লগইন রেজিস্ট্রেশন

যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে চান, অথবা বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের সাথে যুক্ত,-তাদের দৃষ্টি আকর্শন করছি?

লিখেছেন: ' sajiblobon' @ শনিবার, জানুয়ারি ২৮, ২০১২ (১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ)

যেকোন মুসলিমই রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীন প্রতিষ্ঠা বা ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার আকাংখা রাখতে পারে । কিন্তু একজন ভাল Practicing মুসলিম হিসাবে সবই কি এটাকে উপযুক্ত গুরুত্ব দিতে পেরেছি বা আল্লাহ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য করছি? নাকি (concept & practice এ)কম-বেশী করে ফেলছি অথবা নিজের উপর অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব চাপিয়ে নিচ্ছি? আসুন নিচের নিয়ামক গুলির আলোকে একটু চিন্তা করি:

১. এটা দ্বীনের অনেকগুলি আবশ্যিক বিষয়ের একটির(জিহাদের)অংশ। এটা পুর্নাঙ্গ দ্বীন নয়।

২. সারা বাংলাদেশে (অথবা পৃথিবীতে) দ্বীন কায়েম হলেও আমার কোন লাভ হবে না যদি আমার শরীরে দ্বীন কায়েম না হয়, আমার পরিবারে দ্বীন কায়েম না হয় অথবা যথাযথ চেষ্টা না করা হয়। “মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। “(৬৬:৬)

৩. দ্বীন কায়েম তথা যেকোন ইবাদতে/আমলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কেই অনুসরন করব। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে শুধু নেতা বা রাষ্ট্র নায়ক না, বরং জীবনের প্রতিটি হ্মেত্রে একমাত্র আদর্শ হিসাবে মানবো।”
“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।“ (Al-Imran:31), “…তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী। (At-Tauba:71)

৪. দ্বীন কায়েম করতে যেয়ে দ্বীনের কোন ব্যপারে কম্প্রোমাইজ করবনা। (generally)। “হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (২:২০৮)”

৫. রাসুলুল্লাহ সাঃ এর নবুওতের প্রথম ১৩ বছরের সুন্নাহ তথা দাওয়াতী জীবনের অনুসরন থেকে বিরত থাকব না। বরং রাসুলুল্লাহ সাঃ দ্বীন প্রতিষ্ঠার সুন্নাহগুলি অনুসরন করব।

৬. শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীন কায়েম করাটাকেই জীবনের একমাত্র/ultimate উদ্দেশ্য/লহ্ম বানিয়ে ফেলবনা। বরং জান্নাত-আল্লাহর সন্তুষ্টি-আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন-…- ইত্যাদী লহ্ম ঠিক রাখব। এবং ইসলামের অন্যান্ন আবশ্যিক বিষয়গুলিতে কৃতকার্য হওয়ার জন্য সমান বা বেশী Priority দিয়ে চেষ্টা করব।

৭. রাসুল সাঃ ছাড়া কোন মানুষকেই অন্ধ অনুসরন করব না। এটা মনে রাখব যে যেকোন আলেমই ভুল করতে পারেন। তাই ততহ্মন কাওকে অনুসরন করব, যতহ্মন তা কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে যাবে না।

৮. শুধুমাত্র ইসলামী সাহিত্য ও বিপ্লবী তাফসীরের মধ্যে নিজের ঞ্জানকে সীমাবদ্ধ রাখব না। পৃথিবীর অন্যান্ন বড় স্কলারদের লেখা বই বিশেষ করে যারা মাতৃভাষার মাধ্যমে ইসলামিক ঞ্জান অর্জন করেছেন (এবং শুদ্ধ আকিদার) তাদের বইও পড়ব। সুন্নাহ অধ্যয়ন করব। জীবনের প্রতিটি হ্মেত্রে ইসলাম পালনের জন্য যে ঞ্জান অর্জন করা দরকার তা অর্জন করব।

৯. কোরআনকে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝব না। বরং সেভাবেই বুঝার চেষ্টা করব যেভাবে রাসুলুল্লাহ সাঃ বুঝেছেন ও বুঝিয়েছেন এবং সাহাবীগন বুঝেছেন। এবং একটা আয়াত বা হাদীস পড়েই সেটা দিয়ে কোন Ruling draw করে বসব না। বরং শুদ্ধ আকিদার আলেমগনের সহচার্যে থাকব ও তাদের সাহায্য নিব।

১০. ইসলামের কোন ব্যাপারেই চরম পন্থা অনুসরন করব না।

১১. হিদায়াত পেয়ে গেছি বলে সন্তুষ্ট চিত্তে বসে থাকব না। বরং এভাবে চিন্তা করে দেখব – দিনে ৫ ওয়াক্ত নামাজে আল্লাহ আমাদের কো্রআনের যে সুরাটি প্রতিরাকাতে পড়তে আদেশ করেছেন, তাতে মুলত আমরা বারবার আল্লাহর কাছে হিদায়েত প্রর্থনা করি। নামাজ তো শুধু মুসলিমরাই পড়ার কথা। তাহলে আল্লাহপাক মুসলিমদেরকে প্রতিদিন ১৭ বার শুধু হিদায়েত প্রার্থনা বাধ্যতামুলক করে দিলেন কেন। এটা যদি এত সহজ হত তাহলে কি এত গুরুত্বের প্রয়োজন ছিল। তাই পুর্বপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত অনুশাসনগুলিকে একটু সততার সাথে কুরআন সুন্নাহের আলোকে চিন্তা করে দেখব এবং হিদায়েতের পাওয়ার চেষ্টা করব।

১২. যা কিছু করব একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দ্যশ্যেই করব এবং লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে বা আত্মতুষ্টির উদ্দেশ্যে করব না + রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সুন্নাহ অনুযায়ী করব।

১৩. নিচের হাদীস গুলি ভুলে যাব না:
রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন:
× মুসলমানকে গালমন্দ করা গুনাহর কাজ এবং তার সাথে মারপিট করা কুফরী। (মুসলিম:১২৫)
× মুসলিম সেই, যার হাত ও জিহবা হতে অপর মুসলমান নিরাপদ (Muslim :: Book 1 : Hadith 65 )
× তিন ব্যাক্তির সাথে রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক কথা বলবেন না । তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। তাদের কে পবিত্র করবেন না । আর তদের জন্য রয়েছে ভীষন আযাব। রেওয়ায়েতকারী বলেন তিনি এ আয়াতটি তিনবার পড়লেন । আবু যর রা: বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ), তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হল:
যে ব্যাক্তি টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে , যে ব্যাক্তি দান করে খোটা দেয় এবং যে ব্যাক্তি মিথ্যা শপথ করে মাল বিক্রি করে। (মুসলিম-ঈমান পর্ব:১৯৫)
× “এক মুসলিম আর একজন মুসলিম এর ভাই । সে তার উপর জুলুম করে না, এবং তাকে শত্রুর হাতে সমর্পনও করে না । এবং যে তার ভাইয়ের অভাব মিটিয়ে দিবে, আল্লাহপাক তার অভাব পূরণ করে দিবেন । এবং যে ব্যাক্তি, কোন মুসলিমের বিপদ দুর করবে, আল্লাহপাক তার বিনিময়ে কেয়ামতের দিন তাকে বিপদ থেকে মুক্ত করবেন । যে ব্যাক্তি, মুসলমানের দোষত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহপাক রোজ কিয়ামতে তার দোষত্রুটি গোপন রাখবেন “(মুসলিম অনুবাদ বইয়ের : হাদীস ৬৩৪৪)
× যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রতি এবং পরকলের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার উচিত উত্তম কথা বলা অথবা মৌনাবলম্বন করা। আর যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রতি ও পরকলের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার উচিত প্রতিবেশীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। যে ব্যাক্তি আল্লাহপাক ও পরকলের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার উচিত মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। (মুসলিম:৭৯)
× সাবধান! মন্দ ধারণা হতে দূরে থাক।কেননা মন্দ ধারণা অনুমান সবচেয়ে বড় মিথ্যা। (বুখারী ও মুসলিম, রিয়াদুস সালেহীন-১৫৭৪)
× আবু হুরাইরাহ (রাযি) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সা বলেছেন, কোন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেস্ট যে, সে যা শুনে (খোঁজখবর নেয়া ছাড়াই) তাই বলে বেড়ায়। (মুসলিম ৫)
× “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, এবং নির্দেশ মান্য কর রসূলের….”(Sura Nisa:59, Same mentioned in Al Maida:92, An-Nur:54, )
× “নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।“(An Nur:56)

১৪. মাওলানা মাওদুদি (রাহিঃ), সাইয়েদ কুতুব (রাহিঃ) বা আয়াতুল্লাহ খোমেনীর জীবনী পড়ার আগে রাসুলুল্লাহ সাঃ,আবু বকর রাঃ, উমর রাঃ, উসমান রাঃ, আলী রাঃ সহ সাহাবীদের জীবনী পড়ব।

আল্লাহপাক আমাকে এবং সবাই তা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। কোন ভুল হয়ে থাকলে মাফ করবেন এবং দয়া করে শুদ্ধ করে দিবেন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৯৩ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. রাসুল সাঃ ছাড়া কোন মানুষকেই অন্ধ অনুসরন করব না। এটা মনে রাখব যে যেকোন আলেমই ভুল করতে পারেন। তাই ততহ্মন কাওকে অনুসরন করব, যতহ্মন তা কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে যাবে না। (F) (F) (F)

  2. ১. এটা দ্বীনের অনেকগুলি আবশ্যিক বিষয়ের একটির(জিহাদের)অংশ। এটা পুর্নাঙ্গ দ্বীন নয়

    এই বিষয়টি কি একটু খুলে বলবেন?

    আমার জানা মতে, জিহাদ ফরজ হলে একজন মুসলিমের জন্য নিজের মধ্যে দ্বীন কায়েমের জন্য সময় ক্ষেপন করা জরুরী নয়, বরং, জিহাদ এমন এক ফরজ যার জন্য কোন রকম চিন্তাভাবনা, সময় ক্ষেপন, নিজের শরীর, সমাজ ইত্যাদিতে দ্বীন কায়েমের জন্য পড়াশুনা, অপেক্ষা ইত্যাদির কোন অবকাশ নেই। শুধু ঈমান থাকলেই চলবে।

    ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ।