ি বানানো যায়; তেমনি একমাত্র ইসলামের বিধানকে মেনে সকল মুসলমানের হাতে হাত মিলানোর মাধ্যমেই একটি মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ছায়াতল নির্মান সম্ভব।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৮৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৩ টি মন্তব্য

  1. না না পথ, না না মতের যে কোন একটা অনুসরণ করলেই হলো – সব ক’টি ধরেই আল্লাহর নৈকট্য/সন্তুষ্টি লাভ করা যাবে – ইসলামে এই তত্ত্ব অচল। বরং উল্টাটাই সত্য যে, সঠিক পথ বা সিরাতুল মুস্তাক্বিম কেবল একটি এবং একটিই – আল্লাহর রজ্জু বলতে সেটাই বুঝবো আমরা – যে কোন একতার ডাক হবে নির্বেজাল তৌহীদের ভিত্তিতে! কাজেই নিজ নিজ জীবনের সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই, সেই একটি পথের সন্ধান করা উচিত এবং সেটার উপর প্রতিষ্ঠিত হবার চেষ্টা করা উচিত।

  2. একটি ইটের সাথে আরেকটি ইট গেঁথে যেমন একটা বাড়ি বানানো যায়; তেমনি একমাত্র ইসলামের বিধানকে মেনে সকল মুসলমানের হাতে হাত মিলানোর মাধ্যমেই একটি মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ছায়াতল নির্মান সম্ভব।

    সহমত।