লগইন রেজিস্ট্রেশন

কবিরা গুনাহ-২৩ (চুরি ও অপহরণ করা।)

লিখেছেন: ' দ্য মুসলিম' @ সোমবার, জানুয়ারি ১১, ২০১০ (১২:৫০ অপরাহ্ণ)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ,

পবিত্র কোরআন এর দলিলঃ

  • যে পুরুষ বা নারী চুরি করে, তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল আল্লাহর দেয়া বিধান- তাদের হাত কেটে দাও, এটা নিশ্চয়ই আল্লাহর মহা পরাক্রমাশালী প্রজ্ঞাময়।(সুরা মায়েদা-৩৮)
  • এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে হযরত ইবনে শিহাব (রহ) বলেনঃ মানুষের সম্পদ হরণের অপরাধে আল্লাহ পাক হাত কাটার বিধান স্হির করেছেন। আল্লাহ চোরের প্রতিশোধ গ্রহণের ব্যাপারে পরাক্রমশালী। চোরের হাত কাটার শাস্তির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সম্পর্কে তিনিই সুবিজ্ঞ।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ কোন যিনাকারী যিনায় লিপ্ত অবস্হায় মুমিন থাকেনা। কোন চোর মুমিন অবস্হায় চুরি করে না। তবে তওবা করার পর সে ঈমান ফিরে পায়। (আবু দাউদ ও তিরমিযি)

হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বলেনঃ “তিন দিরহাম মুল্যের একটি ঢাল চুরি করায় নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোরের হাত কেটে দিয়েছিলেন।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম।)

আর এক বর্ননায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ” একটি ঢালের চেয়ে কম মূল্যের জিনিষ চুরি করলে হাত কাটা যাবেনা।” (মুসলিম, বুলুহুল মারাম)

উম্মুল মোমেনীন হযরত আয়েশা রাঃ এর কাছে জানতে চাওয়া হলোঃ এটি ঢালের দাম কত? তিনি বললেনঃ এক দিনারের চার ভাগের এক ভাগ। আর এক রেওয়ায়েতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “এক দীনারের চার আনা পরিমাণ মুল্যমানের জিনিস চুরি করলে হাত কেটে দাও, এর কম হলে নয়।” সেকালে দীনারের মান ছিল- এক দিনার সমান ১২ দিরহাম। এ হিসাবে এক দীনারের চার আনা সমান ৩ দিরহাম।

হযরত আবু হোরায়রা রাঃ বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ চোরের প্রতি আল্লাহ অভিশাপ দিয়ে থাকেন। সে যদি একটি লোহার রিংও চুরি করে তবে তার হাত কেটে দাও এবং (সামান্য) রশি চুরি করলেও হাত কেটে দাও। (বোখারী, মুসলিম, মেশকাত)

হযরত আয়েশা রাঃ বলেনঃ মখযুম গোত্রের এক মহিলা বিভিন্ন বস্তু ধার করে পরে তা অস্বীকার করতো। (এ অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায়) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। তার আত্মীয়-স্বজনরা উসামা বিন যায়দ রাঃ এর কাছে গিয়ে উক্ত মহিলাকে অব্যাহতি দানের জন্য সুপারিশ করতে অনুরোধ জানালো। উসামা সুপারিশ করায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ওহে উসামা! আমি আল্লাহ পাকের সুনির্ধারিত দন্ডের ব্যাপারে তোমাকে সুপারিশ করতে দেখতে চাইনা। ” অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে ঘোষনা দিয়ে বললেনঃ “তোমাদের আগেকার জাতিগুলো কেবল এজন্যই ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যে অভিজাত কোন ব্যক্তি চুরি করলে তাকে তারা নিষ্কৃতি দিত। আর অপেক্ষাকৃত কোন লোক চুরি করলে তার হত কেটে দিত। যার অধিকারে আমার প্রাণ সেই আল্লাহর শপথ ! মুহাম্মদের মেয়ে ফাতেমাও যদি চুরি করতো, তবে আমি তার হাত কেটে ফেলতাম।”
অতঃপর মাখযুম গোত্রের সেই মহিলার হাত কেটে ফেলা হলো। (সহীহ বোখারী ও মুসলিম)

হযরত আবদুর রহমান ইবনে জারীর রাঃ বলেনঃ আমরা ফযালা বিন উবাইদের রাঃ কাছে জানতে চাইলাম, চোরের হাত কেটে সেই হাত কাঁধে ঝুলিয়ে দেয়া কি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত দ্বারা অনুমোদিত? জবাবে তিনি বললেনঃ চোরকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্হিত করা হলে তার হাত কেটে ফেলা হতো। অতঃপর তাঁর নির্দেশে সেই কর্তিত হাত তার গর্দানে ঝুলিয়ে দেয়া হতো। (তিরমিযি, আবু দাউদ, নাসায়ী)
ওলামায়ে কেরাম বলেনঃ চুরি করা জিনিস তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত চোরের তওবায় কোন ফল লাভ হবে না। তবে চোর দরিদ্র ও অক্ষম হলে মালিকের কাছ থেকে যে কোন উপায়ে হোক দায়মুক্ত করে নিতে হবে।

(সুত্রঃ কিতাবুল কাবায়ের বা কবিরা গুনাহঃ ইমাম আযযাহবী।)

আল্লাহ হাফেজ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৬৫৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১১ টি মন্তব্য

  1. ১-ওলামায়ে কেরাম বলেনঃ চুরি করা জিনিস তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত চোরের তওবায় কোন ফল লাভ হবে না। তবে চোর দরিদ্র ও অক্ষম হলে মালিকের কাছ থেকে যে কোন উপায়ে হোক দায়মুক্ত করে নিতে হবে।

    এই কথার অর্থ কি, যদি চোর মাফ চায় বা দায়মুক্ত হয় তাহলে কি তার হাত কাটা যাবে? নাকি চুরি করে চোরের হাত কাটা যাওয়ার পরেও দায়মুক্ত হতে হবে? ওলামায়ে কেরাম গন কোথাও পেল এই কথাটা?

    ২-আপনি আল-কুরান থেকে রেফারেন্স দিয়েছেন সূরা আল মায়েদাহর ৩৮ নং আয়াতের।তার পরের য়াতের ব্যাপারে অর্থত সূরা আল মায়েদাহর ব্যাখ্যা করবেন কি?

    অতঃপর যে তওবা করে স্বীয় অত্যাচারের পর এবং সংশোধিত হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।৫;৩৯

    ৩-আর চুরি করে কার হাত কাটা যাওয়ার পর যদি কেউ আবার চুরি করে, তাহ তার শাস্তি কি হবে দয় করে জানাবেন কি?

    ৪-আপনার ভাই বোন কেউ বা আত্মীয় যদি চুরি করে, তাহলেকি আপনি তাদেরকে তাওবা করার বা সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিবেন নাকি হাত কেটে দিবেন? নাকি এটা শুধু পরিবারের বাহিরের চোরদের জন্যে প্রযোজ্য?

    ৫-চুরির বস্তুটি যদি অরক্ষিত হয়, তাহলে কি হাত কাটা যাবে, নাকি চুরি করলেই হাত কাটা হবে হোক তা অরক্ষিত বা অরক্ষিত?

    ৬-আপনি হাদীস থেকে উদ্রিতি দিয়েছেন, কিন্তু হাদীস নং উল্লেখ করেন কি কেন, দয়া করে জানাবেন কি?

    দয়া করে উপরের বিষয়গুলি পরিস্কার করুন সবার কাছে। ধন্যবাদ।

    দ্য মুসলিম

    @জ্ঞান পিপাষু,

    আমি এখন পর্যন্ত কিছুই করিনি। শুধু একটি বই থেকে দেখে দেখে তুলে দিলাম। বইয়ের রেফারেন্স ও দিয়ে দিয়েছি। আর বইটিও নির্ভরযোগ্য। আর আপনি যে প্রশ্ন গুলো করেছেন সেগুলোর উত্তর ফকিহগণই ভালো বলতে পারবেন। আমিতো আর এত মাসআলা জানিনা। তবে চেষ্টা করবো এ সম্পর্কে আরো জানাতে।

    যে প্রশ্ন গুলো আপনি করলেন তার মানে হলো আপনি সহীহ হাদীস মানতে পারছেননা? নাকি ভাবছেন যে আমি ভুল হাদীস পেশ করেছি? যে প্রশ্ন গুলো করলেন আপনিই চেষ্টা করুননা। আমিও ট্রাই করি। ধন্যবাদ।

    জ্ঞান পিপাষু

    @দ্য মুসলিম,

    যে প্রশ্ন গুলো আপনি করলেন তার মানে হলো আপনি সহীহ হাদীস মানতে পারছেননা? নাকি ভাবছেন যে আমি ভুল হাদীস পেশ করেছি? যে প্রশ্ন গুলো করলেন আপনিই চেষ্টা করুননা। আমিও ট্রাই করি। ধন্যবাদ।

    আসলে আমি অনেক কিছু জেনে বুঝেও আপনাদেরকে প্রশ্ন করি। একবার ভেবে দেখুন অন্য কোন অজানা ভাই যদি আমাদের এই আলোচনা দেখে তবে তার মনেজাগা প্রশ্নের উত্তর সে সহজেই পেয়ে যাবে। আর যতদিন এ থেকে মানুষ উপকত হবে, ততদিন আল্লাহ আমাদের কে এর কিছু ছোয়াব কি দেবে না?

    আমি আপনার দেয়া হাদীস গুলির কথা জানি, কিন্তু অনেক সময় হাদীস নং ভুলে যাই, তাই আরেকবার নিজেকে নতুন ঝালিয়ে নিতে গিয়ে এইরকম প্রশ্ন করতে হয়।

    আর আমি আমার প্রশ্নের উত্তর জানলেও উত্তর দিবোনা, কারন এখানে জ্ঞানএর লড়াই হচ্ছে,সত্যকে জানার লড়াই এবং মিথ্যাকে নিশ্চিনহ করার লড়াই হচ্ছে, তাই লড়াই চালিয়ে যান। :)

    দ্য মুসলিম

    @জ্ঞান পিপাষু,

    আমি ড.জাকির নায়েকের প্রায় প্রতিটি লেকচার দেখেছি এবং শুনেছি। তিনি চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গে একবারও ভিন্নকিছু করার কথা বলেননি। বরং বারবার তিনি এই কেছাছ ইমপ্লিমেন্ট করার কথা বলেছেন।

    দ্য মুসলিম

    @জ্ঞান পিপাষু,

    এ ব্যপারে বিস্তারিত বিবরণ দেয়া আছে। ব্যপারটি যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ তাই এ ব্যপারে আবার নতুন করে পোষ্ট দিলাম।

    চোরের চুরির শাস্তির বিধান- (বিস্তারিত)

    দ্য মুসলিম

    @জ্ঞান পিপাষু,

    যদি চোর মাফ চায় বা দায়মুক্ত হয় তাহলে কি তার হাত কাটা যাবে? নাকি চুরি করে চোরের হাত কাটা যাওয়ার পরেও দায়মুক্ত হতে হবে? ওলামায়ে কেরাম গন কোথাও পেল এই কথাটা?

    ভাই আগে জানার চেষ্টা করেন তারপর আলেমগণের দোষ ধরবেন। তাছাড়া কোরআনের ব্যাখ্যা নিজে নিজে করতে গেলে প্রচুর ভুল হতে পারে। এ ব্যপারে বিস্তারিত আমি দিয়েছি তাফসিরে মা’রিফুল কোরান থেকে। তারপরও আপনার জন্য নির্দিস্ট অংশটুকু কপি পেষ্ট করলাম। আশাকরি পুরোপোষ্টটি ভালো ভাবে মনযোগ দিয়ে পড়বেন। পোষ্টটি এখানে-চোরের চুরির শাস্তির বিধান- (বিস্তারিত)

    যে ব্যক্তি কুকর্ম ও চৌর্যবৃত্তি থেকে বিরত হয় এবং আত্ম-সংশোধন করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। কেননা, আল্লাহ তা’য়ালা ক্ষমাশীল , করুনাময়।
    পূর্ববর্ণিত ডাকাতির শাস্তির বেলায়ও ক্ষমা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং আলোচ্য চুরির শাস্তির পরও ক্ষমার কথা উল্লেখ করা হল। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রে ক্ষমার বর্ণনায় একটি বিশেষ প্রার্থক্য রয়েছে। এরই ভিত্তিতে উভয় শাস্তির মধ্যে ক্ষমার অর্থ ফিকহবিদদের মতে ভিন্ন ভিন্ন। ডাকাতির শাস্তিতে আল্লাহ তা’য়ালা ব্যতিক্রম হিসেবে বলেছেনঃ(ইন্নাল্লাজিনা তাবু মিন ক্বাবলি আন তাকদীরু আল্লাইহিম) অর্থাৎ যারা সরকারের আয়ত্তে আসার এবং গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তওবা করবে, তারা এ শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাবে। কিন্তু চুরির শাস্তির পর যে ক্ষমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে জাগতিক শাস্তির কোন ব্যতিক্রম হবে না। বরং পরকালের দিক দিয়ে তাদের তাওবা গৃহীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। (ফাইন্নাল্লাহা ইয়াতুবু আলাইহি) বলে এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। অতএব এ তওবার কারণে বিচারক তার শাস্তি মওকুফ করবেননা। হাঁ, আল্লাহ তার অপরাধ ক্ষমা করে পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি দেবেন। এ কারণে ফিকহবিদরা সবাই এ বিষয়ে প্রায় একমত যে, গ্রেফতারীর পূর্বে ডাকাত তওবা করলে তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না। কিন্তু চোর চুরি করার পর গ্রেফতারীর পূর্বে অথবা পরে তওবা করলেও তার হস্ত কর্তন মাফ করা হবে না। অবশ্য গোনাহ মাফ হয়ে পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া এর পরিপন্হি নয়।

    ধন্যবাদ।

    জ্ঞান পিপাষু

    @দ্য মুসলিম,

    ভাই আগে জানার চেষ্টা করেন তারপর আলেমগণের দোষ ধরবেন।

    আমি কোথায় আলেমগণের দোষ ধরেছি? আলেমগণ যা বলবে তাইকি মেনে নিতে হবে নাকি?
    আমার প্রশ্নের আগে বড় বড় তিনডা প্রশ্নবোধক লাগাইছি আগে জানতে চেয়েছি পরে তারা কোথায় পেয়েছে তা জানতে চেয়েছি, এটকি অপরাধ?

    দ্য মুসলিম

    @জ্ঞান পিপাষু, জানতে চাওয়া অপরাধ হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। যদি জানতেই চান তাহলে আমি আমার কথা উইথড্র করলাম। ভবিষতে সাহায্য করতে পারলে কৃতার্থ বোধ করবো। ধন্যবাদ।

    জ্ঞান পিপাষু

    @দ্য মুসলিম,

    withdraw করার আগে একটু ভেবে দেখবেন বলে আশা রাখি যাতে অযথা কথা বলতে না হয়, যতখনে অযথা কথা বলবো, ততোখনে আরেকটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে দ্রুত আরো বেশি বেশি জ্ঞান অর্জন করা যাবে বলে আমার মনে হয়, ধন্যবাদ। (F)

    দ্য মুসলিম

    @জ্ঞান পিপাষু, জ্ঞানদানের জন্য ধন্যবাদ। (F)

  2. এখানে একটি ব্যাপার সবার জানা উচিত , এইধরনের যেকোন শাস্তি ইসলামিক রাষ্ট্র বা খেলাফতের সাথে সম্পর্কিত । কোনো রাষ্ট্রে যদি খেলাফত না থাকে , তাহলে এটা প্রযোজ্য হবে না ।