লগইন রেজিস্ট্রেশন

রোযা সম্পর্কে বহুল প্রচলিত কিছু যয়ীফ ও জাল হাদীস

লিখেছেন: ' shovoon' @ মঙ্গলবার, অগাষ্ট ২, ২০১১ (৮:১১ অপরাহ্ণ)

রোজাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে বহু যয়ীফ ও জাল হাদীস লোক মুখে ও বহু বই পুস্তকে প্রচলিত আছে এবং সেগুলি বাজারে খুবই প্রচলিত এবং জনপ্রিয় । তারই টুকিটাকি কিছু নিম্নে বর্নিত হল যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে না পড়েন ।

১.সালমান ফারসী (রা) নাম দিয়ে একটি লম্বা হাদীস আছে যে, ‘যে ব্যক্তি রমযান মাসে একটি নফল ইবাদত করবে, সে অন্য মাসে একটি ফরয আদায়ের সমান সওয়াব লাভ করবে এবং যে কেউ তাতে একটি ফরয আদায় করবে তার অন্য মাসে সত্তরটি সওয়াব আদায়ের সমান সওয়াব লাভ করবে এ মাসের প্রথম ভাগ রহমত মধ্য ভাগ মাগফিরাত এবং শেষ ভাগ জাহান্নাম থেকে মুক্তি ।
(হাদিসটি মুনকার (বাতিল) সিলসিলা যাইফা, হা/৮৭১; বাইহাকীর শুয়াবুল ঈমান হা/১৯৬৫)

২.আবু হোরায়রার (রা) নাম দিয়ে অনুরুপ একটি হাদিস আছে । রমযান মাসের প্রথম রহমতের দ্বিতীয় ক্ষমার আর তৃতীয় হল জাহান্নামের আগুন হতে পরিত্রানের ।
(আল্লামা আলবানী বলেন হাদিসটি মুনকার)

উপরোক্ত হাদিস গুলো যইফ ও মুনকার হবার সাথে সাথে সহীহ হাদিসের বিপরীত বর্ননা রয়েছে । যেমন সহীহ হাদিসে রয়েছে, যখনই রমযান মাস তখন রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। তার মানে গোটা মাস রহমতের শুধু প্রথম ১০ দিন নয়। জান্নাতের দরজা সমুহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় তা রমজানের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু শেষ দশ দিন নয়।

৩. রমজানের প্রথম রাত্রি এলে আল্লাহ তা’আলা রোযাদারের প্রতি দৃষ্টি দেন,তাকে আর আযাব দেন না,রমজানের প্রত্যেক রাত্রে ১০,০০০০ জাহান্নামীকে মুক্তি দেন ।
(হাদিসটি জাল; সিলসিলা যইফা, হা/ ২৯৯)

৪. রোযাদারের হাড় সমূহ তসবীহ পাঠ করতে থাকে যতক্ষন তার সামনে খাওয়া হয় ততক্ষন ফেরেশ্তারা দু’আ করতে থাকে ।
(হাদিসটি জাল; সিলসিলা যইফা, হা/১৩৩১; যইফ ইবনু মাজাহ, হা/১৭৪৯)

৫. রোযাদারের ঘুম-ইবাদত, নিরবতা-তাসবীহ এবং আমলের সওয়াব বহুগুন ।
(হাদিসটি যইফ,যইফ জামি; হা/৫৯৭২; সিলসিলাহ যইফা, হা/৫৯৮৪)

৬. যে ব্যক্তি রমযানের একটি রোযা বিনা ওজরে নষ্ট করে দেয়, তা সারা জীবন রোযা রাখলেও পূরণ হবে না ।
(যইফ হাদিস; যইফ আবু দাউদ, হা/৪১৩; যইফ জামি’ হা/৫৪৬২)

৭. প্রত্যেক বস্তুর যাকাত আছে আর রোযা হল শরীরের যাকাত হল ।
(হাদিসটি যইফ; মিশকাত হা/২০৭২; যইফ ইবনু মাজাহ; সিলসিলাহ যইফা, হা/১৩২৯)

৮. ইফতারের সময় রোযাদারের দু’আ রদ্দ হয় না ।
(যইফ হাদিস; যইফ ইবনু মাজাহ, হা/৩৮৭,১৭৫৩; মিশকাত, হা/২২৪৯)
সহীহ ইবনু মাজাহ হা/১৭৫২ তে বলা হয়েছে রোযাদারের সবসময় অর্থাৎ রোযা অবস্থায় সবসময় দু’আ কবুল হয় ।

৯. ইফতারের পুর্বে যইফ হাদিসের ভিত্তিতে জাম’আতী মুনাজাত করা বিদ’আত ।

১০. রমযানের রোযা আকাশ ও যমীনের মধ্যে লটকানো থাকে ফিতরা আদায় করলে উত্থিত হয় ।
(যইফ হাদিস; সিলসিলাহ যইফা, হা/৪৩)

১১. ইফতার, সাহরী ইত্যাদি খানার হিসাব না হওয়া
সমাজে প্রচলিত আছে যে, সাহরী ইত্যাদি খাওয়ার হিসাব নেই। এই অর্থের বানোয়াট হাদীসের মধ্যে রয়েছে:”তিন ব্যক্তির পানাহারের নেয়ামতের হিসাব গ্রহণ করা হবে না; ইফতার-কারী, সাহরীর খাদ্যগ্রহণকারী ও মেহমান-সহ খাদ্য গ্রহণকারী।”( সুয়ূতী, যাইলুল লাআলী, পৃ ১২১; ইবনু ইরাক, তানযীহ ২/১৬৬; তাহের ফাতানী, তাযকিরা, পৃ ৭০; শাওকানী, আল-ফাওয়াইদ ১/১২৪)

এসকল ভিত্তিহীন কথাবার্তার কারণে রমাদান মাসকে আমরা ‘নিজে খাওয়ার’ মাসে পরিণত করেছি। অথচ রমাদান হলো অন্যকে খাওয়ানোর ও সহমর্মিতার মাস। এছাড়া আমাদের হিসাব হবে কিনা তা বিবেচনা না করে ‘সওয়াব বেশি হবে কিনা’ তা বিবেচনা করা উচিত।

১২. সাহরীর ফযীলত ও সাহরী ত্যাগের পরিণাম
সাহরী খাওয়ার উৎসাহ প্রদান করে একাধিক সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। অন্তত এক চুমুক পানি পান করে হলেও সাহরী খেতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সাহরীকে বরকতময় আহার বলা হয়েছে। এ কথাও বলা হয়েছে যে, ইহুদী ও খৃস্টানদের সিয়ামের সাথে আমাদের সিয়ামের পার্থক্য সাহরী খাওয়া।

কিন্তু এসকল সহীহ ও হাসান হাদীসের পাশাপাশি কিছু অতিরন্জিত বানোয়াট হাদীসও প্রচলিত আছে।
যেমন:”রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন,সাহরীর আহারের প্রতি লোকমার পরিবর্তে আল্লাহ তা’আলা এক বছরের ইবাদতের সওয়াব দান করবেন।যে সাহরী খেয়ে রোজা রাখবে সে ইহুদীদের সংখ্যানুপাতে সওয়াব লাভ করবে।তোমাদের মধ্যে হতে যে ব্যক্তি সাহরী খাওয়া হতে বিরত থাকবে তাহার স্বভাব চরিত্র ইহুদীদের ন্যায় হয়ে যাবে”।( মুফতী হাবীব ছামদানী, বার চান্দের ফযীলত, পৃ ৩৩-৩৪)

এসকল কথা রাসূলুল্লাহ (স) এর উপর মিথ্যা আরোপের শামিল এবং জাল ও বানোয়াট কথা বলেই প্রতীয়মান হয়।

এসকল ভিত্তিহীন কথাবার্তা থেকে আল্লাহ্‌ আমাদের সতর্ক থাকার তাওফিক দান করুন।আমিন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১,৩১৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ১.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. আপনার সব রেফারেন্স কি আলবানীর সিলসিলা যইফা বই থেকে নেয়া?