লগইন রেজিস্ট্রেশন

বিবর্তন তত্ত্ব: সচেতন ও যুক্তিবাদী পাঠকদের জন্য

লিখেছেন: ' এস.এম. রায়হান' @ মঙ্গলবার, মার্চ ১৩, ২০১২ (১০:২৬ পূর্বাহ্ণ)

যারা বিবর্তন তত্ত্ব – বিশেষ করে বিবর্তনবাদীদের দাবি – নিয়ে অধ্যয়ন ও চিন্তাভাবনা করেছেন তাদের কাছে বিবর্তনবাদের অবাস্তব ও হাস্যকর কল্পকাহিনীগুলো দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার হওয়ার কথা। কিন্তু যারা এ বিষয়ে সেভাবে মাথা দেননি তাদের কাছে ব্যাপারটা হয়ত অস্পষ্টই রয়ে গেছে – আর সেটাই স্বাভাবিক।

অধিকন্তু, বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনীগুলোকে যেহেতু আমেরিকা-বৃটেনের কিছু জনপ্রিয় নাস্তিক (যেমন: রিচার্ড ডকিন্স, স্যাম হ্যারিস, ক্রিস্টোফার হিচেন্স, ড্যান ডেনেট, মাইকেল শেরমার, ড্যান বার্কার প্রমুখ) আধুনিক বিজ্ঞানের নামে ধর্মের বিরুদ্ধে মিশনারী পন্থায় প্রচার করেছেন সেহেতু বাংলাদেশের মতো গরীব ও শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর দেশের লোকজন এগুলো নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা তো দূরে থাক প্রশ্ন ও সংশয় করতেই ভয় পায়। 

ছদ্মনিকধারী বাংলা লাস্তিকদের মধ্যে আবার কেউ কেউ "শক্তের ভক্ত, দুর্বলের যম" নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে হারুন ইয়াহিয়া বা জাকির নায়েকের এক ঠ্যাং-এর সমান ওজন না হয়েও স্রেফ মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের সম্পর্কে প্রলাপ বকে নিজেদেরকে সবজান্তা শমশের ভাবে। হারুন ইয়াহিয়া আর জাকির নায়েক নাকি বিবর্তনের বও বোঝে না – তাদের মুসলিম মুরিদদের কথা তো বলাই বাহুল্য —— আমেরিকান ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এই 'অভ্রান্ত বাণী'র আবিষ্কারক হচ্ছে আধুনিক বিজ্জানের জনক ও বাংলা মহাবিজ্জানী। তার নোবেল পুরষ্কার নিশ্চিত, কী বলেন পাঠক। 

এদিকে আবার বাংলাভাষী একটি সুবিধাবাদী চক্র সুযোগ বুঝে বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনীকে প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের নামে ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মহাসমারোহে প্রচার করেছে। ফলে অসচেতন লোকজনের অনেকেই হয়ত বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন – কেউ কেউ হয়ত কল্পকাহিনীকে কল্পকাহিনী বলতেও লজ্জা বা ভয় পাচ্ছেন পাছে তাদের গায়ে কোন তকমা সেঁটে দেওয়া হয়।

লক্ষ্য করলে দেখা যায় বাংলা ব্লগে বিবর্তনবাদী মোল্লারা মুসলিমদেরকে ধরাকে সরা জ্ঞান করে – বিশেষ করে ছদ্মনিকে। যদিও বিজ্ঞান মহলে তাদের কোন পাত্তা নাই, বৈজ্ঞানিক জার্নালে হয়ত কোন পেপার পর্যন্ত নাই, এমনকি তাদের অনেকেরই হয়ত বিজ্ঞান-ভিত্তিক বিষয়ে উচ্চতর কোন ডিগ্রীও নাই, তথাপি (অপ)বিজ্ঞানের ইজারা নিয়ে মুসলিমদেরকে 'অজ্ঞ' ও 'বিজ্ঞান-বিরোধী' দেখানোর চেষ্টা চোখে পড়ার মতো। তারা সদা-সর্বদা মুসলিমদেরকে পড়াশুনার জন্য উপদেশও বিলি করে যেখানে আবার প্রচণ্ড রকম তাচ্ছিল্য একটা ভাব থাকে। তাদের মধ্যে সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্স বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।

যাহোক, যুক্তিবাদী পাঠকদেরকে সাক্ষি রেখে বিবর্তনবাদী মোল্লাদের প্রতি কিছু প্রশ্ন রাখা হলো-

১। চার্লস ডারউইন ও রিচার্ড ডকিন্স কিছু বলা মানেই সেটি সত্য হয়ে যায় কিনা? উত্তর যদি 'না' হয় তাহলে তারা ডারউইন ও ডকিন্সের বই থেকে কিছু ভুল-ভ্রান্তি ও অবৈজ্ঞানিক কথাবার্তা বের করে দেখিয়ে দিতে পারবেন কিনা? আর উত্তর যদি 'হ্যাঁ' হয় তাহলে তারা ডারউইন ও ডকিন্সকে নবী বা দেবতা হিসেবে আর তাদের লিখত বইগুলোকে ধর্মগ্রন্থের মতো করে বিশ্বাস করেন কিনা?

২। বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী যে অণুজীব থেকে বিবর্তন শুরু হয়েছিল সেই অণুজীবের বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও ভেতরের গঠনপ্রণালী কেমন ছিল? সেই অণুজীবকে তারা স্বচক্ষে দেখেছেন কিনা? কিংবা নিদেনপক্ষে সেই অণুজীবের কোন জীবাশ্ম আছে কিনা?

৩। প্রথম অণুজীব থেকে এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে কবে, কোথায়, কেন, ও কীভাবে [ধাপে ধাপে] দ্বিতীয় জীব বিবর্তিত হয়েছিল? প্রথম ও দ্বিতীয় জীবের মধ্যে কী পার্থক্য ছিল? দ্বিতীয় জীব দেখতে কেমন ছিল? সেটির কোন জীবাশ্ম আছে কিনা? দ্বিতীয় জীব বিবর্তিত হওয়ার পর প্রথম অণুজীব বেঁচে ছিল নাকি মারা গিয়েছিল? একটিমাত্র অণুজীবের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নির্বাচন-ই বা কী করে হয়েছিল!

৪। সরীসৃপ থেকে যখন পাখির বিবর্তন শুরু হয়েছিল ঠিক সেই সময় এই পৃথিবীতে একটি নাকি অনেক সরীসৃপ ছিল? একটি হলে সেটি কী ছিল? অনেক হলে ঠিক কোন্‌ সরীসৃপ থেকে বিবর্তন শুরু হয়েছিল এবং কেন? সরীসৃপ থেকে কতগুলো ধাপ অতিক্রম করার পর পাখি হয়ে আকাশে উড়তে শিখেছিল? সেটি কোন্‌ পাখি ছিল? সরীসৃপ ও পাখির মধ্যবর্তী ধাপগুলো কেমন ছিল? তারপর স্তন্যপায়ী বাদুড় সহ অসংখ্য প্রকারের পাখি কোথা থেকে ও কীভাবে বিবর্তিত হলো?

৫। বিবর্তন তত্ত্ব সত্য হলে অ-স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণী বিবর্তিত হতে হবে কিনা? উত্তর যদি 'হ্যাঁ' হয় তাহলে ঠিক কোন্‌ অ-স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে বিবর্তন শুরু হয়ে ধাপে ধাপে কোন্‌ স্তন্যপায়ী প্রাণী বিবর্তিত হয়েছিল? একটি পূর্ণাঙ্গ অ-স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে বিবর্তন শুরু হয়ে কতগুলো ধাপ অতিক্রম করার পর একটি পূর্ণাঙ্গ স্তন্যপায়ী প্রাণী হয়েছিল? স্তন্যপায়ী ও অ-স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যবর্তী ধাপগুলো কেমন ছিল?

৬। যে কোন ফলের গাছ - ধরা যাক ডালিম কিংবা আম গাছ – এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে কীভাবে ও কোন্‌ গাছ থেকে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়েছে? মধ্যবর্তী ধাপগুলো কেমন ছিল?

৭। এমন কোন লেজওয়ালা প্রজাতি কখনো ছিল কিনা যাদের লেজ বিবর্তনের ধারায় ধাপে ধাপে ছোট হয়ে এক সময় লেজবিহীন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে? কিংবা এমন কোন লেজবিহীন প্রজাতি কখনো ছিল কিনা যাদের দেহে ধাপে ধাপে লেজ গজিয়ে এক সময় লেজওয়ালা প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে? বিবর্তনবাদীরা তো নিজেদেরকে লেজওয়ালা প্রজাতির 'লেজবিহীন উত্তরসূরী' হিসেবে বিশ্বাস করেন। তো তারা কি পরীক্ষা করে দেখাতে পারবেন যে এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের পেছন দিকে ধাপে ধাপে লেজ গজিয়ে তারা ভিন্ন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে! শিংবিহীন ও শিংওয়ালা প্রজাতির ক্ষেত্রেও এমন কোন প্রমাণ আছে কিনা কিংবা পরীক্ষা করে দেখানো সম্ভব কিনা?

৮। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সহ দু-জন সামর্থ্যবান নারী-পুরুষ [মানুষ অথবা পশু-পাখি] এর মিলনেই কেবল প্রাকৃতিকভাবে সন্তান তথা বংশবৃদ্ধি হয়। এই অবস্থায় শুক্রাণু-ডিম্বাণু সহ পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ কী করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়েছে ও বংশবৃদ্ধি করেছে? শুক্রাণু ও ডিম্বাণু কীভাবে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব? বিবর্তনবাদী মোল্লাদেরকে খুব বেশি চাপে না ফেলার জন্য অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কথা না হয় আপাতত বাদ রাখা হলো!

৯। "দু-জন সামর্থ্যবান নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে বংশবৃদ্ধি হতে হতে আজ প্রায় সাত বিলিয়ন মানুষে এসে ঠেকেছে" আর "ব্যাকটেরিয়া-সদৃশ একটি অণুজীব থেকে শুরু করে বিবর্তিত হতে হতে হাতি-ঘোড়া-তিমি-তালগাছ-বিবর্তনবাদী'রা সহ পুরো উদ্ভিদজগত ও প্রাণীজগত বিবর্তিত হয়েছে" – এই দুই বক্তব্যের মধ্যে কোন একটিকে যদি মিথ বা কল্পকাহিনী বলতে হয় তাহলে কোনটিকে বলা যাবে? বিবর্তনবাদী মোল্লারা এ পর্যন্ত কোনটিকে মিথ বলে প্রচার করেছেন এবং কেন?

১০। উপরের প্রশ্নগুলো যৌক্তিক কিনা! যদি যৌক্তিক হয় তাহলে বিবর্তনবাদী মোল্লারা এই ধরণের প্রশ্ন করেন না কেন! তারা কি আরো প্রশ্ন দেখতে চান নাকি এগুলোরই জবাব আগে দিতে ইচ্ছুক!

উল্লেখ্য যে, কেউ বিবর্তনবাদের হাস্যকর কল্পকাহিনীতে বিশ্বাস করলে আমাদের কোন সমস্যা নাই। খোঁজ নিলে বিভিন্ন ধরণের কল্পকাহিনীতে বিশ্বাসীদের সংখ্যা নেহায়েত কম হবে না। তবে কল্পকাহিনীকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দাবি করলে অকাট্য প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু বিবর্তনবাদী মোল্লারা দীর্ঘদিন ধরে কোন প্রমাণ ছাড়াই বিবর্তন তত্ত্বকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দাবি করে অসচেতন লোকজনকে বিজ্ঞানের নামে ধোঁকা দিয়ে আসছেন।   

পড়ুন: ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ তত্ত্ব নিয়ে লেখার সঙ্কলন

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৯৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)