লগইন রেজিস্ট্রেশন

হে ইসলামপ্রিয় ভাইবোনেরা, আপনাদের কাছে বিনীত প্রশ্ন: মাহবুবকে শেষ পর্যন্ত কয়টি দোররা মারা হয়েছে?

লিখেছেন: ' নাজনীন' @ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১১ (৯:৪২ অপরাহ্ণ)

কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন পত্রিকায় হেনাকে দোররা মেরে লাশ বানিয়ে ফেলার সংবাদের ফলো আপ দেখছিলাম। আজকাল কারো মৃত্যুতে তেমন শিউরে উঠি না, হয়তো প্রতিদিন পত্রিকাগুলোতে নানা রকমের মৃত্যুসংবাদ ছাপায় বলে চোখ সয়ে গেছে। তবুও কিছু কিছু মৃত্য নি্যে ভাবনার অবকাশ থাকে, ন্যায়-অন্যায় বিচারের প্রসংগ চলে আসে। আর এ ধরণের মৃত্যুর সাথে যদি কোনভাবে ইসলাম নামটি চলে আসে সেটা আমাদের চিন্তাজগতকে আরো নাড়া দেয় এজন্য যে ইসলামের সাথে ইনসাফ শব্দটি জড়িত। তো, ইসলাম কায়েম করতে গিয়ে যেসব মৃত্যু ঘটে সেসব জায়গায় ইনসাফ কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটা অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে।

এখন শিরোনামে আসি, কেউ কি বলতে পারেন আরো কয়েকবার বিচারের মুখোমুখী হওয়া, জুতাপেটা খাওয়া, বিয়ের আগে নিজ স্ত্রীকে ধর্ষণ করা, হেনকে গত জুলাইতে আরো একবার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করা মাহবুবকে ঐ গ্রাম্য সালিশকারীরা কতটি দোররা মেরেছিলেন, ২০০টির মতো মারার কথা ছিল, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়ারও কথা ছিল। কিন্তু দোররা কি প্রয়োগ করা হয়েছিল তার উপর? ব্লগের মুসলিম ভাইয়েরা যারা সমাজে মাহবুবের মতো মানুষের উপস্থিতিতে খুব একটা চিন্তিত নন, কিন্তু হেনার মতো যৌন আসক্তিতে(??!!) আক্রান্ত নারীর উপস্থিতি টের পেয়ে যারপরনাই বিচলিত, সমাজের যাবতীয় অনিষ্টের কথা ভেবে রাতের ঘুম হারাম করছেন, তাদের কাছে জানতে চাচ্ছি মাহবুবের কয়টি দোররা খেতে হয়েছে? তাকে কোন হাসপাতালে চিকিতসাসেবা দেয়া হয়েছিল? তিনি কি দোররা খেতে খেতে মূর্চ্ছা গিয়েছিলেন? আহারে!

নাকি আপনাদের সেই পুরোনো মনোভাব, ছেলেরা তো একটু খারাপই, ওরা অমন একটু আধটু করবেই। কিন্তু মেয়েদের হতে হবে পাক্কা ঈমানদার! একেবারে একশতভাগ খাঁটি মুসলিম। তা না হলে ঘর গেল, সংসার গেল, পরিবার গেল, সমাজ গেল, গেল গেল সব গেল! আমি বলতে চাই, যারা মাহবুবের পরকীয়ার চেয়ে হেনার পরকীয়ায় অনেক বেশি বিচলিত, তারা যতটা না ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা বা নৈতিক সমাজ নিয়ে ভাবছেন, তার চেয়ে বেশি ভাবছেন আসলে নিজেকে নিয়ে। এসব শহুরে শিক্ষিত মুসলিম পুরুষ ব্লগারদের যতটা না ধর্মপ্রেম, তার চেয়ে বেশি নিজের স্বার্থ। কারণ, তারা খুব ভাল করে বোঝে দোররা মারার মত ঘটনা শহরে ঘটার সম্ভাবনা অনেক কম, সে তুলনায় পরকীয়া ঘটবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ধর্ম কই গেল, ঠিকমত আছে কিনা, ঠিক প্রয়োগ হচ্ছে কিনা, তার চেয়ে বড় কথা উনাদের বর্তমান/ ভবিষ্যত বৌয়েরা আবার কারো সাথে পরকীয়া করছে বা করবে না তো? নাহ্‌, উনাদের এই চিন্তা দোষণীয় কিছু নয়, নিজের পরিবারের ভাল চিন্তা করবে না কেন? কিন্তু উনাদের প্রতি অনুরোধ থাকলো, এইসব কথাবার্তার সাথে যেন ইসলামসেবাকে গুলিয়ে না ফেলে। যেন তারা এসব বলে খুব ইসলামের উপকার করছেন, ইসলামকে ধন্য করছেন, তা না ভাবেন।

এবার আমার “অতীব পরহেজগার” ইউনিযন পরিষদের সদস্য ইদ্রিস শেখের কাছে জিজ্ঞাসা (উনি সদস্য নির্বাচিত হবার সময়ে কোন দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন কিনা, উনি ব্যক্তিগতভাবে কতটা ধার্মিক আপাতত এই বিষয়গুলো আমরা অনুসন্ধান না করি) [মনে করলাম যে আপনি উচ্চ আদালতের ফতোয়া সংক্রান্ত রায়ের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল], আপনি যে প্রচলিত প্রশাসনের প্রতিনিধি, তার প্রতি আপনার নিজেরই আস্থা নেই, তাহলে আপনি কেন এই কুফরী প্রশাসনের সদস্য হতে গেলেন? এতে করে তো ঐ কুফরী প্রশাসনের প্রতি আপনার আনুগত্যই প্রকাশ পায়। ধরে নিলাম আপনি নিরুপায়, একা কিভাবে পুরো ব্যবস্থা পাল্টে ফেলবেন, কিন্তু আপনি ইসলামী শরিয়া আইন প্রচলনে তো মারাত্মক সতসাহস দেখিয়ে ফেলেছেন! সাধুবাদ! আপনি একটা সালিশবোর্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যে বোর্ড কিনা আপনার ইউনিয়নের নীতি-নৈতিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে দারূণ এক কাজ করেছে। প্রায় “রজম” তথা পাথর মেরেই হত্যা করে ফেলতো দুই পাপাচারীকে, তাও রক্ষে! কেউ কেউ আপত্তি জানিয়েছিল রজমে, তাই দোররাই সাব্যস্ত হলো। আপনার কাছে সবিনয় জিজ্ঞাসা দোররা আগে কাকে মারা উচিত ছিল? অবিবাহিত হেনাকে নাকি বিবাহিত মাহবুবকে? এখানে কার অপরাধ বেশি ছিল, এক্ষেত্রে কোরআন কি বলে? না হয় আপনাকে মাদ্রাসার সুপার সাহেব শাস্তির রকম বাতলে দিয়েছিল, কিন্তু কাকে আগে এবং বেশি গুরুত্বসহকারে শাস্তি দেবার দরকার ছিল, এইটুকু বিবেচনাবোধ বা প্রজ্ঞাও কি আপনার নেই? তবে কেন জনপ্রতিনিধি হতে যান? যে আপনার শরীয়া আইনের প্রতি এতোটা শ্রদ্ধা, দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি বুড়ো আংগুল দেখালেন, সে আপনি আজ পুলিশ আর মামলার ভয়ে পলাতক কেন? আবার ফোনে হুমকি দিচ্ছেন মামলা তুলে নেয়ার, টাকা দিয়ে মীমাংসা করতে চাইছেন, আপনার ঈমানী জোশ কোথায় হারিয়ে গেল? ইসলামের সেবা করতে গিয়ে এমন সহজে শহীদ হবার রাস্তা আপনি পাবেন কোথায়, কবে আবার সে সুযোগ মিলবে? হেনা হত্যার দায়ে প্রচলিত আইনে হয়তো আপনার ফাঁসী হতে পারে, আপনাকে অনুরোধ ইসলামের রাস্তায় শহীদ হবার এমন সুযোগ হেলায় হারাবেন না। বরং, বীরদর্পে মাথা উঁচু করে আত্মসমর্পণ করুন, আল্লাহ্‌র নামে দাবী করুন “যাহা করিয়াছেন, ঠিক করিয়াছেন, ইসলাম তো ইহাই করিতে বলিয়াছে, তোমাদের ঐ কুফরী আইন আমি মানি না। এই আমি জিহাদ ঘোষণা করিয়াছি যাবতী্য কুফরী আইনের প্রতি।”

মাননীয় মাদ্রাসা সুপার সাইফুল ইসলামকে বিনীত জিজ্ঞাসা (মনে করলাম আপনি উচ্চ আদালতের রায়ের ব্যাপারে বেখবর), আপনার দেয়া ফতোয়ার ব্যাপারে কি আপনার আস্থা নেই? আপনি কি সেটা আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করার জন্য দেননি? তাহলে আপনি ভয় করছেন কাকে? কেন আপনি পলাতক? ইসলামের পথে শহীদ হবার এমন সুযোগ কি বারে বারে আসবে? আপনারা যারা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন, তাদের অন্তরে জিহাদের লিপ্সা আমাদের মতো সাধারণদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। আপনি তো দেশের প্রচলিত আইনের বিপরীতে বিরাট বিদ্রোহ করে ফেলেছেন! তারপরও কি বিবেক কোথাও খোঁচাচ্ছে? কোথাও কি কিছু ভুল হয়ে গেল? আপনাদের এই শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইসলাম যে ইনসাফের কথা বলে তা কি ছিল? যদি থেকে থাকে তবে কেন পুলিশ, প্রশাসনকে এতো ভয়?

নাকি ধর্ম যেদিকে যায় যাক্‌, চাচা আপন প্রাণ বাঁচা!

যে সমাজে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দূর্নীতি, যে দেশ দূর্নীতিতে সারা বিশ্বে চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাট্রিক করে, সে দেশে চুরির দায়ে কারো হাত কাটার ফতোয়া দেয়া হয়েছে, আজ পর্যন্ত শুনিনি! বড় আফসোস!

একটা সমাজ যার বেশির ভাগ মানুষের তাকওয়ার অভাব, আস্তিক তো নামায পড়ে না, নামায পড়ে তো ঘুষও খায়, মিথ্যেও বলে, যে সমাজের বেশির ভাগ মানুষ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌”র অর্থ ঠিকভাবে বোঝে না, সে সমাজের মানুষেরাই তসলিমারে নিয়ে, প্রভাবে নিয়ে, হেনারে নিয়ে সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে, কিন্তু তাদের বিবেকের ফাঁক গলে ঠিকই রুদ্ররা ছাড়া পায়, রাজিবেরা আড়ালেই থাকে, মাহবুবরা দোররার হাত থেকে বেঁচে যায়।

এমন এক সমাজ তৈরী হয়েছে আমাদের বিয়ের সময় খোঁজ করে পাত্রী কত সুন্দরী, বা পাত্র কত প্রতিষ্ঠিত, কে কেমন ঈমানদার তার খোঁজ নাই। আবার কিছু ধার্মিক ভাইয়ের পাত্রী কয় ওয়াক্ত নামায ঠিকমতো পড়ে, তার চেয়ে বেশি খোঁজ ঘর থেকে বের হতে বোরকা পরে তো? আবার বিয়ের পরে বৌ নামায-রোযা ঠিকভাবে করছে কিনা, তার চেয়ে বেশি খোঁজ স্বামীসেবা ঠিকমতো করছে কিনা!!!! স্বামী নামায পড়ছে কিনা তার চেয়ে বেশি খোঁজ অন্য মেয়ের প্রেমে পড়ছে না তো!!!!

এই সমাজে মুসলিম ভাইয়েরা ব্যস্ত নারীরা কেন পর্দা করছে না, নারীরা কেন ঘর থেকে বের হয়, কেন চাকরী করবে, নারীর পোশাক ঠিক আছে কিনা, নারীরা ঠিকভাবে নির্দিষ্ট নিয়মে চলছে কিনা, এদিকে দূর্নীতি, ঘুষ, মিথ্যে, চুরি, অবিচার, অনাচার, শির্‌ক, কুফরীতে দেশ-শহর-গ্রাম ছেয়ে যাচ্ছে, সেদিকে বিশেষ পদক্ষেপ নাই। ভাবখানা এমন সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠা মানে নারীর উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়া, নারীদের উপর খবরদারী করতে পারা গেল তো সব জয় হয়ে গেল!

সবশেষে আলেমসমাজের কাছে আমার আন্তরিক জানতে চাওয়া, যেহেতু কোরআনে শুধু দোররার কথা আছে, পাথর মারার কথা সরাসরি উল্লেখ নাই, কেবল কিছু হাদীসে পাওয়া যায়, তাই ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে পাথর মেরে হত্যাকে আধুনিক কোন প্রচলিত শাস্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব কিনা? দোররার রকম সম্বন্ধে কিছু বৈশিষ্ট্য বা সীমাবদ্ধতা কি দেয়া যেতে পারে, যাতে করে ৭০-৮০টি বা ১০০টি দোররা খাবার পর কাউকে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে না হয়, সে যেন নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ পায়। হাদীসগুলোর আক্ষরিক অর্থের দিকেই কি সবসময় আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে, নাকি অন্তর্গত শিক্ষাটাই বেশি জরুরী?

রাসূল (সা: )-এর যুগে যেসব হাতিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার হতো বা যেসব রণকৌশল ব্যবহার হতো, তার অনেক কিছুরই আজ আর প্রচলন নেই। আজ কিছু মুসলিম দেশ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রও তৈরী করছে বা যুদ্ধে বা জিহাদে ব্যবহার করছে, কিন্তু এসব নিয়ে আলেমদের কোন আপত্তি শুনিনি। দাসপ্রথা আজ আর নেই বললেই চলে। রাসূলের যুগে ছিল বলে সুন্নাহ্‌ হিসেবে সে প্রথা কেউ চালু রাখেনি। তাহলে দোররা বা পাথর মারা ঠিক আগের মতই থাকতে হবে কেন?

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩০২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.০০)

২৪ টি মন্তব্য

  1. আমিও বিষয়টা চিন্তা করছিলাম। কোত্থেকে যে এই নাদান মুফতি আর মাতবর শালিস যোগাড় হয় এটাই ভাবার বিষয়।
    আর একান্ত কাল্পনিক ও বানায়োট জুডিশিয়াল সিস্টেম যদি নিজেরা তৈরি করতে শুরু করি তবে নামাজ কালামও তো খুব ভারি ও সময়ের অপচয় মনে হলে তা পরিবর্তন ও কিছু ব্যাখা ট্যাক্ষা দিয়া অন্য কিছু আবিস্কার করা যাবে।
    রসূল স: এর যূগের হাতিয়ার এখন ব্যবহার করা হয় না ঠিক, কিন্তু ভবিষ্যতে যে আবার হবে না তা কিভাবে বলতে পারেন? আমি অত্যাধুনিক ব্যক্তগত ব্যাবহার যোগ্য কিছু অস্ত্র তালাশ করার পর দেখলাম সেখানে আধুনা পিস্তল আর পুরানো খন্জরের সমন্বয় করা হয়েছে, অর্থাত টেকনোলোজি উন্নতির শেষ মাথায় গিয়ে আবার নাইনের পরে জিরো হয়ে আবার ওয়ান থেকে এটাই মুল কথা। রসূল স: এর প্রদর্শিত ব্যবস্থাকে যদি কেবল দেড় সহস্র বছর আগের সলিউশন ধরা যায় তবে কোন বালাই থাকে না, কিন্তু তাকে যদি কেয়ামত পর্যন্ত আগত সকল সিস্টেমের বেস্ট অফ দ্যা বেস্টজ ধরেন তবে শরীয়ত নিয়ে বাড়াবাড়ি ও আধুনা মনষ্কতার নামে পিছলামির সুযোগ নেই।
    এখানে কথা হলো যা কিছু আমরা দেখছি এগুলো ইসলামের নামে হলেও ইসলাম নয়, ধর্ম এর জন্য দায়ী নয় কিংবা তাতে সংষ্কারেরও কিছু নেই, সংষ্কার করতে হবে আমাদের মানসিকতা ও অভ্যাস ও ট্রাডেশনের। ধন্যবাদ।

    নাজনীন

    @আল মুরতাহিল, নামাজ / সালাত কায়েম করার কথা কোরআনে যতবার বলা আছে, পাথর মারার কথা কতবার বলা আছে? পাথর মারা কি ফরজের মধ্যে পড়ে?

    মানসিকতা আর অভ্যাসতো অবশ্যই বদলানো দরকার।

    M M NOUR HOSSAIN

    @আল মুরতাহিল, ধন্যবাদ

  2. এই সমাজে মুসলিম ভাইয়েরা ব্যস্ত নারীরা কেন পর্দা করছে না, নারীরা কেন ঘর থেকে বের হয়, কেন চাকরী করবে, নারীর পোশাক ঠিক আছে কিনা, নারীরা ঠিকভাবে নির্দিষ্ট নিয়মে চলছে কিনা, এদিকে দূর্নীতি, ঘুষ, মিথ্যে, চুরি, অবিচার, অনাচার, শির্‌ক, কুফরীতে দেশ-শহর-গ্রাম ছেয়ে যাচ্ছে, সেদিকে বিশেষ পদক্ষেপ নাই। ভাবখানা এমন সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠা মানে নারীর উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়া, নারীদের উপর খবরদারী করতে পারা গেল তো সব জয় হয়ে গেল! ইসলাম মানুষকে ব্যক্তিগত জীবন পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্টিয় জীবনের চলার মতো যাবতিয় বিধান দিয়েছে। এখন যদি কেহ কোন একটি রেখে বাকি গুলি বাদ দিয়ে দেয় তাহলে সেটা তার ত্রুটি। ইসলামের কোন সমস্যা না।
    সবশেষে আলেমসমাজের কাছে আমার আন্তরিক জানতে চাওয়া, যেহেতু কোরআনে শুধু দোররার কথা আছে, পাথর মারার কথা সরাসরি উল্লেখ নাই, কেবল কিছু হাদীসে পাওয়া যায়, তাই ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে পাথর মেরে হত্যাকে আধুনিক কোন প্রচলিত শাস্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব কিনা?যত টুকু জানি কুরআনের নাসেখ মানসূখ একটি অধ্যায় আছে, সেখানে এক প্রকার হলো, আয়াত মানসূখ (রহিত) কিন্তু হুকুম এখনো বাকি আছে। পাথর ছুড়ে মারার আয়াতটি সেই গুলির অন্তভূক্ত।
    তাছাড়া হাদীস দ্বারা ব্যবিচারের (যিনা) শাস্তি সুস্পষ্ট প্রমানিত। যেমন মায়িযে আসলামী (রাঃ) কে রাসূলের নির্দেশে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়েছিল।
    রাসূল (সা: )-এর যুগে যেসব হাতিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার হতো বা যেসব রণকৌশল ব্যবহার হতো, তার অনেক কিছুরই আজ আর প্রচলন নেই। আজ কিছু মুসলিম দেশ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রও তৈরী করছে বা যুদ্ধে বা জিহাদে ব্যবহার করছে, কিন্তু এসব নিয়ে আলেমদের কোন আপত্তি শুনিনি।অস্ত্র ব্যবহার করার উদ্দেশ্য হল আত্মরক্ষা, ও শত্রূ ধমন করা। তাই প্রযোক্তির বিকাশ ঘটার সাথে তার উন্নত হবে সেটাই স্বাভাবিক। এখানে তরবারী না মেশিনগান সেটা উদ্দেশ্য নয় বরং তার উদ্দেশ্যই হচ্ছে আত্মরক্ষা বা শত্রূ ধমন। দাস প্রথা সুন্নত হিসেবে কখনো ছিলনা এখনতো সুন্নত হিসেবে থাকার প্রশ্নই আসেনা। বরং ইসলাম আবির্বাবের পূর্বে দাস প্রথার ব্যাপকতা ছিল, ইসলাম এসেই দাস দাসীদের মুক্ত করার ব্যাপারে অনেক কিছুতে বাধ্য করে দিয়েছে। আর অনেক ক্ষেত্রে উৎসাহ দিয়েছে।
    তাহলে দোররা বা পাথর মারা ঠিক আগের মতই থাকতে হবে কেন? যে সে সময়ও হত্যার অনেক পদ্ধতি ছিল যেমন তরবাবি দিয়ে ফাসিতে ছড়িয়ে ইত্যাদি, এত ব্যবস্তা থাকার পরও তাই নির্ধারিত হয়েছিল। সুতরাং এখন সেটা কি ভাবে পরিবর্তন করবেন? আর এটা কুরআন হাদিসে সুস্পষ্ট যে কোন বর্ণণার প্রয়োজন রাখেনা।
    আপনাকে ধন্যবাদ। আমারও ভূল হতে পারে নির্ধারিত স্থানটি ধরিয়ে দিলে শুধরে নেব।

    নাজনীন

    @rasel ahmed, আমি মুসলিমদের সমস্যার কথাই বলেছি, ইসলামের না।

    “যত টুকু জানি কুরআনের নাসেখ মানসূখ একটি অধ্যায় আছে, সেখানে এক প্রকার হলো, আয়াত মানসূখ (রহিত) কিন্তু হুকুম এখনো বাকি আছে। পাথর ছুড়ে মারার আয়াতটি সেই গুলির অন্তভূক্ত।”

    এ ব্যাপারে কি আপনি আরো বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেন? হাদিসগুলো জানা আছে।

    “যে সে সময়ও হত্যার অনেক পদ্ধতি ছিল যেমন তরবাবি দিয়ে ফাসিতে ছড়িয়ে ইত্যাদি, এত ব্যবস্তা থাকার পরও তাই নির্ধারিত হয়েছিল।”

    আমি যেটা বুঝি যে ব্যভিচার কত মারাত্মক অপরাধ সেটা বোঝাতেই আড়ালে একবারে না মেরে জনসম্মুখে ধীরে ধীরে মৃত্যুর শাস্তি বলা হয়েছে, যাতে মানুষ এ ধরণের অন্যায় করতে ভয় পায়। এজন্য তলোয়ারে হত্যা বা দড়িতে ফাঁসী না দিয়ে পাথর দিয়ে মারা হয়েছে। আর পুতানো হয়েছে যেন নড়তে না পারে বেশি। আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন, আমি হয়তো ভুলও হতে পারি।

    এদিকে দেখেন আমাদের সমাজে তো কতরকমভাবেই ব্যভিচার হয়, শহরের হোটেলগুলো, পতিতালয়গুলোতে, গ্রামের যাত্রার আসরে..।.। মাঝে মাঝে তো কিছু ফতোয়ার দ্বারা দোররা মারার ঘটনা ঘটছেই, তাতে কি কেউ আর সেভাবে ভয় পাচ্ছে? হেনার মৃত্যুতেও মাহবুবের কোন পরিবর্তন এসেছে? সে কি অনুশোচিত হয়েছে? নিজেই নিজের পাপ স্বীকার করে শাস্তির অপেক্ষা করছে?

    M M NOUR HOSSAIN

    @rasel ahmed, ধন্যবাদ

  3. যারা অযোগ্য হয়ে ফতোয়া দেয়, এদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

    নাজনীন

    @humaid, একজন মাদ্রাসার সুপারকে একেবারে অযোগ্য বলা যায় না। কিন্তু তিনি ক্ষমতাশালীদের অন্যায়ের অস্ত্র হয়েছেন, এটা তো একজন লাইসেন্সড (মানে যিনি ফতোয়া দেয়ার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত) মাওলানারও পদস্খলন হতে পারে, আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন। যিনি বিচার করবেন, তার যথার্থ যোগ্যতা আর জবাবদিহিতার মনোভাব দুটোই সমানভাবে প্রয়োজন।

  4. বড়ই আবেগময় লেখা। কিন্তু ইসলামপ্রিয়দের উদ্দেশ্য করে কেন? এই কাজগুলো কি ইসলামপ্রিয়রা করেছে?

    ১. জিনা প্রমাণের জন্য ৪ জন পুরুষের সাক্ষ্য দরকার, এমন সাক্ষ্য যে তাদেরকে বিষয়টা স্বচক্ষে দেখলেই হবেনা, পুরুষ যে তার বিশেষ অঙ্গকে নারীর বিশেষ অঙ্গে ঢুকিয়েছে সেটা পরিষ্কারভাগে দেখতে হবে। কেউ যদি ৪ জন সাক্ষ্য ব্যতিরেকে অভিযোগ করে তবে অভিযোগকারীকেই বেত্রাঘাতের শাস্তি পোহাতে হবে। এক্ষেত্রে কি ৪ জন পুরুষ সাক্ষী ছিল। না ছিল না, এমন কি সারাদেশে ব্যভিচারে ছেয়ে গেলেও ৪জন পুরুষ সাক্ষী যোগার করা প্রায় অসাধ্য এক ব্যাপার।
    ২। জিনা প্রমাণের দ্বিতীয় উপায়, জিনাকারীর নিজস্ব স্বীকারোক্তি। এই ক্ষেত্রে কি অভিযুক্তরা নিজেরা অভিযোগ স্বীকার করেছিল? আমার জানা মতে না। আর ইসলামে জিনাকারীকে আর জিনার কথা প্রকাশ না করে তওবা করাকেই উৎসাহিত করে।

    তাহলে হদের প্রয়োগ বাস্তবে কতটুকু ঘটা সম্ভব? ইসলামে হদের বিধান আল্লাহর এক বিরাট নিয়ামত। এটা এমন এক বিধান যেটা বাস্তবে প্রয়োগ করা প্রায় অসম্ভব। হাদিসে জিনার শাস্তির যে ঘটনগুরো দেখা যায় তাতে জিনাকারিরাই অনেকটা চাপাচাপি করে নিজের ওপর এই শাস্তি টেনে নিয়েছে। নইলে হদ থেকে বাঁচার অনেক পথ তাদের সামনে খোলা ছিল। আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বুঝি, হদের বিধান বস্তুত মানুষের ওপর একপ্রকার মনস্তাত্বিক চাপ সৃষ্টির জন্য, জিনার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টির জন্য, অহরহ প্রয়োগ করার জন্য নয়। সুন্নাত অনুযায়ী হদের বিধান যদি পুনর্জীবিত করা হয়, তবে ১০০ বছরেও একটা হদ প্রয়োগের দরকার হয়ত হবে না, কিন্তু সমাজ থেকে জিনা নির্মূল হবে প্রায় পুরোপুরি।

    ৩। হদ প্রয়োগের জন্য ইসলামি শাসনব্যবস্থা অপরিহার্য। অনৈলামিক সমাজে হদ প্রয়োগের কোন অধিকার কোন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় নাই। অধিকারবিহীনভাবে যারা হদের প্রয়োগ ঘটায়, তাদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

    ৪। কোন মুফতির কাছে কেউ মাসআলা বা ফতোয়া জানতে চাইলে, তিনি সেই মাসআলা বা ফতোয়া দিতে শরীয়ত অনুযায়ী বাধ্য। কিন্তু হদের ফতোয়া প্রয়োগের নির্দেশ তিনি দিতে পারেন না। ফতোয়া দেওয়া নয়, বরং অনৈসলামিক সমাজে হদের ফতোয়া প্রয়োগের উদ্যোগ যারা নেবে তাদেরকেই কেবল দায়ী করা যেতে পারে।

    ৫। যেকোন সুযোগে আবেগময় লেখার দ্বারা আল্লাহর আইন সংশোধন করতে চাওয়া কোন মুসলিমের জন্য শোভনীয় নয়। হদের বিধান পরিবর্তনযোগ্য নয়, তাযির সময়ের সাথে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হতে পারে।

    সবশেষে, আলোচ্য ঘটনায় হদ প্রয়োগের নামে যা হয়েছে, সেটা মোটেও ইসলামসম্মত হয় নাই। এই ঘটনার দায় ইসলাম বা ইসলামি হদের নয়।

    নাজনীন

    @সাদাত, অনেক ভাল লাগলো আপনার মন্তব্য পেয়ে। এই লেখাটি প্রথমে সামহোয়ারইন ব্লগে লিখেছিলাম, সেখানে আমার পোস্টে আপনার “রজম” নিয়ে লেখা পোস্টটা রেফারেন্স হিসেবে দিয়েছি। আবেগপ্রবণ হয়েছি মূলত ঐ ব্লগে ইসলামকে ডিফেন্ড করে কথা বলে এমনসব ব্লগারেরা হেনা ইস্যুতে ইনসাফ-অবিচারের হিসাব না করে হেনা কি ধর্ষিতা নাকি ব্যভিচারিনী এই আলোচনাতেই চার/পাঁচদিন ধরে ব্যস্ত ছিলেন, দেখতে দেখতে মেজাজ চড়ে গিয়েছিল। আর কিছু নয়।

    আপনার কমেন্টে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যে যথার্থ সাক্ষ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে, ফতোয়া কারা দিতে পারে, কিভাবে কার্যকর হতে পারে এ ব্যাপারগুলো উঠে এসেছে। ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার কমেন্ট থেকে অনেকেই ব্যাপারগুলো জানবে। আল্লাহ্‌তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান অর্জনের তৌফিক দিক। আমিন।

    নাজনীন

    @সাদাত, হদের বিধান পরিবর্তনযোগ্য নয় — আপনি কি এটা নিয়ে আরো বিস্তারিত বলবেন। যদিও আপনার “রজম” নিয়ে পোস্টে অনেক কিছুই বলেছেন। আমি কিন্তু মূল আইন পরিবর্তনের কথা বলিনি। দোররা বৈশিষ্ট্য আর পাথরের রিপ্লেসমেন্টের কথা জানতে চেয়েছি, মানে যেগুলো বস্তু।

    ফুয়াদ

    @নাজনীন,

    কেমন আছেন ? লেখার অনেক গুলি বিষয়ের সাথে একমত নই। লেখা গুলি একটু সাবধানী হলে ভাল হয়, যাতে একটি ভুলের জন্য, অন্য ভাল টি হারিয়ে না যায়।

    আমাদের সমাজ ডাবল স্ট্যন্ডার্ড হয়ে গেছে। সমাজ তার মন মত ভাল ইনকাম এর মানুষ চায়, ভাল ধার্মিক চায় না, । এর একটি উদাহারন আপনি দিয়েছেন ঃ ছেলেরা তো একটু খারাপই, ওরা অমন একটু আধটু করবেই। কিন্তু মেয়েদের হতে হবে পাক্কা ঈমানদার! (ডাবল স্ট্যান্ডার্ড)

    একদিন এক খবরে দেখেছিলাম, চুরির জন্য এক ছেলেকে তার বাবাকে দিয়ে দু-চোখ উগরিয়ে ফেলে দিতে বাধ্য করা হয়েছে। হায়-রে, যে দেশের বড় বড় নেতারা চুরি করে এর খবর নাই, সেখানে সামান্য চুরির দায় চোখ। দেখে প্রায় কান্না এসেছিল।

    -যাইহোক, আপনার বর্নিত ঘটনায় শালিস কারী ব্যাক্তিদের সালিশ করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে ? আগে তো কোর্ট হতে হবে, তারপর বিচার। নাকি আগে বিচার পরে কোর্ট ?

    -সাদাত ভাইয়ের সাথে মিলিয়ে আমার দৃষ্টি “আলোচ্য ঘটনায় হদ প্রয়োগের নামে যা হয়েছে, সেটা মোটেও ইসলামসম্মত হয় নাই। এই ঘটনার দায় ইসলাম বা ইসলামি হদের নয়।”

    সবশেষে, আমাদের সমাজকে আরো শিক্ষিত করতে হবে।

    নাজনীন

    @ফুয়াদ, আমার লেখায় ভুলগুলো কি কি একটু ধরিয়ে দিবেন কি, প্লিজ.

    M M NOUR HOSSAIN

    @সাদাত, সহমত , শুকরিয়া ।

  5. আবেগ নয় ,বিবেকে প্রাধান্য দিতে হবে । একজন আলেম কে ফতোয়া দিতে হলে তারও কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে । একজন মাদ্রসার সুপার হলেই ফতোয়া দিতে পারেনা । এখানে যে ফতোয়া দেওয়া হয়েছে , পত্রিকার মাধ্যমে যতটুকু বুঝতে পারলাম ,আপনার কাছে প্রশ্ন -এটা কি শরিয়ত সম্মত হয়েছে ? আরো ভালবাবে জেনে নেওয়া দরকার ছিল । দেশে এ অন্যায় ঐ অন্যায় হয় , তাই বলে চুপ থাকা যাবে না । হাদিস শরিফের ভাষ্য মোতাবেক যে যে স্থানে যতটুকু ক্ষমতাধর, তাকে অবশ্যই কমপক্ষে ততটূকু প্রতিবাদ করতেই হবে । তাসলিমা নাসরিনে মত একটা ইসলামের দুশমন কে দিয়ে উপমা দেওটা ঠিক হয়নাই ।
    ভালভাবে জেনে শুনে আরো বেশি লিখবেন এই কামনায় । ধন্যবাদ

    নাজনীন

    @M M NOUR HOSSAIN, ধন্যবাদ আপনাকেও। শরীয়তসম্মত কিছু মনে হলে কি এই পোস্ট আমি দিতাম? কি মনে হয় আপনার? হ্যাঁ, তসলিমা ইসলামের দুশমন, আর রুদ্র বুঝি খুব বন্ধু ছিল? তবে তার নামে কেন কিছু বলা হয় না? এটাই বোঝাতে চেয়েছি। আমি তসলিমা, প্রভা এদের অপরাধকে ডিফেন্ড করছি না, এটা বোঝার চেষ্টা করার অনুরোধ রইলো। বরং এদের সাথে সাথে তাদের পার্টনারদের ক্ষেত্রেও সমান সমালোচনার কথা বলছি। এর চেয়ে বেশি তাওহীদের দিকে নজর ফেরাতে অনুরোধ করেছি, এটাই পোস্টের সারমর্ম।

  6. @Najnin
    apnar ai poster jonno kono montobbo korty parlam na. Amar PC nai. Ami nokia 7610
    mobile dara ai site pori. majy majy ami English-a comment kory birokto kori. Tobe apner ai post
    amar jonno khub opokary ashsy.
    Thankyou.

    নাজনীন

    @hafes_alamin, ধন্যবাদ আলামিন, আমার কোন লেখা কাউকে যদি সামান্য সচেতন করতে পারে আল্লাহর নামে সেটাই আমার সার্থকতা.

  7. অনেক দিন পোষ্ট করছি না। তাই এখানে আসাও হচ্ছে না। আজ এসেই আপনার লেখাটি চোখে পড়ল। আমি এই সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতাম। কিন্তু সময় তো। তবুও ইনশা’ল্লাহ লিখব। এখানে আমি আপনার আপত্তি সমূহের উত্তর দিতে চেয়েছি। কিন্তু সাদাত মোটামুটি কিছু লিখছে। আমি তার সাথে একটি কথা প্লাস করছি।
    বুঝতে হবে “ফতোয়া” কি?
    মানুষ দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম মতে চলতে চাইলে, তার এই পথে সে সমস্যাসমূহ দেখা দেয়,একজন নির্দিষ্ট ইসলামিক স্কলার কোরান,হাদীস,ইজমা,ক্বিয়াস থেকে সে সমস্যার সমাধান করার নামই হচ্ছে “ফতোয়া”। (এখন বলুন,বিতর্কিত হেনা অধ্যায় ফতোয়া না আর কি)।
    ইসলামের আরেকটি অধ্যায় “ক্বযা” (বিচার)। আর তা হচ্ছে। কোরান,হাদীস,ইজমা,ক্বিয়াস যা বলে তা ইসলামী রাষ্ট্য ব্যবস্থায় কাযী/বিচারক বাস্তবায়ন করবেন। যারা ইসলামি আইন নিয়ে পড়ছেন তারা জানেন এবং প্রায় ইসলামী আইন ও মূলনীতি কিতাবসমূহে ক্বাযা ও ফতোয়ার মাঝে পার্থক্য বর্ণনা করা হয়েছে। সে হিসেবে বুঝা যায় ফতোয়ার কাজ বাস্তবায়ন করা নয়। অত’এব উক্ত ঘটনাকে “ফতোয়া” নামে অবহিত করা এবং এ দ্বারা “ফতোয়া নিষিদ্ধ” এর মত মূর্খতা,গাদ্দারী,হটকারিতামূলক কিছু করার দৃষ্টতা দেখানো শুধু আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘোষনা নয় বরং এই দেশকে জঙ্গী রাষ্ট্য বানানোর নিলনকশাও বটে। (http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/04/15/76952) দেখুন।
    আপনার “লেখায়” আরো অনেক আপত্তি কর বিষয় আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। যা হোক আমি একটি কথা বলব। (কারণ আজ আমার পরিক্ষা আছে)
    আপনি “মানসূখ” আহকামের কথা তুলেছেন। এই বিষয়টা বিজ্ঞ মুফতি ছাড়া কেউ আলোচনা করা অযৌক্তিক। তবে এইটুকু বলব।
    কিছু আহকাম যা এখন যুগের আবর্তনের ফলে বাস্তবায়িত হচ্ছে না বা করা যাচ্ছে না। যেমন,দাস প্রথা,যুদ্ধের সরঞ্জাম,রজম ইত্যাদি। আর মানসূখ/রহিত হুকুম বলতে বুঝায় পূর্বের হুকুমের পরিবর্তে নতুন হুকুম আবর্তন করা। মনে রাখবেন, মানসূখ আহকাম আল্লাহর কাছে সব সময় রহিত থাকে। আল্লাহ শুধু এখানে তার শুরু হওয়ার সময় উল্লেখ করেন।
    এওখন আসা যাক আপনার উত্তাপিত বিষয় সমুহে। আপনার বিষয় সমুহ (অর্থাৎ রজম,তাল্বয়ার-চুরি,দাস প্রথা ইত্যাদি) ১ম প্রকারে অন্তর্ভূক্ত। এই মানসূখ আহকাম নয়। স্থগিত আহকাম বলা যেতে পারে। অর্থাৎ যদি পরিস্থিতি অনুকূল হয় তাহলে তা পালন করতে হবে। পক্ষান্তরে মানসূখ আহকাম তা কিয়ামত অবদি করা যাবেনা। এর প্রমাণঃ—(نهاية العالم ) গ্রন্থে মুসলিম শরীফের একটি দিয়ে বুঝানো হয়েছে, শেষ যমানায় হাতিয়ার,সাওয়ারি সমূহ আগের যমানার মত হয়ে যাবে। অর্থাৎ দাজ্জালের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ তালওয়ার দিয়ে হবে। (ইনশাল্লাহ ফতোয়াসহ বিতর্কিত বিষয়ে লিখব) ,পরিক্ষাটা শেষ হওক।

    নাজনীন

    @সাজ্জাদ, এই পোস্ট পড়ে সবার কেন এই ধারণা হচ্ছে যে আমি এই ফতোয়াকে সঠিক মনে করছি, বুঝতে পারছি না. বিনীতভাবে বলছি যে ফতোয়ার প্রকৃত স্বরূপ এবং কিভাবে তার প্রয়োগ হয় সেটা আমার জানা আছে. হয়ত আমার লেখায় সেটা ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারিনি. প্রসঙ্গক্রমে গত ৩ এপ্রিল অন্য ব্লগে লেখা আমার এই লেখাটি পড়তে আপনাকে অনুরোধ করছি.

    http://www.somewhereinblog.net/blog/apesnajnin/29356551

    আমি মূলত যে পয়েন্টে আপত্তি করেছি তা হলো, ইসলামী শরীযতেও যদি যথার্থ সাক্ষী-প্রমান সাপেক্ষে আদালতের মাধ্যমে এই ফতোয়া কার্যকর করত, তখনও কি এর উদ্দেশ্য এই হত যে বেত্রাঘাত করতে করতে অপরাধীকে মেরে ফেলা? তাহলে আর সংশোধনের সুযোগ কোথায়? অথচ কোরআন পড়ে আমি যতদুর বুঝেছি ফতোয়ার উদ্দেশ্য হলো সংশোধন. তাই আমি দোররার বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট করতে আলেমদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি. উল্লেখই যে, কোরআনেই আরেক জায়গায় আছে, সম্ভবত আইয়ুব নবীর স্ত্রীকে “১০০টি দুর্বা ঘাস” দিয়ে এক বারেই ১০০টি দোররা মারা হয়েছিল.

    এখানে মনসুখের প্রসংগ কেন আসল ভাল বুঝিনি.

  8. কারণ আপনার কথা দ্বারা তাই বুঝা যাচ্ছে যা পাঠকরা বুঝছে। এখন আপনি বলছেন এটা ফতোয়া। অথচ আমি পূর্বেই বলেছিলাম যে,এটা তো ক্বাযা বা বিচার। আপনার লেখা পড়তে হবেনা। আলহামদুলিল্লাহ আমরা লেখককে পড়ি। আসা যাক আপনার আপত্তির পয়েন্টে, “ইসলামী শরীযতেও যদি যথার্থ সাক্ষী-প্রমান সাপেক্ষে আদালতের মাধ্যমে এই ফতোয়া কার্যকর করত” আপনার এই কথাকে তো কিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছেন। আমি যা বুঝলাম সে অনুযায়ী আমি বলছি, এ দেশে আদালত আর ফতোয়া এক হতে পারেনা। কারণ সে কাজটির জন্য কোরানী হুকুমাত লাগবে। যদি কখনো আল্লাহ তা করেন তখন আপনার এই কথা কাজে আসবে। কারণ আপনার সামনে, যে, মুফতিয়ানে কেরামের প্রতি যেটা ফরজ ছিল (ফতোয়া দেওয়া) আর জন সাধারণের জন্য তা করা বা শুনা ছিল ফরজ তারা তা না করে বরং (না বুঝে,মূর্খতার পরিচয় দিয়ে) “ফতোয়া” বন্ধ করার শ্লোগান দিচ্ছে। এমতাবস্থায় আপনার কথা মতে আলেমরা যদি বাস্তবায়ন করতে যান তাহলে বিরোদ্ধবাদীরা শ্লোগান দিবে “আর নয় ইসলাম” যেমনটি করেছিল “প্রথম আলো” তাদের গোল টেবিল বৈঠকে (আর নয় ফতোয়া) এত বড় দৃষ্টতা?????????
    মনে রাখবেন,মুসলমারা শুধু আল্লাহর কথাই মানেন, যুক্তির পেছনে পড়েনা যেমনটি করেছিল এবং এখন তার বাচ্ছারা করে। তাই ইসলামকে ইসলাম বলা হয়। আপনার কাছে আমার প্রশ্ন (১) বেত্রাগাতের কথাটা কি মুফতিরা বলছেন না কোরানে আছে? যদি হুকুমটি কোরানে থাকে তাহলে আপনার এই কথা “বেত্রাঘাত করতে করতে অপরাধীকে মেরে ফেলা? তাহলে আর সংশোধনের সুযোগ কোথায়? ” প্রশ্ন হবে আল্লাহর উপর। (২) তিনি কি এটি করে বান্দার উপর আত্যাচার করেছে? যেহেতু যারা ইসলাম বিদ্ধেষী আছে তাদের পক্ষে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে এই প্রশ্নের উত্তর জানা শুধু অসম্ভব নয়, কল্পনাতিতও বটে।,তাই এর উত্তর আমি আল্লাহর বান্দা তাঁরই ভাষ্য থেকে দিচ্ছি।
    আল্লাহ কোরানে পাকে বলেছেন যে, যদি তিনি বান্দাদের কথায় কথায় পাকড়াও করতে চাইতেন তাহলে কেউ তাঁর হাত থেকে রক্ষা পেত না।,আবার হাদিসে আছে,একজন চোর প্রথম বার ধরা খাইনা বরং সীমালঙ্গন করার পর খরা পড়ে।
    বুঝা গেল,বেত্রাগাত তার উপযুক্ত শাস্তি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে,তাহলে সংশোধনের সুযোগ কোথায়? ভাই এটা এখন বুঝবেন না বরং যদি কোন আপত্তি ছাড়া আল্লাহর কথা মানতেন তাহলে বুঝতে পারতেন। এই শাস্তি যদি চালু থাকত তাহলে একজন তো তার কর্মের ফল পেল আর তার দ্বারা দেশের অধিকাংশই সংশোধিত হয়ে যেত,আর বাকিরা সে কাজটি করতে ভয় করত যা এক সময় তাকে ধ্বংসাত্বক কাজ থেকে বাছাতে সফল হবে। এখন বলুন,একজনকে তার কর্মের শাস্তি না দিয়ে,সারা দেশবাসীকে সে কাজের সুযোগ করে দেওয়া বেশী ন্যায়ের কথা না একজনকে তার প্রাপ্ত শাস্তি দিয়ে সমস্ত মানুষদের সতর্ক করা ন্যায় সংঘত ও যুক্তিযুক্ত??
    তাই তো ব্যবিচারের (যেনা) মত কাজ করে নির্লজ্জতা তো দূরে থাক,শাস্তি তো বাদ দেন,ইসলাম ও মানবতার সাথে ঠাট্টা করতঃ সেঞ্চুরী পূর্তি উপলক্ষে মিষ্টি বিতরন করার মত ঘটনা ঘটে।
    আপনি কোরান অধ্যায়ন করেন ঠিক আছে কিন্তু তা থেকে নিজে নিজে কিছু বুঝতে যাবেন না তাহলে বিপদে পড়বেন। কারণ আল্লাহর মনোনিত ইলম (জ্ঞান তার সমার্থক নয়) নিজে নিজে অর্জন করা যাইনা। কারণ এতে পথ হারা হওয়ার সম্ভবনা আছে। তাই practically দেখানোর জন্য কিতাবের সাথে সাথে নবীও প্রেরণ করেছেন। যাতে পথ হারিয়ে না যায়। এই ভুলটা অনেকেই করেছে এবং করছে। উদাহারণঃ- সরকার পন্থীরা কোরানের বিরোধিতা করার পরও বলে কোরানে এটা আছা ওটা আছে ইত্যাদি। আসলে তারা কোরানের অনবাদ পড়েই মনে করে আমরাই সব বুঝি ও আমরাই কোরানের শুদ্ধ ব্যাখ্যা দিই। আর বার বছর কোরান নিয়ে ফাগল হয়ে তা বাস্তবে বুঝার পরেও ৯৫% হুজুররা কোরানের অপব্যাখ্যা দেয়। আপনার কাছে প্রশ্ন এটা কি সম্ভব? এটা তো একজন পাগলও বুঝতে পারবেন। যে, এটা তাদের হীন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করা হচ্ছে। আর এটা হচ্ছে নিজে নিজে কোরান পড়ে বুঝার ফলাফল।
    সত্যিই যদি আপনি জানতে চান তাহলে লিখিতভাবে প্রশ্ন করুন দেশের শীর্ষ স্থানয় দারুল ইফতাগুলোতে । তারা এই সম্পর্কে কি জবাব/ফতোয়া দেয় দেখুন। আশা তারা বলবেন যে, এর শাস্তি দোররা মারা,কিন্তু ইসলামী হুকুমতের অনুপস্তিতে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না , যদি ইসলামী হুকুমত হত তাহলে হদ জারী করা যেত।
    রাসূল (সা: )-এর যুগে যেসব হাতিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার হতো বা যেসব রণকৌশল ব্যবহার হতো, তার অনেক কিছুরই আজ আর প্রচলন নেই। আজ কিছু মুসলিম দেশ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রও তৈরী করছে বা যুদ্ধে বা জিহাদে ব্যবহার করছে, কিন্তু এসব নিয়ে আলেমদের কোন আপত্তি শুনিনি। দাসপ্রথা আজ আর নেই বললেই চলে।
    ” রাসূলের যুগে ছিল বলে সুন্নাহ্‌ হিসেবে সে প্রথা কেউ চালু রাখেনি। তাহলে দোররা বা পাথর মারা ঠিক আগের মতই থাকতে হবে কেন?”

    এর জন্যই নিসখ এর কথা আসছে। অর্থাৎ কোন হুকুমকে বাদ দিয়ে আর হুকুমের উপর আমল করা। আর আপনি বেলেছেন নবী যুগের হাতিয়ার এই যুগে নেই তাই সে যুগের শাস্তিও এই যুগে থাকতে পারবেনা বরং তা convert করতে হবে। আর এটাই হচ্ছে “নুসখ”।
    ধন্যবাদ দিব যখন সঠিকভাবে বুঝে আমল করবেন। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন।

    নাজনীন

    @সাজ্জাদ,

    “মাননীয় মাদ্রাসা সুপার সাইফুল ইসলামকে বিনীত জিজ্ঞাসা (মনে করলাম আপনি উচ্চ আদালতের রায়ের ব্যাপারে বেখবর), আপনার দেয়া ফতোয়ার ব্যাপারে কি আপনার আস্থা নেই?”

    — এ লাইনটি আমার পোস্ট থেকে কপি পেস্ট করলাম. আমি আগেও সেটাকে ফতোয়াই বলেছি. আর সেই ফতোয়া কার্যকর করেছে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ সালিশকারীরা, যারা ইসলামি আদালতের ভুমিকা পালন করেছে. এটা যে ভুল হয়েছে, তা নিয়ে আপনার আর আমার মাঝে কোন দ্বিমত নেই. আপনাকে আমার আরেকটি লেখার লিঙ্ক দিয়েছি এজন্যই যে সেখানে আমিও বলেছি ইসলামি হুকুমতে চলা রাষ্ট্রের অধীনে ইসলামী আদালতেই সেটা কার্যকর করতে পারে. ফতোয়াদানকারী বর্তমান প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একজন আইনজীবীর সমকক্ষ, এর বেশি কিছু না.

    এবার দোররার প্রসঙ্গে আসি,

    সুরা নুর, আয়াত ২:

    ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

    …….

    আয়াত ৫:

    কিন্তু যারা এরপর তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।

    কই, আমি তো এখানে বেত্রাঘাত করতে করতে মেরে ফেলার কোন আয়াত দেখতে পেলাম না. বরং বলা হয়েছে ‘এরপর’ মানে ‘বেত্রাঘাতের পরে’ যারা তওবা করে এবং সংশোধিত হয়…….

    আপনি কেন নিজের ইচ্ছে বা মনোভাবকে আল্লাহতাআলার মনবান্ছা বলে চালাতে চাইছেন?

  9. আমি আপনাকে এই ব্লগ এ আসতে বলে ছিলাম। আমি কমপলিন পেয়েছি যে এই বলগে আসলে মানুষ এর ইমান কমে যায় বা চলে যায় বা আক্রান্ত হয় । তাই অহংকারী ব্যক্তির কথায় রাগ করবেন না. এবং সব কিছু সাবধানে বিবেচনা করবেন । আমি দু:খিত ।

    নাজনীন

    @fuad, অসাবধানতাবশত: বা না জানার ফলে ভুল আমি আপনি যে কেউই করতে পারি. সেটা সংশোধন করে দেয়ার চেষ্টা করা ভাল. কিন্তু কিছু ভুল দেখা মাত্রই কারো ঈমান আকিদা নিয়ে কটাক্ষ করা মোটেও উচিত না. আমি কিছু মনে করিনি আপনার কথায়, আসলে আমি আমার ভুলটা বুঝতে চাচ্ছিলাম. ভাল থাকুন.