লগইন রেজিস্ট্রেশন

বিবর্তনবাদ তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা – ৪

লিখেছেন: ' এস.এম. রায়হান' @ বুধবার, মে ১৯, ২০১০ (১:১৮ অপরাহ্ণ)

বিবর্তন মানে হচ্ছে পরিবর্তন বা ক্রমবিকাশ – এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর। যেমন অতি ক্ষুদ্র শুক্রাণূ ও ডিম্বাণুর মিলন থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ একটি শিশুর রূপ ধারণ। শিশুর ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের রূপ ধারণ। অনুরূপভাবে, ক্ষুদ্র একটি বীজ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বিশাল একটি গাছের রূপ ধারণ। এগুলো হচ্ছে বিবর্তনের কিছু প্রকৃষ্ট উদাহরণ – যা দিনের আলোর মতই সত্য। এগুলোর পক্ষে কেউ কখনো প্রমাণ দেখতে চায় না। তবে এখানে স্মরণ রাখতে হবে যে, বিবর্তন আর ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব কিন্তু এক জিনিস নয়; বরঞ্চ দুটির মধ্যে রাত-দিন তফাত।

সংজ্ঞা অনুযায়ী শূন্য থেকে যেমন বিবর্তন শুরু হতে পারে না তেমনি আবার পাথর বা কোন জড় বস্তু বিবর্তিত হতে হতে জীবে রূপান্তরিত হওয়াও অবাস্তব বা অসম্ভব শুনায়। একটি পাথর বিবর্তিত হতে থাকলে তার আকার-আকৃতির পরিবর্তন হতে পারে মাত্র কিন্তু সেই পাথর থেকে কেউ একটি জীব আশা করতে পারে না। সেরকম কিছু হলেও সেটি হবে অলৌকিক ঘটনা। অতএব, জীবের বিবর্তন শুরু হতেও প্রথম জীবকে সৃষ্ট হতেই হবে। তারপরই না কেবল সেই জীব থেকে বিবর্তন এর প্রশ্ন আসতে পারে। অথচ ডারউইনবাদী নাস্তিকরা সৃষ্টিতত্ত্বে বিশ্বাস নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেন কেন তা তো বোঝা যায় না। তারা নিজেরাই কল্পকাহিনীর চেয়েও অযৌক্তিক ও হাস্যকর কিছুতে বিশ্বাস করে উল্টোদিকে সৃষ্টিতত্ত্বে যৌক্তিক বিশ্বাস নিয়ে বোকার মতো হাসি-ঠাট্টা করেন। নিজের বিশ্বাস-অবিশ্বাসকে এক পাশে রেখেও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের গোঁয়ারগোবিন্দপনা দেখে সত্যিই বিনোদিত হতে হয়। সত্যকে তিক্ত মনে হলেও মেনে নেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। আর এই সত্যকে মেনে নিলে ডারউইনবাদী নাস্তিকদের থাকেটা কী!

এ জন্যই জীবের উৎপত্তি তথা প্রথম জীবের প্রসঙ্গকে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। ভাবসাব দেখে মনে হবে যেন তাদের কাছে এটি একটি অতি তুচ্ছ বিষয়! কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখানেই আসল রহস্য রয়ে গেছে। এই রহস্যকে উন্মোচন করতে গেলেই তাদের এড়িয়ে যাওয়ার গোমর ধরা পড়বে। কেউ কেউ হয়তো তেড়ে এসে বলবেন, বিবর্তনবাদ তত্ত্ব “প্রথম প্রাণ” নিয়ে মাথা ঘামায় না! হ্য, সেটা সকলেই জানে। কিন্তু প্রথম প্রাণ নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে সৃষ্টিতত্ত্বে বিশ্বাস নিয়ে আবার বোকার মতো হাসি-ঠাট্টা করা হয় কেন সেটাও একটা যৌক্তিক প্রশ্ন।

যাহোক, এই পর্বে ডারউইনবাদীদের কিছু আত্মপ্রতারণা নিয়ে আলোচনা করা হবে:

-অনেকেই হয়তো জানেন যে, ডারউইনবাদীরা বিবর্তনবাদ তত্ত্বকে গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতই একটি সত্য বলে দাবি করেন। অথচ এই তত্ত্ব নিয়ে যখন অত্যন্ত মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন করা হয় বা প্রমাণ হাজির করতে বলা হয় তখন ইউটার্ন নিয়ে আমতা আমতা করে যা বলা হয় তার অর্থ মোটামুটি এরকম, “হুমম! আপনারা তো বিজ্ঞানের কিছুই জানেন না! বিজ্ঞান ধীরে ধীরে এগোয়! বিজ্ঞানে শেষ কথা বলে কিছু নেই! ইত্যাদি। ইত্যাদি।” এগুলোকে স্রেফ আত্মপ্রতারণা ছাড়া আর কী-ই বা বলা যেতে পারে? তাদের বক্তব্য অনুযায়ীই আগামীকাল যদি এই তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যারা বিবর্তনবাদ তত্ত্বকে গাছ থেকে ভূমিতে অ্যাপেল পড়ার মতই সত্য হিসেবে বিশ্বাস করে – সেই সকল অজ্ঞ লোকজনের কী হবে! তাদেরকে কি তাহলে বিজ্ঞানের নামে প্রতারিত করা হচ্ছে না?

-কেউ কেউ প্রসঙ্গক্রমে ডারউইনবাদীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বাঁদর থেকে মানুষ বিবর্তিত হওয়ার কথা বলে হাসি-ঠাট্টা করে থাকেন। এই কথা শোনার সাথে সাথে ডারউইনবাদীরা তেড়ে এসে বলা শুরু করেন, “হেঃ হেঃ! কিছু অজ্ঞ লোকের বিশ্বাস অনুযায়ী মানুষ নাকি বাঁদর থেকে বিবর্তিত হয়েছে! কিন্তু মানুষ তো বাঁদর থেকে বিবর্তিত হয়নি! বরঞ্চ মানুষ ও বাঁদর একটি ‘সাধারণ পূর্বপুরুষ’ থেকে বিবর্তিত হয়েছে!” কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই ‘সাধারণ পূর্বপুরুষ’ কি মানুষ নাকি বাঁদর নাকি অন্য কিছু – সেটা কখনোই পরিষ্কার করে বলা হয় না। সেই ‘সাধারণ পূর্বপুরুষ’ যদি মানুষ হয় তাহলে তো ডারউইনবাদীদের আত্মহত্যা করা ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকবে না! ফলে সেটা তারা কখনোই চাইবেন না। তারা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ীই প্রমাণ দেখানোর চেষ্টা করবেন। আর তা-ই যদি হয় তাহলে বাঁদর জাতীয় কোন প্রজাতি থেকেই মানুষ বিবর্তিত হতে হবে। অথচ একই কথা অন্য কেউ বললে তারা তেড়ে আসেন কেন? নাকি তারা মুখে যা বলেন, অন্তরে হয়তো তা বিশ্বাস করেন না! যাহোক, প্রফেসর ডকিন্স সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “Monkeys and we come from a common ancestor and that common ancestor would probably have been called the monkey.” ডারউইনবাদীদের আত্মপ্রতারণার নমুনা দেখলেন তো! একই কথা প্রফেসর ডকিন্স বললে ঠিক আছে কিন্তু অন্য কেউ বললে অজ্ঞ ও হাসি-তামাশার পাত্র হয়ে যায়!

-অনেক দিন আগে বিবর্তনবাদ তত্ত্বের উপর আমার একটি লেখাতে বলা হয়েছিল, “ডারউইনবাদীদের বিশ্বাস অনুযায়ী ব্যাকটেরিয়ার মতো অতি ক্ষুদ্র একটি জীব থেকে সকল প্রকার প্রজাতি বিবর্তিত হয়েছে।” সেই লেখাটি প্রকাশ হওয়ার পর-পরই এক ডারউইনবাদী তেড়ে এসে অন্ধকে হাইকোর্ট দেখানোর মতো বিজ্ঞানের উপর বিশাল একখান লেকচার দিয়ে যা বলেছেন তার অর্থ হচ্ছে, “ব্যাকটেরিয়া থেকে তো সকল প্রকার প্রজাতি বিবর্তিত হয়নি। অন্য কোন সরল জীব থেকে প্রজাতির উদ্ভব রয়েছে।” ভাবসাব দেখে মনে হবে যেন উনি জেনে-শুনে নিশ্চিত হয়েই তবে একদম নতুন কিছু বলেছেন! কিছু দিন আগেও একজন একই রকম কথা বলেছেন। অথচ আমার লেখাতে বলা হয়েছে ‘ব্যাকটেরিয়ার মতো’ কোন জীব থেকে। ‘ব্যাকটেরিয়ার মতো’ বলতে ব্যাকটেরিয়া বা সেরকম কোন সরল জীব হতে পারে, যদিও সেটা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না। কিন্তু প্রফেসর ডকিন্স বা অন্য কোন ডারউইনবাদী একই দাবি করলে তারা বালির মধ্যে মাথা গুঁজে থাকেন! কেউই তেড়ে যেয়ে তাকে বিজ্ঞানে অজ্ঞ বলেন না কিংবা হাইকোর্ট দেখানোরও চেষ্টা করা হয় না!

-আমার কোন এক লেখায় বলা হয়েছিল, “প্রফেসর ডকিন্সের বিশ্বাস অনুযায়ী ছাগলের মতো কোন স্থলচর প্রাণী থেকে তিমির মতো জলচর প্রাণীর বিবর্তন এর কথাই ধরা যাক।” এই কথার উপর ভিত্তি করে এক ডারউইনবাদী বলেছেন, “কুযুক্তিটা ব্যাপক ইন্টারেস্টিং। এতো কিছু থাকতে নিরীহ ছাগুদের টানাটানি করার ব্যাপক প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” অথচ এই মন্তব্যের জবাবে প্রফেসর ডকিন্সের ভিডিও লিঙ্ক দেয়া হলে আর কিছু বলেন না! তার মানে তারা নিজেরাই এরকম কোন কল্পকাহিনীতে বিশ্বাস করেন না! কিন্তু প্রফেসর ডকিন্স বললে ঠিক আছে!

-বিবর্তনবাদ তত্ত্বে সংশয়বাদীরা একটি প্রজাতি থেকে নতুন কোন প্রজাতির বিবর্তনের পক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষা লব্ধ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেখাতে বললে ডারউইনবাদীরা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ক্যান্সার, ও মেডিসিন নিয়ে গবেষণার উপর কিছু পেপার বা আর্টিকলের লিঙ্ক দিয়ে আমজনতাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেন, যেগুলো আসলে জানতে চাওয়া হয় না! অর্থাৎ প্রমাণ চাওয়া হয় এক জিনিসের কিন্তু দেখানো হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। কিছুটা ‘হাত সাফাই’ বলা যেতে পারে।

ডারউইনবাদীদের আত্মপ্রতারণার এরকম উদাহরণ আরো আছে। লক্ষ্য করলে দেখবেন যে তারা নিজেরাই বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের নামে প্রতিনিয়ত এমন সব অদ্ভুত দাবি করছেন যেগুলো আসলেই হাস্যকর। কিন্তু তাদের দাবিকে উদ্ধৃত করে অযৌক্তিক ও হাস্যকর প্রমাণ করার সাথে সাথে কেউ কেউ ছদ্মনামে এসে না জানার ভান করে সেগুলোকে উল্টোদিকে আপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে হাসি-ঠাট্টা কিংবা আক্রমণ করা হবে। ‘মৌলবাদী’ বলতে যদি খারাপ কিছু বুঝায় তাহলে এরাও এক শ্রেণীর মৌলবাদী।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৮৩ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৩ টি মন্তব্য

  1. রায়হান ভাই,

    আমারব্লগে দেখেছিলাম কিছু কিছু ব্লগার জাকির নাইক সম্বন্ধে বলেছিল যে , সে বিজ্ঞানের অনেক ইনফরমেশন ভুল দিয়ে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করে । এ বিষয়ে আপনার মত কি ? তাদের সেই অভিযোগগুলোকে কি সিরিজ আকারে উত্তর দেয়া যায় ?

    এস.এম. রায়হান

    @হাফিজ, জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে এক ব্লগারের বিশাল একটি আক্রমণাত্মক লেখা কিছু ব্লগে অনেকবার দেখেছি। পুরোটা না পড়লেও চোখ বুলিয়ে গেছি। সেখানে বিবর্তনবাদের উপর জাকির নায়েকের একটি লেকচার থেকে অত্যন্ত হাস্যকর ও তুচ্ছ বেশ কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করে প্রত্যেকটি পয়েন্টে জাকির নায়েককে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে সম্ভবত উচ্চারণের সমস্যাই অন্যতম! সেখানে আসলে মিথ্যাচারের কিছু নাই। কিছু ভুল তথ্য থাকলে থাকতেও পারে, যদিও আমি যাচাই করে দেখিনি। ভুল তথ্য বা উচ্চারণের সমস্যাকে কিন্তু মিথ্যাচার বলা যায় না।

    যাহোক, প্রথমে দেখতে হবে যারা জাকির নায়েকের নাম বিকৃতি করে তাকে গালিগালাজ আর আক্রমণ করে তারা আসলে কারা। তারা বিজ্ঞানের নামে অপবিজ্ঞান আর যুক্তিবাদের নামে কু-যুক্তিবাদ প্রচারের আড়ালে ইসলাম সম্পর্কে অনেক ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে কি-না। হ্যাঁ করে। ফলে তাদের লেখাকে সিরিয়াসলি নেয়ার কোন কারণ নাই। দ্বিতীয়ত, মুসলিম বিশ্বে জাকির নায়েক একমাত্র ইসলামিক স্কলার নন। জাকির নায়েক যা বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের অনেক ধর্মান্তরিত মুসলিম সহ শত শত ইসলামিক স্কলারও একই দাবি করেন। কিন্তু সেই অ্যান্টি-ইসলামিক গ্রুপ জাকির নায়েককে সিঙ্গেল আউট করে এমনভাবে অপপ্রচার চালায় যেন জাকির নায়েক ছাড়া মুসলিম বিশ্বে আর কোন স্কলার নাই! এটি হচ্ছে তাদের একটি অপকৌশল। তবে ভবিষ্যতে আপনার প্রস্তাব ভেবে দেখবো।

    হাফিজ

    @এস.এম. রায়হান, সহমত , ঠিক বলেছেন । তারপরও আমাদের উত্তরগুলো জানা উচিত । আপনি সেগুলোর উত্তর পোস্ট আকারে ভবিষ্যৎ এ দিলে ভালো হয় ।