লগইন রেজিস্ট্রেশন

শরীয়াতের ভাষায় গণক কাকে বলে এবং গণকের কাছে যাবার বিধানঃ

লিখেছেন: ' বাগেরহাট' @ সোমবার, ডিসেম্বর ২১, ২০০৯ (১:৪৬ অপরাহ্ণ)

” বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম্”

গণক এমন লোককে বলা হয়, যে অনুমানের উপর ভিত্তি করে ভিত্তিহীন
বিষয়ের অনুসন্ধান করে থাকে । জাহিলী যামানার কিছু লোকের সাথে শাইতনের যোগাযোগ ছিল। শাইতনেরা চুরি করে আকাশের সংবাদ শ্রবণ করত এবং তাদের কাছে বলে দিত। আকাশ থেকে যা শ্রবন করত , তার সাথে আরো অনেক মিথ্যা কথা সংযোগ করে মানুষের মধ্যে তা প্রকাশ করত ।তারা যা বলত, তার একটি কথা সত্য হলে মানুষ ধোঁকায় পড়ে যেত এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য ও ভবিষ্যতে কি হবে , তা জানার জন্য গণকের কাছে আসা শুরু করত। এজন্যই আমরা বলি যে, গণক তাকে বলা হয়,যে ভবিষ্যতের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে থাকে ।

যারা গণকের কাছে আসে তারা তিনভাগে বিভক্তঃ (১) গণকের কাছে
এসে তাকে কোন কিছু জিজ্ঞস করা এবং তার কথায় বিশ্বাস না করা । এটা হারাম। এ ধরনের লোকদের সম্পর্কে নবী করিম (সঃ) বলেছেন ,
“যে ব্যক্তি গণকের কাছে গিয়ে কোন কিছু জিজ্ঞেস করল ,চল্লিশদিন পর্যন্ত তার সলাত কবুল হবেনা।” (মুসলিমঃ অধ্যায় ঃ কিতাবুস সালাম) (২) গণকের কাছে এসে তাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করা এবং তার কথা বিশ্বাস করা । এটা আল্লাহর সাথে কুফুরী করার অর্ন্তভূক্ত । কারন , সে “ইলমে গায়েবের দাবীতে গণককে বিশ্বাস করেছে । মানুষ “ইলমে গায়েব জানে বলে বিশ্বাস করলে আল্লাহর কথাকে অবিশ্বাস করা হবে।
মহান আল্লাহ বলেন, ” বলুন, আকাশ এবং জমিনে আল্লাহ ছাড়া গায়েবের সংবাদ অন্য কেউ জানেনা।” এ প্রসংগে নবী করিম (সঃ) বলেন,
“যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট গমন করে তার কথায় বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মদ (সঃ) এর উপর অবতীর্ণ বিষয় (কুরআন ও সুন্নাহর) এর সাথে কুফরী করল।” (তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তাহারাহ)

(৩) গণককে পরীক্ষার জন্য এবং মানুষের কাছে তার ধোঁকাবাজির কথা
তুলে ধরার জন্য গণকের কাছে গমন করাতে কোন অসুবিধা নেই। ইবনু সায়্যাদ নবী (সঃ) এর কাছে আগমন করলে তিনি মনের মধ্যে একটি কথা গোপন করে ইবনু সায়্যাদকে জিজ্ঞেস করলেন,বল তো আমি কি গোপন করেছি? ইবনে সায়্যাদ বললেন , আদ-দুখ অর্থাৎ আদ-দুখান। নবী (সঃ) বললেন, অকল্যান হোক তোমার! তুমি তোমার সীমা অতিক্রম করতে পারবে না।
মোট কথা গণকের কাছে আগমনকারীর তিন অবস্হা হতে পারে ঃ
(১)মানুষের কাছে গণকের অবস্হা বর্ণনা করার জন্য নয় এবং তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করার জন্যও নয় বরং এমনিতেই গণকের কাছে গিয়ে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করলে চল্লিশদিন পর্যন্ত তার সলাত কবুল হবে না।
(২) গণককে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে বিশ্বাস করলে কাফির হয়ে যাবে।
তওবা না করে মৃত্যু বরণ করলে কুফুরী অবস্হায় তার মৃত্যু হবে।
(৩) গণককে পরীক্ষা করার জন্য এবং মানুষের কাছে গণকের ধোঁকাবাজির কথা ফাঁস করে দেয়ার নিয়তে গণকের কাছে গেলে কোন অসুবিধা নেই।

আমাদের চারপাশে তাকালে আমরা কি দেখতে পাই? গনকের বিজ্ঞাপন
নেই এমন কোন পত্রিকা দেখতে পাই? দুনিয়াতেও কোন কল্যান নেই আর আখেরাতে তো নেই। কে বুঝাবে কাকে ,সবাই আমরা যে একই পথের পথিক। অনেক দিন আগে “বিটিভিতে পরিপ্রেক্ষিত” নামের একটা প্যাকেজ
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের দেশের গণকদের স্বরুপ আমরা দেখেছিলাম।
ঐ শেষ। আমরা সচেতন হই এবং আমরা আমাদের ধর্মকে প্রকৃতভাবে
উপলব্দি করতে শিখি মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনাই করি।

মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৭৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. আমাদের উচিৎ আল-কুরআন ও হহিহ হাদীস মেনে চলা। আল-কুরআনে ভাগ্য নির্নয় ও ভাগ্য-নির্ধারক কোন কিছু দ্বারা ভাগ্য-নির্নয় করাকে সম্পুর্ণ নিষেধ এবং এইগুলি শয়তানের অপবিত্র কার্য বলা হয়েছে।

    আল্লাহ আল-কুরআনে বলেনঃ
    হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।

    (সূরা আল মায়েদাহ, সুরা নং ৫,আয়াত নং ৯০)

    সুন্দর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। (Y)

  2. আল্লাহ পাক আমাদের এসকল খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দিন। আমিন।