লগইন রেজিস্ট্রেশন

একজন মুসলমানের কোন মাযহাব মানা উচিৎ ? শেষ পর্ব।

লিখেছেন: ' shahedups' @ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৮, ২০১১ (৪:১৪ অপরাহ্ণ)

৪. আল কোরআন নিজেদেরকে মুসলিম বলে পরিচয় দিতে বলে:
ক. কেউ যদি কোন মুসলমানকে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কে? তখন উত্তরে তার বলা উচিৎ যে, ‘আমি একজন মুসলিম-হানাফী-ও নই শাফেয়ি ও নই।
আল্লাহ বলেন-“আর তার চেয়ে কার কথা অধিক উত্তম, যে মানুষকে আল্লাহর প্রতি আহবান করে এবং নিজে সৎকাজ করে। আর বলে আমিতো একজন মুসলিম ও আত্মসমর্পনকারী।” [আল-কোরআন ৪১:৩৩]
খ. নবী (সা: ) অমুসলিম রাজা-বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে চিঠি লিখিয়ে ছিলেন। সেসব চিঠিতে তিনি সূরা আলে-ইমরানের নিচের কথাগুলো উল্লেখ করেছিলেন—“আপনি বলে দিন, ‘হে আহলে কিতাব! এসো সে কধার দিকে, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক ও অভিন্ন তাহলো, আমর যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করি। কোন কিছুতেই যেন তার শরীক সাব্যস্ত না করি। আর আমাদের কেউ যেন আল্লাহকে বাদ দিয়ে অপরকে প্রতিপালকরূপে গ্রহন না করি। অতপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলে দাও, তোমরা স্বাক্ষী থেক, আমরা মুসলমান।” [সূরা আলে-ইমরান: ৬৪]
৫. ইসলামের সুবিজ্ঞ মহান ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান:
আমাদের অবশ্যই ইসলামের সুবিজ্ঞ মহান আলেমদের প্রতি সম্মান জানাতে হবে, যাদের মধ্যে রয়েছে চার ইমাম: ইমাম আবু হানীফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং ইমাম মালিক (র: ) আল্লাহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ বর্ষন করুক। তারা ছিলেন ইসলামের জ্ঞানে সুবিজ্ঞ ব্যাক্তিত্ব। আল্লাহ তাদের জ্ঞান-গবেষনার জন্য উত্তম পোরষ্কার দান করুক। সর্ব সাধারন মানুষের মধ্যে কেউ ইমাম চতুষ্টরের মধ্যে কারো অনুসরন করলে ক্ষতি নেই যদি তাদের কথা কোরআন ও সহীহ হাদীস সম্বলিত হয়, কিন্তু তুমি কে? এ প্রশ্নের উত্তরে তাকে বলতে হবে যে, আমি একজন মুসলিম।
কেউ কেউ সুনানে আবু দাউদের ৪ ৫ ৭ ৯ নং হাদীসটির উদ্বৃতি দিয়ে যুক্তি দেখাতে পারেন যে, এ বিভক্তির কথা স্ময়ং রাসূল (সা: ) নিজে বলে গেছেন। উক্ত হাদীসের রাসূল (সা: ) এরশাদ করেছেন, আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে।
হাদীসটির মর্ম হল, রাসূল (সা: ) তার উম্মতের পরিণতি সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করেছেন যে, তার উম্মতের অবস্হা এমন হবে যে, তারা মত পার্ধক্যে জড়িয়ে পড়বে, এমনকি তারা ৭৩ তি দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। তিনি এ কথা বলেন নি যে, তাতে উম্মতকে ৭৩টি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। কোরআন মাজীদ আমাদেরকে দল-উপদল সৃষ্টি করতে আমাদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। যারা কোরআন ও সহীহ হাদীসের নির্দেশ মেনে চলে এবং দল-উপদল সৃষ্টি করে না, তারাই সঠিক সত্য পথে আছে।
তিরমিযীর ১৭১ নং হাদীস অনুসারে রাসূল (সা: ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতগণ ৭৩ দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে, এবং ১টি দল ছাড়া বাকি সব দলই জাহান্নামে যাবে। সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেই দল কোনটি হবে? তিনি উত্তরে বললেন, :সেই দলটি হবে যার মধ্যে আমি এবং আমার সাহাবায়ে কেরাম থাকবে।“
কোরআন মাযীদের বেশ কিছু আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর তার রাসূলের। একজন খাটি মুসলমানের উচিৎ হল আল্লাহর কিতাব আল-কোরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসারী হওয়া। সে যে কোন ইসলামি বিশেষজ্ঞের মত অনুসরন করতে পারে , যদি সে বিশেষজ্ঞ আল-কোরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসারী হয়ে থাকে। কিন্তু যদি তার মত আল্লাহর কিতাব ও তার রাসূলের সহীহ হাদীসের সাধে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তার মতের কোনই মুল্য নেই-এতে সে যত বড় বিশেষজ্ঞই হোকনা কেন।
যদি সকল মুসলমান কোরআনকে বুঝে পড়ে এবং সেই মূলণীতি অনুসারে রাসূলের হাদীসকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালায়, তবে ইনশাল্লাহ সকল মত পার্থক্য দূর হয়ে যাবে এবং আমরা সকলেই একটি ঐক্যবদ্ধ মুসলিম উম্মাহ হিসাবে গড়ে উঠব।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৪৭৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ১.০০)

৪ টি মন্তব্য

  1. আপনার বক্তব্য ভাল বুঝতে পারি নাই। আসলে আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন বুঝে আসে নাই। আপনি কি মাজহাব গুলো কে বিভক্তির কারন বুঝাতে চেয়েছেন। এটা তো ভ্রান্ত আহলে হাদিসের কথা। আমরা মাজহাব গুলোকে বিভক্তির কারন মনে করিনা।এই চার মাজহাব সবাই সবাইকে সম্মান করে। সবাই সবাইকে সহীহ মনে করে।এখন প্রশ্ন হল আপনি কি কোন মাজহাবের অনুসরন করেন ? নাকি ভ্রান্ত আহলে হাদীসের অনুসারি? এর পরে আপনার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করব ইনশা-আল্লাহ।

    shahedups

    @এম এম নুর হোসেন হা হা হা ভাই ভাল বলেছেন। আমার কথার মূল বক্তব্য হলো কোরান ও সহীহ হাদীসের উপর ভিত্তি করে আমল করা কোন মাযহাবের ইমামগন কি বলেছেন সেই অনুসারে নয়। কারন , প্রত্যেক মাযহাবের ইমামগন বলেছেন যে যদি তোমরা আমাদের এমন কোন কথা পাও যা কিনা সহীহ হাদীসের সাথে মিলছে না বা বিপরীত, সেক্ষেত্রে সাথে সাথে আমাদের কথা ছেড়ে দিয়ে সেই সহীহ হাদীসের উপর আমল করবে। কারন সকল সহীহ হাদীসই আমাদের মাযহাব।

    এ কথা ইমামগন বলার পরেও মানুষ আজ সহীহ হাদীস বাদ দিয়ে মসজিদের ইমামদের কথা বা মাযহাবের কথা বলে বলে ভূল-ভ্রন্তিতে ভরপূর হ্য়ে আমল করছে। তাদেরকে সত্য জানানোর জন্যই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

    রাসেল আহমেদ

    @shahedups, কোন মাসআলার ব্যাপারে যদি একাদিক সহীহ হাদীস পাওয়া যায় তাহলে আমরা কিভাবে আমল করব?

    এম এম নুর হোসেন

    @shahedups, আমার আগের প্রশ্ন গুলোর জবাব দিন। পৃথিবীর কোন জায়গা মাজহাব নিয়ে বিভক্তি হয়েছে? কোন মাজহাবে সহী হাদীস উপেক্ষা করেছে?মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে আগে নিজকে সংশোধন করুন। আপনাকে মুফতি মিজানুর রহমান সাহেবের,’ আহলে হাদীসের স্বরুপ উম্নেচন’ এবং মাজহাব কি ও কেন? বই গুলে পড়ার অনুরোধ রহিল।