লগইন রেজিস্ট্রেশন

ইসলাম প্রতিষ্ঠা আর ইসলাম পালন।

লিখেছেন: ' আল মাহমুদ' @ মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪, ২০০৯ (১২:৫৮ অপরাহ্ণ)

যারা পৃথীবিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার দাবিদার, তাদের অনেকেই চেষ্টা করেছেন ইসলামকে তারা ডেমক্রাটিক্যাল উপায়ে জনগনের মধ্যে কায়েম করবে, অনেকে প্রয়াস পেয়েছেন জোর জোর জবরদস্তির মাধ্যমে চাপিয়ে দিতে, আবার অনেকে মনে করেন দাওয়াতের মাধ্যমে কখনো হয়তোবা সকল মানুষ মুসলমান-মুত্তাকী হয়ে ইসলাম কায়েম করবে। বস্তুত সকলেই ইসলামকে ভালবেসেই এসব চান। আমার ব্যাক্তিগত কিছু মতামত এ ব্যাপারে বলবো যা আপনাদের ভালো লাগতে পারে কিংবা না-ও লাগতে পারে। তবে আমার লক্ষ্য হল রাজনৈতিক ইসলামের রুপরেখা নিয়ে আলোচনা করা এবং এ ব্যাপারে আলেম ওলামাগন এবং বিভিন্ন দল এবং গোষ্ঠির কার্যক্রম নিয়ে আত্নসমালোচান মুলক বিশ্লেষণ করা, কারো অযথা গীবাত চর্চা নয় এবং তাচ্ছিল্য করা নয় বরং কোরান-সুন্নাহের মৌলিক দৃষ্টিকোন রাজনৈতিক ইসলামের ক্ষেত্রে কী তা পর্যালোচনা করা। ইসলাম প্রথম শিকড় গাড়ে মানুষর হৃদয়ে তার পর মুখে তার পর পরিবার-সমাজ রাষ্ট্র সর্বপরো বিশ্বময় এই ইসলাম এ ব্যাপারে আমার দ্বিমত নেই। আমার দ্বিমত এবং আত্নসমালোচান ২০০কোটির সর্ববৃহত্জনগোষ্ঠীল জন্য যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে জানি কিন্তু ইসলাম নিয়ে হোলি খেলার দ্বার আমরাই খুলে রেখেছি। আমরাই আজ কোরানের বিরুদ্ধ-শাষণ ব্যাবস্থার ধারক ও বাহক। আমাদের মসনদ-আর ক্ষমতার জন্য আমরাই আজ আফগান-পাকিস্তান-সৌদি-সিরিয়া-তুর্কিস্তানে ক্রুসেডরদর স্বাগত জানাই।

১। ইসলাম কী আসলেই রাস্ট্রীয় ভাবে পালন করার বিষয়?
এ ব্যাপারে যারা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে কোরান হাদীস অধ্যায়ন করবেন তারা নিশ্চয় সর্বপ্রথম এই আয়াত পেশ করবেন ألذين ان مكناهم في الأرض এর অর্থে এটাই বুঝবেন যে, কোরান আপনাদের বলছে জোর করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং নামাজ-জাকাত-ধর্মীয় অনুশাষণ বাস্তবায়ন করতে হবে।
অথচ আয়াতটির অর্থ হল ” আর যদি আমি তাদের পৃথীবিতে ক্ষমতা প্রদান করি তবে তারা …” সুতরাং আয়াত কখনোই স্পস্ট ভাবে ক্ষমাতা গ্রহনের কথা বলে না। বরং যদি ক্ষমতায় যদি উপবিষ্ট থাকে তবে নামজ কায়েম- জাকাত প্রদান এবং সত্কাজের আদেশ এবং অসত্কাজের নিষেধ করতে হবে । এ ক্ষেত্রে ক্ষমতা যদি মূখ্য হয় তবে ‘যদি’ ان বা if ব্যাবহার করা হতো না। এখানে ক্ষমতায় উপবিষ্ট ব্যক্তিকে বলা হচ্ছে যেন তারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত আদায় করে এবং সত্কাজের আদেশ এবং অসত্কাজের নিষেধ প্রদান করে। জোর করে কারো ক্ষমতা গ্রহনের কথা বলা হয় নি। আয়াতে কখনোই ক্ষমতা গ্রহনের বাধ্যবাধকতা ইংগিত করা হয় নি।
২। কোরান যেসব আয়াতে কেস্বাস- দিয়্যত-ফিদিয়া ইত্যাদি মাসলার কথা বলছে সেসব আয়াত কিভাবে পালন করা যাবে?
হয়তো বা বলবেন কোরান তাহলে যেসব সামাজিক বিচার বিধানের বর্ণনা করেছে তা তো রাস্ট্রীয় ব্যাবস্থাপনা ব্যতিত কায়েম করা সম্ভব নয়, অথচ কোরান সেগুলোকে পালন করতেই নাজিল করেছে এবং সেগুলো নাজীল করা হয়েছে অন্য সকল লঘুতর হুকুমকে রহিত বা মানসুখ করে, সুতরাং কোরানের হুকুম আহকাম নাজিল হওয়ার এই স্টাইল ও একটি বিষয়ের ইংঙ্গিত করে যে, মানুষকে অবশ্যই কোরানের শাষণ ব্যবস্থা মেনে নিতে হবে।
আমি বলবো কোরান যেখানে বলছেفمن شاء فليؤمن ومن شاء فليكفر ” যার খুশী সে যেন ইমান আনে আর যার খুশী সে যেন কুফুরী করে” قل ما يعبئكم ربي لولا دعائكم فقد كذبتم فسوف يكون لزاما ” বলুন তোমরা যদি অস্বীকার করো তবে তোমাদের রব তার পরোয়া করেন না” لكم دينكم و لي دين “তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম আমাদের জন্য আমাদের ধর্ম” এর বক্তব্য পরিষ্কার যে মানুষকে স্বাধীনাতা দেয়া হয়েছে সে চাইলে ইসলাম গ্রহণ করতে পারে চাইলে কুফুরীও করতে পারে সুতরাং জোর করে ইসলাম কায়েমের কথা কোরানও বলে না।
হাদীস হল ” তোমরা তাদের ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিবে তাতে তারা অস্বীকার করে তবে তাদেরকে জিজিয়ার কথা বলবে, তাতেও অস্বীকার করলে যুদ্ধ করবে”
সুতরাং জিজিয়া গ্রহনের মাধ্যমে মুসলমানরাই কাফেরদের কুফুরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে; বলপ্রয়োগ পূর্বক ইসলাম কায়েমের কথা বলা হয়নি।

তাহলে শাষণের আয়াত সমূহের উদ্দেশ্য কী?!! উদ্দেশ্য পরিষ্কার যে, কোন মুসলিমকে যদি আল্লাহ আসনে অধিষ্ঠিত করেন তবে সে অবশ্যই ইসলাম কায়েম করবে, এবং সে ক্ষেত্রে সে ইসলাম কায়েম না করলে পরিস্কার গুনাহগার হবে। আর যদি আল্লাহ কোন মুসলমানকে শাষণভারের ক্ষমতা না দিয়ে থাকেন তবে সে ব্যাপারে তার কোন জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে না যে, তোমার দেশে কেন ইসলাম কায়েম করো নি।
الذين إن مكناهم في الأرض أقاموا الصلاة وآتوا الزكاة وأمروا بالمعروف ونهوا عن المنكر ولله عاقبة الأمور ( 41 ) ) .

قال ابن أبي حاتم : حدثنا أبي ، حدثنا أبو الربيع الزهراني ، حدثنا حماد بن زيد ، عن أيوب وهشام ، عن محمد قال : قال عثمان بن عفان : فينا نزلت : ( الذين إن مكناهم في الأرض أقاموا الصلاة وآتوا الزكاة وأمروا بالمعروف ونهوا عن المنكر ) ، فأخرجنا من ديارنا بغير حق ، إلا أن قلنا : ” ربنا الله ” ، ثم مكنا في الأرض ، فأقمنا الصلاة ، وآتينا الزكاة ، وأمرنا بالمعروف ، ونهينا عن المنكر ، ولله عاقبة الأمور ، فهي لي ولأصحابي . [ ص: 437 ]
সূরা হজ্বের ৪১তম আয়াতের ব্যাপরে ওসমান রযি আনহু বলছেন: (যারা আমি যদি তাদের পৃথিবীতে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করি তারা নামাজ কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সত্কাজের আদেশ ও অসত্কাজে নিষেধ করবে) আয়াতের উদ্দেশ্য আমরা ( সাহাবাগন) আমরা বল্লাম “আল্লাহই আমাদের রব” অতপর তিনি আমাদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করলেন এবং আমরা নামাজ কায়েম করলাম, যাকাত প্রদান করলাম এবং সত্কাজে আদেশ করলাম অসত্কাজে নিষেধ প্রদান করলাম। ওসমান রযি বলেন এটা আমার এবং আমার সাথীদের জন্য ।” তাফসীরে ইবনে কাছির ৪৩৭ অনলাইন কপি
সুতরাং বক্তব্য স্পষ্ট যে, ক্ষমতায় যদি যাওয়া যায় তবে অবশ্যই মুসলিম জনসাধারনের মধ্যে নামাজ-জাকাত- অনুশাষণ ইত্যাদির বাধ্যবাধকতা চালু করতে হবে।

ক্ষমতায় যাওয়ার উপায় এব্যাপরে কি কোরান কোন নির্দেশনা জারি করেছে؟ আমি বলবো কোরান বলছে قاتلوا الذين لا يؤمنون بالله ولا باليوم الآخر ولا يحرمون ما حرم الله ورسوله ولا يدينون دين الحق من الذين أوتوا الكتاب حتى يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون ( 29 ) সূরা তাওবা ২৯।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৮৪ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৬ টি মন্তব্য

  1. পরবর্তি লেখা দেয়া হবে ইনশা আল্লাহ। (F)

  2. আমি খুব আল-কুরানের আলোকে কিছু বলতে চেষ্টা করবো, আশাকরি এতেই যতেষ্ট হবে, তার পরেও ভুল ভ্রান্তি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা রাখি ।

    দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।
    সুরা বাকারা, সুরা নং ২, আয়াত নং ২৫৬

    আপন পালনকতা’র পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের
    কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরুপে, এবং তাদের
    সাথে বিতক’ করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায় । নিশ্চয় আপনার পালনকতা’ই ঐ ব্যক্তি সম্পকে’ বিশেষ ভাবে জ্ঞাত র‌য়েছেন,
    যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভাল
    জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে ।
    (সুরা নাহাল, সুরা নাম্বার ১৬ ,আয়াত নাম্বার ১২৫ )

    নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি। আপনি দোযখবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না।
    (সুরা আল বাকারা, সুরা নং ২, আয়াত নং ১১৯)

    ইসলাম কখনই জবরদস্তিকে সমর্থন করে না, উপরে আল-কুরআনে আল্লাহ বলে দিয়েছেন, কিভাবে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে হবে, কেউ যদি না জেনে না বুঝে আল্লাহর দিন ইসলাম বা আল-কুর আন বিষয়ে এমন কিছু বলেন বা করেন, আর যদি তাতে ইসলাম বা মুসলিমদের কোন ক্ষতি হয়, তার দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে, আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন, আমিন ।

    মর্দে মুমিন

    @ফাহাদ হুসাইন, (Y)

    বাংলা মৌলভী

    @মর্দে মুমিন, আমিও কিন্তু তাই বলছি।

    ফাহাদ হুসাইন

    @বাংলা মৌলভী, শুনে ভালো লাগল ভাইয়া,
    মন ভেঙেযায় তখন, যখন দেখি আমারি সামনে মুসলিমদের দ্বারা ইসলামের ক্ষতি হচ্ছে, কেনযে এমন হয়…… :(

  3. সহমত। আসলে কখন জোর জবরদস্তি করতে হবে , কখন করতে হবে না , সবই কোরান হাদিসে সুন্দরভাবে দেয়া আছে । সমস্যা হলো আমরা পরিস্হিতি বিচার না করে একটার সাথে একটা মিলিয়ে ফেলি ।

    খেলাফত কায়েম থাকলে এক হুকুম , আর খেলাফত কায়েম না থাকলে আর এক হুকুম। এদুটোর পার্থক্য বোঝা উচিত।