লগইন রেজিস্ট্রেশন

খিলাফাত / ইসলামী রাস্ট্রের স্বরুপ

লিখেছেন: ' taalibul_ilm2011' @ শুক্রবার, জুন ১৪, ২০১৩ (৭:০৫ পূর্বাহ্ণ)

ইন্নাল হামদা লিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

যদিও ইসলামী রাস্ট্রের / খিলাফাহ এর স্বরুপ আমাদের অজানা নয় তবুও এ ব্যাপারে তথ্যগুলি Recapitulate করলে আমাদের সবার Line of Thinking একই প্লাটফর্মের উপর থাকবে বলে ধারনা হয়। তাই, আমাদের উদ্দিষ্ট খিলফাহ / ইসলামী রাস্ট্র / ইসলামের বিজয়ের স্বরুপটা বারংবার আলোচনা করা জরুরী। যাতে আমাদের দৃষ্টি আমাদের উদ্দেশ্য থেকে অন্য কোন দিকে না সরে যায়।

(ক) তাওহীদের বাস্তবায়ন এবং শিরকের অপসারণ।

সূরা নুরের ৫৫ নং আয়াতে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন,
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

“তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসন কতৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের দ্বীনকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য।” (সূরা নুর ২৪:৫৫)

অর্থাৎ খিলাফাহ / ইসলামী রাস্ট্র কায়েম হওয়ার পর তার Ultimate aim হবে, শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদাত নিশ্চিত করা (তাওহীদ) এবং শিরক মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা। যার বাস্তব নমুনা আমরা দেখতে পাই, রাসুল (সাঃ) মক্কা বিজয়ের পরই কাবার ভিতরের মূর্তিগুলি ভেংগে দিয়েছিলেন। তাছাড়াও খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) সহ আরো সাহাবীদেরকে আশেপাশের সকল মূর্তি-দেবীগুলিকে ভেংগে দিতে / হত্যা করতে পাঠিয়েছিলেন।

অর্থাৎ তাওহীদের বাস্তবায়ন এবং শিরকের অপসারণ হবে আমাদের ইসলামী রাস্ট্রের / খিলাফাহ এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

ডঃ মুযযাম্মিল আলী রচিত ‘শিরক কি ও কেন’ বইটিতেও বেশ ভালোভাবে আমাদের দেশের শিখা অনির্বান, স্মৃতি-সৌধ, সংসদ ভবনে আইন প্রণয়ণ ধরনের শিরক সহ ছোট-বড় অনেক শিরক বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে।

বাংলাদেশে একটি ইসলামী খিলাফত / ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টিত হলে ‘তাওহীদের বাস্তবায়ন এবং শিরকের অপসারণের’ আওতায় যেসব কাজ আমাদেরকে আঞ্জাম দিতে হবে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছেঃ

- সকল প্রকার শিরকের স্থান যেমনঃ এদেশে হাজার হাজার মাজার, পাকা কবর, বেশীরভাগ পীরদের খানকাহ উচ্ছেদ করা।
- মেলা, উরুসের নামে প্রচলিত শিরকী কার্যক্রম বন্ধ করা।
- কবরের/ মাজারের উপর নির্মিত সৌধ সমূহ উচ্ছেদ করা। (যার ভিতর স্মৃতিসৌধ ও থাকবে)
- আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধে যায়, এমন সকল আইন বাতিল করা এবং পরিপূর্ণ ইসলামী শারীয়াত বাস্তবায়ন করা।
- সকল প্রকার ইসলাম বিরোধী আইন রচনার পথ চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়া। (সংসদ ভবনে আইন প্রণয়ন বন্ধ করা)
- শিখা অনির্বান টাইপের আগুন পূজা সদৃশ বিষয় সমূহকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া।
- এদেশের আনাচে-কানাচে স্থাপিত সকল প্রকার মূর্তি অপসারণ।
- গণক, যাদুকর ইত্যাদি শিরক মিশ্রিত পেশা চিরতরে বন্ধ করা।
- বেশীরভাগ পীরদেরকে তাদের প্রচারিত শিরক থেকে তওবা করানো এবং তাদের ঈমান বিধ্বংশী কার্যকলাপ বন্ধ করা।
- ইত্যাদি

(খ) নামাজ-যাকাত প্রতিষ্টা ও সৎ কাজের আদেশ – অসৎ কাজে নিষেধ

আল্লাহ বলেছেনঃ

الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ

“তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ দান করলে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভূক্ত”। (সূরা হাজ্জ্ব, ২২:৪১)

বাংলাদেশে একটি খিলাফাহ / ইসলামী রাস্ট্র প্রতিষ্টিত হলেঃ

- পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায সবার জন্য বাধ্যতামূলক হবে।
- সকল মুসলিমদের থেকে বাধ্যতামূলক যাকাত আদায় করা হবে। প্রয়োজনে যুদ্ধ করেও প্রাপ্য টাকা আদায় করা।
- সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধের আলাদা দায়িত্ব পালন করতে হবে।

“সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধের” আওতায়, আমাদের সমাজে প্রচলিত সকল প্রকার হারাম, বিদয়াত কার্যক্রম সমূহ বন্ধ করা, ফরজ কাজসমূহ পালন করতে সবাইকে বাধ্য করা। যেমনঃ

- সমাজে মদ নিষিদ্ধ করা।
- জুয়া, জ্বিনা নিষিদ্ধ করা। পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেয়াও বন্ধ হয়ে যাবে।
- মহিলাদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা।
- সকল প্রকার অশ্লীল নাটক, সিনেমা, গান নিষিদ্ধ করা। (ভারতীয় সিরিয়াল দেখা, হিন্দি সিনেমা দেখা, স্টার প্লাস, জি সিনেমা থেকে স্টার মুভিজ ধরনের সকল প্রকার হারাম চ্যালেন সমূহ নিষিদ্ধ করা)
- ইন্টারনেটে অস্লীল সাইটগুলি নিয়ন্ত্রণ করা।
- ইত্যাদি।

(গ) সকল প্রকার তাগুতকে বর্জন করা ও এক আল্লাহর ইবাদত করা।

আল্লাহ বলেছেনঃ
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ فَمِنْهُم مَّنْ هَدَى اللّهُ وَمِنْهُم مَّنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ فَسِيرُواْ فِي الأَرْضِ فَانظُرُواْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ

“আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে”। (সূরা নাহল, ১৬:৩৬)

আল্লাহ প্রত্যেক নবীকে যে দাওয়াতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, ইসলামী রাস্ট্র / খিলাফাহ নিশ্চয়ই সে ডাকে সাড়া দিয়ে সকল প্রকার তাগুতকে বর্জন করবে, আর শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদাত নিশ্চিত করবে। তাগুত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নীচের লিঙ্ক দেখতে পারেন।

http://www.quraneralo.com/taghut/
sorolpath.wordpress.com/tag/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A4/
https://www.google.com/search?q=%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A4

এরকম আরো আয়াতে ইসলামী খিলাফার দায়িত্ব-কর্তব্য আলোচিত হয়েছে। নবী (সাঃ) এর সুন্নাহ থেকে এবং সাহাবীগণের (রাঃ) আমল থেকেও, বিশেষত প্রথম ৪ খলিফার বাস্তব কর্মনীতি থেকেও আলিমরা ইসলামী খিলাফার বিভিন্ন দায়িত্ব-কর্তব্য উল্লেখ করেছেন। যা অনেক আলিমই ‘সিয়াসা আশ শারীয়াহ’ নামে উল্লেখ করেছেন।

বর্তমান সময়ে যে কোন উপায়েই হোক একটি ইসলামী রাস্ট্র / খিলাফাহ প্রতিষ্টিত হলে তাকে যে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, তার কয়েকটি সংক্ষেপে নীচে দেয়া হলো। যেসব ব্যাপারে তেমন কোন প্রতিবন্ধকতা Face করতে হবে না, সেগুলি এখানে উল্লেখ করা হয় নি।

(ক) পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যথা ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, কাস্মীর ইত্যাদিতে অত্যাচারিত মুসলিমদের সাহায্য করা, তাদের উদ্ধারের জন্য, সাহায্যের জন্য জালিমদের হাত বন্ধ করে দেয়া। Ultimately এটা তথাকথিত Superpower দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকরার মতো একটা ব্যাপার হবে। আল্লাহ বলেনঃ

وَمَا لَكُمْ لاَ تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاء وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَـذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا

“আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও”। (সূরা নিসা, ৪:৭৫)

(খ) যে সকল মুসলিম ভূ-খন্ড কাফিররা দখল করে নিয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করা। এ সম্পর্কে সকল মাজহাবের আলিমদের ইজমা রয়েছে যে, যদি এক হাত পরিমাণ মুসলিম ভূ-খন্ডও কাফিররা দখল করে নেয়, তবে তা পুনরুদ্ধার করা ঐ এলাকার সামর্থবান সকল মুসলিমদের উপর ফরজে আইন। তাদের অপারগতায় / অবহেলায় সেই ফরজ দায়িত্ব সারা পৃথিবীর সকল মুসলিমদের উপর বর্তাবে। ইবনে তাইমিয়া (রঃ) বলেনঃ

إذا دخل العدو بلاد الإسلام فلا ريب أنه يجب دفعه على الأقرب فالأقرب، وأنه يجب النفير إليه بلا إذن والد ولا غريم

“এতে কোন সন্দেহ নেই যে শত্রু কোন কোন মুসলিম দেশে প্রবেশ করে, তাহলে ঐ দেশের বাসিন্দাদের, ক্রমান্বয়ে তাদের নিকটবর্তী দেশের বাসিন্দাদের উপর তাদেরকে বহিস্কার করা ফরজে আইন হয়ে যায়, কারণ মুসলিমদের দেশ সমূহ হলো একটি দেশের মতো। তাই এক্ষেত্রে পিতা-মাতা অথবা ঋণদাতার নিকট থেকে অনুমতি ছাড়াই (জিহাদে) বের হয়ে যাওয়া ফরজ”। (ফাতাওয়া আল কুবরা -৪/৬০৮)

বিস্তারিত জানতে ইমাম আব্দুল্লাহ আজ্জাম (রঃ) এর “মুসলিম ভূমির প্রতিরক্ষা” বইটি পড়তে পারেন।

(গ) পৃথিবীর বিভিন্ন কাফির রাস্ট্রে বিনা কারণে বন্দী মুসলিমদেরমুক্ত করা হবে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আবু মূসা আল আশয়ারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছে, ‘‘তোমরা বন্দীকে মুক্ত কর, ক্ষুধার্তকে আহার দান কর এবং রুগীর সেবা-শুশ্রুষা কর।’’(সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৮৩২)

ইমাম ইবন হাজার হাইসামী (রঃ) বলেনঃ “শত্রুদের হাতে মাত্র একজন মুসলিম বন্দী হলেও প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির উপর তা ওয়াজিব হয়ে যায় যে, তারা তাকে উদ্ধারের জন্য অভিযানে বেরিয়ে পরবে (এমনকি এর জন্য কারোর কাছে কোন অনুমতি চাওয়ারও প্রয়োজন নেই)। প্রত্যেকের উপর ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট এবং সেই পরিস্থিতির সাথে তুলনীয়, যখন শত্রুরা আমাদের ভূখন্ডে আগ্রাসন চালায়। অধিকন্তু, আমাদের ভাইদের মুক্ত করা তার উপরে অগ্রাধিকার পাবে। কেননা, একজন মুসলিমের পবিত্রতা ও সম্মান মুসলিম রাষ্ট্রের তুলনায় অধিকতর”। [তুহফাতুল মুহতায, ৯/২৩৭]

ঘ) এ পৃথিবী থেকে শিরক তথা ফিতনাহ দূরীভুত হওয়ার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। আল্লাহ বলেনঃ

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلّه فَإِنِ انتَهَوْاْ فَإِنَّ اللّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

“আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ফিতনা শেষ হয়ে যায়; এবং সমস্ত দ্বীন আল্লাহর জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন”। (সূরা-আনফাল, ৮:৩৯)

এটা কল্পণাই করা যায় না যে, একটি দেশে ইসলামী রাস্ট্র / খিলাফাহ কায়েম হবে অথচ সে রাস্ট্রেই একই সাথে শিরক এর আখড়াগুলি খুবই সুরক্ষিত থাকবে, কিংবা নিরাপদ থাকবে।
আর আল্লাহ এখানে হুকুম দিয়েছেন, দ্বীন বিজয়ী হওয়ার আগ পর্যন্ত মুসলিমরা যাতে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। তাই ultimately পুরো পৃথিবীতে দ্বীন ইসলাম বিজয়ী হওয়ার আগ পর্যন্ত জিহাদ চালিয়ে যেতে হবে।

ঙ) শিক্ষা, অর্থনীতি, সমাজনীতি, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনআনা।

চ) বিভিন্ন আভ্যন্তরীন শত্রু তথা নাস্তিক-মুর্তাদ-ইসলাম দ্রোহীদেরকে, ইসলামী আইন অস্বীকারকারীদেরকে পরাস্থ করা, তাদেরকে Control এ রাখা। প্রথম খলিফা আবু বকর (রাঃ) কে ব্যাপকভাবে সে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো। তাঁকে যুদ্ধের মাধ্যমে, তরবারীর মাধ্যমে সে সমস্যার সমাধান করতে হয়েছিলো।

রাসুল (সাঃ) এর যুগে, সাহাবীদের হাতে ঈমান আনার পর মুর্তাদে পরিণত হওয়া লোকদের সাথে যদি ultimately আবু বকর (রাঃ) এর জিহাদ করতে হয়, তবে এ যুগে কোথাও ইসলামী রাস্ট্র / খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা হলে যে এরকম মুনাফিক, মুর্তাদ, স্পাই, Fifth Columnist দের সাথে যুদ্ধ করতে হতে পারে সেটা খুবই স্বাভাবিক।

ছ) ইসলামী শারীয়াত অনুযায়ী প্রতি বছর অন্তত একবার আশেপাশের যুদ্ধরত কাফির দেশ সমূহের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করা খলিফার উপর কর্তব্য।

হানাফী মাজহাবের প্রখ্যাত ইমাম ইবনে আবেদীন (রঃ) বলেনঃ

فعلى الامام أن يبعث سرية الى دار الحرب كل سنة مرة أو مرتين وعلى الرعية اعانته فان لم يبعث كان الاثم عليه

এটা ইমামের দায়িত্ব যে তিনি প্রতি বছর একবার বা দুইবার দারুল হারবে (যুদ্ধরত কাফির দেশে) জিহাদের উদ্দেশ্যে সৈন্যদল প্রেরণ করা। অধিনস্ত মুসলিমদের উচিত হবে তাকে এক্ষেত্রে সযোগিতা করা। আর তিনি যদি তা প্রেরণ না করেন, তবে তিনি গুনাহগার হবেন। (হাশিয়াত ইবনে আবেদীন ৩/১৩৮)

হাম্বালী মাজহাবের অন্যতম ইমাম ইবনে কুদামা(রঃ), আল-মুগনীতে বলেছেন,

و قال ابن قدامة في المغني : أقل ما يفعل الجهاد في كل عام مرة ، إلا إذا تعذر ذلك ، وإن دعت الحاجة إلى القتال أكثر من مرة في العام وجبت ، لأنه فرض كفاية

“আমি বলিঃ ওজর না থাকলে জিহাদের সংখ্যা বছরে একবার করা উচিত নয়, বরং যদি বছরে একের অধিক বার জিহাদ পরিচালনার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে তা করা বাধ্যতামূলক, কারণ তা ফরজে কিফায়া”। (আল মুগনী – ৮/৩৪৮)

ইমাম কুরতুবী (রঃ) বলেন,

و قال الإمام القرطبي في التفسير : فرض على الإمام إغزاء طائفة إلى العدو ، كل سنة مرة ، يخرج معهم بنفسه ، و إذا لم يمكنه ذلك يخرج معهم من يثق به ، يدعوهم إلى الإسلام ، ويكف أذاهم ، ويظهر دين الله ، حتى يدخلوا في الإسلام ، أو يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون .

“ইমামের (ইসলামী রাস্ট্রের কর্ণধার / খলিফার) জন্য এটা জরুরী যে, তিনি বছরে একবার মুসলিম বাহিনীকে শত্রুর ভূমিতে প্রেরণ করবেন, এবং তিনি নিজেই তাতে অংশগ্রহণ করবেন। আর তিনি নিজে না পারলে বিশ্বস্ত কাউকে প্রেরণ করবেন। শত্রুদেরকে ইসলামের দিকে আহবান করবেন, তাদের ক্ষতিকে দূরে সরিয়ে রাখবেন, আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করবেন যতক্ষণ না তারা ইসলামে প্রবেশ করবে অথবা নিজ হাতে অবনত অবস্থায় জিযিয়া প্রদান করবে”। (তাফসীর আল কুরতুবী – ৮/১৫২)

জ) সুদভিত্তিক এই পেপার কারেন্সী উঠিয়ে দিয়ে এর বদলে সোনা ও রুপার কারেন্সী প্রচলণ করা। উল্লেখ্যঃ শাইখ উসামা (রঃ) ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুই জন ব্যক্তি পেট্রোল বিক্রি করে আমেরিকান ডলারের পরিবর্তে সোনা নেয়ার কথা বলেছিলেন। একঃ সাদ্দাম হোসেন। দুইঃ গাদ্দাফী। এতদিন কাজে লাগালেও এদের দুই জনকেই সাথে সাথে সন্ত্রাসী আমেরিকা টিস্যু পেপারের মতো ছুড়ে ফেলেছে।

ঝ) বিভিন্ন কাফির রাস্ট্র কর্তৃক সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অবরোধ এর মোকাবেলা করা। সেটা সম্ভব পুরো সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে কাফিরদের ডিজাইন থেকে আমুল পরিবর্তন করে ইসলামী ধাচে গড়ে তোলার মাধ্যমে। এর জন্য মুসলমানদের কিছু কুরবানী দিতে হবে। কিছুটা কষ্ট করতে হবে।

ঞ) সমসাময়িক কাফির দেশসমূহ কর্তৃক সম্ভব্য সামরিক হস্তক্ষেপ এর মোকাবেলা করা, যেমনটি মদীনা রাস্ট্রকে মক্কার কুরাইশ, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের সামরিক হস্তক্ষেপের মোকাবেলা করতে হয়েছিলো (আলজেরিয়ায় ইসলামী সেলভেশন ফ্রন্ট এবং ফিলিস্তিনে হামাসের শুধুমাত্র নির্বাচন বিজয়ের পর যা দেখা গেলো, তাতে যেকোন জায়গায় ইসলামী রাস্ট্র হলে কি ঘটতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।)

ট) সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত থেকে শুরু করে এদেশীয় সকল কাফির, মুশরিকদের থেকে জিযিয়া আদায় করা যা তথাকথিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লংঘন বলে পশ্চিমা বিশ্ব ঘোষণা করবে বলে আমাদের ধারনা। তাই এক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ মোকাবেল করা।

ঠ) জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ এর মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম অর্থনৈতিক উৎসঃ গণিমাহ, ফায় ইত্যাদি জারি রাখা যা দিয়ে বায়তুল মাল গঠিত হয়। এছাড়াও মনে রাখা আবশ্যক, যাকাতের টাকা শুধু নির্দিষ্ট আটটি খাতে ব্যয় হবে।

ড) ইসলামী ‘আল ওয়ালা ওয়াল বা’রা” এর আক্বীদার আলোকে বৈদেশিক সম্পর্ক (diplomatic relations) বজায় রাখা।

ঢ) সর্বোপরি শতভাগ কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, রাস্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক জীবন পরিচালনা করা।

ণ) তথাকথিত UN থেকে শুরু করে কাফির আইনে চালিত অন্যান্য সকল আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অস্বীকার করা। বস্তুতঃ ইসলামের দৃষ্টিতে UN হচ্ছে United Nations of Kufr।

ত) ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা। যেমনঃ কোন কোন খলিফার সময় কাফিরদের জন্য আলাদা রঙ এর ড্রেস ছিলো, অন্য সময় কাফিরদের জন্য গাধার পিঠে উঠলে যে কোন একদিকে দুই পা দিয়ে বসার নির্দেশ ছিলো। (অনেকটা আমাদের দেশে মহিলারা যেভাবে মোটর সাইকেলের পিছনে বসে সে রকম)

থ) রাস্ট্রের সকল নাগরিকের basic essential needs পূরণ করা। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি।

দ) পৃথিবীর অন্যান্য এলাকা থেকে মুসলিমরা হিজরত করে আসলে তাদেরকে সহযোগিতা করা।

ইত্যাদি।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেনো আমাদেরকে একটি ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থা দান করেন। এই জমীনের অধিবাসীদেরকে ইসলামী শরীয়াতের সুশীতল ছায়ার নীচে বাস করার সুযোগ দান করেন। আমীন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৪২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)