লগইন রেজিস্ট্রেশন

হারাম খাবার যে জন্য নিষিদ্ধ

লিখেছেন: ' peace' @ শনিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০০৯ (৬:০৫ পূর্বাহ্ণ)

আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা একমাত্র তারই ইবাদত করে, এবং তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আল্লাহ তাআলা যা রিযিক দিয়েছেন তার মধ্য থেকে হালাল ভক্ষণ করে, অপবিত্র এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকে।

প্রত্যেক মুসলমানের উপর হালাল উপার্জন করা ওয়াজিব যদিও তা কষ্টকর হয়। বাস্তবে হালাল উপার্জন কঠিন কাজ নয়। কিন্তু দিন থেকে আমরা দুরে থাকার কারণে এবং বস্তুগত মাধ্যমের প্রতি বেশী আকৃষ্ট হয়ে পড়ার কারণে এবং নীতিবোধ উঠে যাওয়ার কারণে কঠিন মনে হয়।

মানুষের চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন আসার কারণে অনেক মানুষ হারামের দিকে পতিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের হালাল চিনতে অসুবিধা হচ্ছে, তারা মনে করছে এখন হালাল হারিয়ে গেছে। হালাল খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। হারামের দিকে রাস্তা ধরা ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই।

যে ব্যক্তি দ্বীন রক্ষার ব্যাপারে যত্নবান তার নিকট যদি কোন বিষয় হারাম হালাল হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ হয় তবে না জানা থাকলে জ্ঞানীলোকদের থেকে জেনে নেবে যেমন আল্লাহ তাআলা নির্দেশ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

”সুতরাং জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জান। ”(সূরা আন-নাহল- ৪৩নং আয়াত)

ঐ সকল লেন-দেন যা শরীয়ত ভিত্তিক নয় এবং তা স্পষ্ট তবে তা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করার পর্যায়ে পড়ে যাকে আল্লাহ তাআলা তা হারাম এবং নিষিদ্ধ করেছেন। মানুষ আজকাল হারাম উপার্জনের ব্যাপারে অনেক বেশি উদাসীন হয়ে গেছে:

শ্রমিক তার কাজ সঠিকভাবে করে না। আবার অনেক সময় মালিক পক্ষ কাজের পারিশ্রমিক দেয় না। দায়িত্বরত কর্মকর্তা তার কর্ম সঠিকভাবে পালন করে না। ব্যবসায়ী তার দ্রব্যের মধ্যে ভেজাল দেয়। সুদী কারবারী সাহসী হয়ে উঠে। তারা মানুষের ক্ষতি করে এমন জিনিসের ব্যবসা করে এমনকি অনেক ব্যবসায়ের বস্তু মানুষের জীবন ধংস করে দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হল সেই ব্যক্তি যে হেদায়েতের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে শয়তানের সাথে আপোস করল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থাতো এই ছিল :

ঘরের কোনে একটি খেজুর তার বিছানায় পড়ে পেলেন সেটি উঠালেন খাওয়ার জন্য অত:পর আশঙ্কা করলেন এটি সাদকাহও তো হতে পারে, পরে ফেলে দিলেন।

ইমাম বুখারি রহ: আবু হুরাইরাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

”আমি আমার পরিবারের নিকট গেলাম আমার বিছানায় খেজুর পড়ে থাকা অবস্থায় পেলাম আমি সেটি খাওয়ার জন্য উঠালাম অত:পর ভয় হল তাতো সাদাকাহ হতে পারে তাই ফেলে দিলাম। ” তার সাহাবীরাও হারাম থেকে এমন ভয়ে থাকতেন।

ইয়াহইয়া ইবনে মুআজ রা. বলেন:

”আনুগত্য আল্লাহর ভান্ডারের মধ্য থেকে একটি ভান্ডার তার চাবি হল দুআ। কিন্তু হালাল খাদ্য তা নষ্ট হয়ে যাওয়া রোধ করে।”

আল্লাহ তাআলা বলেন:

”যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের উপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত নাকি সেই ব্যক্তি, যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?” (সূরা আল মূলক -২২ নং আয়াত)

বুখারি মুসলিমে এসেছে,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

”তোমাদের জন্য আমি সবচেয়ে যে বিষয়টির বেশী ভয় করি তা হল আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য যে বারাকতুল আরদ বের করবেন। প্রশ্ন করা হল, বারাকাতে আরদ কি জিনিস? তিনি বললেন: দুনিয়ার চাকচিক্য। অতপর বললেন: এই মাল সম্পদ সবুজ এবং মিষ্ট। এই মালের অধিকারসহ যে গ্রহণ করবে এবং জায়গামত তা ব্যয় করবে, সে এর মাধ্যমে সে উত্তম সাহায্য পাবে। আর যদি অন্যায় ভাবে সম্পদ গ্রহণ করে, তাহলে তার দৃষ্টান্ত সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে খাদ্য গ্রহণ করে কিস্তু তৃপ্ত হয় না। আর ঐ সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিপক্ষে সাক্ষী হবে।”

সবশেষে এই দুআ করি যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন:

হে আল্লাহ! হারাম থেকে বাঁচিয়ে হালাল আমাদের জন্য যথেষ্ট করে দিন। গোনাহ থেকে বাঁচিয়ে আনুগত্য যথেষ্ট করে দিন। আপনি অনুগ্রহ করে আমাদের মুখাপেক্ষীহীন করে দিন।

সূএ:ইসলাম হাউজ.কম

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৩৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. হে আল্লাহ! হারাম থেকে বাঁচিয়ে হালাল আমাদের জন্য যথেষ্ট করে দিন। গোনাহ থেকে বাঁচিয়ে আনুগত্য যথেষ্ট করে দিন। আপনি অনুগ্রহ করে আমাদের মুখাপেক্ষীহীন করে দিন।

    আমিন। :)…. (F)

  2. আল্লাহ পাক আমাদের হালাল উপায়ে রোজগার করার তাওফিক দিন। আমিন