লগইন রেজিস্ট্রেশন

মহানবী (সাঃ) এর কথা ও মর্মকথা – ১

লিখেছেন: ' রাশেদ' @ সোমবার, মে ৩, ২০১০ (৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ)

মহানবী (সাঃ)-যে মহান আল্লাহপাকের বার্তাবহ শ্রেষ্ঠতম নবী, তিনি যে সমগ্র বিশ্বের রহমতস্বরূপ প্রেরিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, এ বিষয়ে আমার মধ্যে কখনোই কণামাত্র অবিশ্বাস কি সন্দেহ কি দ্বিধার উদ্রেক করে না। কেউ কেউ একে হয়ত আমার সহজাত কুসংস্কার বা অন্ধত্ব বলে বিবেচনা করতে পারে, কিন্তু এর অন্ধত্বই আমার ঈমান ও অস্তিত্ব। এবং সর্বান্তঃকরণে অনুভব করি, নির্ভয়ে ব্যক্তও করি, এই ‘অন্ধ বিশ্বাস’ আমার সার্বিক চেতনাকে এমন গভীর ও গাঢ়ভাবে আবৃত করে রেখেছে যে, এক্ষেত্রে কোন যুক্তি কি বিতর্ককে প্রশ্রয় দেয়াও মনে করি একটি গর্হিত অপরাধ। কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করেন, জীবনের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ ও গৌরব ও ঐশ্বর্য কী? আমি বলবো, সৃষ্টিকর্তার একত্বের প্রতি অখণ্ড বিশ্বাস এবং নবী (সাঃ) এর প্রতি নিরঙ্কুশ ভালোবাসা। কেউ যদি প্রশ্ন করেন, জীবনের নিকৃষ্টতম ব্যর্থতা ও দুর্ভাগ্য কী? বলবো, মহান আল্লাহপাককেই সকল শক্তি ও ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে জ্ঞান করার ক্ষেত্রে যে-কোন ধরণের ব্যত্যয় এবং মহানবী (সাঃ) এর অত্যুজ্জ্বল মহত্বকে অনুধাবন করার অক্ষমতা। কিন্তু সকলেই ‘অন্ধ’ নয়, কেউ কেউ ‘চক্ষুষ্মানও’। তাই এ বিষয়ে যারা তর্কপ্রবণ ও অবিশ্বাসী কি সন্দেহবাদী, তারা তো অবশ্যই দাবী করবে, আমার এই প্রেম ও বিশ্বাসের মূলে অকাট্য কিছু যুক্তির অবলম্বন; অন্যথায় তাদের ‘বিজ্ঞ’ বিবেচনামতে এমন বিশ্বাস অগ্রাহ্য কি পরিত্যাগ করাই উত্তম।

আল্লাহপাক অবশ্য এই ধরণের কূট ও আত্মভ্রষ্ট তার্কিকদেরকে ‘অন্ধ ও বধির ও মূক’ আখ্যায়িত করে তাদের জন্য জাহান্নামের চূড়ান্ত ‘সুসংবাদ’ দান করেছেন। তারা আদৌ মনোযোগের যোগ্য নয়, কারণ তারা সত্যের প্রতিশ্রুত শত্রু। তবু বিভ্রান্তি নিরসনকল্পে প্রশ্ন করতে পারি, আসলে কোনটা বেশী শক্তিশালী, কোনটা অধিক নির্ভরযোগ্য, যুক্তি না বিশ্বাস? বিজ্ঞানীরা যখন মহাশূন্যের নানা রহস্যের কথা বলেন, আমরা তা বিশ্বাস করি, কারণ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তারা বিশ্বাসযোগ্য। আইনস্টাইন বললেন, এক খণ্ড নিরেট পদার্থের মধ্যে লুকিয়ে আছে লক্ষ কোটি দৈত্যের অমিত শক্তি, পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ তা না-বুঝেও বিশ্বাস করেছে, কারণ এই বেহালাবাদক আত্মভোলা বৈজ্ঞানিকটি বিশ্বাসযোগ্য। কোন ফসিল-বিশেষজ্ঞ সমুদ্রগর্ভে প্রাপ্ত একটি ঝিনুকের ভাঙ্গা টুকরো নিয়ে যখন বলেন, এটির বয়স পাঁচ কোটি বছর; অথবা লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে অবলুপ্ত ডাইনোসরের জীবাশ্ম জোড়া দিয়ে দিয়ে একটি পূর্ণাংগ ডাইনোসরের অবয়ব নির্মাণ করেন, আমরা তাও বিশ্বাস করি। এমনকি ২১২৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই আগস্ট তারিখে ‘সুইফট টাটল’ নামক একটি ধূমকেতু যে পৃথিবীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে, বিজ্ঞানীদের এই ভবিষ্যদ্বাণীও আমরা অস্বীকার করি না, কারন এই ভবিষ্যদ্বক্তারাও, বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সত্যভাষী। এই বিশ্বাস যদি অন্ধত্ব কি মূঢ়তা না হয়, মহানবী (সাঃ) এর কথায় বিশ্বাস স্থাপন কেন অন্ধত্ব বলে বিবেচিত হবে? পৃথিবীর জন্মকাল থেকে অদ্যাবধি তাঁর চেয়ে অধিক বিশ্বাসযোগ্য আর কে আবির্ভূত হয়েছেন? এই মানববংশে তাঁর চেয়ে অধিক সত্যবাদী ও আস্থাভাজন ও নির্ভরযোগ্য আর কে জন্মগ্রহণ করেছেন? বেশিদিনের কথা নয়, সব কথা ইতিহাসে জ্বল জ্বল করছে; তিনি সমগ্র জীবনে একটিও মিথ্যা কথা বলেননি, একটি ওয়াদা ভংগ করেননি, তুচ্ছতম একটি আমানত মনের ভুলেও কখনো খেয়ানত করেননি। এমন একজন মানুষের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন যদি মূঢ়তা হয়, সেই মূঢ়তা লক্ষ কোটি মানুষের সম্মিলিত যুক্তি ও জ্ঞানের চেয়েও অনেক বড়, অনেক মূল্যবান।

আসলে প্রকৃত সত্য কি জ্ঞান রহস্যজনকভাবে শুধুমাত্র কতিপয়ের হাতেই ধরা দেয়। এবং সেই বরদ ও নির্বাচিত কতিপয়ই অবশিষ্ট সকলের কাছে পরম বিশ্বস্ততার সংগে পৌঁছে দেন সেই সত্য। তিনিই বুদ্ধিমান ও ভাগ্যবান, যিনি এই আলোকবার্তা গ্রহণ করতে সক্ষম হন। ইতিহাসে কারা মূঢ় বলে চিহ্নিত হয়েছে? হযরত আবু বকর (রাঃ), হযতর ওমর ফারুক (রাঃ), না আবু জেহেল আবু লাহাবেরা? বিস্ময়করই বটে, আধুনিক বিশ্বের তার্কিকেরা যুক্তির কথা বলে, অথচ তারা বোঝে না অথবা বুঝেও বোঝে না যে, তাদের শাণিত যুক্তিসমূহ সত্যকে আচ্ছাদিত করারই উপকরণ মাত্র। এবং এই সন্দেহপরায়ণ কুশলি কিন্তু অসুস্থ তার্কিকেরা এমনকি আবু লাহাবদের চেয়েও নির্বোধ। কারণ মহানবী (সাঃ) এর জরুরী বার্তাকে যারা সেদিন অস্বীকার করেছিল, তারা অন্তত যুক্তি কি বিজ্ঞানের দোহাই দেয় নি; তারা ঠিকই বুঝেছিল, যুক্তি আছে কি নেই সে পরের কথা, এমন একজন সর্বতোভাবে পবিত্র মানুষের মুখনিঃসৃত বাণী মিথ্যা-তো হতেই পারে না, ব্যর্থও হতে পারে না। অতএব তারা তাদের বহু শতাব্দীবাহিত পুরুষানুক্রমে লভ্য ধর্ম ও সংস্কারের অত্যাসন্ন পতনকে রোধ করার জন্যই মহানবী (সাঃ) এর বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে প্রতিরোধ রচনা করেছিল। তারা ঠিকই দেখতে পেয়েছিল যে, আরব্য মরুভূমির প্রাংগণে জ্বলে উঠেছে একটি আলো, কিন্তু তারা তা নির্বাপিত করতে চেয়েছে, কারণ ওই বিবরবাসী সরিসৃপদের কাছে অন্ধকারই ছিল কাম্য। অন্ধকারই তাদের প্রিয়তম সহচর। নিতান্তই জিদ ও জন্মগত কুসংস্কারবশত তারা জেনেশুনেও সত্যকে আলিংগন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু আজ যারা মহানবী (সাঃ)-কে অস্বীকার করে, তারা কী? কী তাদের অন্তর্নিহিত অভিপ্রায়? জিদ কি সংস্কার নয়, তারা এক স্বসৃষ্ট মিথ্যার মধ্যে নিমজ্জিত। তাদের যুক্তি, তারা এক অগ্রসর পৃথিবীর বাসিন্দা, পৃথিবীর বহু দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা, বহু জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় পুষ্ট তাদের অন্তর্লোক; তারা মনে করে চৌদ্দশ বছর পূর্বের কোন আহবানের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্যের নাম গোঁড়ামি ও পশ্চাদপদতা। আসলেই বড় বদনসীব এই আধুনিক পৃথিবীর। থিকথিকে একপ্রকার অহমিকা দ্বারা আচ্ছন্ন এই মহাপণ্ডিতেরা অনেক বোঝে, শুধু এইটুকু অনুধাবন করতে অক্ষম যে, সত্য কখনো পুরনো হয় না; অস্বীকার কি অবহেলা করলেই স্বর্ণখণ্ডের মূল্য হ্রাস পায় না। কী দুর্বুদ্ধি এই পণ্ডিতদের এবং কতই না আত্মঘাতী তাদের ‘ডিবেটিং দক্ষতা’! প্রকৃতপক্ষে এদের অবস্থান আবু লাহাব ও তার স্ত্রী থেকেও কয়েক সোপান নিম্নে।

মহানবী (সাঃ) সর্বকালের মানুষের কাছে কী বার্তা পেশ করেছেন? তিনি শুধু বললেন, মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত এই ভূপৃষ্ঠে মানুষের যে অবস্থান, এটাই শেষ কথা নয়। নশ্বর এই জীবন বস্তুত অনন্ত প্রসারিত অবিনশ্বর জীবনেরই এক অতি ক্ষুদ্রাংশ মাত্র। সবাইকে আল্লাহর সমীপে প্রত্যাবর্তন করতে হবে, তাঁর কাছে অদ্যকার এই কৃতকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাবদিহি করতে হবে; এবং তারপর ফলাফলের ভিত্তিতে মানুষ প্রবেশ করবে জান্নাত কি জাহান্নামে। অতএব পার্থিব জীবন নামক এই পরীক্ষাকালটুকু আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে যাপন করাই মানুষের প্রকৃত কাজ। এইতো কথা। এই কথার প্রতি বিশ্বাস না করার হেতু কি? তিনি কি মিথ্যাবাদী? তাঁর সমগ্র জীবনের কোন একটি ঘটনাও কি এই সাক্ষ্য দেয় যে, তাঁর বক্তব্য মনগড়া ও স্বকপোলকল্পিত? এমন একটি দুর্বলতম প্রমাণও কি উপস্থাপন করা সম্ভব যে, তিনি কোন লাভ ও লোভের বশবর্তী হয়ে কথা বলেছেন? শতকরা একশ ভাগ সত্য না হলে, কোন মানুষ কি কখনো স্বেচ্ছায় সমগ্র জীবনব্যাপী কঠিনতম সংকট ও কৃচ্ছ্রতার মধ্যে ভয়ে-আতঙ্কে নিষ্ঠায় ও ভালোবাসায় একমাত্র আল্লাহকেই সর্বস্ব জ্ঞান করতে পারেন? অবশ্য অবিশ্বাসীদের পক্ষ থেকে বলা সম্ভব যে, চক্ষু কর্ণ জ্ঞান ও ধারণা বহির্ভূত সম্পূর্ণ অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন মানববুদ্ধির পক্ষে না সুখকর না সমীচীন। বরং এও এক ধরণের অবৈজ্ঞানিক ও ভৌতিক বিশ্বাস, যা কেবল ‘মূঢ়দের’ জন্যই তৃপ্তিকর। এবং এই ধরণের অলীক বিশ্বাস থেকে দূরে অবস্থান করাই হিতকর। বলা বাহুল্য, এই সংশয় ও অবিশ্বাস নিরাময়যোগ্য নয়। তবু উল্লেখ করি, সন্দেহ নেই যে আমাদের জ্ঞান বাড়ছে অভিজ্ঞতা বাড়ছে, আমাদের মস্তিষ্কের কোষ এখন পূর্ববর্তী যে কোন সময়ের তুলনায় অভাবনীয়রূপে দক্ষ ও সৃজনশীল। এবং সত্য যে, আমাদের দেখা ও জানার বলয়রেখা নিত্যই অতিদ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু এটাও সত্য, ততোধিক দ্রুতবেগে ঘনীভূত হচ্ছে দুর্জ্ঞেয় রহস্যের গাঢ়তম অন্ধকার। কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে এক-একটি নক্ষত্র কী করছে? অনন্ত প্রসারিত ছায়াপথে বালুকণার মত ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি নক্ষত্রের দু’একটি অকস্মাৎ কেন ‘নোভা’ কি ‘সুপার নোভা’ হয়ে জ্বলে জ্বলে ওঠে? চতুর্দিক সমুদ্রকে পাহারায় বসিয়ে প্রকৃতি কেন সারা পৃথিবীর অধিকাংশ তেল আরবভূমির অভ্যন্তরেই গুপ্তধনের মত লুকিয়ে রাখলো? মানববুদ্ধি অসহায়ভাবে নিরুত্তর ও হতবাক। অথচ কী করুণ পরিহাস ও স্ববিরোধিতা, অতি-প্রগতিবাদীদের শ্লাঘা ও অহমিকার বেলুন কিন্তু ক্রমাগতই স্ফিত হচ্ছে! আল্লাহপাক এদেরকেই চিহ্নিত করেন মোহরাঙ্কিত দুষ্ট আত্মার অধিকারী কঠিনতম জাহান্নামের অতি উপাদেয় খাদ্যরূপে।

ডিমের মধ্যেও একটি জগৎ আছে। সেখানে অবস্থানরত কুসুমকে যদি কানে কানে বলা যায়, খোলসের বাইরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে এক বিশাল পৃথিবী, তোমার সোনালী ডানায় লেখা হবে রৌদ্রজ্জ্বল আকাশের প্রেম, তুমি হবে বসন্তদিনের বিহঙ্গ, পুষ্পিত কাননের পাখি। ডিমের অভ্যন্তরে আবদ্ধ কুসুম কি তা বুঝতে পারবে? মহানবী (সাঃ) এই স্বল্পায়ু জীবন নামক খোলসটির বাইরে অনন্তরূপে বিস্তৃত অনিঃশেষ অন্য এক জীবনের কথা শোনালেন। অতি সংকীর্ণ খোলসসদৃশ এই জগৎকেই একমাত্র ও সর্বস্বজ্ঞানে কেউ মহানবী (সাঃ) এর এই বার্তাকে অস্বীকার করলে করতে পারে, কিন্তু অবধারিত সত্যের কোন ব্যত্যয় হবে না। সেই অত্যাসন্ন শাস্তি কি পরস্কার-দানের মহাদিবসে আল্লাহপাক বলবেন, এই সেই দিন যাকে তোমরা অস্বীকার করেছিলে। নবী (সাঃ) কে রাজা হবার জন্য আল্লাহপাক প্রেরণ করেননি; তিনি এসেছিলেন বিপদ ও সতর্কসংকেত নিয়ে। এবং দীর্ঘ তেইশ বছর তিনি একাদিক্রমে বিরামহীনভাবে এই একই সাবধানবাণী সবাইকে শোনালেন যে, বড় গুরুতর ও ভয়ংকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে মানুষকে। মানুষের জন্যই সর্বদা অস্থির ও আতঙ্কগ্রস্থ তিনি। এবং এই জন্যই বিদায় হজ্বেও সমবেত জনতার কাছে তিনি পুনঃ পুনঃ একই প্রশ্ন করেছেন যে, তিনি কি তাঁর প্রভুর বাণী সঠিকভাবে পৌঁছে দিয়েছেন? যারা সেদিন অনুপস্থিত তারাও যেন জানতে পারে, বার বার এই দ্বায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। এক মহাবিপদসংকেত নিয়ে তিনি সর্বক্ষণ এমনভাবে বিচলিত যে, সারাদিন সবাইকে ডেকে ডেকে শোনাচ্ছেন উদ্ধারের উপায়, আর রাত জেগে সকল মানুষের হয়ে প্রভুর কাছে শুধু ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। তিনি রাজা হতে চাননি; আল্লাহ তাঁকে রাজত্ব দান করেছিলেন, কিন্তু সে কেবল এই জন্য যে, আরো সুচারুরূপে আরো সাফল্যের সঙ্গে তিনি যাতে বিপদবার্তা এবং তা থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে সমসাময়িক ও অনাগত কালের মানবমণ্ডলীকে সচেতন ও অবহিত করতে পারেন। তিনি তাই করেছেন। আল্লাহপাক তাঁর অশেষ করুণায় পবিত্র কোরআন এবং মহানবী (সাঃ) এর প্রতিটি কথা ও কাজকে সামান্যতম বিকৃতির হাত থেকেও চিরকালের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন; সেও এই জন্য যে, কোন-কালের কোন মানুষ যেন বলতে না পারে, – পরকালের অনন্ত প্রেক্ষাপটে ইহলৌকিক করণীয় সম্পর্কে সে কিছুই কখনো জানতে পারে নি। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, আমি যা জানি, তোমরা তা জানলে খুব কমই হাসতে, সারাক্ষণ অশ্রু নির্গত হতো তোমাদের। সত্যই কী মহাদুর্যোগময় পরিস্থিতিই না অপেক্ষা করছে মানুষের জন্য! বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের জন্য আল্লাহপাকই যথেষ্ট, তাঁরা আশাতীত প্রতিদান লাভ করবেন; কিন্তু সেদিন অবিশ্বাসীদের জন্য বড় দুঃসময়। আল্লাহপাকের প্রতিশ্রুতি কি কখনো মিথ্যা হয়? সমগ্র পৃথিবীর আদর্শ ও রহমতস্বরূপ প্রেরিত মহানবী (সাঃ) এর সাবধানবাণী কি সুস্থ বিবেচনায় উপেক্ষার যোগ্য? আসলেই মানুষের বড় বদনসীব, যা তাকে সত্যের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শনে সর্বদা সাহসী করে রাখে।

লেখক: আবু জাফর

———————–

চলবে ইনশাআল্লাহ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১২৩ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৪.০০)

৫ টি মন্তব্য

  1. এই অত্যন্ত সম্মানিত মানুষটিকে আমাদের যুবকরা ফলো করলে বাংলাদেশ আজ অন্যরকম হতো !

    রাশেদ

    @তালহা তিতুমির,
    সুন্দর বলেছেন। আমাদের যুবকদের উচিত ইসলামের আসল বাণী অনুধাবন করা।
    ধন্যবাদ।

  2. (F)

    নিতান্তই জিদ ও জন্মগত কুসংস্কারবশত তারা জেনেশুনেও সত্যকে আলিংগন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু আজ যারা মহানবী (সাঃ)-কে অস্বীকার করে, তারা কী? কী তাদের অন্তর্নিহিত অভিপ্রায়? জিদ কি সংস্কার নয়, তারা এক স্বসৃষ্ট মিথ্যার মধ্যে নিমজ্জিত। তাদের যুক্তি, তারা এক অগ্রসর পৃথিবীর বাসিন্দা, পৃথিবীর বহু দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা, বহু জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় পুষ্ট তাদের অন্তর্লোক; তারা মনে করে চৌদ্দশ বছর পূর্বের কোন আহবানের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্যের নাম গোঁড়ামি ও পশ্চাদপদতা। আসলেই বড় বদনসীব এই আধুনিক পৃথিবীর। থিকথিকে একপ্রকার অহমিকা দ্বারা আচ্ছন্ন এই মহাপণ্ডিতেরা অনেক বোঝে, শুধু এইটুকু অনুধাবন করতে অক্ষম যে, সত্য কখনো পুরনো হয় না; অস্বীকার কি অবহেলা করলেই স্বর্ণখণ্ডের মূল্য হ্রাস পায় না। কী দুর্বুদ্ধি এই পণ্ডিতদের এবং কতই না আত্মঘাতী তাদের ‘ডিবেটিং দক্ষতা’!


    أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى

    রাশেদ

    @Biplobi,

    আল্লাহ আমাদের এই “মহাপণ্ডিতদের” হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।