লগইন রেজিস্ট্রেশন

ইলমে ফেকাহর সুচনাকালঃ প্রসঙ্গ ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-৫

লিখেছেন: ' দ্য মুসলিম' @ শনিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০১০ (৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।

সুত্রঃ মাসিক মদিনা, জানুয়ারী ২০১০।
ইলমে ফেকাহর সুচনাকালঃ প্রসঙ্গ ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-১
ইলমে ফেকাহর সুচনাকালঃ প্রসঙ্গ ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-২
ইলমে ফেকাহর সুচনাকালঃ প্রসঙ্গ ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-৩
ইলমে ফেকাহর সুচনাকালঃ প্রসঙ্গ ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-৪

আবু হানীফা নোমান ইবনে ছাবেত যেমন ছিলেন একজন বিরল প্রতিভাধর শিক্ষার্থী তেমনি তাঁর উস্তাদ হাম্মাদ ইবনে আবু সুলায়মান ও ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ একজন আদর্শ শিক্ষক। একনিষ্ঠ এই সাগরেদের জ্ঞানঅন্বেষায় মুগ্ধ হয়ে একদা তিনি আবেগপ্লুত কন্ঠে বলেছিলেন, তুমি আমার ভান্ডার একেবারে শুন্য করে নিলে হে আবু হানিফা! উল্লেখ্য যে, সত্যনিষ্ঠ সঠিক অনুধাবন শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করেই মহান উস্তাদ তাঁর এই প্রিয় সাগরেদকে “আবু হানিফা” নামে সম্বোধন করেছিলেন। কালে উস্তাদের সেই স্নেহের সম্বোধনই কালজয়ী মহান ইমামের বরকতময় নামের প্রধান অংশে পরিণত হয়ে যায়! (আল-মুয়াফফেক)
ইমাম হাম্মাদের শিক্ষায়তনের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার পটভূমি বর্ণনা প্রসঙ্গে আবু হানীফা বলেন-বেশ কিছুকাল তর্কাসভায় সময় অতিবাহিত করার পর এক সময় আমার মনে এরূপ একটা প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে, হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য যে এলেমের অংশবিশেষও কি আমি আয়ত্ব করতে পেরেছি?
সাহাবায়ে কেরাম এবং পরবর্তী তাবেয়ীগণের অগ্রনী জামাত যে এলেমের অনুশীলন করতেন, তাতে কি তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার কোন অবকাশ ছিল? আমার বিবেকই বলল, না, তাঁরা এলেম চর্চা করতেন আমলে সুষ্ঠতা আনয়নের লক্ষ্যে। তাঁদের এলেম ছিল একান্তই জীবনবাদী। এরূপ একটা বোধদয়ের আলোকেই আমি এলমে-কালামের চর্চা ত্যাগ করে ফেকাহ পাঠ গ্রহণ করি। (আল-মুয়াফফেক)
আবু হানীফার রহঃ নিষ্ঠা এবং একাগ্রতায় মুগ্ধ ছিলেন ইমাম হাম্মাদ রঃ। উস্তাদের প্রতি এমন অসাধারণ ভক্তি ছিল আবু হানীফার রঃ যে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কখনও তিনি উস্তাদের বাড়ীর দিকে পা মেলে শয়ন করেন নি। এতদসত্ত্বেয় জ্ঞানের বিয়য় আলোচনার ক্ষেত্রে মোটেও নমনীয়তার আশ্রয় গ্রহণ করতেন না।
একদা উস্তাদ-সাগরেদ মিলে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে পানি ফুরিয়ে গেলে ইমাম হাম্মাদ তায়াম্মুম করে আসরের নামায পড়ে ফেললেন। কিন্তু আবু হানীফা উস্তাদের সাথে নামায পড়লেন না। বললেন, যতক্ষন পানি পাওয়ার আশা থাকে, ততক্ষন অপেক্ষা করতে হবে এবং ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত পানি পাওয়া না গেলে তায়াম্মুম করে নামায পড়া বৈধ হবে। পরে হাম্মাদ রঃ প্রিয় সাগরেদের এই এজতেহাদ মেনে নিয়েছিলেন। (আল বেনায়া)
ইমাম আবু হানীফার শিক্ষা-জীবনের অনুরূপ আরও বহু ঘটনাই বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে আছে, যদ্বারা তাঁর অসাধারণ ধীশক্তি এবং শরীয়তের সূক্ষ্ম বিষয়াদি অনুধাবনের অনন্য যোগ্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ইমাম যুফার রহঃ বর্ণনা করেন, ইমাম আবু হানীফা রঃ বলেছিলেন, এক সময় আমার মনে এমন একটা চিন্তার উদয় হয়েছিল যে, উস্তদের নিকট থেকে বিদায় গ্রহণ করে নিজস্ব একটি শিক্ষায়তন গড়ে তুললে কেমন হয়! ঘটনাক্রমে এ সময় একজন নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুসংবাদ শুনে ইমাম হাম্মাদ রঃ বসরায় চলে গেলেন। যাওয়ার সময় তিনি আমাকে তাঁর স্হলাভিষিক্ত করে গেলেন। নানা করণেতা৭র প্রত্যাবর্তন মাস তিনেক বিলম্বিত হয়। তাঁর অনুপস্হিতিতে আমি বিভিন্ন লোকের যে সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলৈন, সেগুলো লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলাম। ফিরে আসার পর উস্তাদের সামনে সুগলো পেশ করলে আমার বেশ কয়েকটি ভুল হয়েছে বলে তিনি চিহ্নিত করলেন। এই ঘটনায় আমি মনে মনে শিউরে উঠলাম। সংকল্প গ্রহণ করলাম যে, যতদিন ইমাম হাম্মাদ জীবিত থাকবেন, ততদিন আর তাঁর হালকা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা চিন্তাও করবোনা।
জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে কঠোর সাধনার দীর্ঘ আঠারো বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর হিজরী ১২০ সনে ইমাম হাম্মাদের রঃ ইন্তেকাল হয়। অতঃপর আবু হানীফাকেই উস্তাদের শিক্ষাকেন্দ্রটি সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। মৃত্যুর আগে ইমাম হাম্মাদ আবু হানীফাকে রঃ আনুষ্ঠানিক ভাবেই তাঁর স্হলাভিষিক্ত মনোনীত করে যান। এভাবেই নো’মান ইবনে ছাবেত উস্তাদের দেওয়া নাম এবং স্হলাভিষিক্ত হওয়ার দায়িত্ব লাভ করে আহলে ছুন্নাতুল জামাতের মর্যাদাবান ইমামরূপে বরিত হন।

(চলবে।)

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৭৩ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)