লগইন রেজিস্ট্রেশন

সংঘবদ্ধ বা জামাত বদ্ধ থাকার গুরুত্ব – ১

লিখেছেন: ' shane2k' @ শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০০৯ (৫:০৫ অপরাহ্ণ)

প্রবাসে বাংলাদেশীদের সুশৃঙ্খল ও শুসংঘবদ্ধ হয়ে একে অপরের সুখ ও দুঃখের অংশীদার হবেন। একটি পবিত্র উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তারা সংঘবদ্ধ হতে পারেন। এটি হবে উন্নত আদর্শিক মূল্যবধের ভিত্তিতে। কেবল আঞ্চলিক অনুভূতি ও উদ্দীপনা দিয়ে যেসব সংগঠন গড়ে উঠেছিল সেগুলির অধিকাংশই ব্যর্থ হয়ে ঘৃণা আর বিভেদ ছড়িয়েছে। আঞ্চলিক পরিচয়কে যদি নৈতিক ও আদর্শিক প্রলেপ দিয়ে সমন্বয় করা জায় তাহলে ঘৃণা ও বিভেদ অনেকটা দূরে হয়ে জায়।

অবচেতন মন সবসময় ভাল ও মন্দ উভয় বিষয়ে স্বপ্ন, পরিকল্পনা, ভাবনা ইত্যাদি চালিয়ে জায়। কন মানুষই কেবল ভালোর সমষ্টি নয় আবার কন মানুষই কেবল খারাপের সমষ্টি নয়। পৃথিবীর সবচাইতে খারাপ মানুষটিও তার কমুনিটির জন্য কিছু করতে চায়। কিছু মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে খারাপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আবার কেউ ভাল কাজের পরিকল্পনা করে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করে। মোট কথা আপনার মনে যে ভাল চিন্তাকুল ঘুরপাক খাচ্ছে সেগুলিকে বাস্তব রূপ দিতে হলে সমমনা আর কিছু ভাল লোক নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে সেগুলি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কন বিকল্প নেই। এক ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করতে যে পরিমাণ সময় ও শ্রম বায় করে, একই কাজ ৫/১০ জন মিলে করলে কম সময়ে ও কম কষ্টে হয়ে যায়। এতে কাজের দায় দায়িত্ব ও ভার ভাগ হয়ে বোঝা হালকা হয়। ফলে আরো ভাল কাজ করার সুযোগ থাকে। এ দেখে অন্যরাও উৎসাহ বোধ করে।

বিপদে সান্ত্বনা, প্রিয়জন হারানোর শোক ও ব্যথা ভুলতে সাহায্য করা, তাতক্ষনিক প্রয়োজন পুড়নে ইত্যাদি সুবিধা কেবল সংঘবদ্ধ জীবন যাপনের মাধ্যমে পাওয়া যায়। তবে এগুলোর জন্য অবশ্যই মানুষকে একটি নৈতিক চেতনা ও আদশিক টানের ভিত্তিতে একতাবদ্ধ হতে হবে। তা না হলে বাহ্যিক চাকচিক্যময় সম্পর্ক বজায় থাকবে কিন্তু ভেতরটি হবে ফাঁকা ও অন্তঃসারশূন্য। মুসলিমদের সংঘবদ্ধ থাকার ব্যাপারে আল-কোর্‌আনে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

“তোমরা সবাই মিলে আল্লাহ্‌র রজ্জুক মজবুতভাবে আঁক্‌ড়ে ধরো, দলাদলি করনা।” (সুরা আল-ইমরান ঃ ১০৩)

সংঘবদ্ধ ভাবে হকের নির্দেশ ও অন্যায়ের নিষেধকারী দলই সফল

“তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক থাকবেই হবে যারা জনগণকে ভাল কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে; ন্যায়ের নির্দেশ দেবে ও অশথ কাজে নিষেধ করবে। যারা এ কাজ করবে শুধুমাত্র তারাই সফল হতে পারবে।” (সুরা আল-ইমরান ঃ ১০৪)

সংঘবদ্ধভাবে যারা হকের কাজ করে তারা সর্বোত্তম। ভেদাভেদ ও দলাদলি আত্মহত্যার শামিল। মুসলমানদের ইনসাফের ভিত্তিতে একতাবদ্ধ হয়ে আল-কোর্‌আনের অনুসরণে জীবন যাপন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ জীবন যাপনের নমুনা মদীনার সমাজে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সহকারে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে। বিশিষ্ট সাহাবী দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রাঃ) বলেছেন ঃ সংঘবদ্ধ থাকা ছাড়া ইসলাম নেই।

অতএব জাগতিক উন্নতি ও আর্থিক-নৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন উভয় কারণে আপনাকে সংঘবদ্ধ হতে হবে। সংঘবদ্ধ জীবনের পরস্পর পরস্পরকে হক উপদেশ দেয়ার ব্যবস্থা থাকে। ধৈর্য ধারনের উৎসাহ দেয়া হয়। একে অপরকে গার্ড দিয়ে রাখতে পারে। ফলে ব্যক্তির জীবনে উন্নতি ও সফলতা আসতে বাধ্য, সেই সাথে পারিবারিক সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২২৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)