লগইন রেজিস্ট্রেশন

একটি সভ্যতার অন্তরালে (Materialism বস্তুবাদ অধ্যায়)

লিখেছেন: ' আল মাহমুদ' @ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৮, ২০০৯ (১০:০৫ পূর্বাহ্ণ)

ভূমিকা : খৃষ্টীয় আঠারো শতকের পরথেকে পাশ্চাত্য উদ্ধার করলো এক নুতন মতবাদ আর তা হলো “যার যত বেশি সমৃদ্ধি সে ততসুখী” আর তাই কলোনাইজেশনের পর তারা অধিকৃত সকল দেশের সম্পদকে কুক্ষিগত করতে লাগলো তাদের নিজ দেশে। মানুষ শিখে নিল যত বেশি প্রাচুর্য্য ততবেশী সুখ। আর মানুষের পারিপার্শ্বিকতা এবং স্বভাবগত আবেগও এ কথার স্বাক্ষীদিবে যে “যত বেশি-তত খুশি”।

ও হ্যা এটা পাশ্চাত্যের নতুন আবিষ্কার নয় যেমনটি তারা টেকনিক্যাল জগতের অনেক কিছু করেছে বরং এটা একটি প্রাচীন সভ্যতার পুনরজ্জীবন যা ঐশী প্রচারনা রেসালতের দাবীর ফলে ধ্বংস হতে চলছিল। পৃথীবিতে মানুষের অস্তিত্বের পর থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে বহুপ্রকার সভ্যতা । এসবের মৌলিক যে দাবী ছিল তা হল “যত বেশি ততখুশি” আর এই স্বভাবগত আকর্ষণ এবং পারিপার্শ্বিকতার টান থেকেই কেউ উত্কর্ষ করেছে তাদের বসতবাড়ী, কেই উন্নতি করেছিল কৃষিকাজে, কেউবা, লোকবল এবং রাজ্যের পর রাজ্যকে পরাধীন করে বানিয়েছে প্রতিপত্তির সভ্যতা কিন্তু কালের জোয়ারে কোনটিই টিকে থাকে নি, ঠিক পূরণ করতে পারেনি মানুষের সকল চাহিদা কে, টিকিয়ে রাখতে পারেনি সেই সভ্যতাকে বরং ধ্বংষ হয়েছে সেই সভ্যতা এবং তার পূজারীরা ।

এ দাবী বহুপ্রাচীন এবং নতুন ছলে, নতুন কলে মানুষের মাঝে এই দাবীই উকিঁ মারে যূগের পর যূগ জাতির পর জাতি প্রভান্বিত হয়েছে এই দাবীর কাছে, ন্যুজ হয়েছে তার মনোবৃত্তির কাছে। এবং ইলাহী আহ্বানের পরোয়া না করে সে ধ্বংস হয়েছে এবং ধ্বংস করেছে। সে ধ্বংস হয়েছে তার বিশ্বস্ত সেই বস্তুকে নিয়ে যার উপরে সে ভরসা করেছিল। কার
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা`লা আলকোরানে পৃথীবির সেই প্রাক সভ্যতাগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন যেমন তিনি বলছেন : (أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَأَثَارُوا الْأَرْضَ وَعَمَرُوهَا أَكْثَرَ مِمَّا عَمَرُوهَا وَجَاءتْهُمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ * ثُمَّ كَانَ عَاقِبَةَ الَّذِينَ أَسَاؤُوا السُّوأَى أَن كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَكَانُوا بِهَا يَسْتَهْزِؤُون).
তারা কি পৃথীবিতে বিচরণ করে না? যাতে দেখতে পারে তাদের পূর্ববর্তিদের পরিনাম কি হয়েছিল? তারা এদের চাইতে শক্তি-পদস্মৃতি তে বেশি ছিল, এবং এরা যতটুকু পৃথীবি আবাদ করেছে তার চেয়ে তারা বেশি আবাদ করেছিল, এবং তাদের কাছে তাদের রসূলগন স্পস্ট নিদর্শন সমূহ নিয়ে এসেছিলেন, এবং আল্লাহ তাদের উপর অত্যাচার করেন নি বরং তারাই তাদের নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, অতপর যারা অন্যায় করেছিল তাদের পরিনাম হয়েছিল অত্যন্ত খারাপ, যেহেতু তারা আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যাসাব্যস্ত করতো এবং ঠাট্টা করতো ।

আজো সেই একটি সভ্যতা Civilization গড়ে উঠেছে এই পৃথীবিতে যার দাবী হল “বস্তু নির্ভর শান্তি” আর এই শান্তির অন্বেষায় হন্য হয়ে আছে পৃথীবির তাবত্জাতিকুল, এমনকি সাধারণ মুসলিম সম্প্রদায় যারা কেবল কালেমার উচ্চারনেই মুসলমান। কিন্তু এই কালেমার দাবী এবং চাহিদা উপলব্ধি করণ এবং তা পূরণ করতে তারা ব্যর্থ।

তাই প্রতিটি যূগের মহামনীষি যারা উদ্বিগ্ন ছিলেন মানুষের এসব বস্তুনির্ভরাতা নিয়ে, যারা বস্তু এবং তার বাস্তবতার পার্থক্য অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, যারা সৃষ্টি এবং স্রষ্টার অবস্থানকে নির্ণয় করতে পেরেছিলেন আল্লাহ তাদের মাধ্যমেই তাদের জাতিগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন يا أيها الناس قولو لا اله إلا الله হে লোক সকল তোমরা এসব বস্তুজগতের শক্তিকে অস্বীকার করে এর স্রষ্টার শক্তিকে স্বীকার করে নাও, বলো ” লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ’ তবেই তোমরা সফল হবে। তোমাদের সফলতা এসব বস্তু এবং সভ্যতার উপর নির্ভর করে না বরং তোমাদের সৃষ্টিকর্তা এবং এসবের স্রষ্টা এক মহান আল্লাহর হাতেই সকল সফলতা, সুতরাং তাকে মেনে নাও তার শক্তিতেই বিশ্বাসী ও বলিয়ান হও।

আমরা দেখছি, এবং ভাবছি বস্তুজগতে মানুষের উত্কর্ষতা যত উর্ধ্বে, যার প্রাচুর্য্য যত বেশি, অর্থনৈতিক ভাবে যে যতবেশী স্বাবলম্বী সেই ততবেশী সুখী । যে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে যতবেশী সমৃদ্ধ তারাই ততবেশী প্রভাবশালী। আমাদের বিশ্বাস অর্থ-বস্তু এবং পারিপার্শিক বস্তুগত সমৃদ্ধির উপর ।
এই Materialism বা বস্তুগত ধারনার যে বাস্তবতা তা হল বস্তু ব্যবহারের কারনে বস্তু মুল্যবান হয়, আধিক্যের কারনে তার মূল্য কম হয়। আমরা কয়েকপ্রকার বস্তুর বাস্তবতা চিন্তা করলে বুঝবো যে, এগুলোর যেটি স্যখ্যায় অধিক যেমন মাটি- ধুলো -বালি এগুলোর মূল্য যা পরিমানে কম এবং দুষ্প্রাপ্য যেমন স্বর্ণ-চাদি-হিরা-জহরত এর তুলনায় শস্তা এবং পরিমানের উপর এর মূল্য নির্ভর করে। আবার বস্তুর মূল্য ব্যাবহারের উপর নির্ভর করে ফলে ব্যাবহারের কারনে তার মূল্য বাড়ে এবং ব্যবহার না করলে কমে যেমন পতিত মাটি এবং ইটের মূল্যের তারতম্য কেবল ব্যাবহারের চাহিদা এবং এর পিছনে মেহনতের কারনেই।
বস্তুর সংজ্ঞায় বলা যায় তা সৃষ্ট এবং এবং ব্যাবহার নির্ভর, নিজথেকে কিছু করতে পারে না যতক্ষন না কেউ তাকে পরিচালনা করে। এবং এই বস্তুর উপর নির্ভরশীলতাকে কেন্দ্র করে পৃথীবির এক সভ্যতা গড়ে উঠেছে যার দাবী আজ পৃথীবির দিক-বিদিক ছড়িয়ে, বস্তুর উত্কর্ষতাকে বাড়াতে, রিজার্ভ এবং সঞ্চয় বাড়াতে মরিয়া হয়ে আছে পৃথীবির সকল রাস্ট্র। অথচ এই বস্তুর আদৌ নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই । এবং তার মধ্যে প্রদেয় যে ক্ষমতা আছে তা নির্দিষ্ট সময়ের, এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতেই কেবল উপকার করে। (চলবে) ইনশা আল্লাহ

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১০০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. আজো সেই একটি সভ্যতা Civilization গড়ে উঠেছে এই পৃথীবিতে যার দাবী হল “বস্তু নির্ভর শান্তি” আর এই শান্তির অন্বেষায় হন্য হয়ে আছে পৃথীবির তাবত্জাতিকুল, এমনকি সাধারণ মুসলিম সম্প্রদায় যারা কেবল কালেমার উচ্চারনেই মুসলমান। কিন্তু এই কালেমার দাবী এবং চাহিদা উপলব্ধি করণ এবং তা পূরণ করতে তারা ব্যর্থ।

    এমনকি কয়েকদিন আগে কোথায় জানি পড়েছিলাম যে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় গামী ছাত্রদের মধ্যে নাকি ৩০% নাস্তিক। তাদের বাবা-মায়ের সুশিক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার কারনে এমনটি ঘটছে। ঐ সকল পরিবারগুলোও কেবল কালেমার উচ্চারনেই মুসলমান।