লগইন রেজিস্ট্রেশন

প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি নিয়ে কিছু আলোচনা (১)

লিখেছেন: ' নাজনীন' @ রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১০ (৯:৫০ পূর্বাহ্ণ)

শিক্ষানীতির খসড়া, ২০০৯:
http://www.moedu.gov.bd/index.php?option=com_content&task=view&id=338&Itemid=416

নিজে শিক্ষার্থী বলেই হয়তো শিক্ষানীতির প্রতি এক রকমের স্বাভাবিক কৌতুহল কাজ করে। অনেকদিন থেকেই বিভিন্ন শিক্ষানীতির কথা শুনে আসছি, বিভিন্ন আলোচনা শুনছি। তাই এবার যেহেতু অনলাইনে খসড়া পাওয়া গেল, চোখ বুলিয়ে গেলাম পুরো শিক্ষানীতির উপরে। দেশের মোট ১৮ জন বিজ্ঞ ব্যক্তি ঐ কমিটিতে ছিলেন। অনেক অনেক অভিজ্ঞতা হলো।

তো, সম্পূর্ণ শিক্ষানীতি পড়ার পর আর সংযোজনীগুলো দেখে দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের কিছু ভাল লাগা , খারাপ লাগা, কিছু প্রশ্ন এখানে জানাতে চাচ্ছি।
শিক্ষানীতিতে মোট ২৯টি অধ্যায় এবং সাতটি সংযোজনী।
সংযোজনী ১-এ শিক্ষা সংশ্লিস্ট সংবিধানের বিধানগুলো বলা আছে। যেমনঃ

১৯। রাষ্ট্র

(ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা র্নিধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য,
(খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য,
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

http://bdlaws.gov.bd/bangla_sections_detail.php?id=957&sections_id=29369

লিঙ্কে দেয়া সংবিধানে দেখলাম এটা ১৭ নম্বর হিসেবে দেয়া। বুঝলাম না কোনটা সঠিক???

২৮। ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য

(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।
(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
(৩)কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোণ শিক্ষা- প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিক্কে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।

৪১। ধর্মীয় স্বাধীনতা
(২) কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম সংক্রান্ত না হলে তাহাকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করিতে হইবে না।

এবার অধ্যায়গুলোতে যাওয়া যাক্‌……

১। শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

খসড়ায় বলা হয়েছে এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে সেক্যুলার গণমুখী, সুলভ, সুষম, সার্বজনীন, সুপরিকল্পিত এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও রণকৌশল হিসেবে কাজ করবে।
—- এই “সেক্যুলার” কথাটি এ শিক্ষানীতিতে নতুন সংযোজিত হয়েছে যা বিধান ১৯(ক)-এর সাথে সম্পর্কিত। আমার প্রশ্ন হলো “গণমুখী” এবং “সেক্যুলার গণমুখী” এই দুটো কথার পার্থক্য কি? বা বলা যায় “সেক্যুলার” শব্দটি গণমুখী শব্দের আগে বসানোর উদ্দেশ্য কি? এর মানে কি এই বোঝায় আমাদের বর্তমান সংবিধানের ১৯(ক) বিধানটি অসম্পূর্ণ?”সেক্যুলার” শব্দটি নিয়ে আমাদের দেশে প্রায়ই অনেক বিতর্ক শোনা যায়। একেকজন একেকভাবে এ শব্দের ব্যাখ্যা করেন। তাই এ ধরণের বিতর্কিত শব্দ কি না ব্যবহার করলেই নয়? সেক্যুলার শব্দের পরিবর্তে এখানে কি কোন বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা যায় না?

শিক্ষানীতির নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেসমূহে বলা হচ্ছে এ শিক্ষানীতির মাধ্যমে সাংবিধানিক নিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটানো হবে। যদি “সেক্যুলার” শব্দের অর্থ “ধর্মনিরপেক্ষতা” হিসেবে ধরা হয় (নীতিমালার ৩ নং পয়েন্ট থেকে), তাহলে আগের শিক্ষানীতিগুলোতে বা বর্তমান চলমান শিক্ষাব্যবস্থায় কি সংবিধানের ২৮ এবং ৪১ ধারা কি মানা হয়নি? ২৮ এবং ৪১ বিধান যদি এই শিক্ষানীতিতে মানা হয়, তাহলে কি এই অতিরিক্ত “সেক্যুলার” শব্দের সংযুক্তির কি কোন আবশ্যকতা আছে? এটা নিয়ে আবারো পাঁচ বছর এ সরকার, পরের পাঁচ বছর আরেক সরকার খেলবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।

২। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা

এই নীতিতে প্রথম শ্রেণীতে পড়ার আগে একবছর প্রি-স্কুলিং-এর কথা বলা আছে, যাতে করে বাচ্চারা মূল পড়াশোনা শুরুর আগে শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে। এটা এতোদিন আনফিশিয়ালি প্লে-গ্রুপ, নার্সারী শিক্ষার মাধ্যমে অনেকটা হয়ে আসছিল, এখন সরকারী নীতিমালার অন্তর্গত করা হলো – নিঃসন্দেহে ভাল উদ্যোগ। এর জন্য যে কৌশলগুলো বলা আছে, সেগুলোও ভাল।

প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার মেয়াদ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করা হয়েছে।সমগ্র দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত কিছু বিষয়সমূহে এক ও অভিন্ন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী প্রবর্তন করা হবে। অর্থাৎ সরকারী, বেসরকারী, কিন্ডারগার্টেন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও অন্যান্য যেসব বিদ্যালয় আছে তাদের মধ্যে সমন্বয় করা হবে। এর বাইরে অতিরিক্ত বিষয়সমূহ শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে বিভিন্ন ধারায় সন্নিবেশ করা যাবে।

সংযোজনী-২ এ সংক্রান্ত শিক্ষাক্রম কাঠামো দেখানো হয়েছে।

বর্তমান সময়ে যেসব কিন্ডারগার্টেনগুলো দেখি সেখানে ১ম, ২য় শ্রেণীতেই বাংলা ১ম পত্র, ২য় পত্র, ইংরেজী ১ম পত্র, ২য় পত্র, ধর্ম, সাধারণ শিক্ষা, ললিতকলা(ড্রয়িং), শ্রুতলিপি (বাংলা, ইংরেজী) আরো কতকিছু। আমি মনে করি সরকারের উচিত এগুলো কঠোরভাবে মনিটর করা, নিয়ন্ত্রণ করা, বাচ্চাদের উপর যেন কিছুতেই অতিরিক্ত চাপ তৈরী না হয়।

প্রদত্ত কাঠামোতে শ্রেণীসমূহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। কিছু বিষয় সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

১ম, ২য় – বাংলা, ইংরেজী, গণিত সব ধরণের বিদ্যালয়ের জন্য একই, আবশ্যিক, ১০০ নম্বর করে। এরপর সাধারণ (ইংরেজী মাধ্যমকে সাধারণের আওতায় রাখা হয়েছে) শিক্ষার জন্য ললিতকলা (১০০) এবং মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য আরবী (১০০) রাখা হয়েছে।

——–এখানে আমার কিছু প্রস্তাবনা, সাধারণত ললিতকলা হিসেবে ড্রয়িংই থাকে বাচ্চাদের, এটা বাচ্চাদের সৃজনশীলতা বাড়ায়। তবে আমার মনে হয় সাধারণের জন্য ললিতকলা ৫০ নম্বর এবং সাধারণ জ্ঞান ৫০ নম্বর, আর মাদ্রাসার জন্য আরবী ৫০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞান ৫০ নম্বর হতে পারে। সাধারণ জ্ঞানের পাঠ্যসূচীতে ফুল, ফলের নাম, রঙের নাম, দেশের নাম, জাতীয় প্রতীকসমূহ, বিভিন্ন দিবসের নাম, ধর্মের প্রাথমিক কিছু জ্ঞান, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের নাম, কিছু সাধারণ নৈতিকতা (আদর্শ লিপির মতো) — এসব থাকতে পারে। আর কোন বিদ্যালয় যদি এর বাইরে কোন বিষয়ের অনুমতি নিতে চায়, সেক্ষেত্রে সেটা যেন কিছুতেই এক বিষয়ের বেশী না হয়, মানে কোমলমতি বাচ্চাদের যেন বেশী চাপ দেয়া না হয়। এক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষায় ধর্ম ও আকাইদ আসতে পারে, ইংরেজী মাধ্যমে আর কোন ইংরেজী ছড়া বই, গল্প আসতে পারে।

৩য়, ৪র্থ, ৫ম – এখানে আগেকার “সমাজ ও পরিবেশ পরিচিতি”র বদলে “জলবায়ু পরিবর্তনসহ পরিবেশ” নামক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যদিও পাঠ্যসূচী নিয়ে তেমন কিছু বলা নাই, তবে আমরা আগে যেমন সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় শিখতাম, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকা দরকার মনে করি। এছাড়া পরিবেশ দূষণ ও সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার বিষয় এবং বাংলাদেশের ভূগোল (মানে নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র) ইত্যাদি বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকা দরকার। অনেক ইংরেজী মাধ্যমে দেখেছি বৃটিশ ভূগোল, ইতিহাস পড়ে বাচ্চারা, এটা আমাদের দেশের জন্য কি প্রয়োজন জানা নেই। দরকারও নেই।

নতুন বিষয় হিসেবে এসেছে “বাংলাদেশ স্টাডিজ”, বাচ্চাদেরকে এ দেশ সম্বন্ধে, এ দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে ধারণা দেবার জন্য, দেশপ্রেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে। খুবই ভাল ব্যাপার। এক পত্রিকার নিবন্ধে দেখেছিলাম আইবিএর ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা ইংরেজী মাধ্যমের অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবসের মধ্যে তারিখ নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়ে গেছে। আর এতোদিন বাংলাদেশের অনেক ইতিহাসই আমরা পাঠ্যবই থেকে কম জেনেছি, এবার নিশ্চয়ই সে সীমাবদ্ধতা কাটবে। তবে বিষয়টির নাম “বাংলাদেশ বিষয়াবলী” বা “বাংলাদেশ পরিচিতি” বা এজাতীয় অন্য কিছু নাম দেয়া যেতে পারে, সেটা মনে হয় বাচ্চাদের আরো বেশী বোধগম্য হবে।

ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এখান থেকে বাধ্যতামূলক, তবে মূলত জীবনী ও গল্পভিত্তিক বলা হয়েছে। আমার মনে হয় এখানে ধাপে ধাপে যার যার ধর্মের মূল প্রাথমিক তথ্যগুলো ও ধর্মীয় মূল্যবোধগুলোও শেখানো দরকার। আর হাদীস এবং সীরাতের ব্যাপারে আরো সতর্ক হওয়া দরকার, যাতে কিছুতেই কোন জাল বা দুর্বল হাদীস বা অনির্ভরযোগ্য কোন গাল-গল্প অনর্ভুক্ত না হয়।

৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম – এখানে এসে সব মাধ্যমে সাধারণ বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষাকেও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এ পর্যায়ে এসে সাধারণ ও ইংরেজী মাধ্যমদের জন্য আরবীও বাধ্যতামূলক করা উচিত, অন্য ধর্মাবলীদের জন্য সংস্কৃত হতে পারে। সেটা ধর্মের সাথে সংযুক্ত করেই হোক বা আলাদাভাবে। তবে সেটা সাহিত্যিক আরবী না, সেরকম আরবী হরফ, যতিচিহ্ন, গ্রামাটিক্যাল আরবী, ভোকাবুলারী(কোরআন থেকে নেয়া শব্দ)সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা, যেটা দিয়ে কোরআন পড়ে কিছুটা বোঝা যাবে। যেমন এই তিনবছরের প্রত্যেক বছরে অন্তত ১০টি করে ছোট সূরার গ্রামার এবং প্রত্যেক শব্দের অর্থ সহকারে যদি পড়ানো হয়, তাহলে মোট ৩০টি সূরা পড়া হবে। এতে করে এতোদিন যেমন অর্থ না বুঝে শুধু কোরআনের আরবী পড়ে যাচ্ছি আমরা, সে পরিস্থিতি অন্তত কিছুটা হলেও বদলাবে। তাই সাধারণ ও ইংরেজী মাধ্যমে কোরআনিক আরবী সংযুক্ত করা খুবই জরুরী।

ভাল লাগার ব্যাপারগুলোর মধ্যে আছে শিক্ষক – ছাত্রের অনুপাত ১ঃ৩০, শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা, সব বিদ্যালয়ে ছাত্রদের হন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা, দূর-দূরান্তের ছেলেমেয়েদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা করা, লাইব্রেরী স্থাপন, আদিবাসী শিশুদের জন্য নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষা, প্রতিবন্ধীদের চলাফেরা ও বাথরুমের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার উপর জোর দেয়া।

এর সাথে আমি আরেকটু যোগ করতে চাই। তা হলো, প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নারীদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, আর স্কুলগুলো অনেক দূরে দূরে হয়। শিক্ষিকারা প্রতিদিন রৌদ-বৃষ্টি, বারবার যানবাহন পরিবর্তন করে অনেক দূর থেকে যাতায়াত করে। আবার স্কুলের কাছে রুম ভাড়া করে থাকাটাও অনেক ক্ষেত্রে তাদের সাধ্য কুলায় না। এতে তাদের স্বল্প বেতনের উপর অনেক চাপ পড়ে, আর কষ্টসাধ্যও হয়ে যায়। তাই আমি প্রাইমারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার কথা বলতে চাই।
আর প্রাইমারী শিক্ষকদের যোগ্যতা আমি ন্যুনতম স্নাতক ডিগ্রীধারী হওয়া দরকার বলে মনে করি। কারণ, শিশুদের পড়ানোর জন্য মানসিক পরিপক্কতার প্রয়োজন আছে, শিশুদের পড়াতে অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন, যা অনেক অল্পবয়স্কদের থাকে না।

আর ছোট্ট একটা প্রশ্ন হলো, শিশুদের বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধীকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কিন্তু সেসাথে মৃত্যু নিবন্ধীকরণ ঠিক কিভাবে বয়স নির্ধারণ করে বুঝলাম না? সেটা হয়তো শিশু মৃত্যর হার বা সংখ্যা নির্ধারণে কাজে লাগতে পারে, কিন্তু বয়স নির্ধারণে???

বিদ্যালয়ের উন্নতি ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে ফান্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে এলাকার বিত্তশালীদের সম্পৃকতার করার ব্যাপারে আমার আশংকার জায়গাটা হলো, এক্ষেত্রে অভিভাবকের ডোনেশানের বদৌলতে অনেক খারাপ ছাত্রও ভাল স্কুলে কোন প্রতিযোগিতা ছাড়াই পড়ার চান্স পায়, আর এরা আজীবনই দুর্বল থেকে যায়। আর একজনের বিত্তের কাছে অন্যদের মূল্যবান মেধা মূল্যহীন হয়ে পড়ে, আবার অনেক গরীব মোটামুটি মানের ছাত্রের সুযোগ কমে যায়, যেটা প্রকারান্তে সমাজে একটা অর্থই তৈরী করে — জোর যার মুল্লুক তার।

ইংরেজী মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন আলোচনা চোখে পড়লো না। আমার মনে হয় বিভিন্ন কেন্ডারগার্টেনে শিক্ষক নিয়োগের জন্যও সরকারী তরফ থেকে একটা স্ট্যান্ডার্ড তৈরী করে দেয়া ভাল, যেমন কলেজ শিক্ষকদের জন্য নিবন্ধন পরীক্ষা আছে, সেরকম একটা ন্যুনতম স্ট্যান্ডার্ড এক্ষেত্রেও তৈরী করা উচিত, কারণ আজকাল যত্রতত্র কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠছে, অনেক শিশুরাই ঐসব স্কুলে পড়তে যাচ্ছে। তাই সেগুলোতে শিক্ষার মান, শিক্ষাদানের মান ও পরিবেশ, শিক্ষকদের যোগ্যতাও যথাযথ হওয়া দরকার।

শিশুরা কি সাধারণ, কি মাদ্রাসা, কি ইংরেজী মাধ্যম — সবখানেইআনন্দ এবং আগ্রহের সাথে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে, সে ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে ইংরেজী মাধ্যমের স্কুলগুলোর কিছু প্রচেষ্টা থাকলেও, বাকী দুই মাধ্যমে যথেষ্ট রকমের উদাসীনতা দেখা যায়।

৩। বয়স্ক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা

বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমে ছুটির সময়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাটি ভাল লেগেছে।

আর বয়স্কদের সাক্ষরতার পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের কুসংস্কার দূর করার ব্যবস্থা করতে পারলে খুব ভাল, সে সাথে পরিবারের বা প্রতিবেশীদের অন্য সবার সাথে কেমন আচরণ করা উচিত সে সম্বন্ধে শিক্ষাদানও জরুরী। এক্ষেত্রেও আগে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

আর যেসব শিশুরা নানা কারণে স্কুলে যেতে পারে না যেমন বিভিন্ন কল-কারখানায়, অফিস-আদালতে, বাসা-বাড়িতে যেসব শিশু শ্রমিক আছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন বাধ্যতামূলকভাবে যার যার শিশু কর্মীকে উপ-আনুষ্ঠানিক পড়াশোনার সুযোগ করে দেয় এ ব্যাপারে সরকারী আইন প্রয়োজন।

চলবে…

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২২৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.৪০)

৩ টি মন্তব্য

  1. লেখার জন্য ধন্যবাদ। শিক্ষানীতিটি দরকার ছিল । আপনি কস্টকরে গবেষনা ও মন্তব্য করেছেন। বিস্তারিত পড়ে জানাবো।

    নাজনীন

    @বাংলা মৌলভী,আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সবারই দেশের শিক্ষানীতির প্রতি সচেতন হতে হবে। নিজেরা যে ব্যাপারগুলো চাচ্ছি, নিজেদের শিক্ষাজীবনে যা যা অসুবিধা মনে করেছি, যা আকাঙ্ক্ষা করেছি, সেটা প্রকাশ করা দরকার, আলোচনা করা দরকার।