লগইন রেজিস্ট্রেশন

ইরতিদাদের শাস্তি নিয়ে মুরতাদের দুশ্চিন্তা

লিখেছেন: ' Mahir' @ রবিবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৭ (৯:৩৬ অপরাহ্ণ)

 

শুরুতে ২ টি প্রবন্ধ পড়ে নিতে পারেনঃ ইসলাম ত্যাগকারী মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কেন

কেন আশেপাশের মুরতাদদের হত্যা করা হচ্ছে না

মুরতাদের শাস্তি নিয়ে মুরতাদের দুশ্চিন্তা!

পোস্টটা এতো তাড়াতাড়ি লিখার কোন ইচ্ছাই ছিল না।তবু লিখলাম, কারন বিষয়টা অনেকের মস্তিষ্ক পীড়নের কারন হয়ে উঠেছে। বলাবাহুল্য যে, মুমিনরা ইসলামী হদ্দকে ভয় পায় না। হদ্দকে তারাই ভয় পায়,যারা নির্দিষ্ট হদ্দ সংশ্লিষ্ট অপরাধে লিপ্ত। বুঝতেই পারছেন, কি কারনে মুরতাদের শাস্তি নিয়ে মুরতাদরা ব্যাপক টেনশনে আছে। তাদের মস্তিষ্ক পীড়ন হওয়াই স্বাভাবিক, কারন তাদের অন্তরে আল্লাহ ভয়ের সঞ্চার করেন।

প্রথমে ইসলামী রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে কিছু জেনে নেওয়া যাক। ইসলামের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রসমূহ প্রধানত ২ প্রকার:

১)দারুল ইসলাম : a state based on iman.ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রে ঈমানই হচ্ছে সকল বিধি-বিধান,সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে সবকিছুর মানদণ্ড।

২) দারুল কুফর: দারুল ইসলামের বাইরের ভূখণ্ড। একে আবার বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।যা আপাতত জানার দরকার নেই।

মুরতাদদের দাবি, সকল মুরতাদকে সকল অবস্থায় যে কেউ হত্যা করতে পারে। তাদের এরূপ দাবি শুনেই, ইসলাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের উচ্চতা আপনার নিকট পর্বতসম নয়,বরং সমুদ্রের গভীরতার সমান বলে প্রতিভাত হবে।(negative height!) বস্তুত, ইসলামী রাষ্ট্রের সরকার ছাড়া কেউ হদ্দ প্রয়োগ করতে পারে না। ব্যক্তিগত পর্যায়েও হদ্দ প্রয়োগ করা যায় না। আর আমদের দেশে তো যাবেই না। কারন ইসলামী পরিবেশ না থাকায়, এদেশে ঈমান ত্যাগ করা স্বাভাবিক। নারী-শিশু মুরতাদের হদ্দ নিয়ে ইখতিলাফের শেষ নেই।[দেখুন- আল ফিকহুস সুনানি ওয়াল আসার] পুরুষ মুরতাদের ক্ষেত্রেও কোর্ট -কাছারি, মামলা-মোকদ্দমা হবে, তদন্ত হবে, এরপরে শাস্তি। এত কিছু তখনই হবে, যখন মুরতাদ তার ইরতিদাদের কথা ঢোল পিটিয়ে প্রচার করবে। কিন্তু ইরতিদাদ গোপন রাখলে শাস্তি হবে না, এটাই সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃত।

এখন কথা হচ্ছে, কেন গোপন ইরতিদাদ সাজাভুক্ত হয় না? উপরের ভিডিও দেখলেই বুঝবেন যে, ধর্ম হিসাবে ইসলাম না মানলেও, একজন গোপন মুরতাদ সাংগঠনিকভাবে ইসলামকে স্বীকার করে। কিন্তু মৌখিকভাবে সংগঠন ত্যাগ করা শাস্তিযোগ্য [ভিডিও-র ২ঃ৩০ মিনিট থেকে দেখুন]।

আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারলাম যে,মুরতাদ আসলে একজন বিশ্বাসঘাতক।[এখানে] [কেউ কেউ রাষ্ট্রদ্রোহীও বলেছেন-আরো পড়ুন অংশ দেখুন] বিশ্বাসঘাতকের শাস্তি কি? বা বিশ্বাসঘাতক কাকে বলে সেটা বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিভিন্ন মানদণ্ড থাকে। বিশ্বাসঘাতকের কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। দেশের সরকার সেই সংজ্ঞা বানিয়ে নেয়। কাজেই দারুল ইসলামের সংবিধানে ইরতিদাদ একটি বড় অপরাধ। কোন অপরাধকে গুরু,আর কোন অপরাধ লঘু সেটা সংজ্ঞায়িত করার অধিকার ইসলামী রাষ্ট্রের আছে।আর সেই অপরাধের সাজা কি হবে সেটাও রাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত। উদাহরণঃ

The Congress shall have Power To …define and punish Piracies and Felonies committed on the high Seas, and Offences against the Law of Nations…. ARTICLE I, SECTION 8, CLAUSE 10

বাংলাদেশের সংবিধানের [৭ ক] বলছে,

… কোন অসাংবিধানিক [যেমনঃ মৌখিক আক্রমণ] পন্থায় – (ক) এই সংবিধান [কুরআন] বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে ; কিংবা (খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে- তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।

(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত- (ক) কোন কার্য করিতে  সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা

(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে- তাহার এইরুপ কার্যও একই অপরাধ হইবে। (৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

বুঝতেই পারছেন, ইসলামি রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে কুরআন; কাজেই, ইসলামি রাষ্ট্রে একই সাংবিধানিক অনুচ্ছেদের প্রয়োগ কতটা আলাদা হতে পারে। আপনি সেকুলার দেশে বসে জিনিসটা অনুভব করতে বা উপলব্ধি করতে কষ্ট হতে পারে। তবে বাস্তবতা এটাই। যখন জনগণের ধর্ম ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি একই হয়, তখন একই অনুচ্ছেদের প্রয়োগ ভিন্ন হতে পারে। আপনি কখনো খিলাফাত দেখেন নি, তাই মেনে নিতে বা উপলব্ধি করতে কষ্ট হতে পারে, সেটা ভিন্ন বিষয়।

নাস্তিকতা ছড়ানোর পদ্ধতি

প্রশ্ন হল, কেন দারুল ইসলাম ইরতিদাদকে গুরু অপরাধ মনে করে?

উত্তরে যাবার আগে ড:মো: তাজুল ইসলাম রচিত 'মন ও মানুষ' বই থেকে ২ টি মেডিকেল রিপোর্ট পেশ করছি।

১)একটি মঠে এক সন্ন্যাসিনী হঠাৎ একদিন বিড়ালের মতো মিউ মিউ করে ডাকা শুরু করে। পরবর্তীতে মঠের সবাই মিউ মিউ করা শুরু করে। বাধ্য হয়ে, রাজা মঠটি বন্ধ করে দেয়।

২)ভারতের এক এতিমখানায় এক বাচ্চা দুপুরে খাবার সময় পেট ব্যথায় আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। গুজব রটে যায় খাবারে বিষ আছে। এরপরে প্রত্যেক বাচ্চা পেট ব্যথায় আক্রান্ত হয়।কিন্তু আসলে খাবারে কোন বীষ ছিল না।

দুটো রিপোর্ট পড়েই আশা করি বুঝে গেছেন যে,মানুষ কতো সহজেই প্রভাবিত হয়।আরেকটা ব্যাপার হল,উভয় ঘটনায়,প্রথমে একজন সূত্রপাত করেছে।আর তাকে অকুস্থল থেকে শুরুতে সরিয়ে ফেলা হয় নি বলেই অন্যরা প্রভাবিত হয়েছে। কাজেই,যে কেউ ইরতিদাদ করলে খুব সহজেই আরো লোক মুরতাদ হবে, যদি না তাকে অকুস্থল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। যারা শুনে মুসলিম হয়েছে,তারা(ইরতিদাদের খবর) শুনে নাস্তিক হবে।এটা মুরতাদের জন্য শুভসংবাদ, কারন সে একা হলে তাকে মারা যেতো,এবার তো সে ফুটবল টিম নিয়ে এসেছে। ক'জনকে খলীফা সাজা দিবে?

এই হল,প্রথম পর্যায়ে মুরতাদ তৈরির প্রক্রিয়া। ২য় ধাপ অন্য প্রক্রিয়ায় হবে।এই প্রক্রিয়া national geography তে brain games অনুষ্ঠানে দেখানো হয়েছিল। ঘটনা হল-

কিছু লোককে বলা হল যে,ছেলেবেলায় তারা মেলায় হারিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাদের কেউ বিশ্বাস করল না। পরে,তাদের বাবা-মা,বন্ধুরা একই কথা বলল।একদিন তারা বিশ্বাস করল যে,তারা মেলায় হারিয়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ এটাও দাবি করল যে,হারিয়ে যাবার স্মৃতিও ফিরে এসেছে।

এখানে উল্লেখ্য যে,সকলেই এমনটা বিশ্বাস করা শুরু করেছিল, আর এখানে প্রধান প্রভাবক হিসাবে কাজ করেছে ঐসব লোক, যারা ব্যক্তির মনের উপর প্রভাব রাখতে পারে। তো ২য় ধাপে,যারা নাস্তিক হবে, তারা ১ম ধাপের লোকদের দ্বারা প্রভাবিত। কারন ১ম ধাপে ইসলাম সম্পর্কে কম জানে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি (যেমন-ডাক্তার,বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি)।

কেন মুরতাদ মানে বিশ্বাসঘাতক?

কাজেই,আমরা দেখতে পাচ্ছি,ইরতিদাদের ফলে যেসব সমস্যা একটি ইসলামী রাষ্ট্রে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তা হল:

১)দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে জনমনে সন্দেহের বীজ বপন করা।এই পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ শত্রুদের [ভেতরে ভেতরে অনুগত নয় এমন অমুসলিম নাগরিক] পক্ষালম্বন করা। পৃথকভাবে, শুধু এই অপরাধের জন্য জেল-জরিমানা হতে পারে। আর মুরতাদ একই সাথে আরও অনেক অপরাধ করে। উদাহরণঃ

Whoever, with intent to cause the overthrow or destruction of any such government, prints, publishes, edits, issues, circulates, sells, distributes, or publicly displays any written or printed matter advocating, advising, or teaching the duty, necessity, desirability, or propriety of overthrowing or destroying any government in the United States by force or violence, or attempts to do so; Whoever organizes or helps or attempts to organize any society, group, or assembly of persons who teach, advocate, or encourage the overthrow or destruction of any such government by force or violence; or becomes or is a member of, or affiliates with, any such society, group, or assembly of persons, knowing the purposes thereof— Shall be fined under this title or imprisoned not more than twenty years, or both, and shall be ineligible for employment by the United States or any department or agency thereof, for the five years next following his conviction. [দেখুন]

২)দারুল ইসলামের সরকার কোন দলের উপর ন্যস্ত থাকে না।বরং একক ব্যক্তির উপর শাসনভার দেয়া হয়।আর বিরোধী দল থাকে না,কারন মুসলিমদের শুরার সর্বসম্মতিক্রমে শাসক নিযুক্ত হয়।বিরোধী দল মানেই হল কাফির। বিরোধী দল দেশে জ্বালাও-পোড়াও,হরতাল,হাংগামা,মিটিং -মিছিলসহ যাবতীয় অরাজকতার দ্বার উন্মোচন করে।আর ইরতিদাদের ১ম ধাপ(সন্দেহ) থেকে ২য় ধাপের(অরাজকতা) শুরু হয়।opponents are traitors, as demonstrated by the popular book Treason, by Ann Coulter

৩) মুরতাদ দেশের সরকারের প্রতি অনুগত নয়।

৪) সে খিলাফাহর স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে। স্বাধীনতার প্রতি অশ্রদ্ধাশীল ব্যক্তির বিভিন্ন শাস্তি হতে পারে। কারও অশ্রদ্ধা কিছু কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যেমন- জাতীয় সংগীত নিয়ে ঠাট্টা করা। অবশ্য ইসলামী দেশে স্বাধীনতার প্রতি অশ্রদ্ধাশীল ব্যক্তির সংজ্ঞা ও শাস্তি আলাদা হবে। উদাহরণঃ

In India, for example, there has been an ongoing debate about whether citizens there can be punished under the “Prevention of Insults to National Honor Act” for disturbing the anthem’s playing. Offenders could face up to three years in prison for a disturbance. Russia fines citizens for the offense of mocking its national anthem, and its government is considering adding criminal charges of up to one year of imprisonment or hard labor for the “deliberate distortion of the musical arrangement or lyrics of the national anthem of the Russian Federation.” [দেখুন]

৫) দেশের সার্বভৌমত্ব মেনে নেয় না।

৬) যেহেতু সে দারুল ইসলামে ইসলামী পরিবেশে থাকা সত্ত্বেও মুরতাদ হয়েছে,তার মানে সে প্রচণ্ডভাবে রাষ্ট্রদ্রোহী। উদাহরণঃ

The United States' Uniform Code of Military Justice defines mutiny thus: Art. 94. (§ 894.) 2004 Mutiny or Sedition. (a) Any person subject to this code (chapter) who— (2) with intent to cause the overthrow or destruction of lawful civil authority, creates, in concert with any other person, revolt, violence, or other disturbance against that authority is guilty of sedition; (b) A person who is found guilty of attempted mutiny, mutiny, sedition, or failure to suppress or report a mutiny or sedition shall be punished by death or such other punishment as a court-martial may direct.[দেখুন]

৭)সে যদি দারুল ইসলামের পক্ষে না থাকে,তাহলে অবশ্যই দারুল কুফরের পক্ষে।কারন খলীফার পক্ষে থাকলে ইরতিদাদ গোপন রাখত। আর হতে পারে, দারুল কুফরের সাথে এখন মুসলিমদের যুদ্ধ চলছে।একজন রাজাকারের সাজা কি সেটাই হওয়া উচিত নয়,যে সাজার জন্য মুরতাদরা শাহাবাগে রাস্তা আটকিয়ে জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছিল? উদাহরণঃ

Far more people are prosecuted in America for sedition, an action or speech that is supposed to incite disloyalty, hatred, or treasonous behavior.

৮) He has gone against each and every word of the constitution.

৯) খলীফার উপর নাগরিকের ১০ টি হক্ব,আর নাগরিকের উপর খলীফার ১০ টি হক্ব থাকে।মুরতাদ হক্ব আদায় করে না,কিন্তু গ্রহণ ঠিকই করে। যা কিনা বিশ্বাসঘাতকতা।

১০) দারুল ইসলামে যেকোনো মুসলিম পাসপোর্ট -ভিসা ছাড়াই প্রবেশাধিকার রাখে।সেখানে তার আয়ের উৎস ২ টি-নিজের আয় + রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত ভাতা।রাষ্ট্র নাগরিকের জন্য খাদ্য,আবাস,চিকিৎসা, চাকুরী প্রভৃতির ব্যবস্থা করে শুধু এজন্য যে,আপনি মুসলিম। আর আজ আপনি সব অস্বীকার করলেন!

১১) সবচেয়ে বড় কথা,আপনি বলেছিলেন যে,আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই আর মুহাম্মাদ (সা:) তার রাসূল।কিন্তু আপনি আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন(যদিও আল্লাহ আগে থেকেই জানতেন) তবে আল্লাহ কেন আপনাকে মৃত্যুদণ্ড দিবেন না,যেখানে দুনিয়ার অনেক রাষ্ট্রই মৃত্যুদণ্ড দিতো? উদাহরণঃ

In western countries that still practice capital punishment, it is usually reserved for murder, espionage, or treason [পড়ুন] Even in the 21st century, treason remains the highest crime, punishable by the highest penalty. Even in the state of Michigan, where capital punishment is outlawed, a person who commits treason may be put to death. [পড়ুন]

উপরের আলোচনা যদি কারো বুঝে না আসে,তাহলে তার নিকট একটি প্রশ্ন – চোরকে ৬ মাসের সাজা কেন দেয়া হয়?? ৮ মাস বা ৫ মাসের সাজা কেন দেয়া হল না?

কোন নাস্তিককে উক্ত প্রশ্ন করে দেখুন,সে উত্তর দিতে পারবে না।কিন্তু নাস্তিকরা ইসলামের শাস্তি আইন নিয়ে উত্তর দাবি করে,ব্যাখ্যা দাবি করে।অথচ তারাই এমন আইন পালন করে যার উত্তর, তাদের জানা নেই; যার ব্যাখ্যা তাদের জানা নেই।

তাছাড়া সেকুলার আইনেও মুরতাদকে হত্যা করা বৈধ

লিবারেল ধর্মগুরু জন লক লিখেছেন,

The Case of Idolaters, in respect of the Jewish Common-wealth, falls under a double Consideration. The first is, of those, Who, being initiated in the Mosaical Rites, and made Citizens of that Common-wealth, did afterwards apostatize from the Worship of the God of Israel. These were proceeded against as Traytors and Rebels, guilty of no less than High Treason. For the Common-wealth of the Jews, different in that from all others, was an absolute Theocracy; nor was there, or could there be, any difference between that Commonwealth and the Church.

মুশরিক ইহুদী কমনওয়েলথের ব্যাপারটি যুগল প্রতিদানের অধীন। প্রথমত, তারা, যারা মূসার ধর্ম পালন আরম্ভ করেছিল এবং সেই প্রজাতন্ত্রের নাগরিক হয়েছিল, পরে ইস্রায়েলের ঈশ্বরের উপাসনা থেকে ধর্মত্যাগ করে। তারা হল বিদ্রোহী, যা রাজদ্রোহের অপরাধ থেকে কম নয়। ইহুদিদের কমনওয়েলথ অন্য সকলের চেয়ে আলাদা; এটা পরম ঈশ্বরতন্ত্র; সেখানে কমনওয়েলথ এবং চার্চের মধ্যে কোনও তফাত ছিল না বা থাকতেও পারে না।

[A Letter concerning Toleration and Other Writings, edited and with an Introduction by Mark Goldie (Indianapolis: Liberty Fund, 2010).]

মানে, লিবারেল মূলনীতি দিয়েও খিলাফাতের উপসংহারে পৌছানো সম্ভব। প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে, আজকের লিবারেলরা মুরতাদ হত্যা করে না কেন? কারন তাদের ইচ্ছা হয়েছে তাই। এখন আমাদেরও ইচ্ছা হয়েছে, তাই আমরা হত্যা করি। তুমি সমালোচনা কর কেন? আমার কথা হল, আমার বাসায় চাউল [লিবারেল মূলনীতি] আছে, লিবারেলের বাসাতেও আছে। এখন লিবারেলরা ফ্রাইড রাইস রান্না করলে, এটা তার ইচ্ছা। আমি ভাত [হত্যা করব] খাব, এতে কার যায় আসে? একই মূলনীতি থেকে উৎসারিত সিদ্ধান্তসমূহের যেকোনটি গ্রহণের অধিকার রয়েছে। লিবারেলদের কোন অধিকার নেই, আমার সমালোচনা করার। কিন্তু তবুও তারা জবরদস্তি করে, আমাকেও ফ্রাইড রাইস খেতে বাধ্য করতে চায়। এটা কি যৌক্তিক? তুমি হত্যা না করলে, তোমার ব্যাপার। কিন্তু কাজটাকে অনৈতিক বলার অধিকার তোমার নেই। কারন তোমার ধর্ম অনুসারেই মুরতাদ হত্যা বৈধ।

মুসলিম পরিবারের কেউ মুরতাদ হলে, তাকে হত্যা করা হবে কেন?

জবাব- দেশের আইনের কারনে। আইন সব সময় জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়। যেমনঃ আমার সেকুলার আইনের অধীনে থাকার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু আমি এদেশে জন্ম নিয়ে কোনঠাসা হয়ে গিয়েছি। এখন আমাকে সেকুলার আইন আমাকে মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ জন্মের সময় আমাকে কেউ এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাও করে নি। [লিবারেলদের কাছে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তারা রূপকথা শোনায় যে, আমার পূর্বপুরুষ নাকি সরকারের কাছে চুক্তি করেছিল, তাদের বংশধররা এই আইন মেনে চলবে।]

একইভাবে, খিলাফাতের অধীনে জন্ম নিলে, সেই ব্যক্তির উপরে খলীফা হুদুদ প্রয়োগ করতে পারবে।  আইন প্রয়োগের এই একচ্ছত্র ক্ষমতাই এক হিসাবে সার্বভৌমত্ব।

যাই হোক,আমি ইসলাম নিয়ে তেমন জানি না,রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আইনশাস্ত্র নিয়ে অপারদর্শী। আর আমি কখনওই খিলাফাত দেখি নি। তাই ঈমান ত্যাগের ফলে ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র কি সমস্যায় পরতে পারে,সেটা উপলব্ধি করা কষ্টসাধ্য। আমি শুধু ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি। অনেকের মনে হতে পারে যে,এদেশের কেউ নাগরিকত্ব কেউ ত্যাগ করলে, তাকে তো মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় না। আমি বলব- ইসলামী রাষ্ট্র ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেখানে আপনার দেশের আইনের মৌলনীতি খাটবে না। আর ব্যাপারটা নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে নয়, বিশ্বাসঘাতকতা বা রাষ্ট্রদ্রোহীতাকে কেন্দ্র করে। ইসলাম গ্রহণকারীকে আমরা এখন শুরুতেই বলি না যে,ঈমান ত্যাগ করলে মৃতযুদন্ড দেয়া হবে; কারন এখন খিলাফাহ নেই। রাসূলকে গালি দেওয়াও মুরতাদের সাজার অনুরূপ। কারন সে অনুরূপ অপরাধ সংঘটিত করে। তবে, শুনেছি এটা ব্যতিক্রম; খিলাফাহ না থাকলেও এই শাস্তি বহাল থাকবে। ইসলামের একমাত্র আইন, যা খিলাফাত ছাড়াও প্রয়োগ করার অনুমতি আছে।

উপরের প্রবন্ধের মানে এটা না যে, ইসলামী রাষ্ট্রে বাক-স্বাধীনতা নেই। পড়ুনঃ বাক-স্বাধীনতার উগ্রবাদ এবং ইসলামে বাক স্বাধীনতা

আরো পড়ুনঃমুরতাদের শাস্তি কুরআন ও হাদীসের আলোকে একটি সরল উপস্থাপনা

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩০৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)