লগইন রেজিস্ট্রেশন

কদমবুছী খাছ সুন্নত

লিখেছেন: ' তুষার (ﭡﺸر)' @ শনিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০০৯ (১:৩০ অপরাহ্ণ)

কদমবুছীর সংজ্ঞাঃ “কদমবুছী” (بوسي قدم)-এর “কদম” (قدم) শব্দটি আরবী যার অর্থ “পা”, আর “বুছী” (بوسي) শব্দটি ফার্সী যার অর্থ “চুম্বন করা”। সুতরাং “কদমবুছী” অর্থ হলো “পায়ে চুম্বন করা”। অর্থাৎ সরাসরি মুখ দিয়ে পায়ে চুম্বন দেয়াকে “কদমবুছী” বলে। কিন্তু প্রচলিত অর্থে কদমবুছী বলতে আমাদের দেশে হাত দিয়ে পা স্পর্শ করে হাতে চুমু খাওয়ার যে প্রচলন তা মূলতঃ কদমবুছী নয় বরং তা দস্তবুছী।
কদমবুছীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেখিয়েছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্‌, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কদম মুবারকে সরাসরি চুম্বন করতেন বা বুছা দিতেন তাঁরা, এমনকি তাঁরা একে অপরকেও কদমবুছী করেছেন। আর তাই কদমবুছী হচ্ছে খাছ সুন্নত।

কদমবুছী হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিতঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, “হযরত ওযায়ে ইবনে যারে, তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা আব্দুল কায়েস গোত্রে থাকা অবস্থায় যখন মদীনা শরীফ-এ আসতাম তখন তাড়াতাড়ি করে নিজেদের সওয়ারী হতে নেমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্‌, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাত মুবারক এবং কদম মুবারকে চুম্বন করতাম।” (আবূ দাউদ শরীফ, ২য় জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৭০৯; বযলুল মাজহুদ, ৬ষ্ঠ জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৩২৮; ফতহুল বারী, ১১ জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৫৭; মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, ৭ম জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৮০; আশয়াতুল লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব)
হযরত সাফওয়ান ইবনে আস্‌সাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “একবার ইহুদীদের একটি দল এসে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্‌, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উভয় হাত মুবারক ও পা মুবারকে বুছা (চুম্বন) দিলো।” (আবূ দাউদ শরীফ; নাসাঈ শরীফ; ইবনে মাযাহ শরীফ, পৃষ্ঠা ২৭০; তিরমিযী শরীফ, ২য় জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৯৮; ফতহুল বারী, ১১ জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৫৭; তুহফাতুল আহওয়াযী শরহে তিরমিযী, ৭ম জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৫২৫; মুছান্নিফে ইবনে আবী শায়বা, ৭ম জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৫৬২)
হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত আছে, “এক ব্যক্তি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্‌, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ্‌ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে এমন কোন বিষয়ে আদেশ করেন, যা আমার বিশ্বাসকে আরো বৃদ্ধি করবে। তখন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্‌, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি ঐ গাছটিকে ডেকে আনো।” অতঃপর সে ব্যক্তি গাছটির নিকটে গিয়ে বললো, নিশ্চয় রসূলাল্লাহ্‌ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাকে ডেকেছেন। সুতরাং গাছটি এসে আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাম করলো। আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে চলে যেতে বললেন, গাছটি তখন চলে গেল। অতঃপর ঐ ব্যক্তি অনুমতি সাপেক্ষে আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাথা মুবারক ও উভয় কদম মুবারক বুছা দিল।” (মুস্তাদিরেকে হাকিম; ফতহুল বারী, ১১ জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৫৭; তুহফাতুল আহওয়াযী শরহে তিরমিযী, ৭ম জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৫২৮; আল কালামুল মুবীন, পৃষ্ঠা ১৪৬)
হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “(গাছের সিজদা দেয়ার ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর) একদিন আমি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্‌, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খিদমতে আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ্‌, ইয়া হাবীবাল্লাহ্‌ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাক আপনার উভয় হাত মুবারক এবং পা মুবারকে বুছা দেয়ার অনুমতি দিন। আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমতি দিলেন। অতঃপর তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উভয় হাত মুবারক এবং পা মুবারকে বুছা দিলেন।” (নাসীমুর রিয়াজ শরহে কাজী আয়াজ ৩য় জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৫০; কিতাবুল আযকার লিন্‌ নববী)
হযরত যায়েদ বিন সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা রয়েছে যে, “নিশ্চয়ই তিনি হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর হাত মুবারকে বুছা দিয়েছেন। তিনি এটাও বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর হাত ও পা মুবারকে বুছা দিয়েছেন।” (ফতহুল বারী, ১১ জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৫৭; তুহফাতুল আহওয়াযী শরহে তিরমিযী, ৭ম জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ৫২৮)
শুধু তাই নয় বরং হাদীছ শরীফ-এ মাকেও কদমবুছী করার ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে, যেমন এ প্রসঙ্গে ফিক্বাহের কিতাবে উল্লেখ আছে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্‌, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি তার মায়ের কদমবুছী করলো সে যেন জান্নাতের চৌকাঠে চুম্বন করলো।” (মাবসূত লিস্‌ সারাখ্‌সী, ১ম জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ১৪৯)

ইমাম-মুজতাহিদ তথা আউলিয়ায়ে কিরাম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর জীবনীতে কদমবুছীঃ
বস্তুত গভীর শ্রদ্ধা, আদব, মুহব্বত এবং আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে কদমবুছীর মাধ্যমে। আর তাই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্‌, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কদম মুবারকে সরাসরি চুম্বন দিয়ে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, মুহব্বত, তা’যীম এবং আনুগত্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রকাশ করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় মুরীদও তাঁদের অনুসরণে একইভাবে স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, পরম মুহব্বত এবং আনুগত্য প্রকাশ করে থাকে কদমবুছীর মাধ্যমে। কেননা হাদীছ শরীফ-এ এসেছে, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, শায়খ (বা মুর্শিদ বা পীর ছাহেব) তাঁর ক্বওম তথা মুরীদের কাছে তেমন; নবী (আলাইহিস্‌ সালাম) তাঁর উম্মতের মাঝে যেমন।” (দাইলামী শরীফ, মাকতুবাত শরীফ, আত্‌ তায্‌কিরাহ ফি আহাদীসিল মুশ্তাহিরাহ, মাকাছিদুল হাসানা)
হাদীছ শরীফ-এ আরো এসেছে, “হযরত আনাছ বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা পীর-মাশায়িখকে সম্মান করবে। পীর-মাশায়িখকে সম্মান করা আল্লাহ্‌ পাককে সম্মান করারই নামান্তর। কাজেই যে ব্যক্তি তাঁদের যথাযথ সম্মান করে না সে আমাদের দলভূক্ত নয়।” (দাইলামী শরীফ, আত্‌ তায্‌কিরাহ ফি আহাদীসিল মুশ্তাহিরাহ)
আর তাই চিশ্‌তীয়া তরীক্বার মাশায়িখ (রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম)-এর মাঝে কদমবুছীর এতো অধিক প্রচলন ছিল যে, তাঁরা স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলার কদমবুছী করতে পারাকে বিশেষ নিয়ামত প্রাপ্তি মনে করতেন। যখনই কোন সালিক মুর্শিদ ক্বিবলার দরবার শরীফ-এ যেতেন তখনই মুর্শিদ ক্বিবলার কদমবুছী করতেন।
শায়খুল মাশায়িখ, সুলতানুল আউলিয়া, হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “বুধবার আমার পীর ছাহেব সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর কদমবুছীর বরকত নছীব হলো।” (দলীলুল আরিফীন)
চিশ্‌তীয়া তরীক্বার ইমাম, ইমামুশ্‌ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, হাবীবুল্লাহ্‌, সুলতানুল মাশায়িখ, কুতুবুল আক্তাব, কুতুবুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী আজমিরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি একবার দিল্লীতে আসলেন। তাঁর প্রধান খলীফা শায়খুল মাশায়িখ, সুলতানুল আউলিয়া, হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর দরবার শরীফ-এ হাজির হলেন। কদমবুছী করার জন্য দিল্লীর লোকেরা দলে দলে তাঁর খিদমতে ভিড় জমালো। সুলতান আলতামাশা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিও আসলেন। কিন্তু শায়খুল আলম, বাবা ফরীদুদ্দীন গঞ্জে শকর রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি আসলেন না। সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী আজমিরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সম্মন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। শায়খুল মাশায়িখ, সুলতানুল আউলিয়া, হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বললেন, সে রিয়াজত-মুশাক্কাতে রত রয়েছে। এটা শুনে তিনি বললেন, তুমি সত্যি বখ্‌তিয়ার। এমন “শাহ্‌বায”কে কবলে এনেছ যার বাস “সিদরাতুল মুন্তাহা”র এদিকে নয়। এমন লোকের উপর আর কঠোরতা করা সমীচীন নয়। তাঁর রিয়াজত-মুশাক্কাত বন্ধ করে দেয়া উচিত।
অতঃপর তাঁরা উভয়েই শায়খুল আলম, বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর হুজরা শরীফ-এ গেলেন এবং বাবা ছাহেব রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিকে উভয়ের মাঝে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে দু’য়া করলেন, “আল্লাহ্‌ পাক! আপনি ফরীদকে কবুল করুন।” গায়েব হতে আওয়াজ আসলো, “আমি ফরীদকে কবুল করলাম।” তারপর তাঁরা উভয়ে তাঁকে অনেক ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ দান করলেন এবং বললেন, “ফরীদ এমন একটি প্রদীপ যা আমাদের সিলসিলাকে আলোকিত করবে এবং যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব হবে।”
সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী আজমিরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিও তাঁকে “বাবা” বলে সম্বোধন করতেন। এই বরকতে আজ পর্যন্ত তাঁকে “বাবা” লক্ববে সম্বোধন করা হয়।
ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ প্রদানের পর শায়খুল মাশায়িখ, সুলতানুল আউলিয়া, হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “তোমার দাদা পীর ছাহেব, তাঁর কদমবুছী করো।”
শায়খুল আলম, বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি গিয়ে স্বীয় পীর ছাহেব হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি–এর কদমবুছী করলেন। তিনি আবার আদেশ করলেন, “তোমার দাদা পীর ছাহেব সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি–এর কদমবুছী করো।” এবারো তিনি স্বীয় পীর ছাহেব শায়খুল মাশায়িখ, হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি–এর কদমবুছী করলেন। হযরত বখতিয়ার কাক্বী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি এবার একটু ধমকের স্বরে বললেন, “আমি তোমাকে “তোমার দাদা পীর ছাহেব সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি–এর কদমবুছী করতে বলছি। আর তুমি করছ আমার কদমবুছী তার কারণ কি?”
বিনিত-বিনম্র স্বরে জাওয়াব দিলেন শায়খুল আলম, বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি, “আমি আপনার কদম মুবারক ব্যতীত আর কোন কদম মুবারক দেখতে পাচ্ছি না।”
শায়খুল আলম, হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর এরূপ জাওয়াব শুনে সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “বখতিয়ার! মাসউদ ঠিকই বলেছে। সে মঞ্জিলে মাকছুদে পৌঁছেছে। সেখানে এক ভিন্ন দ্বিতীয়ের কোন অস্তিত্বই নেই। কাজেই সেখানে তুমি ভিন্ন আমি তাঁর দৃষ্টিতে আসবো কেন?”
(তাযকিরাতুল আউলিয়া)
সুতরাং কদমবুছী গভীর শ্রদ্ধা, আদব, মুহব্বত এবং আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ তো বটেই, অধিকিন্তু এটা কামিয়াবী ও বিজয়ের সোপানও বটে। কারণ কদমবুছী করা সেই ব্যক্তির পক্ষে সহজ ও সম্ভব যে স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলাকে সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মনে করে। আর নিজেকে ভাবে সর্বনিকৃষ্ট, হীন ও তুচ্ছ, যা ইলমে তাছাউফের বুনিয়াদী শিক্ষা। এরূপ মনোভাবই তাকে আল্লাহ্‌ পাক পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ্‌, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নৈকট্যভাজনে পরিণত করে। কেননা হাদীছ শরীফ-এ এসেছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ পাক-এর জন্য বিনয়ী হয় আল্লাহ্‌ পাক তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।” (ইহ্‌ইয়াউ উলুমিদ্দীন, কিমিয়ায়ে সা’য়াদাত)
পক্ষান্তরে যারা অহংকারী, যাদের অন্তরে রয়েছে আত্ম-অহংকার তারা কখনও কদমবুছীর ফযীলত, বরকত লাভ করতে পারে না। অন্তরে লালিত অহংকারই তাকে কদমবুছী থেকে বিরত রাখে। অহংকার ব্যক্তি কখনও হাক্বীক্বীভাবে কদমবুছী করে না। যদি লোক লজ্জার ভয়ে কিংবা অবস্থার চাপে করে তা হয় একান্ত অন্তঃসারশুন্য। খুব কমসংখ্যক লোক নিজেকে নিকৃষ্ট, হীন ও তুচ্ছ মনে করতে পারে, “বড় যদি হতে চাও ছোট হও আগে” এই নীতি বাক্যের উপর আমল করতে পারে।

কদমবুছীর সময় অনিচ্ছাকৃত মাথা ঝুঁকে যাওয়া সিজদার অন্তর্ভূক্ত নয়ঃ
আমাদের সমাজে কিছু আত্ম-অহংকারী মহল আছে যারা কিল্লতে ইলম কিল্লতে ফাহম অর্থাৎ কম জ্ঞান ও কম বুঝের অধিকারী তারা কদমবুছীকে নাজায়িয ও শিরক বলে থাকে। তারা বলে থাকে কোন সম্মানিত ব্যক্তিকে মাথা নীচু করে কদমবুছী করা, তাশাব্বুহ্‌ বিস্‌ সিজদাহ-এর কারণে হারাম।
মূলতঃ কদমবুছীর সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও যে মাথা ঝুঁকে যায় তা সিজদার অন্তর্ভূক্ত নয়। কেননা শুধুমাত্র মাথা নীচু করলেই সিজদা হয় না বরং সিজদার জন্য যমীনে কপাল ও নাক লাগানোর সাথে সাথে সিজদার নিয়ত থাকাও শর্ত। কিন্তু কদমবুছীর ক্ষেত্রে এসবই অনুপস্থিত। উল্লেখ্য, মাথা নীচু করলেই যদি হারাম হয়, তবে দৈনন্দিন অনেক কাজ করার সময় মাথা নীচু করতে হয়। যেমন- ঘর ঝাড়ু দিতে, খুঁটি পুতার সময়, যমীনে চারা রোপন করতে ইত্যাদি কাজগুলি কি হারাম হবে? কখনই নয়।
কদমবুছী করার সময় মাথা ঝুঁকানো সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়, “কদমবুছীর সময় মাথা ঝুঁকানো মূলতঃ উদ্দেশ্য নয়। কারো সম্মানার্থে ইচ্ছাকৃত সিজদার ন্যায় মাথা ঝুঁকানো নাজায়িয। তাই, সিজদার নিয়ত ব্যতীত মাথা ঝুঁকানো নিষেধ নয় এবং স্থান বিশেষে এর থেকে বেঁচে থাকাও সম্ভব নয়। যেমনঃ কোন বস্তু উঠাবার সময়, রাখার সময়, দেখার সময় ইত্যাদি কারণে স্থান বিশেষে মাথা নিচু করতে হয়। অথচ উপরোক্ত কারণে মাথা ঝুঁকানোকে কেউ নাজায়িয বলেন না, কারণ সিজদার নিয়ত করে তা করা হয় না।” (রদ্দুল মুহতার, মুহীত, যাহিদী, শেফা লি কাজী আয়াজ, মকতুবাতে ইমামে রব্বানী)
এ প্রসঙ্গে কিতাবে একটি ঘটনা উল্লেখ আছে, এক মাওলানা ছাহেব বিদেশ হতে সদ্য পাশ করে এসেছে। সে যখন তার গ্রামের বাড়ীতে গেল, বাড়ীতে যাওয়ার পথে দেখলো কৃষকরা ক্ষেত্রের মধ্যে ধানের চারা রোপন করছে। যেহেতু ক্ষেতের মধ্যে পানি ও কাদায় ভর্তি, তাই কৃষকরা উপুড় হয়ে মাথা নীচু করে ধানের চারা রোপন করছিল। মাওলানা ছাহেব কৃষকদের এ অবস্থা দেখে বলতে লাগলো, আস্তাগফিরুল্লাহ্‌! শেরেক করে করে ধান রোপন করার কারণেই তো ফসলে বরকত হয় না। সেই কৃষকদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিলেন, যিনি মোটামুটি আলিম। মাওলানা ছাহেবের উক্ত ফতওয়া যখন তিনি শুনলেন, তখন তিনি বললেন, মাওলানা ছাহেব আপনার ফতওয়াটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। তাই আপনি ফতওয়াটি লিখিতভাবে দিলে হয়ত আমরা এ শিরক থেকে বেঁচে থাকতে পারবো। মাওলানা ছাহেব যখন তার পকেট থেকে কাগজ-কলম বের করতে লাগলো, ঘটনাক্রমে কলমখানা তার হাত থেকে মাটিতে পড়ে যায়। মাওলানা ছাহেব (মাটি থেকে কলমটি উঠাবার সময় মাথা নীচু করতে হয়) যখনই কলম উঠাবার সময় মাথা নীচু করল, তখন সেই কৃষক বললেন, আস্তাগফিরুল্লাহ্‌! শেরেক করে করে ফতওয়া দিলে সে ফতওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তখন মাওলানা ছাহেব বুঝতে পারলো যে, শুধুমাত্র মাথা ঝুঁকালেই সিজদা হয় না, বরং নিয়ত থাকা শর্ত।
তাই ফুক্বাহায়ে কিরাম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যদি সিজদার নিয়তে মাথা ঝুঁকানো হয়, তবে তা সম্পূর্ণ হারাম। আর যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও কদমবুছী করার সময় মাথা কিছুটা ঝুঁকে যায়, তবে তা কদমবুছীরই অন্তর্ভূক্ত, তা সিজদার অন্তর্ভূক্ত নয়।

তা’যীমি সিজদা ও কদমবুছী এক নয়ঃ
তা’যিমী সিজদা এবং কদমবুছী একতো নয়ই বরং ব্যবধানে আসমান-যমীন পার্থক্য। তা’যীমি সিজদা তথা সম্মান প্রদর্শনার্থে কাউকে সিজদা করা প্রকাশ্য হারাম ও শির্‌কের অন্তর্ভুক্ত।
আখিরী রসুল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমি যদি মানুষকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম তবে স্ত্রীদেরকে আদেশ করতাম তারা যেন তাদের স্বামীকে সিজদা করে।” (আহমদ, মিশকাত শরীফ)
এ হাদীছ শরীফ, পূর্বের সমস্ত তা’যীমি সিজদাকে রহিত বা বাতিল করেছে। একজন মানুষ যত মর্যাদা-মর্তবা সম্পন্ন হোক না কেন তাকে সিজদা করা জায়িয নেই। আল্লাহ পাকই একমাত্র সিজদার উপযুক্ত অন্য কেউ নয়। কাজেই যারা সিজদা করে আর যারা সিজদা নেয় উভয়ই কাট্টা কাফির এবং মুশরিক।
আল্লাহ পাক বলেন, “আল্লাহ পাক-এর সাথে শরীক (অংশীদার স্থাপন) করো না। নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ্‌।” (সূরা লুকমান ১৩)
আখিরী রসুল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যদি তোমাকে হত্যা করা হয় কিংবা আগুনে নিক্ষেপ করা হয় তথাপি আল্লাহ পাক-এর সাথে কোন ব্যাপারে কাউকে শরীক করবে না।” (মিশকাত শরীফ)
পক্ষান্তরে কদমবুছী সুন্নতে ছাহাবা। সেই সুন্নতের মধ্যে আছে আল্লাহ পাক এবং তাঁর হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরম সন্তুষ্টি, নৈকট্য। কাজেই যারা কদমবুছীকে নাজায়িয ও হারাম বলবে, শিরক বলে ফতওয়া দিবে তারা শরীয়তের বিধানকে অস্বীকার, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হালালকে হারাম বলার কারণে কাট্টা কাফিরের অন্তর্ভূক্ত। কেননা হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, নূরে মুজাস্‌সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি তোমরা তোমাদের নবী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নতকে (অবজ্ঞা বা অপছন্দ করে) তরক কর, তবে তোমরা নিঃসন্দেহে কুফরী করলে।” (আবূ দাউদ শরীফ)
এর উপর ভিত্তি করে আক্বাইদের কিতাবে উল্লেখ করা হয়, “সুন্নতকে ইহানত করা কুফরী।”
আর শরীয়তে ঈমান আনার পর কুফরী করলে অর্থাৎ মুরতাদ হলে, তার ফায়সালা হলো-
তার স্ত্রী তালাক হবে যদি বিয়ে করে থাকে এবং এক্ষেত্রে পুনরায় তওবা না করে বিয়ে না দোহরানো ব্যতীত তার স্ত্রী সাথে বসবাস করা বৈধ হবে না। আর অবৈধ অবস্থায় সন্তান হলে সে সন্তানও অবৈধ হবে। হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে যদি হজ্জ করে থাকে। সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবে। তার ওয়ারিশ স্বত্ত্ব বাতিল হবে। তাকে ৩ দিন সময় দেয়া হবে তওবা করার জন্য এবং যদি তওবা করে তবে ক্ষমা হবে। অন্যথায় তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড। কেননা হাদীস শরীফে রয়েছে, তিন কারণে মৃত্যুদন্ড দেয়া জায়িয। যথাঃ (১) ঈমান আনার পর কুফরী করলে অর্থাৎ মুরতাদ হলে, (২) ঐ যিনাকার বা যিনাকারিণী যারা বিবাহিত বা বিবাহিতা, (৩) যে অন্যায়ভাবে কাউকে ক্বতল করে। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাযাহ, মসনদে শাফিয়ী, মসনদে বাজ্জার, মুস্তাদরিকে হাকিম)
আর মুরতাদ মারা যাওয়ার পর যারা জানাযার নামাজ পড়ে বা পড়ায় বা জানাযার নামাজে সাহায্য-সহযোগীতা করে, তাদের সকলের উপরই মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং এ সকল মুরতাদ মরলে বা নিহত হলে তাকে মুসলমানদের কবরস্তানে দাফন করা যাবে না। বরং তাকে কুকুরের ন্যায় একটি গর্তের মধ্যে পুঁতে রাখতে হবে।
কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই যারা কাফির এবং কুফরী অবস্থায় মারা গিয়েছে, তারা যদি পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণ তার ফিদিয়া বা (কুফরীর পরিবর্তে) কাফ্‌ফারা বাবদ দেয় (আমার থেকে বাঁচার জন্য), তা কখনো গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি বা আযাব এবং তাদের জন্য কস্মিনকালেও সাহায্যকারী নেই।” (সূরা আল ইমরান ৯১)

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৭৭৪ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১৯ টি মন্তব্য

  1. সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী আজমিরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিও তাঁকে “বাবা” বলে সম্বোধন করতেন। এই বরকতে আজ পর্যন্ত তাঁকে “বাবা” লক্ববে সম্বোধন করা হয়।


    জ্ঞাতসারে নিজ পিতা ছাড়া আর কাউকে পিতা বলা কবিরা গুনাহ।

    হযরত সা’দ (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে লোক নিজের পিতা ছাড়া আর কারো পিতৃপরিচয় দেয়, অথচ সে তার পিতা নয়, বেহেশত তার জন্য হারাম।” (বোখারী)

    হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “তোমাদের পিতাদেরকে অস্বীকার করোনা, যে লোক স্বীয় পিতাকে অস্বীকার করবে সে কাফের।” (বোখারী)

    বোখারীর হাদিসে আরো বলা হয়েছে- “যে স্বীয় পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলে ডাকে, তার উপর আল্লাহর অভিশাপ।”

    তুষার (ﭡﺸر)

    @দ্য মুসলিম, আপনার মন্তব্য অনুযায়ী, সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী আজমিরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি কবিরা গুনাহগার। (নাউযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) কেননা তিনি জ্ঞাতসারে নিজ পিতা ছাড়া অপর ব্যক্তিকে “বাবা” বলে সম্বোধন করেছেন। অথচ সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী আজমিরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি যেদিন বিছাল শরীফ লাভ করেন সেদিন তাঁর কপাল মুবারকে সোনালী অক্ষরে লিখা উঠেছিল- “হা-যা হাবীবুল্লাহ মা-তা ফী হুব্বিল্লাহ” অর্থাৎ ইনি আল্লাহ পাকের হাবীব (বন্ধু), আল্লাহ পাকের মুহব্বতে বিছাল শরীফ লাভ করেছেন।
    তাহলে কি আল্লাহ্‌ পাক ভূল করেছেন (নাউযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক), একজন কবিরা গুনাহগারকে (নাউযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) হাবীব বা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। (নাউযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক)
    সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী আজমিরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন তাঁর যামানার মুজাদ্দিদ ছিলেন, আল্লাহ্‌ পাক তাঁকে ষষ্ঠ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হিসেবে যমীনে পাঠিয়েছিলেন। একজন মুজাদ্দিদ উক্ত হাদীছ শরীফগুলো জানেন না, এটা কিভাবে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে?
    মূলতঃ সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী আজমিরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি হযরত ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শকর রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিকে “বাবা” লক্বব দিয়েছিলেন।
    আপনার কথা মতো সব “বাবা” শব্দের যদি একই অর্থ হয় তাহলে- সন্তান তার বাবাকে “বাবা” বলে ডাকে আবার বাবা তার সন্তানকেও “বাবা” বলে ডাকে, স্বামী তার স্ত্রীর বাবা বা স্ত্রী তার স্বামীর বাবাকে “বাবা” বলে ডাকে, মা তার ছেলেকে “বাবা” বলে ডাকে। সব ক্ষেত্রে কি একই অর্থ হবে। যদি না হয় তবে সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী আজমিরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর ক্ষেত্রেও তাই হবে। অর্থাৎ আপন বাবা স্থান দখল করবে না।
    বস্তুতঃ একই শব্দ স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে কোন একটি শব্দের অর্থ যদি ভিন্ন না হতো তবে মানুষের ঈমান রক্ষা করা দায় হয়ে যেত। কুরআন শরীফ-এও এমন কিছু শব্দ আছে যা স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে সেই শব্দের অর্থ ভিন্ন না হলে সরাসরি কুফরী হয়। যেমন, “মকর” (مَكَر) শব্দের অর্থ ধোকা, প্রতারণা ইত্যাদি, যা সকল অভিধানেই উল্লেখ আছে।
    অথচ আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ-এ সূরা আলে ইমরান-এর ৫৪তম আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন,
    مَكَرُوْا وَمَكَرَ اَللهُ وَاَللهُ خَيْرُ الْمَاكِرِيْنَ٭
    এখন যদি “মকর” (مَكَر) শব্দের অর্থ ধোকা, প্রতারণা ইত্যাদি হিসেবে এই আয়াত শরীফ-এর অর্থ করা হয় তাহলে উক্ত আয়াত শরীফ-এর অর্থ দাঁড়ায়-
    “তারা (কাফিররা) ধোকাবাজী করলো, আল্লাহ পাকও ধোকাবাজী করলেন, আল্লাহ পাক সর্বত্তোম ধোকাবাজ।” (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক)
    এই অর্থ করলে ঈমান থাকবে কি? থাকবে না। তাই আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর সকল ইমাম-মুজতাহিদ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি এই আয়াত শরীফ-এর অর্থ করেছেন-
    “তারা (কাফিররা) ধোকাবাজী করলো, আল্লাহ পাক প্রজ্ঞা অবলম্বন করলেন, আল্লাহ পাক সর্বত্তোম প্রজ্ঞা অবলম্বনকারী।”
    অর্থাৎ এখানে আল্লাহ পাকের শানে “মকর” (مَكَر) শব্দের শাব্দিক অর্থ গ্রহন করা হয়নি বরং উক্ত শব্দের ঠিক বিপরীত অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। আল্লাহ্‌ পাক-এর শানে “মকর” (مَكَر) শব্দের অর্থ করা হয়েছে সর্বত্তোম প্রজ্ঞা অবলম্বনকারী।
    এছাড়া, পীর ছাহেবকে “বাবা” বলে সম্বোধন করা জায়িয। কেননা পীর ছাহেবগণ হচ্ছেন আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণের ওয়ারিছ বা তাঁদের প্রতিনিধি।
    আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণ যেরূপ উম্মতের জন্য রূহানী পিতা তদ্রুপ শায়খ বা পীর ছাহেবগণ রুহানী পিতা মুরীদের জন্য। এ মর্মে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, শায়খ (বা মুর্শিদ বা পীর ছাহেব) তাঁর ক্বওম তথা মুরীদের কাছে তেমন; নবী (আলাইহিস্‌ সালাম) তাঁর উম্মতের মাঝে যেমন।” (দাইলামী শরীফ, মাকতুবাত শরীফ, আত্‌ তায্‌কিরাহ ফি আহাদীসিল মুশ্তাহিরাহ, মাকাছিদুল হাসানা)
    ফার্সী ভাষায় একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, “আধা ডাক্তার জীবনের জন্য হুমকী স্বরূপ। আর আধা মাওলানা ঈমানের জন্য হুমকি স্বরূপ।”
    এ প্রসঙ্গে কিতাবে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয় যে, এক লোকের শরীরে একটি বাগী বা ফোঁড়া হয়, সে চিকিৎসার জন্য গ্রাম্য এক ডাক্তারের নিকট যায়। ডাক্তার চিকিৎসা স্বরূপ লোহা গরম করে উক্ত বাগী বা ফোঁড়াতে দাগা দিয়ে দেয়। রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে চলে যায়, কিন্তু রোগীর অবস্থা ক্রমেই মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ অবস্থা দেখে রোগীর আত্মীয়-স্বজন ডাক্তারের নিকট এসে বলে, হে ডাক্তার ছাহেব আপনি রোগীর কেমন চিকিৎসা করলেন যে, রোগী মরে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। আর আমার এমন চিকিৎসাও কখনো দেখিনি যে, বাগী হলে লোহা গরম করে দাগা দিতে হয়। একথা শুনে ডাক্তার ছাহেব রাগান্বিত হয়ে বলে উঠে- কেন, আমি কি বই না পড়ে চিকিৎসা করেছি? কাজেই আমার চিকিৎসা ঠিকই আছে। তখন রোগীর লোকজন বললো, দেখিতো আপনি কোন্‌ ডাক্তারী বই দেখে চিকিৎসা করেছেন? ডাক্তার ছাহেব বইখানা বের করে তাদেরকে দেখিয়ে বলে, দেখো এখানে লেখা আছে, “বাগী বা ফোঁড়া হলে লোহা গরম করে দাগা দিবে” এখানে এসে পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যায়। আর উক্ত লেখার পরে কমা রয়েছে বিধায় লোকেরা বললো, পৃষ্ঠা উল্টাতে, কেননা এখানে কমা দেয়া হয়েছ, নিশ্চয় বক্তব্য সম্পূর্ণ হয়নি। কিন্তু হাতুড়ে ডাক্তার পৃষ্ঠা উল্টাতে নারাজ, তার মতে এটাই মূল বক্তব্য। অনেক অনুরোধের পর যখন ডাক্তার ছাহেব পৃষ্ঠা উল্টালো তখন দেখলো, সেখানে লেখা রয়েছে, “রোগী যদি গরু হয়।” অর্থাৎ গরুর যদি বাগী বা ফোঁড়া হয়, তবে লোহা গরম করে দাগা দিবে।
    অতএব অর্ধ জ্ঞান দ্বারা চিকিৎসা করা যেমন বিপদজনক, তদ্রুপ অর্ধ জ্ঞান ঈমানের জন্য বিপদজনক।

    দ্য মুসলিম

    @তুষার (ﭡﺸر), আমি শুধু হাদিস গুলো তুলে দিলাম। কিতাবুল কাবায়ের নামক গ্রন্হে অন্য কাউকে পিতা বলা কবিরা গুনাহ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাকী কে কেন কি অর্থ হিসেবে ডাকে আমি জানিনা। আর আপনি হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী আজমিরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি এর ক্ষেত্রে যা বলেছেন তাই বা কতটুকু সত্য একমাত্র আল্লাহই জানেন।

    দ্য মুসলিম

    @তুষার (ﭡﺸر), গল্পটা শুনে ভালো লাগলো। আশা করি আপনিও এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন।

    দেশী৪৩২

    @দ্য মুসলিম, পিতৃ পরিচয় দেয়া ,আর কাউকে পিতা বলা কি এক হলো ? এই ক্ষুদ্র জ্ঞান নিয়ে ইসলামী লেখা লেখি করতে আসেন ? আপনিতো দেখছি ওহাবিদের খাস চাচতো ভাই ! মোসলমানদের জাতির পিতা ইবরাহিম আ:, এটা কি শুনেন নি ? তারপর এক ঈদে জনৈক এতিম বালককে রাস্তায় একা কাদতে দেখে রসুক পাক সা: তাকে নিজ গৃহে এনে কি বলেছিলেন তাও কি আপনার জানা নেই ? ইতিহাসে আমরা তাকে কি পালীত পুত্র (সম্ভবত জায়েদ রা: ) হিসেবে জানি না ? আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে হেদায়েত ও ইসলামের সঠিক জ্ঞান দান করুন ।আমিন।

  2. এই ধারাবাহিকতায় মুরীদও তাঁদের অনুসরণে একইভাবে স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, পরম মুহব্বত এবং আনুগত্য প্রকাশ করে থাকে কদমবুছীর মাধ্যমে।

    সাহাবীরা (রাঃ) হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অজুর পানি মাটিতে গড়িয়ে পড়তে দিতেন না। একদিন এক সাহাবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সিঙ্গা দেয়ার ফলে যে রক্ত বের হয় তা খেয়ে ফেলেছিলেন। এছাড়া আরেকটি ঘটনা হলো একদিন এক সাহাবী হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর “প্রশ্রাব” খেয়ে ফেলেছিলেন যা সেই সাহাবীর জন্য অধিক বরকতময় বলে বলেছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

    আপনার নিকট প্রশ্ন হলো এগুলোও তো খাস সুন্নাহ বলে প্রমাণিত (আপনার বুঝ অনুযায়ী)।

    তো ভাইজান আপনারা মুরিদরা কি “দিল্লুর সাহেবের “পেশাব” খান????????????????????????????????
    অথবা অজুর পানি কি করেন???????????????????????????? নিশ্চয়ই সুন্নাহ এর খেলাফ কিছু করেন না???????????????????????
    রক্ত টক্ত বাহির হলে সেটা কি করেন????????????????? “দিল্লুর সাহেবের” চুল কি করেন???????????????????????????

    তুয়ার ভাই একটু মাথা খাটান।আপনার পীর দিল্লু একজন ভন্ড আর আপনি একজন ভন্ডের পক্ষে কথা বলছেন।

    তুষার (ﭡﺸر)

    @দ্য মুসলিম, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমি তোমাদের কারো মত নই।” (বুখারী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ)
    হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের অনুরূপ নই।” (বুখারী শরীফ; ফতহুল বারী, ৪র্থ জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ১৬৪)
    হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি ছূরতান বা আকৃতিগতভাবে তোমাদের মত নই।” (বুখারী শরীফ; ফতহুল বারী, ৪র্থ জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ১৬৫)
    হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে আমার অনুরূপ কে রয়েছে?” (বুখারী শরীফ; ফতহুল বারী, ৪র্থ জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ১৬৭)
    অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে কেউই আমার মত নয় বা আমি তোমাদের কারো মত নই। তাই জনৈক কবি বলেছেন, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাশার (অর্থাৎ মানুষ), তবে তিনি অন্যান্য বাশারের মত নন। যেমন ইয়াকুত পাথর, অন্যান্য পাথরের মত নয়।”
    উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো অনেক দূরের কথা, উনার পুত-পবিত্র আহলিয়াগণ অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ-এর শানেই আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেন, “হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহলিয়াগণ! আপনারা অন্যান্য মহিলার মত নন।” (সূরা আহযাব ৩২)
    আবার মহান আল্লাহ্‌ পাক কালামুল্লাহ্‌ শরীফ-এ হযরত মরিয়ম আলাইহাস্‌ সালাম সম্পর্কে ইরশাদ করে, “তিনি এমন এক মহিলা যাঁর সমকক্ষ কোন পুরুষও নন।”
    এ আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণ ব্যতীত দুনিয়ার সমস্ত পুরুষ থেকে হযরত মরিয়ম আলাইহাস্‌ সালাম শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ তাঁর সমকক্ষ বা মত কোন পুরুষ নেই।
    অপরদিকে উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ সম্পর্কে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, আপনারা অন্যান্য মহিলার মত নন। উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ কোন পুরুষ ও কোন মহিলার মত নন। অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ-এর মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্ব হযরত মরিয়ম আলাইহাস্‌ সালামসহ সকল মহিলা ও পুরুষের চেয়ে বেশী।
    সুতরাং যেই রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর স্ত্রী হওয়ার কারণে উনারা দুনিয়ার অন্যান্য সকল মহিলা ও পুরুষের থেকে তুলনাহীন হলেন, সেই মহান ব্যক্তিত্ব যিনি একমাত্র আল্লাহ পাক-এর পরেই সমস্ত প্রকার শ্রেষ্ঠত্ব, ভালাই ও কল্যাণের একচ্ছত্র অধিকারী, তিনি উম্মতের মত মানুষ হন কি করে?
    হাক্বীক্বত তিনি উম্মতের মত মানুষ নন। লক্ষ-কোটি দিক বা বিষয় রয়েছে, যার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্‌ নব্যিয়ীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের মত মানুষ নন, বরং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরীর মুবারকে যা কিছু ছিল, তা সবই ছিল পবিত্র থেকে পবিত্রতম। এমনকি তাঁর প্রস্রাব ও ইস্তিঞ্জা মুবারকও ছিল পাক ও পবিত্র। যা পান করার কারণে জাহান্নামী লোকের জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। তিনি যে হাযত পুরা করতেন তাও কোন মানুষ দেখতে পেত না। যমীন তা সাথে সাথেই গ্রাস করে ফেলত বা খেয়ে ফেলত। তাঁর শরীর মুবারকে কশ্মিঙ্কালেও মশামাছি বসতো না।
    উম্মতের জন্য ৪টির বেশী বিবাহ করা হারাম। কিন্তু আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য বিবাহের তা ছিল না। তিনি স্বয়ং নিজেই শারে’ বা শরীয়ত প্রণেতা, তিনি যা করেছেন, বলেছেন ও সম্মতি দিয়েছেন তাই শরীয়ত। পক্ষান্তরে উম্মতের ক্ষেত্রে তা নয়। উম্মত পরস্পর পরস্পর যেভাবে ডেকে থাকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেভাবে ডাকলে কুফরী হবে।
    উম্মতের জন্য কালিমা শরীফ হচ্ছে-
    لآَاِلٰهَ اِلاَّ اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلَ اللهِ
    পক্ষান্তরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কালিমা শরীফ হচ্ছে-
    لآَاِلٰهَ اِلاَّ اللهُ اِنِّيْ رَّسُوْلَ اللهِ
    যা উম্মত দাবী করলে কাফির হবে। উম্মতের স্ত্রীকে তালাক দিলে বা স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে অন্য কেউ বিবাহ করতে পারে। কিন্তু আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিছাল শরীফ-এর পরে উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণকে অন্য কোন মানুষের জন্য বিবাহ করা হারাম। উম্মতের মৃত্যুর পরে তার মীরাছ (পরিত্যক্ত সম্পদ) বন্টন করতে হয়। কিন্তু আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্ষেত্রে তা নয়। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাত, জাহান্নাম, আরশ, কুরসী, লওহ, কলম ইত্যাদি সবকিছুই দেখছেন। এমনকি মিরাজ শরীফ-এ তিনি স্বয়ং আল্লাহ্‌ পাককেও দেখেছেন। কিন্তু উম্মতের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।
    এমনিভাবে অসংখ্য, অগণিত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একমাত্র হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য খাছ। যা অন্য কোন মানুষ তথা উম্মত তো দূরের কথা অন্যান্য কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণকেও দান করা হয়নি।

    দ্য মুসলিম

    @তুষার (ﭡﺸر), আমিও তাই মনে করি যে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মতো সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তাই কদমবুছিটা তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিলো। আপনার মুর্শিদ ক্বিবলার ক্ষেত্রে নয়।

  3. হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবের রুটি খেতেন আচালা অবস্হায়। আপনার পীর কি করেন?????????????????????? ট্রাই করছিলো কোনদিন??

    তুষার (ﭡﺸر)

    @দ্য মুসলিম, যামানার মুজাদ্দিদের কাজ হচ্ছে সুন্নত জিন্দা করা। সুতরাং তিনি কি করেন বুঝতে পারছেন।

    দ্য মুসলিম

    @তুষার (ﭡﺸر),যামানার মুজাদ্দিদ এর কাজ হলো সুন্নাত জিন্দা করা। একেবারে খাটি কথা। সমস্যা হলো আপনার পীর তো জামানার মুজাদ্দিদ না। তাই উনি সুন্নাত জিন্দা না করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

  4. Mr.Tusher, why are you not left that fraud and stupid Gui.The man who will try to partition the Muslim is not a good man. “Green Pagri” is Sunnot, but White and black Pagri is also Sunnot.

    Please don’t spend your life on that wrong way.Because Islam is like a Sea not a bottle of water.

    তুষার (ﭡﺸر)

    @sadman, তিন রঙের (সাদা, সবুজ এবং কালো) পাগড়ি খাছ সুন্নত। তাই বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ উক্ত তিন রঙের পাগড়ীর সুন্নত আদায় করে থাকেন এবং মুরীদেরকে আদায় করতে অনুপ্রাণিত করেন। এতে মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তির কি ঘটলো। ভালোভাবে জেনে তারপর কথা বলুন।

  5. I apologize for not being able to type in Bengali.
    I was quite impressed when I discovered this site. This is very unfortunate that the purpose for which this blog site has been developed is not served, rather anguish & grievance of one against another Muslim brothers seem to have dominated. What the young Muslim brothers are going to learn from here? We all seem to follow or practice the part of Islam which suits us or which is enjoyable and ignore the rest.
    Why we read this site is to learn the truth, whosoever comes up with the best documents will surely be accepted by all. Please, be civilized & control your anger, be submissive (be Obama in attitude not Bush, don’t start criticising for these two examples). Do not argue for the sake of it-use your cool brain to study & find the truth. If someone challenges you—reply all of his challenges & not only the one which you can reply. We all would like to be in the right path, unite the brothers, rather then dividing. If we continue this haters one against other, the worst time of Muslim brotherhood is not far to come and we all will remain responsible for this to our next generation.

  6. প্রকাশ্যে “শিরকী” আক্বীদাহ প্রচারের অভিযোগে, “তুষার” নিকের লেখককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার আবেদন জানাচ্ছি কর্তৃপক্ষকে!

    জ্ঞান পিপাষু

    @ তুষার (ﭡﺸر),

    হাদীসের উদ্রিতি দিছেন , কিন্তু কোনটা কত নং হাদীস তা কেন উল্ল্যেখ করেন নি?
    আল-কুরানের আলোকে আপনার কথার কি কোন প্রমান আছে?

  7. রাসুল সা. উটের পিঠে, ঘোড়ার পিঠে চড়েছেন। সেই সুন্নত বাদ দিয়ে রাজারবাগের ভণ্ডপীর হেলিকপ্টারে চড়ে রংপুর গেল কেন কেন কেন ? ঝাতি ঝানতে চায়।

    লিংক:http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=117809

    ও মুরিদের দল, তোমরা চাঁদা তুলে তোমাদের পীরকে একটা মোটা তাজা উট কিনে দাওনা ভাই..।

    ibsohel

    @মুসলিম, এতে কোন সন্দেহ নেই যে আপনি নাম মাত্রই মুসলিম। কেননা মুসলিম তারাই যারা ইসলাম ধর্ম অনুসরণকারী। আর ইসলাম ধর্ম অনুসরনকারী অর্থ হচ্ছে কোরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস তথা শরীয়তের অনুসরনকারী। কোরআন শরীফে আছে ‘নিশ্চই প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য জ্ঞান অর্জন করা ফরয।’
    আপনি যদি সত্যিকারের মুসলমান হতেন তবে অবশ্যই কোরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের জ্ঞান অর্জন করতেন। তাহলে আপনার উদ্ভট প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি নিজেই জানতে পারতেন। সূতরাং আপনার বেশি বেশি করে পড়াশুনা করা উচিত। ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা উচিত।