লগইন রেজিস্ট্রেশন

মুসলিম জাতির মাযহাব একটি ‘ ইসলাম’ ।

লিখেছেন: ' বাগেরহাট' @ সোমবার, মার্চ ১, ২০১০ (১:২২ অপরাহ্ণ)

‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’
মাযহাব শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো মত বা পথ । আর মুসলিম জাতির মত বা পথ একটিই, সেটা হলো সহজ ,সরল , সোজা পথ। যে পথ সর্ম্পকে নাবী (সঃ) বলেছেন–
জাবির বিন আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেছেন যে, একদা আমরা নাবী (সঃ) এর নিকট ছিলাম, তিনি একটি সরল রেখা আকলেনএবং
ডান দিকে দুটি এবং বাম দিকে দুটি রেখা আকলেন । অতঃপর তিনি তাঁর হাতকে মধ্য রেখায় রেখে বললেনঃ এটাই আল্লাহর পথ । অতঃপর এই
আয়াত পাঠ করলেন ” এটাই আমার সোজা পথ, তোমরা এই পথেরই অনুসরন কর এবং অন্য পথ সমূহের অনুসরন করোনা। যদি কর তবে তা আল্লাহর সোজা পথ হতে তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করে দিবে ।” আহমাদ, নাসাঈ, দারেমী ।
মাযহাব ‘ইসমে যরফ’ এর সীগা ।যার অর্থ যাওয়ার স্থান বা যাওয়ার সময় অর্থাৎ মুসলিমদের যাওয়ার তথা নাবী (সঃ) এরসময় যেভাবে ইসলাম ছিল সেভাবে অনুসরন করার দিকে যাওয়া এবং যাওয়ার স্থান তথা ইসলাম যেখানে প্রসার লাভ করেছিল অর্থাৎ মাক্কাহ ও মাদীনার অনুসরন করবে, সেটাই মুসলিমদের যাওয়ার স্থান । কেননা ইসলাম সমস্ত পৃথিবীতে পরিবর্তন হয়ে গেলেও মাক্কাহ ও মাদীনায় সঠিক অবস্থায় থাকবে। আবু হুরাইরা(রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, রসুল (সঃ) বলেছন, নিশ্চয়ই ঈমান তথা ইসলাম মাদীনায় ফিরে আসবে,যেমনিভাবে সাপ তার গর্তে ফিরে যায় । বুখারী ,মুসলিম ।
অধিকাংশ অভিধান গ্রন্থে মাযহাব অর্থ দ্বীন এবয় দ্বীন অর্থ মাযহাব করা হয়েছে । যেমন বিশ্ব বিশ্রুত আল মুনজিদ অভিধান গ্রন্থ ৩৪৬ পৃ,
ফিরোজুল লুগাত ৬৭৩ পৃ ও ১২২৩ পৃ । মিসবাহুল লুগাত ৬৭৩ পৃ। মাযহাব শব্দটা আরবী আর এটা আরবী দ্বীন শব্দের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়, বিধায় মাওলানা মুফতী কেফায়াতুল্লাহ সাহেব তার উর্দ্দু ভাষায় রচিত তালিমুল ইসলাম নামক পুস্তিকার ১ম খন্ডের ৩য় পৃঃ লিখেছেন মুসলমানদের মাযহাব ইসলাম । এমনিভাবে আল্লামা সাইয়েদ আবুল আ’লা মাওদুদী (রঃ) তাঁর ‘দ্বীনে হক্ক” গ্রন্থে দ্বীন ইসলামকে বার বার
মাযহাব বলেছেন । তিনি বলেছন,” আল্লাহর নিকট সত্য মাযহাব একমাত্রই ইসলাম ।”
আল্লাহ তার নিজের ভাষায় বলেন, ” নিশ্চয়ই যারা স্বীয় দ্বীন বা মাযহাবকে খন্ড খন্ড করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোন সর্ম্পক নেই ।তাদের ব্যপার আল্লহর নিকট সর্ম্পিকত।” সূরা আনআম ১৫৯ ।
আল্লাহর রসুল (সঃ) এর ৪০০বছর পর্যন্ত ইসলাম মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাবের অস্তিত্ব ছিলনা । এ সর্ম্পকে শাহ ওলী উল্লাহ মুহাদ্দিস
দেহলবী (রঃ) বলেন, জেনে রেখ , নিশ্চয়ই মানুষেরা অর্থাৎ মুসলিমগণ হিজরী ৪র্থ শতাব্দীর পূর্বে কোন একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের প্রতি অন্ধ অনুসরনে একমত ছিলনা। হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা ১৫৭ পৃঃ ।

আল্লাহ রব্বুল আ’লামিনের ঘোষনা দ্বারা আজকের মত শেষ করছি ” যে ব্যক্তি ইসলাম মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাব তালাশ করে কখনও তা গ্রহন করা হবেনা এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”আল ইমরান ৮৫ ।
আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করুন । আমীন ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৫২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. মুসলিম জাতির মাযহাব একটি ‘ ইসলাম’ । – আহ, কথাটি কত চমৎকার!

    আবার হয়ত বলবেন ‘মুসলিমদেরকে অনুসরন করতে হবে শুধু রাসুল স. কে’- একথাটিও কতইনা চমৎকার!

    তবে ভাল কথার মাঝেও অনেকক্ষেত্র অন্যরকম উদ্দেশ্য লুকায়িত থাকে।

    মাযহাব অর্থ যদি জীবনব্যাবস্থা, জীবন পরিচালনা পদ্ধতি বোঝানো হয় তবে অবশ্যই- মুসলিম জাতির মাযহাব একটি এবং কেবলমাত্র একটিই হওয়া চাই -সেটি ‘ইসলাম’। কিন্তু মাযহাব অর্থ যদি পথ বোঝানো হয় তবে আমি যা বুঝি, ইসলাম একটি ঘর সদৃশ যাতে প্রবেশ করার কয়েকটি পথ আছে। যে কোন পথ দিয়ে যে কেউ তাতে প্রবেশ করতে পারে।

    আপনি মনে করবেন না আপনার পোষ্টের বিষয়বস্তু আমি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি। আপনার কথার মধ্যে অনেক ভুল তথ্য ও স্ববিরোধিতা দেখতে পেলাম। যাহোক আপনার কাছে একটি প্রশ্ন- কোরআন-হাদীস নিজেই রিসার্চ করে সেই মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা সকলের দ্বারা কি আদৌ সম্ভব?