লগইন রেজিস্ট্রেশন

ইসলামে বিভিন্ন মাযহাব, বিভিন্ন ত্বরিকা, বিভিন্ন দল, বিভিন্ন পথ ও মত পন্থীদের প্রতি আল্লাহ তা’আলার কঠোর হুসিয়ারী

লিখেছেন: ' শাহরিয়ার' @ শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০০৯ (১২:০৭ অপরাহ্ণ)


ইসলাম এক ও অখন্ড দ্বীন। আমরা যারা এ দ্বীনকে খন্ড খন্ড করার তালে আছি তাদের প্রতি আল্লাহর নিন্মোক্ত হুসিয়ারীঃ

০১) “যারা নিজেদের দ্বীনকে খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের সাথে আপনার (হে রাসূল) কোন সম্পর্ক নেই।” (সূরা আনআম-৬, আঃ-১৫৯)

০২) “হে ঈমানদারগণ ! আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা হুকুম দানের অধিকারী তাদেরকেও মেনে চল। যখন তোমাদের মধ্যে মতের মিল না হয় তাহলে ফিরে আস আল্লাহ ও রাসূলের দিকে; যদি তোমরা আল্লহ ও আখেরাতের দিনের উপর ঈমান এনে থাক।” (সূরা নিসা-৪, আঃ ৫৯)

০৩) “তাদের সাথে লড়াই কর, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে গুলোকে হারাম করেছেন সেগুলোকে হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীনকে দ্বীন হিসাবে গ্রহন করে না।” (সূরা তওবা-৯, আঃ ২৯)

০৪) “তাঁর (আল্লাহর) দিকে রুজু হও, আল্লাহকে ভয় কর, সালাত ক্বায়েম কর, আর সেই মুশরিকদের মধ্যে সামিল হয়ো না, যারা নিজেদের দ্বীনকে খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে এবং প্রত্যেক দলই নিজেরটা নিয়েই সন্তুষ্ট।” (সুরা রুম-৩০, আঃ ৩১, ৩২)

০৫) “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুলের অনুসরণ কর, আর তোমাদের আমলগুলি ধ্বংস করো না।” (সূরা মুহাম্মদ-৪৭, আঃ ৩৩)

০৬) “তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং নিজেদের মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।” (সূরা আল-ইমরান, আঃ ৩ঃ১০৫)

০৭) “আল্লাহকে ভয় কর, তোমরা তোমাদের পরস্পরে সংশোধন করে নাও, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ কর যদি তোমরা মু’মিন হও।” (সূরা আনফাল-৮, আঃ ১)

০৮) “রাসূল তোমাদেরকে যা প্রদান করেন তা গ্রহণ কর, যা প্রদান করেন নি তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা হাশর-৫৯, আঃ ৭)

০৯) “তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার আনুগত্য কর। তাঁকে ছাড়া আর কোন অলিদের আনুগত্য করো না। তোমরা কম লোকই উপদেশ গ্রহণ কর।” (সুরা আ’রাফ-৭, আঃ ৩)

১০) “তোমরা সকলে একত্রিত হয়ে আল্লাহর রজ্জুকে আকড়িয়ে ধর, সাবধান! বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (সূরা আল ইমরান-৩, আঃ ১০৩)

হাদীসঃ
০১) রাসূল (সঃ) বলেছেন, “ওহে, অবশ্যই যারা তোমাদের পূর্বে ছিল তারা ৭২ দলে বিভক্ত ছিল এবং অবশ্য্ই আমার এই উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। ইহাদের সকল দলই দোযখে যাবে এক দল ব্যতিত। সাহাবা (রাঃ) জিজ্ঞেসা করলেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ, সেটি কোন দল? নবী (সঃ) বললেন, ” আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার উপর আছি, তার উপর যারা থাকবে।”
(তিরমিজী ও আবু দাউদ, রেওয়ায়েতে মেশকাত শরীফ ১ম খন্ড, হাদীস নং- ১৬৩)

০২) “আমি তোমাদের নিকট দু’টা জিনিষ রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা সে জিনিষ দু’টি আঁকড়িয়ে ধরে থাকবে, তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। এ দু’টা জিনিষ হ’ল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ।” (মেশকাত শরীফ, ১ম খন্ড, হাদীস নং- ১৭৭)

উপরোক্ত আল্লাহর বানী এবং সহীহ হাদীস দ্বারা জানতে পারলাম যে, [আমাদের একত্রিত থাকা উচতি, বিভিন্ন দলে দলে ভাগ হওয়া উচিত নয়, এটা ইসলামে একেবারেই হারম (ড. জাকির নায়েক)]। তাই মাযহাব বা বিভিন্ন দলের পক্ষে যে সকল বই-ই রচনা করা হোক না কেন তাহা নিষিদ্ধ। কারন হারাম কাজে উদ্ভুদ করা, তাহা পড়ে অনুসরন করা, অন্যকে পড়ার বুদ্ধি দেওয়া সবই এর আওতাভুক্ত। যেমন সুদ খাওয়া, দেওয়া, সুদের হিসাব রাখা সবই হারাম।

কিছু লোক একথা যে বলে যে, মাযহাব মানার কথা কোরআনে ও হাদীসে আছে তারা আল্লাহর নামে মিথ্যা বলে। তার প্রমান উপরের আয়াত ও সহীহ হাদীস।

আমাদের মাযহাবে যে সকল ভুলগুলো আছে তাহা অকপটে স্বীকার করে একটা চমৎকার বই উপহার দিয়েছেন “জনাব আব্দুল হাফিজ পাঠান” তার প্রকাশিত “নামাযে প্রচলিত ভুল মাসায়েলের তাত্বিক পর্যলোচনা” নামক বইটিতে।
বইয়ের ভুমিকায় উনি লিখেছেন, “আমি এ বইয়ের প্রথম খন্ডে বাংলাদেশে প্রচলিত এবং আমাদের হানাফী মাযহাবের গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত প্রধান ১৩টি বিষয় ও এর অধীনে আরো অনেক ছোট ছোট সূক্ষ্ম মাসায়েল সম্পর্কে কুরআন, হাদীস, বিজ্ঞ মুহাদ্দীসীন, মুজতাহিদীন এবং জমহুর ফকীহগণ থেকে তত্ত্ব ও তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক ও নির্ভূল মাসায়ালাসমূহ মুসলমানদের সামনে তুলে ধরার ঐকান্তিক চেষ্টা চালিয়েছি। বইয়ের দ্বিতীয় খন্ডে নামাযে প্রচলিত ভুল মাসায়েল ও রাসূল (সঃ) এর নামে মানুষের মনগড়া বিভিন্ন নামায সম্পর্কিত ভিত্তিহীন মিথ্যা ও দুর্বল দলীল সমূহের পর্যালোচনা করে সঠিক তত্ত্বটি মুসলমানদের সামনে পেম করার চেষ্টা করেছি।
এ বইয়ে নামায সম্পর্কে হানাফী মাযহাবের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ভিত্তিহীন বহু দুর্বল দলীলের সমলোচনা করা হয়েছে বলে যদি কেউ এ ধারণা পোষণ করেন যে, আমি হানাফী মাযহাবের অনুসারী নই, তবে তিনি আমার প্রতি বড়ই অবিচার করবেন। কারন, আমি হানাফী মাযহাবের একজন একনিষ্ঠ অনুসারী। তবে কোন মাযহাবের একনিষ্ঠ অনুসারী হওয়ার অর্থ এটা নয় যে, মাযহাবের ভুল থাকলেও সকল বিষয়ই চোখ বুঝে মেনে নিতে হবে। বরং ঈমানের দাবি হলো, যে সকল মাসয়ালা সুন্নতে রাসূল (সঃ) এর অনুকূলে তা গ্রহণ করা, আর যা এর পরিপন্থী তা বর্জন করা ও সংশোধনের চেষ্টা করা। এ সম্পর্কে আমি অত্র বইয়ের প্রথম দিকে রাসূল (সঃ) ই আনুগত্যের নির্ভূল মানদন্ড শিরোনামের অধীনে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।”

বইটার দাম ৩৫০.০০ টাকা। কাটাবনে পাওয়া যাবে, যে কেউ কিনে পড়তে পারেন। ওনার চমৎকার লেখা আমার চোখই খুলে দিয়েছে। সত্যই যারা হানাফী মাযহাবের অনুসারী তারা সকলেই ঈমাম আবু হানিফার নিম্নের বক্তব্য মেনে চলেনঃ

০১) কোন ব্যক্তির জন্য আমাদের কোন কথাকে গ্রহণ করা হালাল হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে জ্ঞাত না হবে যে, তা আমরা কোথা হতে প্রাপ্ত হয়েছি।

০২) আমার দলীল না জেনে, শুধু কথার উপর ভিত্তি করে ফতোয়া দেয়া হারাম। কারণ আমরা মানুষ, আজ এক কথা বলি, আগামীকাল আবার ওটা হতে প্রত্যাবর্তন করি।

০৩) যদি আমি এমন কোন কথা বলি, যা আল্লাহর কিতাব কিংবা রাসূল (সঃ) এর হাদীসের পরিপন্থি হয়, তাহলে আমার কথাকে পরিহার করবে।

০৪) যদি কোন হাদীস সহীহ প্রমাণিত হয় তাহলে ওটা মাযহাবের প্রতিকূলে হলেও ঐ হাদীসেরই উপর আমল করতে হবে, আর সেটাই হবে আমার মাযহাব। কোন মুকাল্লিদ (অন্ধানুসারী) সেই হাদীসের উপর আমলের দরুন হানাফী মাযহাব হতে বের হয়ে যাবে না।

০৫) যদি হাদীস সহীহ প্রকট হয়, তবে ওটাই আমার মাযহাব।

ঈমাম আবু হানিফা (রঃ) এর প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায়। কি চমৎকার কথা বলেছেন উনি! অথচ আমরা ওনার প্রত্যেক ফতোয়াকে দলীল বানিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছি। কোন কোন হদীস অন্য মাযহাবে সঠিকভাবে আমল করলেও আমরা আমাদের হিনমন্যতার দরুন এবং মাযহাবের দেহাই দিয়ে তা অমান্য করছি। এবং মাযহাবকে ধরে রাখতে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটা উদাহরন দেখুনঃ

০১) আমাদের হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফতোয়াবাদী গ্রন্থ কুদুরীর ৯নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছেঃ
(ক্বোরআন ও সুন্নাহর ব্যাখ্যা করিয়া সৎ পথের সন্ধান করিতে চাহিলে সৎপথের চাইতে পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী থাকিবে। ফকীহগণের এই বিষয়ে পূর্ণ ব্যুৎপত্তি ছিল। তাহারা এই বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে বিবেচনা করিয়া ক্বোরআন ও সুন্নাহের নীতি সমূহ নিয়া ফিকাহ শাস্ত্র সম্পাদনা করিয়াছেন।)
এবার আল ক্বোরআনে মহান আল্লাহ পাক কি বলেনঃ ‘আল্লাহ হুকুম ও ফয়সালা দান করেন। তাঁর ফয়সালার পুনর্বিবেচনাকারী কেহ নেই।’
(রা’দ-১৩ঃ৪১)

‘তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার আনুগত্য কর, আল্লাহকে ছাড়া আর কোন অলির (ফকীহর) আনুগত্য করো না। তোমরা কম লোকই উপদেশ প্রহণ কর।’ (আ’রাফ-৭ঃ৩)

২) বাংলায় বুখারী শরীফের সংকলক মোহাম্মদ আব্দুল করিম খান বোখারী শরীফের প্রশংসায়ঃ ‘তিনি বলেন, ‘ছিহহায়ে ছিত্বার মধ্যে আবার বোখারী শরীফ শীর্ষে। বিশুদ্ধ হাদীস চয়নের জন্য ইমাম বোখারী (রঃ) পবিত্রতা, আমল এবং উপযুক্ত প্রমাণের উপর নির্ভর করিয়াছেন। কোন হাদীসের ব্যাপারে নির্ভূল প্রমান পাওয়া না গেলে কিম্বা প্রমণের নির্ভূলতায় কোনরূপ সন্দেহ থাকিলে তিনি তাঁর গ্রন্থে উক্ত হাদীস সন্নিবেশ করা হইতে বিরত থাকিয়াছেন।’ (বাংলায় বোখারী শরীফ, পৃষ্ঠা-৯)

এবার বোখারী শরীফের বিরোধীতায় মোহাম্মদ আব্দুল করিম সাহেব উক্ত কেতাবের সতের পৃষ্ঠায়ঃ

‘নির্দ্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগ করলে সাপের বিষ রোগ নিরাময় করে কিন্তু বিশুদ্ধ সর্পবিষ পানকারীর মৃত্যু অবধারিত। কোরআন কিংবা হাদীস হুবহু পড়ে আমল করতে গেলে সে রকম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। আমলের জন্য প্রয়োজন ফেকাহ্ শাস্ত্র। ফোকহবিদগণকে আল্লাহ উপযুক্ততা দিয়ে পাঠিয়েছেন। কোরআন এবং হাদীস অধ্যয়ন করেই ফেকাহবিদগণ বিধান দিয়েছেন। কারুর যদি ইমাম গণের চেয়ে বেশী প্রজ্ঞা করে ইমাম আজম আবু হানিফার মেধা, জ্ঞান, উপযুক্ততা এবং প্রজ্ঞার ব্যাপারে যিনি সন্দিহান তাঁর জন্য করুনা হয়।’

ইমাম আবু হানিফা (রঃ), ইমাম মালিক (রঃ), ইমাম শাফেয়ী (রঃ) এবং ইমাম হাম্বলী (রঃ) কেহই মাযহাবী ফিকাহ প্রতিষ্ঠা করেন নি। দেখুন সংক্ষিপ্ত ইসলামিক বিশ্বকোষ’ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৬৮। ইমাম আবু হানিফা (রঃ) এর লিখা কোন ফিকার কেতাব পৃথিবীর কোথাও নেই।

৩) বাংলায় বুখারী শরীফের সম্পাদক অধ্য এম. এ জলিল সাহেব বুখারী শরীফের প্রশংসায় বলেনঃ ‘মুসলিম জাহানে বোখারী শরীফখানী হাদীস গ্রন্থ সমুহের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় এবং কোরআন মজিদের পর বিশুদ্ধতম কেতাব হিসাবে সুপরিচিত ও পরিগণিত। হযরত আবু আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বোখারী ওরফে ইমাম বোখারী (রঃ) দীর্ঘ ১৬ বৎসর পরিশ্রম করিয়া বোখারী শরীফ সংকলন করিয়াছেন। (বাংলায় বোখারী শরীফ, পৃষ্ঠা-১৩)

এবার বোখারী শরীফের বিরোধীতায় উক্ত বইয়ের চৌদ্দ পৃষ্ঠায় অধ্য এম. এ জলিল সাহেবঃ
‘হানাফী মাযহাবভুক্ত ভাইদরে খেদমতে একটি কথা আরজ করতে চাই। আমল সম্পর্কিত হাদীস সমূহে হানাফী মাযহাবের খেলাফ কোন হাদীস পাওয়া গেলে সেই ক্ষেত্রে হানাফী ফেকাহর কেতাব দেখিয়া নিবেন অথবা পন্ডিত ওলামাদের সহিত পরামর্শ করিয়া উক্ত বিষয়ের ফয়সালা জানিয়া নিবেন।’
কোরআন ও হাদীস পড়ে তা যদি মান্য করা হয় তা হলেতো মাযহাবী ইমামের নীতি বিরোধী কাজ হয়ে যাবে, তাই মাযহাবী ইমামগণের এ পরামর্শ। সে কারনেই হয়তো মাদ্রাসার ছাত্রদের কোরআন জানা ও বুঝা কোন সময়ই তাদের ভাগ্যে জুটে না। তারা শুধু ফেকাহ নিয়েই থাকেন।

এই চারজন ঈমাম কি তাদের নামে মাযহাব তৈরী করতে বলেছিলেন?

আসুন সংক্ষেপে শ্রদ্ধেয় ঈমামগণের জন্ম মৃত্যুর সনগুলো জানার চেষ্টা করি।
আসুন জেনে নেই এই চারজন ইমামের জন্ম ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানঃ
০১) ইমাম আবু হানিফা (ইরাকের কুফা শহর)
জন্ম – ৮০ হিঃ মৃত্যু- ১৫০ হিঃ
০২) ইমাম মালেক (মদীনা শরীফ)
জন্ম- ৯০ হিঃ মৃত্যু- ১৭৯ হিঃ
০৩) ইমাম শাফেয়ী (মক্কা শরীফ)
জন্ম- ১৫০ হিঃ মৃত্যু- ২০৪ হিঃ
০৪) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল(বাগদাদ)
জন্ম- ১৬৪ হিঃ মৃত্যু- ২৪১ হিঃ

যে সনে ইমাম আবু হানিফা মারা গেলেন সেই সনে ইমাম মালেকের জন্ম। এই দুজনের সাথে দেখা হয় নাই। মাযহাব হয়েছে ৪০০ হিজরিতে। ইমাম আবু হানিফার মৃত্যুর ২৫০ বছর পরে!

আসুন আমরা ইতিহাসটা একটু পর্যাবেক্ষন করিঃ

ক্বোরআনের আয়াত সসূহ নাজেল হওয়ার সংগে সংগেই তা মুখস্থ করা ও যথারিতি লিপিবদ্ধ করিয়া সংরণ করা হইয়া ছিল। কিন্তু রসুলুল্লার (সাঃ) সমস্ত হাদীস সংগে সংগেই লিপিবদ্ধ করা হয় নাই। বিশেষ বিশেষ হাদীস রাসুলুল্লার (সাঃ) এর নির্দেশ ক্রমে অবশ্য লিখে রাখা হইতো। সব হাদীসই সাহাবাগণ মুখস্থ করিয়া রাখতেন। রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মৃত্যুর পরেও বহুদিন অনুরূপ ভাবে হাদীস মুখস্ত রাখার রীতি চালু ছিল।
১০১ হিঃ সনে দামেস্কের খলীফা ওমার ইবনে আঃ আজিজের নির্দেশে মক্কা, মদিনা সহ মুসলীম জাহানের সবত্র হাদীস সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার ধুম পড়ে। সংগৃহিত হাদীসগুলি গণনা করিয়া দেখা যায় উহার সংখ্যা প্রায় ১২ ল ছিল। দুষ্টু লোকেরা অসংখ্য মিথ্যা ও জাল হাদীস তৈরী করিয়া রসুলুল্লাহর হাদীস বলিয়া চালাইয়া দেয়।

১০১ হিঃ হইতে ২২০ হিঃ পর্যন্ত ফেকা শাস্ত্রবিদ ১০/১২ জন আলেম বা ইমামগণ ঐ প্রমানহীন হাদীস সমূহের উপর নির্ভর করিয়াই নিজ নিজ ফেকা তৈরী করেন। ইমাম সাহেবদের মৃত্যুর পরে তাঁদের ভক্ত অনুরাক্তগণ নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন মসলা ও ফতোয়া লইয়া আপোষে দলা দলীর সূত্র পাত করে। ফলে, পরবর্তী কালে ইসলামের শত্রুদের প্ররোচনায় ভিন্ন ভিন্ন নামে এই মাজহাব আত্মপ্রকাশ করে।

মাযহাবী ঝগড়াই যে মুসলিম সমাজের পতনের আসল কারণ একথার ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। মাযহাবের অনুসারীগণ অস্বীকার করলেও ইতিহাস কোন দিন তা অস্বীকার করবে না। এই মাযহাব পন্থীদের গোঁড়ামি, ঝগড়া-বিবাদ আর হঠকারিতার ফলেই যে তাতারীরা সুযোগ পেয়ে মুসলিম সম্রাজ্য ধবংশ করেছিল, নিযামিয়া ইউনিভারসিটি ভেঙ্গে চুরমার করেছিল, সাড়ে পাঁচশত বছরের সঞ্চিত দূর্লভ গ্রন্থরাজী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, চল্লিশ লক্ষ মুসলমান নর-নারীকে কতল করেছিল-একথা ইতিহাসের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে রয়েছে। রাসায়েলে কুবরার ২য় খন্ডের ৩৫২ পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছেঃ
পূর্বদেশগুলোয় তাতারীদের যে প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার কারণ হলো মাযহাব নিয়ে ফির্কা পরস্তদের অতি মাত্রায় গন্ডগোল। ইমাম শাফেয়ীর সাথে যারা সম্পর্ক রাখে তারা যারা ইমাম আবু হানিফার সাথে সম্পর্ক রাখে তাদের উপর ভীষনভাবে বিদ্বেষ পরায়ণ, এতদূর পর্যন্ত যে তারা হানাফীদেরকে ইসলাম থেকেই খারিজ করে রেখেছে। আমার হানাফীরাও নিজেদের মাযহাবের অন্ধ গোঁড়ামির দরুন শাফেয়ীর প্রতি বিদ্বেষ পরায়ণ। এমনকি তাদেরকেও হানাফীরা ইসলাম থেকে খারিজ করে রেখেছে। আবার ইমাম আহমদের সাথে যারা সম্পর্ক রাখে তারাও মুসলমানদের অন্যান্য মাযহাবের উপর ভীষন চটা। ঐরূপ পশ্চিম দেশগুলোর ইমাম মালেকের সাধে যারা সম্পর্ক রাখে তারাও নিজেদের মাযহাবের অন্ধ গোঁড়ামির দরুন অন্যান্য মাযহাবের লোকদের প্রতি বিদ্বেষ-পরায়ণ, আর অন্যান্য মাযহাবপন্থিদের মালেকীদের উপারও কম নয়। (রাসায়েলে কুবরা ২য় খন্ড ৩৫২পৃঃ)

শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী তাঁর ইযালাতুল খাফা গ্রন্থে লিখেছেনঃ বনী উমাইয়াদের শাসনের অবসানকাল (১৫০ হিঃ) পর্যন্ত কোন মুসলমান নিজেকে হানাফী শাফেয়ী বলতেন না। স্ব-স্ব গুরুজনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহর ব্যাখ্যা করতেন। আব্বাসী খলিফাদের শাসন যুগের মধ্য ভাগে প্রত্যেকেই নিজের জন্য একটি করে নাম নির্দিষ্ট করে বাছাই করে নিলেন। আর আপন গুরুজনের কথা না পাওয়া পর্যন্ত কুরআন ও হাদীসের নির্দেশ পালন করার নীতি বাদ দিয়ে দিলেন। কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা নিয়ে যে মতভেদ দেখা দিয়েছিল, এখন সেই মতভেদ মাযহাবের বুনিয়াদে পরিনত হলো। আরব রাজত্বের অবসানের পর (৬৫৬হিঃ) সুললমানগণ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেন, প্রত্যেক নিজ নিজ মাযহাবের যতটুকু খেয়াল রাখতে পেরেছিলেন-তাকেই ভিত্তিরূপে গ্রহণ করলেন। আর যা পূর্ববর্তীদের কথার দ্বারা পরিকল্পিত হয়েছিল, এখন তা আসল সুন্নারূপে গৃহীত হলো। এদের বিদ্যা হচ্ছে এক অনুমানের উপার আর এক অনুমান, এক পরিকল্পনার উপর আর এক পরিকল্পনা। আবার সেই অনুমানকে গ্রহণ করে আর এক অনুমান। এদের রাজত্ব অগ্নিপূজকদের ন্যায়, তফাৎ শুধু এটুকু যে, এরা নামায পড়ে, কলেমা উচ্চারণ করে।

২২০হিঃ হইতে ন্যূন্যাবিধ ৩০০হিঃ পর্যন্ত উক্ত সংগৃহিত হাদীস মসূহকে যাচাই বাছাই করিয়া রসূলুল্লাহর খাঁটি হাদীসগুলি বাহির করিয়া সংরক্ষণ করার উদ্যোগ চরম জোরদার হয়। ফলে সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম, আবুদাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ ও ইবনে মাজা এই ছয়খানা ছহিহ হাদীসের কেতাব যথারীতি লিপিবদ্ধ হইয়া রসূলূল্লাহর রেখে যাওয়া সহি হাদীসগুলি সুসংরক্ষণের ব্যবস্থা হয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয় পূর্বে সৃষ্ট দল বা মাযহাবগুলি এই সহি হাদীসের প্রতি আকৃষ্ট না হইয়া তাহাদের নিজ দলের প্রাধান্য বৃদ্ধির কাজে লিপ্ত থাকে। পরবর্তী কালে মালেকী ও হানাফী মাযহাবের লোকদের মধ্যে মাযহাবী কোন্দল লইয়া বাগদাদেও অনরূপ ভিন্ন ভিন্ন মাযহাব পন্থিদের মধ্যে বহু স্থানে রক্তয়ী সংঘর্ষ হয়।

অতঃপর ৮০৯ হিজরিতে কাবার ইব্রাহিমী মুসাল্লাতে দাঁড়াইয়া ইমামতি লইয়া ১০/১১টি মাযহাবী দলের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বাঁধে। তাহাতে বহু মুসলমান হতাহত হয়। জাহল বাদশা ফারহা ইবনে বয়কুফ সংঘর্ষ মিটাবার উদ্দেশ্যে বিবাদরত দলগুলির মধ্যে হইতে চারটি দলকে কাবার চার পার্শ্বে খাড়া করিয়া দিলেন। অন্যান্য দল এই চার মাযহাবের মধ্যে মিশিয়া গেল। ফলে কাবাঘরের চার কোণে চার মাযহাবের চারখানা ভিন্ন ভিন্ন মুসাল্লাহ তৈরী হইল। প্রতি ওয়াক্তে চার মাজহাবের চার ইমাম চার মুসাল্লায় দাড়াইয়া পর্যায়ক্রমে নামাজ আদায় করিতে থাকেন। এই নিয়ম প্রায় ৫০০ বৎসর পর্যন্ত চালু থাকে। এই ভাবে এক ইসলামের মধ্যে জাহেলিয়াত ঢুকিয়া নুতন চার মাযহাবের সৃষ্টি করে।

এই দলাদলির বাইরে একটি দল যাহারা সাহাবাদের ন্যায় কোরআন ও রাসূলুল্লাহর (সাঃ) এর সহিহ হাদীসের অনুসরণ ও আনুগত্য করিয়া আসিতেছিলেন তাহারা মযহাবের কোনটিতেই যোগদান করেন নাই। পরবর্তীতে এই দলের মধ্য হইতে বাদশা ইবনে সোউদ ১৩০০হিঃ তে আরবদেশ দখল করেন এবং ১৩৩৩ হিঃ সনে হজ্জের পরে বিশ্বমুসলিম উলামা সম্মেলন এর অনুষ্ঠান করেন। ঐ সম্মেলনে বিশ্বের সর্বদলীয় যোগ্য আলেমদের দাওয়াত দেন। এই সম্মেলনে কোরআন ও সহি হাদীস হইতে ফতোয়া লইয়া সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত লওয়া হয় যে, এক কাবাঘরে একাধিক মুসাল্লাহ তৈরী হওয়া চরম জাহেলী ও ইসলাম বিরাধী কাজ। ফলে ১৩৩৩ হিঃ তে ঐ ৪ মুসাল্লাহ ভাংগিয়া দিয়া ইব্রাহিমী মুসাল্লাতে দাড়াইয়া এক ইমামের ইমামত কায়েম হইয়াছে।
এক ইসলামকে বিভিন্ন দলে বা মাযহাবে বিভক্ত করার নীতি বাতিল করিয়া ‘ইসলাম এক ও অবিভাজ্য’ এই নীতিই প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। যাহারা এই তথ্য জানে না তাহারাই কেবল মধ্যযুগে বা জাহেলী যুগে তৈরী মাযহাবকে ‘মাযহাব মানা ফরজ, ওয়াজিব বা মুস্তাহাব’ বলিয়া আত্মতৃপ্তি লাভ করে।

মাযহাব অর্থ চলার পথ। ইহাই সঠিক অর্থ। কিন্তু মাযহাবীদের মতে মাযহাব অর্থ মত ও পথ। এই অর্থে দুনিয়াতে যত মত ও পথ আছে সবই মাযহাব। তারা বলেন, ইমাম আবু হানিফার মত ও পথ হানাফী মাযহাব। ইমাম মালেকের মত ও পথ মালেকী মাযহাব। ইমাম শাফেয়ীর মত ও পথ হল শাফেয়ী মাযহাব। আর ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল এর মাত ও পথ হল হাম্বলী মাযহাব। আর সকলের মত ও পথের চেয়ে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মত ও পথ যে অতি উত্তম ও উৎকৃষ্ট মত ও পথ এই কথা কোন মুসলমানকে বলে দিতে হবে না। কাজেই সকলের মত ও পথ পরিহার ও পরিবর্জন করে পথ-দিশারী মহানবীর মহাপবিত্র মত ও পথেই আমাদেরকে চলতে হবে। অন্য কারো মত ও পথে চলার কোন নির্দেশ আল্লাহর তরফ থেকে নেই। যে সকল ইমামদের নামে তাদের ভক্তরা মাযহাব তৈরী করেছেন এ সকল ইমামদের জন্মের আগে কোন মাযহাব ছিল না, তাঁদের জামানায়ও মাযহাব হয় নাই। মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে তাঁদের মৃত্যুর বহুদিন পরে।

আসুন নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সেই হাদীসটির পর্যালোচনা করিঃ

রাসূল (সঃ) বলেছেন, “ওহে, অবশ্যই যারা তোমাদের পূর্বে ছিল তারা ৭২ দলে বিভক্ত ছিল এবং অবশ্য্ই আমার এই উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। ইহাদের সকল দলই দোযখে যাবে এক দল ব্যতিত। সাহাবা (রাঃ) জিজ্ঞেসা করলেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ, সেটি কোন দল? নবী (সঃ) বললেন, ” আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার উপর আছি, তার উপর যারা থাকবে।”
(তিরমিজী ও আবু দাউদ, রেওয়ায়েতে মেশকাত শরীফ ১ম খন্ড, হাদীস নং- ১৬৩)

হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) তাঁর “৭৩ ফিরকার বিবরণ” গ্রন্থে সমগ্র মুসলিমগণকে প্রথমতঃ ১০ ভাগে বিভক্ত করেছেন, যথাঃ ১) আহলে সুন্নাত, ২) খারিজী, ৩) শীয়াহ, ৪) মুতাজিলা, ৫) মুরজিয়া, ৬) মুশাব্বিয়া, ৭) জাহমিয়া, ৮) জারারিয়াহ, ৯) নাজ্জারিয়া এবং ১০) কালাবিয়াহ।

তিনি তার বইয়ে আরো লিখেছেন, উপরোক্ত দলগুলির মধ্যে মুক্তি পাওয়ার যোগ্য দল হল আহলে সুন্নাত কারন একমাত্র এরাই কুরআন ও সুন্নাহ অবলম্বন ও অনুসরণ করে থাকেন এবং প্রমাণস্থলে কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।

অন্য ৯টি দল হতে ৭২টি উপদল বা ফিরকার সৃষ্টি হয়েছে। এ দলগুলো সাহাবাদের বহু জামানার পর সৃষ্টি হলেও কোন কোন সাহাবাদের জীবদ্দশায় দু একটি বিদ’আত সূত্রপাত হয়েছিল। সাহাবাগণও সূত্রপাতের সঙ্গে সঙ্গেই ঘোর প্রতিবাদ করেছেন।

হযরত আব্দুল কাদের জিলানী তাঁর উপোল্লিখিত গ্রন্থে উক্ত নয়টি দল যে বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে সেগুলির নাম উল্লেখ করেছেন নিম্নোক্ত ভাবেঃ

দল দলের নাম দল/উপদলের সংখ্যা
১ম খারেজী ১৫
২য় শিয়া ৩ দলে বিভক্তঃ
(১) ১২
(২) ৬
(৩) ১৪
৩য় মুতাজিলা ৬
৪র্থ মুরজীয়া ১২
৫ম মুশাব্বিয়া ৩
৬ষ্ঠ জহমিয়া বা জবরিয়াহ ১
৭ম জরারিয়াহ ১
৮ম নজ্জারিয়অহ বা ছেফাতিয়াহ ১
৯ম কালাবিয়াহ ১

মোট= ৭২ উপদল বা ফিরকা

হানাফী মাযহাব হচ্ছে মুরজীয়া ১২ উপদলের মধ্যে একটি।

উপরোক্ত তথ্যবহুল বইটি পড়ার পরে যখন জানলাম ইসলামে দলাদলি ঠিক নয় তখন থেকে নিজেকে হানাফী না বলে মুসলমান বলা শুরু করলম।
আসুন আমরা নিজেদের মুসলমান বলে এক ইসলামের সুশীতছায়ার নীচে আশ্রয় গ্রহন করি। কারো প্রতি বিদ্বষ পরায়ন না হয়ে সঠিক আকিদার সন্ধানে নেমে পড়ি।
আমাদের ভুলগুলো শুধরানোর তৌফিক আল্লাহ পাক আমাদের দান করুন। আমীন……………….

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৬,৫১১ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৪.৫০)

১৫ টি মন্তব্য

  1. মাযহাবের একনিষ্ঠ অনুসারী হওয়ার অর্থ এটা নয় যে, মাযহাবের ভুল থাকলেও সকল বিষয়ই চোখ বুঝে মেনে নিতে হবে। বরং ঈমানের দাবি হলো, যে সকল মাসয়ালা সুন্নতে রাসূল (সঃ) এর অনুকূলে তা গ্রহণ করা, আর যা এর পরিপন্থী তা বর্জন করা ও সংশোধনের চেষ্টা করা।</strong

    একমত।

  2. ১০১ হিঃ হইতে ২২০ হিঃ পর্যন্ত ফেকা শাস্ত্রবিদ ১০/১২ জন আলেম বা ইমামগণ ঐ প্রমানহীন হাদীস সমূহের উপর নির্ভর করিয়াই নিজ নিজ ফেকা তৈরী করেন।

    সহমত।

  3. হানাফী মাযহাব হচ্ছে মুরজীয়া ১২ উপদলের মধ্যে একটি।

    কথাটি মনে হয় সত্য নয়। এ ক্ষেত্রে আমি তুষার নিকের একটি পোষ্ট “বাতিল ফেরকাহ” তে মরজিয়্যাহদের কুফুরী মূলক আক্বীদার যে বিবরন দেওয়া হয়েছিলো তার সাথে হানাফী মাজহাব অনুসারীদের আক্বীদার মিল খুজে পাইনি। আপনার সুবিধার্থে নিচে তাদের আক্বীদাহ গুলো পেশ করলাম।

    মরজিয়্যাহ ফিরক্বাহ আক্বীদাঃ
    মরজিয়্যাহ সম্প্রদায়ের কূফরীমূলক আক্বীদা হলঃ
    (১) একবার কালিমা শরীফ পাঠ করে ঈমান আনার পর হাজার কুফরী-শেরেকী করলেও ঈমান নষ্ট হয়না।
    (২) শুধু ঈমান আনলেই হয় আমলের কোন প্রয়োজন নেই।
    (৩) ঈমান বাড়েও না কমেও না।
    (৪) সাধারণ মানুষ, ফেরেস্তা ও নবী-রসূলদের মর্যাদা সমান।

    উপরোক্ত তথ্যবহুল বইটি পড়ার পরে যখন জানলাম ইসলামে দলাদলি ঠিক নয় তখন থেকে নিজেকে হানাফী না বলে মুসলমান বলা শুরু করলম।

    অনেক ভালো কাজ করেছেন। অবশ্য আমি কখনও নিজেকে হানাফী মাজহাবী বলে পরিচয় দেইনি। প্রথমে আমি একজন মুসলমান। কেউ যদি বলতো মাজহাব এর কথা জিজ্ঞেস করতো তখন বলতাম যে “হানাফী মাজহাব”। মজার কথা হলো বলার সময় আমার কখনও একথা একবারও মনে হতো না যে আমি ইসলামকে বিভক্ত করছি। মানুষ কেন একথা মনে করে আল্লাহ মালুম।

    যাই হোক আমার প্রশ্ন হলো যেহেতু আপনি এই পোষ্টটি দিয়েছেন আশা করি এই পোষ্টের কথা গুলোও আপনি বিশ্বাস করেন। কিন্তু আপনার নিকট আমার প্রশ্ন হলো যেঃ

    হানাফী মাযহাব হচ্ছে মুরজীয়া ১২ উপদলের মধ্যে একটি। এই কথাটি আপনি কতটুকু বিশ্বাস করেন? এক কথায় হানাফী মাজহাবকে “বাতিল ফেরক্বাহ” বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করা কি উচিৎ হবে?

    শাহরিয়ার

    @দ্য মুসলিম, আমারও কথাটা শুনতে খারাপ লাগছে যে আমাদেরকে ৭২ দলের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। তবে আমরা যারা এই চার মাযহাবের অনুসারি তাদের রয়েছে চার রকমের মত সুতরাং নিরপেক্ষ ভাবে বলা যায় যে এরা ৭২ দলেরই কোন একটি হবে। “ঈমান বাড়েও না কমে ও না” এই বক্তব্যটা স্বয়ং ঈমাম আবু হানীফার। যাই হোক উনি কোন প্রেক্ষিতে কথাটা বলেছিলেন তাহা বলতে পারব না। প্রসংগ ছাড়া কথা বলা ঠিক নয়।
    রসূলুল্লাহ (সঃ) এর ভাষ্যমতে সঠিক দল একটা, তাহলে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, এই চারদলের মধ্যে সেই দল কোনটা? চারদল নিশ্চয়ই সঠিক না; যে কোন একদল সঠিক। কিন্তু সেই দলটি কারা?

    আমি নাসিরুদ্দীন আলবানীর “যয়ীফ হাদীস সিরিজ” বইগুলো পড়েছি। যেখানে দেখতে পেয়েছি আমারা অনেক কিছু অনুসরন করছি যয়ীফ হাদীস অনুযায়ী। যদি সত্যই নাসিরুদ্দীন আলবানীর বইটা সকল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পায়।
    আল্লাহ ভাল জানেন।

  4. যাই হোক মতভেদ গুলো বাদ দিলে আপনার পোষ্টটা পড়ে সত্যিকার অর্থে অনেক কিছু শিখতে পারলাম। আপনার কাছ থেকে আরও জ্ঞান গর্ভ আলোচনা আশা করছি। আবারো ধন্যবাদ। (F)

  5. ইসলামে বিভিন্ন মাযহাব, বিভিন্ন ত্বরিকা, বিভিন্ন দল, বিভিন্ন পথ ও মত পন্থীদের প্রতি আল্লাহ তা’আলার কঠোর হুসিয়ার

    সহমত। আমাদের পরিচয় একতাই হওয়া উচিত, তা হচ্ছে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের পরিচয়, আল-কুরান এবং সহিহ হাদীসের পরিচয়। আমরা আল্লাহর এবং আল্লাহর রাসুলের অনুগত্য করি আর কারো নয় যেমনটি আল্লাহ আলকুরানে বলেছেন।

    আল্লাহ আলকুরানে আরো বলে দিয়েছেনঃ আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত হাতে ধারন কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্য হয়ো না। তাই আমাদের উচিত একত্রিত হওয়া আর সেই একতা হতে হবে অবশ্যই আল-কুরান এবং সহিহ হাদীস সম্মত একতা। আর আল্লাহ বলে দিয়েছেন হত্য এসেগেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, মিথ্যাতো বিলুপ্ত হওয়ারই ছিলো।

    আর এই সত্যকে আনতে হলে সবাইকে সচেতন করতে হবে, আমাদের মধ্যে হবে বিভিন্ন আলোচনা, যুক্তি তর্ক ইত্যাদি । তা ছারা সম্ভব নয় সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। আর আমাদের যুক্তি তর্ক হওয়া উচিত আল-কুরান এবং সহিহ হাদীস সম্মত। এর বাহিরে কারো যুক্তি তর্ক গ্রোহনযোগ্য নয়। অন্ধভাবে যদি কাউকে বিশাস করতে হয় তা শুধু আল্লাহপাক কেই আর অন্য কাউকে নয়।

    আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। :)

  6. হানাফী মাযহাব হচ্ছে মুরজীয়া ১২ উপদলের মধ্যে একটি।
    এর দলীল কোথায় ?

  7. @শাহরিয়ার ভাই,

    আপনাকে একটি প্রশ্ন , মনে করুন মাজহাবের কোনো একটি মাসআলা সঠিক কিনা আমি জানতে চাই । এর জন্য কি ধরনের পদ্ধতি আমাদের অনুসরন করতে হবে ? এবং মাজহাবের কোনো দলীল শক্তিশালী বা দুর্বল কিনা সেটা প্রমান করার জন্য কি কি বিষয়ে পড়াশুনা থাকা উচিত কিংবা বলতে পারেন কি ধরনের যোগ্যতে একজন আলেমের থাকে উচিত ?

    শাহরিয়ার

    @হাফিজ,সহীহ হাদীস যেমনঃ বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা মালেক (প্রথম শ্রণীর) এগুলো পড়লে অনেকটা জানা যায়। তবে হাদীসের ব্যাখ্যা না পড়ে মূল হাদীস পড়লে ভাল হবে কারন এক এক মাযহাব তার সুবিধামত হাদীসের নীচে টিকা দিয়েছেন। এসকল আলেমরা নিজেদের দল ও মতকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সহীহ হাদীসের বারোটা বাজিয়েছে। আর যদি নিরপেক্ষ ভাবে জানতে চান কোন হাদীস দুর্বল/যয়ীফ তাহলে জগৎ বিখ্যাত মুহাদ্দেস নাসিরুদ্দীন আলবেনীর “যয়ীফ হাদীস সিরিজ” গুলো দেখতে পারেন। দেখবেন আমরা কত কামজোর।
    আপনাকে বা আমাকে বড় আলেম হতে হবে না, যানারা জগৎ বিখ্যাত মুহাদ্দেস তাদের বই পড়লেই জানা যাবে। কারন ওনার বইয়ে উনি প্রমান করেছেন কেন হাদীসটা যয়ীফ; কি তার সঠিক কারন। আমাদের মত ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে যা কোনদিন সম্ভব নয়। এমনকি টুপি পরা হুজুরগণও পারবেন না।

  8. শাহরিয়ার ভাই,

    একটি পোস্ট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে লেখা উচিত । আপনার পোস্ট পরে আমি বুঝছি না আপনি আসলে কি বিষয়ে লিখতে চাচ্ছেন । আপনি কি বিভিন্ন দল উপদল নিয়ে লিখছেন ? আপনি কি মাজহাব লা মাজহাব নিয়ে লিখছেন ?

    ৭৩ দল যেটা বলা হয় সেটা আকীদা সংক্রান্ত বিভেদ । আর ৪ মাজহাব সেটা হলো আমল সংক্রান্ত বা ইসলামিক জুরিসপ্রডেন্স যেটা বলা হয় , মাসআলাগত সমাধান । আপনি কি দুটোকে এক করে দেখেন ? দুটো তো আকাশ পাতাল জিনিস ।

    শাহরিয়ার

    @হাফিজ, প্রথমত আমি বুঝাতে চেয়েছি- কোরআন বলছে আমাদের দলাদলি করা উচিত নয় এবং আমাদের একত্র থাকা উচিত।
    দ্বিতীয়ত- যাদের নামে মাযহাব তৈরী করা হয়েছে তাঁরাতো তাদের মৃত্যুর পর এটা তৈরী করতে বলেন নাই। তাই তাদের জন্ম
    মুত্যুর পরিসংখ্যানটা উল্লেখ করেছি এবং ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত একটা বর্ণনা দিয়েছি যা আলোচনার খাতিরে।
    তৃতীয়ত- আমাদের হুজুররা কেন আমাদের সহীহ হাদীস অনুসরণ করতে নিষেধ করেন? যেখানে রাসূল বলেছেন তোমরা
    দু’টো জিনিসের অনুসরণ করবে ০১) আল কোরআন এবং ০২) সহীহ হাদীস। আমাদের মাযহাবের বহু আলেমদের
    কাছে গিয়েছি, সবার যেন একই কথা; সহীহ হাদীস পড়ে আপনি কোন সিদ্ধান্ত নিতে যেয়েন না তাহলো পথভ্রষ্ট হয়ে
    যাবেন। অথচ আমার বিবেক বলে, সহীহ হাদীস অনুসরণ করলেই আমরা সঠিক পথের সন্ধান পাবো। কোন হাদীসের
    প্রমান দেখতে চাইলে বলে, ফেকাহয়ের কিতাবই আমাদের প্রমান এবং এটাই আমাদের মাযহাবের সংবিধান।
    আর একটু বেশী জানতে চাইলে রাগ করে। আমাদের সবার মাঝে এই মানসিকতা কেন? আমাদেরকে হুজুররা সব
    সময় বুঝায় এত জানা ঠিক নয়। আমরা যা করছি তাহার অনুসরণ করুন। ঠিক একই কথাগুলো বইয়েও লিখে
    থাকেন। তার একটা প্রমান দিয়েছি বাংলার বোখারীর সম্পাদকের একটা বক্তব্য টেনে এনে।
    চতুর্থত- মুসলমানদের এহেন মন মানসিকতাই আমাদেরকে বিভিন্ন দল আর উপ-দলে বিভক্ত করেছে। আমাদের আমলগুলি
    কেন বিভিন্ন রকম হবে? আকীদা থেকেই সৃষ্টি হয় আমলের তাই সবার আকীদা এক থাকা উচিত নয় কি? আকীদা
    এবং আমল একটা আরেকটার সহায়ক। প্রথমে আপনাকে আকীদা বা বিশ্বাস আনতে হবে তারপর তার উপর আমল।
    সুতরাং এদু’টো কখনো আকাশ পাতাল পার্থক্য নয়। যেমন ধরুন আমার ইসলামের প্রতি যদি আকীদা না আসে
    তাহলে আমি কখনোই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ব না। আমল হল আকীদরা পরের স্থান।
    পঞ্চমত- আমার লেখা মাযহাব বা লা-মাযহাব নয়, আলোচনার জন্য যত টুকুর প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই লিখেছি। উদ্দেশ্য
    একটাই, তা হলো সবাইকে এক তাওহীদে বিশ্বাস স্থাপন করানো। মাযহাবী বা লা-মাযহাবী নিয়ে তর্ক না করে
    সঠিক পথ অনুসরণ করা। আমরা আমাদের আকীদা ও আমলকে যেন তুচ্ছ বলে মেনে না নেই। সঠিক পথের
    সন্ধানে নামতে হলে প্রথমেই এই ফিরকার বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে হবে। যুক্তি তর্কের মাধ্যমে সঠিক জিনিসটাকে
    খুঁজে বের করতে হবে। আব্দুল হাফিজ পাঠানের মত সাহসী কন্ঠে বলতে হবে, “মাযহাব মানে ভুল জিনিসটাকে মেনে
    নেওয়া নয়” মাযহাব মানে- সঠিক ও সহীহ হাদীস মোতাবেক জীবন গড়া।

    হাফিজ ভাই, অনেক জ্ঞনী আমি নই আপনাদের মতো। এই অধমের জন্য দোয়া করবেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন যেন আমরা সবাই হীনমণ্যতা,পারষ্পারিক হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বের হয়ে সঠিক, এক ও অভ্রান্ত পথে চলতে পারি এবং কাল কেয়ামতের মায়দানে যেন নবী আমাদের বলতে না পারে “দুর হও পথভ্রষ্টের দল, আমি তোমাদের চিনি না। তোমরা নিজ নিজ দল ও মত অনুযায়ী চলেছ, দুনিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছ, আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করে স্ব-রচিত বিধান অনুসারে চলেছ, দুর হও তোমরা দুর হও।”
    আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন, আমীন……………

    জ্ঞানান্ধ

    @শাহরিয়ার,

    হাফিজ ভাই, অনেক জ্ঞনী আমি নই আপনাদের মতো। এই অধমের জন্য দোয়া করবেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন যেন আমরা সবাই হীনমণ্যতা,পারষ্পারিক হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বের হয়ে সঠিক, এক ও অভ্রান্ত পথে চলতে পারি এবং কাল কেয়ামতের মায়দানে যেন নবী আমাদের বলতে না পারে “দুর হও পথভ্রষ্টের দল, আমি তোমাদের চিনি না। তোমরা নিজ নিজ দল ও মত অনুযায়ী চলেছ, দুনিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছ, আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করে স্ব-রচিত বিধান অনুসারে চলেছ, দুর হও তোমরা দুর হও।”
    আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন, আমীন……………

    (Y) মারহাবা! মারহাবা!শাহরিয়ার ভাই এগিয়ে চলুন,আমিও আছি আপনার সাথে।(F)

  9. সঠিক পথেই আছেন। নিজের বুদ্ধি বিবেচনা কে এভাবেই ব্যবহার করুন। সঠিক পথ অবশ্যই পাবেন ইনশাল্লাহ।
    সত্য জানার চেষ্টা ও আইভি আপার একটি লিখা পোস্ট টি পড়ুন ও চিন্তা করুন।

  10. একজন মুসলমান হিসেবে আমরা মনে করি অন্য ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সত্যকে জানার চেষ্টা থাকা উচিত এবং গোঁড়ামী পরিহার করা উচিত। এতে করে তারা হয়তো ইসলামের শ্বাশত আহবান অনুধাবন করতে পারবে। কিন্তু সত্য হলেও দু:খজনক যে, আমাদের মাঝেই অনেক গোঁড়ামী লক্ষ্য করা যায় এবং পুরনো বোধ বিশ্বাসকে আঁকড়ে থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

    মুসলমানদের আজকের এই দুর্দশার অন্যতম কারন বিভিন্ন দলে বিভক্তি; তা’ যেকোনো যুক্তির বিচারেই হোক না কেন (সকলেরই নিজস্ব অবস্থানের স্বপক্ষে যুক্তি আছে) । আসুন আমরা আবার একতাবদ্ধ হই। বিধর্মীদের ষড়যন্ত্র থেকে নিজেদের মুক্ত রাখি।

    মামুন

    @Azam, একমত