লগইন রেজিস্ট্রেশন

বই পরিচিতি : রসূলদের মাঝে অধিক মর্যাদাবান যিনি (স)

লিখেছেন: ' Talebul Elm' @ শনিবার, জুন ১৪, ২০১৪ (৬:৩০ পূর্বাহ্ণ)

নবীদের মাঝে অধিক মর্যাদাবান যিনি (স)

বইটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিম্নরূপ :

নাম : ‘রসূলদের মাঝে অধিক মর্যাদাবান যিনি (স)’
লেখক : কামাল আহমাদ
প্রকাশক : আব্দুল্লাহ সিনান বিন আব্দুর রহমান
যোগাযোগ : ০১৬৮৫-৮২৬২৬৩
প্রথম প্রকাশ : মে ২০১৪ ঈসায়ী।
বিনিময় : ৭০ (সত্তর) টাকা।
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৯৪।

======================

বইটির ভূমিকাতে লেখা হয়েছে
نحمده ونصلى على رسوله الكريم اما بعد ـ
মুহাম্মাদ ইকবাল বিন ফখরুল লিখিত “… রসূলদের মধ্যে আমরা কোন পার্থক্য করি না …” বইটির বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনা উল্লেখ করলাম। যেন আলেম-উলামা ও সর্বসাধারণের কাছে লেখকের উপস্থাপনার স্বরূপ সুস্পষ্ট হয়। এই পর্যালোচনাটি লেখকের ব্যক্তিগত অনুরোধের প্রেক্ষিতে করা হয়েছে। তাছাড়া বইটির ভূমিকাতে লেখক তাঁর ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে বলেছেন। ….

=======

অতঃপর মুহাম্মাদ ইকবাল বিন ফখরুল লিখিত “… রসূলদের মধ্যে আমরা কোন পার্থক্য করি না …” বইটির প্রচ্ছদটি দেয়া হয়েছে। যা নিম্নরূপ :

রসূলদের মাঝে আমরা কোন পার্থক্য করি না

নং বিষয় পৃষ্ঠা
১ ভূমিকা ৫
২ বইয়ের নামকরণ ৬
৩ বিখ্যাত তাফসীরকারকদের উপস্থাপনা ৮
৪ (সূরা ২:২৮৫) আয়াতটি সম্পর্কে লেখকের বুঝ ৯
৫ শ্রেষ্ঠ হওয়ার শর্ত ১০
৬ লেখকের তরজমা কুরআনের অন্যান্য আয়াত ও ব্যাপক সংখ্যক সহীহ হাদীসের বিরোধী ১২
৭ মূল বইটির পর্যালোচনা ১৬
৮ কুরআন বিরোধী আক্বিদা ১৬
৯ কুরআনের আয়াতের সমর্থনে ব্যাখ্যাকৃত সহীহ হাদীসই কার্যকরী। বিরোধীগুলো সুনির্দিষ্ট ঘটনা কেন্দ্রিক, সাময়িক, শর্তাধীন বা মানসুখ। ১৭
১০ ইউনুস বনাম মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ২৫
১১ হাদীসের তাহক্বীক্ব : “কোন নবীর একথা বলা উচিত নয় যে, আমি ইউনুস থেকে উত্তম।” ২৮
১২ মূসা বনাম মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ৩১
১৩ মু’জিযার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব ৩৭
১৪ ইবরাহীম বনাম মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ৪৪
১৫ ‘রহমাতুলল্লি ‘আলামীন’ – ফযিলতটির দাবী আংশিক নয়, বরং সামগ্রিক ৪৮
১৬ সামগ্রিকভাবে সমস্ত নবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ৫১
১৭ হাদীসের তাহক্বীক্ক : “আমার রবের নিকট আদম সন্তানদের মধ্যে আমিই আকরাম (সবচেয়ে সম্মানিত)।” ৫৪
১৮ মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ বনাম অন্যান্য নবী ৬০
১৯ হাদীসের তাহক্বীক্ক : “সমস্ত নবী ও আসমানবাসীর উপর ফযিলত।” ৬৫
২০ হাদীসের তাহক্বীক্ক : “পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার চেয়ে মর্যাদাবান।” ৬৬
২১ ‘সাইয়েদ’ ও ‘আফযাল’ শব্দের পরিপূরক ব্যবহার ৬৯
২২ ‘সাইয়েদ’ শব্দের ব্যবহার আদব ও তাকওয়ার খাতিরে পরিত্যাগ ৭৩
২৩ পুনরাবৃত্তি ৭৫
২৪ ‘দরুদ পাঠ’ ও ‘ওয়াসিলাহ’র দু‘আর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ ৭৭
২৫ উম্মাতে মুহাম্মাদ (স)-ই কেবল ‘খয়রা উম্মাত’ ৮০
২৬ পূর্ববর্তী উম্মাতদের ঈমানদার ও উম্মাতে মুহাম্মাদী (স)-এর ঈমানদারদের তুলনা ৮২
২৭ পূর্ববর্তী উম্মাতদের কাফির ও উম্মাতে মুহাম্মাদী (স)-এর পাপীদের তুলনা ৮৩
২৮ মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মাতের ফযিলতের একটি সম্মিলিত প্রমাণ ৮৪
২৯ পরিশিষ্ট : মানসুখ সম্পর্কিত আলোচনা ৮৭
উভয় সমন্বয় গ্রহণযোগ্য ৮৮
হাদীসের যে বাক্যটি সমন্বয় যোগ্য ৯০
হাদীসের যে বাক্যটি মানসুখ ৯০

বইটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :

জনাব মুহাম্মাদ ইকবাল বিন ফখরুল লিখিত ‘…রসূলদের মাঝে আমরা কোন পার্থক্য করি না …’ বইটির দাবী হল :

“বর্তমান পৃথিবীতে একটি গলদ আক্বিদাহ হলো এই যে, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (স)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ নাবী হিসেবে আখ্যা দেয়া। যা কি’না সম্পূর্ণ কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী আক্বিদাহ।…” (মুহাম্মাদ ইকবাল বিন ফখরুল লিখিত, ‘…রসূলদের মাঝে আমরা কোন পার্থক্য করি না …’ বইটির ভূমিকা)

জনাব ইকবাল তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। সেটাই আমাদের আলোচ্য বই ‘রসূলদের মাঝে অধিক মর্যদাবান যিনি (স)’ বইটির মাধ্যমে পর্যালোচনামূলক জবাব দেয়া হয়েছে।

জনাব ইকবালের দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে, সূরা বাক্বারাহ : ২৮৫ নং আয়াতটির অংশবিশেষ। যা তাঁর বইটির নামকরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৌলিকভাবে নিচের হাদীসগুলো জনাব ইকবাল নিজের আক্বিদার সমর্থনের দলিল হিসেবে নিয়েছেন।

===========
১. আবু সাঈদ সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, তোমরা নাবীদেরমাঝে কাউকে (কারোর উপরে) শ্রেষ্ঠত্য দিও না। বুখারী # ৬৯১৬, মুসলিম # ২৩৭৪, আবু দাউদ # ৪৬৬৮
২. ইবনু আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, নাবী সাঃ বলেন, তোমাদের কেউ যেন না বলেআমি মুহাম্মদ সাঃ ইউনুস আঃ থেকে শ্রেষ্ঠ। বুখারী # ৩৩৯৫, মুসলিম # ২৩৭৭
৩. আবু হুরাইরাহ রাঃ হতে বর্ণিত, নাবী সাঃ বলেছেন, আমাকে তোমরা মূসা আঃ এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না….। বুখারী # ২৪১১, মুসলিম # ২৩৭৩
৪. আবু সাঈদ খুদরী রাঃ হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, তোমরা আমাকে (মুহাম্মাদ সাঃ কে) কোন নাবীর থেকেই উত্তম বলো না।-বুখারী # ৪৬৩৮
সকল নাবী সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সা: বলেছেন,
৫. রসূলুল্লাহ সা: বলতেন, কোনো নাবীরই এ কথা বলা উচিত নয় যে, আমি ইউনুস থেকে উত্তম। আবু দাউদ # ৪৬৭২
(যা বলা কোনো নাবীর জন্য উচিত নয়, তা বলা কি আমাদের জন্য উচিত?)
৬. সর্বশেষ হাদিসে কুদসীতে স্বয়ং আল্লাহর উক্তিঃ
. আবু হুরাইরাহ রাঃ থেকে বর্ণিত, নাবী সাঃ বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আমারকোন বান্দার ক্ষেত্রে একথা বলা ঠিক নয় যে, আমি (মুহাম্মদ সা.) ইউনুস ইবনুমাত্তা থেকে উত্তম। মুসলিম # ২৩৭৬।
==============

আমাদের আলোচ্য বইটির লেখক কামাল আহমাদ প্রমাণ করেছেন, সূরা বাক্বারাহ : ২৮৫ নং আয়াতটির তরজমাটি লেখক জনাব ইকবালের আক্বিদাহ’র দাবীর সাথে কেন সম্পর্ক রাখে না । তাছাড়া জনাব ইকবালের অন্যান্য দলিলগুলো নিচের আয়াত ও হাদীস দ্বারা মানসুখ হয়েছে বলেছে উল্লেখ করেছেন :

تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلىٰ بَعْضٍۘ مِّنْ هُم مَّنْ كَلَّمَ اللَّهُۖ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ

“এই রসূলগণ – আমি তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর সাথে কথা বলেন। আর কারো মর্যাদা উচ্চতর করেছি।” [সূরা বাক্বারাহ : ২৫৩)

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

وَلَقَدْ فَضَّلْنَا بَعْضَ النَّبِيِّينَ عَلَىٰ بَعْضٍۖ وَآتَيْنَا دَاوُودَ زَبُورًا

“আমি তো কতক নবীকে কতক নবীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। এবং দাউদকে যাবুর দান করেছি।” [সূরা বানী ইসরাঈল : ৫৫]

উল্লিখিত আয়াতগুলোতে নবীদের বিভিন্ন রকম ফযিলতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। মুহাম্মাদ (স)এর পক্ষে সেগুলোর প্রত্যেকটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অর্জিত হয়েছে। যা অন্য কোন নবীর ক্ষেত্রে সম্ভব হয় নি।

এ কারণে আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ (স) সম্পর্কে বলেছেন : وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ

“আমি আপনার যিকির/আলোচনাকে সর্বোচ্চ করেছি।” (সূরা ইনশিরাহ : ৪)

মুহাম্মাদ (স) এ সম্পর্কে নিজের সর্বোচ্চ অবস্থান সম্পর্কে বলেছেন :

سَلُوا اللَّهَ لِيَ الْوَسِيلَةَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَسِيلَةُ قَالَ أَعْلَى دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ لَا يَنَالُهَا إِلَّا رَجُلٌ وَاحِدٌ أَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ

“তোমরা আল্লাহ কাছে আমার জন্য ওয়াসীলা চাও। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন : ইয়া রসূলাল্লাহ (স)! ওয়াসীলা কি? তিনি (স) বললেন : এটি জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদার স্থান। যা কেবলমাত্র একজন্য ব্যক্তি লাভ করবে। আমি আশা করি, আমি সেই ব্যক্তি হব।” [তিরমিযী, মিশকাত ১০/৫৫১৯। আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (তাহ: মিশকাত হা/৫৭৬৭), অনুরূপ সহীহ মুসলিম সুত্রে : আলবানীর তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/৬৫৭]

ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন : إِنَّ اللَّهَ فَضَّلَ مُحَمَّداً عَلَى الأَنْبِيَاءِ وَعَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ

“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত নবী ও আকাশবাসীর উপর মুহাম্মাদ (স)এর ফযিলত দিয়েছেন।” [দারেমী, মিশকাত ১০/৫৫২৫। মুহাক্কিক্ব হুসাইন সালিম আল-আসাদ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (তাহ: দারেমী হা/৪৭)]

লেখক কামাল আহমাদ প্রমাণ করেছেন এই হাদীসটির সমর্থনে আরো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মারফু‘ হাদীস বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি মারফু‘ হুকুমী। তিনি সেগুলো উল্লেখও করেছেন।

তা ছাড়া নবী (স) নিজের ফযিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন : فُضِّلْتُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ “আমাকে ফযিলত দেয়া হয়েছে আম্বিয়া তথা নবী (আ)-দের উপর।” (সহীহ মুসলিম, মিশকাত ১০/৫৫০২]

এ হাদীসটিতে মুহাম্মাদ (স) কোন একজন নবীর (আ) সাথে নিজের তুলনা করেন নি। বরং সমস্ত নবীর সাথে তুলনা করেছেন। পক্ষান্তরে এর বিপরীত হাদীসগুলোতে একজনের সাথে অপরজনের তুলনা করা হয়েছে। তাছাড়া কুরআন ও সহীহ হাদীসের তুলনামূলক বর্ণনা থেকে ইবরাহীম (আ), ইউনূস (আ), মূসা (আ), দাউদ (আ), ঈসা (আ) প্রমুখ থেকে মুহাম্মাদ (স)এর অধিক ফযিলত প্রমাণিত।

জনাব ইকবাল বিন ফখরুল লিখিত ‘…রসূলদের মাঝে আমরা কোন পার্থক্য করি না …’ বইটির অন্যতম দাবী হল, কোন কোন নবী (আ) বিশেষ কারণে অন্য নবীর থেকে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু সার্বিকভাবে কাউকে শ্রেষ্ঠ বলা যাবে না। এমনকি মুহাম্মাদ (স)কেও শ্রেষ্ঠ বলা যাবে না। এর জবাব হল, কেবল মুহাম্মাদ (স)-কেই عَلَى الأَنْبِيَاءِ বাক্যসহ ‘সমস্ত নবীদের উপর’ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। অন্য কোন নবীকে এই عَلَى الأَنْبِيَاءِ বা ‘সমস্ত নবীদের উপর’ বাক্যসহ মর্যাদা দেয়া হয় নি। আর এই ফযিলত সংখ্যা দ্বারা বিবেচ্য নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে (৪ নিসা : ৩৪ আয়াতে) পুরুষকে নারীর উপর ফযিলত দেয়ার মাত্র দু’টি কারণ উল্লেখ করেছেন।পক্ষান্তরে মুহাম্মাদ (স) এর সাথে অন্যান্য নবীদের তুলনা করে ব্যাপক সংখ্যক আয়াত ও হাদীস রয়েছে।একারণে পূর্বোক্ত আয়াত ও হাদীসগুলোর আলোকে লেখকের উপস্থাপিত দলিলগুলো মানসুখ।কেননা লেখকের উল্লিখিত হাদীসগুলোর শানে-নুযূল একটিই।পক্ষান্তরে মুহাম্মাদ (স)এর মর্যাদার পক্ষে বর্ণিত হাদীসগুলোর বর্ণনা ব্যাপক।

এছাড়া লেখক কামাল আহমাদ তাঁর পর্যালোচনার বিভিন্ন স্থানে লেখক মুহাম্মাদ ইকবাল বিন ফখরুলের দলিলগুলোর প্রকৃত দাবী ও ভুলবুঝগুলো মৃদু আঘাত দেয়াসহ খণ্ডন করেছেন।

[বিস্তারিত : ‘রসূলদের মাঝে অধিক মর্যাদাবান যিনি (স)’ প্রকাশক : আব্দুল্লাহ আল সিনান বিন আব্দুর রহমান ,বইটির জন্য যোগাযোগ করুন : মোবাইল # 01685-826263]

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩৮৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. ধন্যবাদ বইটির উল্লেখ করার জন্য।