লগইন রেজিস্ট্রেশন

ইসলাম বিনষ্টকারী ১০টি বিষয়–২

লিখেছেন: ' বাগেরহাট' @ বুধবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০০৯ (১২:৩৭ অপরাহ্ণ)

“বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।”

পূর্ব প্রকাশের পর থেকে—–
১ম পর্বে আমরা ইসলাম বিনষ্টকারী ১০টি বিষয়ের ১নং থেকে ৫নং
বিষয়গুলো আলোচনা করেছিলাম। আজ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
বাকী বিষয়গুলো আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

(৬) যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দ্বীনের কোন বিষয় বা পুরস্কার বা শাস্তিকে বিদ্রুপ করবে সে কাফের। ইরশাদ হচ্ছে–
“বল! তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রসুলের সাথে বিদ্রুপ করেছিলে? তোমরা কোন ওজর পেশ করো না। নিশ্চয় ঈমানের পর তোমরা কুফর করেছ” সূরাঃ আত-তওবা-৬৫-৬৬।
আমাদের দেশের অধিকাংশ নাট্যানুষ্ঠানে খারাপ চরিত্রের অভিনয়ের জন্যে দাড়ি,টুপি ও ইসলামি পোষাককে প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
আল কুরআনের কোন শব্দ বা আয়াত , কোন ঘটনা প্রসংগে বিশেষ কোন নবীর নাম কেউ কেউ এমনভাবে বিকৃতভাবে উচ্চারন করেন যাতে বিদ্রুপ বোঝা যায়।

(৭) যাদু-টোনা করা। যেমন, কাউকে আপোষ করার জন্য কিংবা বিচ্ছিন্ন করার জন্য যাদু টোনা করা। এরুপ যে করবে বা এর উপর সন্তষ্ট থাকবে
সে কাফের। ইরশাদ হচ্ছে–
“যে কেউ যাদু অবলম্বন করবে তার জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই।”
সূরা -বাকারা–১০৩।

(৮) মুশরিকদের সাহায্য করা অথবা মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সহযোগিতা করা। ইরশাদ হচ্ছে–”তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদেরকে বন্ধু বানাবে সে তাদেরই একজন।” সূরা -মায়েদা৫১।
যেমন- আমাদের দেশে এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবি রয়েছে যারা নিজেদের চিন্তা চেতনা ,বক্তব্য ও লেখনী দিয়ে পৌত্তলিকদের সাহায্য করে যাচ্ছে।
মুসলিম লেখকদের বাদ দিয়ে মুশরিক লেখকদেরকে সাহায্য করছে।

(৯) ঐ ব্যক্তি কাফের যে মনে করে যে, কিছু কিছু মানুষ (চেষ্টা সাধনায়)
এমন পর্যায়ে উপনিত হতে পারে যে, তখন আর রসুল (সঃ) এর শরীয়ত
মান্য করার তার প্রয়োজন থাকেনা। এ ব্যাপারে তারা মুসা (আঃ) ও খিজির (আঃ) এর ঘটনাকে তাদের ভ্রান্ত ধারনার ভিত্তি হিসাবে গ্রহন করে। অথচ সে ঘটনার সাথে তাদের এ ধারনার আদৌ কোন সামন্জস্য নেই। কেননা
প্রথমতঃ খিজির(আঃ) মুসা (আঃ) এর সম্প্রদায় ও তাঁর নবুয়্যত সীমানার বাইরে ছিলেন। দ্বিতীয়তঃ বিশুদ্ধমতে খিজির (আঃ) সৃষ্টির ভাঙ্গা-গড়া বিষয়ক নবী ছিলেন। অনেক ভ্রান্ত বাতেনী মারেফাত পন্থী ব্যক্তিবর্গ নিজেদের রসুল (সঃ) এর শরীয়ার বাইরে মনে করেন।তারা বলে,আমরা
তো হাক্কীকাতের মন্জীলে পৌছে গেছি। অতএব সাধারনের জন্যে উপযোগী শরীয়ার আমাদের প্রয়োজন নেই। অথচ রসূল (সঃ) বলেন ,
“এ উম্মতের কোন ইহুদি ও খৃষ্টান যদি আমার কথা শোনে, অতঃপর আমার উপর ঈমান না আনে, তবে সে জাহান্নামের অর্ন্তভূক্ত হবে।”(মুসলিম,মিশকাত-১২)। ইরশাদ হচ্ছে-”আর তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদাত কর মৃত্যু আসা পর্যন্ত।”সূরা আল -হিজর-৯৯।
সুতরাং বুঝা গেল ,জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত কারো জন্যই রসুলের শরীয়ার বাইরে যাবার কোন সুযোগ নেই।

(১০) আল্লাহর দ্বীন (জীবন বিধান) থেকে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে রাখা যে,
তা শিখেও না, আমলও করেনা, তার প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপই করেনা। এর দ্বারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ইসলাম ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং সে মুরতাদ হয়ে যাবে।
ইরশাদ হচ্ছে– “যারা কাফের তারা ভীতি প্রদর্শিত বিষয়সমূহ থেকে মুখ
ফিরিয়ে নেয়।” সূরাঃ আহক্বাফ-৩।

মহান আল্লাহ তাঁর অসীম করুনায় ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়গুলো থেকে আমাদের সকলকে হেফাজাত করুন,আমীন।
মহান আল্লাহ যাকে খুশী তাকে সঠিকপথে পরিচালিত করেন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২২৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৩ টি মন্তব্য

  1. মহান আল্লাহ তাঁর অসীম করুনায় ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়গুলো থেকে আমাদের সকলকে হেফাজাত করুন,আমী।

    আমিন। (Y)

  2. অনেক ভ্রান্ত বাতেনী মারেফাত পন্থী ব্যক্তিবর্গ নিজেদের রসুল (সঃ) এর শরীয়ার বাইরে মনে করেন।

    একমত।

    পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ। আশা করি যা শিখেছি তার উপর আমল করতে পারবো।