লগইন রেজিস্ট্রেশন

প্রসঙ্গঃ পুরুষের দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ বিবাহ করতে স্ত্রীর অনুমতি গ্রহণ করা জরুরী নয়।

লিখেছেন: ' দ্য মুসলিম' @ রবিবার, মার্চ ১৪, ২০১০ (১১:১২ অপরাহ্ণ)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

গত কয়েকদিন আগে এ বিষয়ে একটি পোষ্ট দেয়া হয়েছিলো যে, স্বামী যদি প্রথম বিবাহের পরে আরো বিয়ে করতে চায় তাহলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে কিনা। উত্তর ছিলোঃ না। ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামকে হেয় করার জন্য এ বিষয়টিকেও সবার সামনে তুলে ধরতে ভুল করেনা। বিষয়টি নিয়ে আমাদের বর্তমান সময়ের আধুনিকা-প্রগতিশীল মুসলিম নারীরা বিভ্রান্তিতে ভুগে থাকেন।
সম্প্রতি ইসলামহাউস.কম নামক সাইটে বিষয়ে একটি আর্টিকেল দেখলাম। গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়ায় কপি-পেষ্ট করলাম। আশা করি সকলে উপকৃত হবেন।

প্রশ্ন :
আমার প্রশ্নগুলো হচ্ছে :
১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিয়ের সময় নারীরা কি স্বামীদের শর্ত দিত যে, অন্য কাউকে বিয়ে করা যাবে না ? এটা কি হালাল বস্তুকে হারাম সাব্যস্ত করার মধ্যে শামিল হবে ?
২- স্বামী যদি তার স্ত্রীকে শর্ত দেয় যে, তার সাথে কাউকে বিবাহ করবে না, তবে তার এ ওয়াদা পুরো করা কি জরুরি? না তার জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করার অধিকার রয়েছে ? সে তার এ ওয়াদা বিবাহের বেশ কয়েক বছর পর করেছে। অর্থাৎ বিবাহের আকদের সময় এ জাতীয় ওয়াদা করে নি।
৩- দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে এ ওয়াদা পুরো করা কি ওয়াজিব? এমনকী যদি তাকে এ-ক্ষেত্রে বল প্রয়োগ করা হয় তবু?
৪- প্রথম স্ত্রীর ওয়াদা যদি পুরো না করে এবং দ্বিতীয় বিবাহ করে ফেলে, তবে এ জন্য স্বামী কি গুনাগার হবে ?

উত্তর :
আল-হামদুলিল্লাহ
প্রথমত :
নারী যদি স্বামীকে শর্ত দেয়, তার সাথে কাউকে বিবাহ করা যাবেনা, তবে এ শর্ত শুদ্ধ। এবং তা পূর্ণ করা জরুরি। স্বামী যদি তার বর্তমানে দ্বিতীয় বিবাহ করে, তবে স্ত্রীর জন্য বিবাহ ভঙ্গ করার অধিকার থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
(أَحَقُّ الشُّرُوطِ أَنْ تُوفُوا بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ)
তোমাদের সেসব শর্তগুলো পুরো করা অগ্রাধিকাপ্রাপ্ত, যার মাধ্যমে তোমরা যৌনাঙ্গসমূহ হালাল করেছ। (বুখারি:২৭২১(, মুসলিম:১৪১৮)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র বলেছেন,
(الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ ، إِلَّا شَرْطًا حَرَّمَ حَلَالًا ، أَوْ أَحَلَّ حَرَامًا)
মুসলমানগণ তাদের শর্তের কাছে বাঁধা। তবে যে সব শর্ত হালালকে হারাম করে, অথবা হারামকে হালাল করে, তা ব্যতীত। (তিরমিযি : ১৩৫২), আবু দাউদ :৩৫৯৪), সহিহ তিরমিযিতে আল-বানি হাদিসটি সহিহ বলেছেন।
উল্লেখ্য, এ শর্তটি হালালকে হারাম করে না, বরং পুরুষের কর্তৃত্বকে সীমা বদ্ধ করে ও নারীর জন্য বিবাহ ভঙ্গের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
সাহাবাদের যুগে এ ধরনের শর্ত সংঘটিত হয়েছে।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া -রাহিমাহুল্লাহ- বলেন, এক ব্যক্তি এ শর্তে বিবাহ করেছে যে, এই স্ত্রীর সাথে অন্য কাউকে বিবাহ করবে না। ওমর – রাদিআল্লাহু আনহু-র নিকট এ ব্যাপারটি দায়ের করা হল, তিনি বললেন : “مقاطع الحقوق عند الشروط” অর্থাৎ শর্তের সময় অধিকার ভাগ হয়ে যায়। (ফতোয়াল কুবরা : ৩/১২৪ )

ইবনে কুদামা – রাহিমাহুল্লাহ – বলেছেন, এর সারাংশ হচ্ছে, বিবাহের শর্তগুলো তিনভাবে ভাগ হয় :
এক. কিছু শর্ত রয়েছে যার উপকারিতা শুধু নারীর উপর বর্তায়। যেমন সে শর্ত করল: তাকে তার বাড়ি থেকে বের করা যাবে না, অথবা তার শহর থেকে বের করা যাবে না, অথবা তাকে নিয়ে সফর করা যাবে না, অথবা তার সাথে কাউকে বিবাহ করা যাবে না, অথবা তার সাথে কোন বাদী গ্রহণ করা যাবে না। নারীর স্বার্থে এসব শর্ত পুরো করা জরুরি। স্বামী যদি এসব শর্ত পুরো না করে, তবে তার জন্য বিবাহ ভঙ্গ করার অধিকার রয়েছে। ওমর ইবনুল খাত্তাব, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, মায়াবিয়া ও আমর ইবনুল আস -রাদিআল্লাহু আনহুম- প্রমুখ সাহাবাদের থেকে এ মত বর্ণনা করা হয়েছে। (মুগনি : ৯/৪৮৩)
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া -রাহিমাহুল্লাহ-কে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ওয়াদা দিয়েছে, তার সাথে কাউকে বিবাহ করবে না, তার বাড়ি থেকে তাকে বের করবে না এবং সে তার মার কাছেই থাকবে। এ শর্তে সে তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এসব শর্ত পুরো করা কি জরুরি? এর বিপরীত হলে স্ত্রী কি বিবাহ ভঙ্গ করার অধিকার হাসিল করবে ?
তিনি উত্তর দেন, হ্যাঁ, ইমাম আহমদ, অনেক সাহাবি ও তাদের অনুসারীদের মতে এ শর্ত ও এ ধরনের অন্যান্য শর্ত করা দুরস্ত আছে। যেমন ওমর ইবনুল খাত্তাব, আমর ইবনুল আস, কাজী শুরাই, আওযায়ী ও ইসহাক।

ইমাম মালেকের মাযহাব হচ্ছে, নারী যদি শর্ত করে, যদি তার সাথে বিবাহ করা হয়, অথবা তার সাথে বাদী গ্রহণ করা হয়, তবে তার ব্যাপারটি তার উপরই ন্যস্ত হবে, তার ব্যাপারে সিদ্ধান্তের ভার তার উপরই বর্তাবে। অর্থাৎ এ জাতীয় শর্ত বৈধ। এর ব্যত্যয় ঘটলে নারী বিবাহ ভঙ্গ করার অধিকার হাসিল করবে। এ মতটি ইমাম আহমদের মতের ন্যায়।
কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
( إن أحق الشروط أن توفوا به ما استحللتم به الفروج )
ওমর -রাদিআল্লাহ আনহু – বলেছেন, (مقاطع الحقوق عند الشروط)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহের শর্তের ব্যাপারে বলেছেন, অন্য যে কোন শর্তের চেয়ে এ শর্তগুলো অগ্রাধিকার রাখে। (ফতোয়াল কুবরা: ৩/৯০)

দ্বিতীয়ত :
বিবাহের মুহূর্তে যদি এসব শর্ত করা হয়, তবে এ শর্তগুলো পুরো করা জরুরি। আর যদি বিবাহের পর এসব সংঘটিত হয়, তবে তা শুধু ওয়াদার মর্যাদা পাবে, স্ত্রীকে বিবাহ ভঙ্গের অধিকার দেয়া হবে না। কিন্তু স্বামীর জন্য এসব ওয়াদা পুরো করা ওয়াজিব। কারণ, আল্লাহ তাআলা ওয়াদা পূরণ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন :
(وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْؤُولاً) الإسراء/34
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
(اضمنوا لي ستا من أنفسكم أضمن لكم الجنة : اصدقوا إذا حدثتم ، وأوفوا إذا وعدتم ، وأدوا إذا ائتمنتم ، واحفظوا فروجكم ، وغضوا أبصاركم ، وكفوا أيديكم)
তোমরা নিজেরা নিজেদের জন্য ছয়টি জিনিসের জিম্মাদার হয়ে যাও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব : যখন কথা বলবে সত্য বলবে; ওয়াদা করলে পুরো করবে; আমানত রাখা হলে যথাযথ আদায় করবে ; তোমরা নিজদের যৌনাঙ্গকে হিফাজত করবে ; তোমরা দৃষ্টি অবনত রাখবে; এবং নিজদের হাত বিরত রাখবে। (আহমদ : ২২২৫১) (সহিহ আল-জামে গ্রন্থে : ১০১৮) আল-বানি হাদিসটি হাসান বলেছেন।
ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকদের আলামত, এ হিসেবেও তা পুরো করা জরুরি।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২,৪১১ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৩ টি মন্তব্য

  1. জ্ঞান পিপাষু যে প্রশ্নটা করেছিলেন, সেটা ছিল কুরআন বা হাদীসে সরাসরি বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নারীদের অনুমতি নেয়ার কথা বলা হয়েছে কিনা? সেটার উত্তর কিন্তু “না”। সরাসরি নারীদের অনুমতি নেয়ার কথা স্পষ্টভাবে কোন আয়াতে বা হাদীসে নেই।
    উপরের এ লেখাটাতে যেটা বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে ওয়াদার মর্যাদা দিয়ে, যে যদি এরকম ওয়াদা বিয়ের সময় করা হয়, তাহলে অনুমতি নিতে হবে। তবে এখানে যেটা ভাল দিক সেটা হলো কুরআনে স্বামীদের ফ্লেক্সিবিলিটি দেয়া হলেও ইসলামী আইনে স্ত্রী কর্তৃক কিছু শ্ররত দেয়াকে জায়েজ করা হয়েছে।

    এবার আসি, এ লেখায় বাদ আছে কি? এখানে স্বামী শর্ত ভঙ্গ করলে স্ত্রীর তালাক নেয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে, স্বামীকে শাস্তি পাবার বা তার দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ হবার এবং সে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার কোন কথাই বলা নেই। তার মানে প্রথম স্ত্রী বঞ্চিতই হচ্ছে। আর তা না হলে স্বামীর ২য় স্ত্রীকে মেনে নিয়েই সংসার করতে হবে তাকে। আবার বিয়ের সময় শর্ত না থাকলে স্ত্রী তালাক দেয়ারও অধিকার পাচ্ছেন না।

    আমাদের দেশের মুসলিম পারিবারিক আইনে(১৯৬১) বিয়ের সময়ই কাবিননামাতে স্ত্রীকে তালাক দেবার অধিকার দেয়ার কথা সরকারীভাবেই স্বীকৃত হয়েছে, এবং বর্তমানে নারীদের সুবিধার জন্য বাই ডিফল্ট কাজীরা এটা টিকমার্ক দিয়ে দেন সরকারী নির্দেশ অনুযায়ী(অনেক নারীই এ ব্যাপারে সচেতন না)। তাই কোন নারী যদি স্বামীর সংসারে বড় রকমের অসুবিধায় পড়ে তাহলে নিজেই তালাক দিতে পারেন, অবশ্যই আদালতের/ উকিল নোটিশের মাধ্যমে। এছাড়া স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করাও আমাদের আইনে নিষিদ্ধ, নারীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই, এ আইন মানা না হলে স্ত্রীরা স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করতে পারবেন।

    বেদুইন

    @নাজনীন, (Y)

    দ্য মুসলিম

    @নাজনীন,

    এবার আসি, এ লেখায় বাদ আছে কি? এখানে স্বামী শর্ত ভঙ্গ করলে স্ত্রীর তালাক নেয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে, স্বামীকে শাস্তি পাবার বা তার দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ হবার এবং সে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার কোন কথাই বলা নেই। তার মানে প্রথম স্ত্রী বঞ্চিতই হচ্ছে। আর তা না হলে স্বামীর ২য় স্ত্রীকে মেনে নিয়েই সংসার করতে হবে তাকে। আবার বিয়ের সময় শর্ত না থাকলে স্ত্রী তালাক দেয়ারও অধিকার পাচ্ছেন না।

    বিয়ের আগে শর্ত দিয়ে স্বামীর ২য় বিয়ে করার ব্যপারে স্ত্রী যে বাধ সাধতে পারে সেটা আমার জানা ছিলো না, এটা জানানোর জন্যই এই পোষ্টের অবতারনা। আর আপনি যে প্রশ্ন করলেন, সেটা অন্য প্রসঙ্গ। অন্য সময়, অন্য পোষ্টে আলাপ করা যাবে।

    এছাড়া স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করাও আমাদের আইনে নিষিদ্ধ
    আমাদের আইনে সেটা নিষিদ্ধ নাকি সিদ্ধ সেটা ধর্তব্য নয়। আইন যদি ইসলামের আইনের বিপরীত হয় তাহলে সেটাকে সাপোর্ট দেয়া যাবেনা। কিছু না করা গেলে অন্তত মন থেকে ঘৃণা করতে হবে। আর যদি বিপরীত না হয় সেক্ষেত্রে মেনে নেয়া যেতে পারে। সবচাইতে বড় কথা হলোঃ ” ইসলামিক আইন কি বলে।”