যুক্তি-তর্কে Reference Frame
লিখেছেন: ' Biplobi' @ রবিবার, নভেম্বর ২২, ২০০৯ (১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ)
বিতর্কে তো বটেই, যে কোন অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত মানুষের সাথে ভাবের আদান প্রদানের আগেও, উভয়ের আলোচনার “রেফারেন্স ফ্রেম” বা মাপকাঠি তথা পটভূমিটা একই কিনা তা নিশ্চিত করাটা খুবই জরুরী। তা না হলে ব্যাপারটা ”দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা” বা ”দোঁহার ভাষা দুই মত” হয়ে যেতে পারে। আমি একটা ইংরেজি শব্দ বেছে নিচ্ছি সাধারণ উদাহরণ হিসেবে। আমরা যখন port শব্দটি বলি, তখন সাধারণভাবে যে কেউ বুঝবেন যে, এই শব্দ দিয়ে “বন্দর” বুঝানো হচ্ছে। কিন্তু ব্যক্তিভেদে এই শব্দটির মানে “বাম দিক” বা “বাম পার্শ্ব” হতে পারে আবার “ছিদ্রপথ” বা “নির্গমন পথ”ও হতে পারে। এখানে সমস্যাটা অত বড় না, কারণ আমার উল্লেখ করা বাকী দু’টো অর্থের চেয়ে, সাধারণ অর্থটা অনেক বেশী পরিচিত। কিন্তু সমস্যাটা আরো প্রকট হয়, যখন কোন একটা শব্দের বা অভিব্যক্তির সব ক’টা অর্থ একই রকমের পরিচিতির দাবীদার হয়। যেমন ধরুন GSM কথাটা – ফোন কোম্পানির সাথে সম্পৃক্ত কেউ একথা দিয়ে যা বোঝাবেন, আর গার্মেন্টস ব্যাবসার সাথে সম্পৃক্ত কেউ যা বোঝাবেন তা একদমই ভিন্ন হতে পারে।
“রেফারেন্স ফ্রেম” কথাটা আমি শিখেছি পদার্থবিদ্যা ও গণিত থেকে, তবে দৈনন্দিন ও বাস্তব জীবনে এই “ধারণাটা” অত্যন্ত জরুরী। ধরুন আপনি দু’জন মানুষের মাঝে একটা কথোপকথন সম্বন্ধে জানলেন যে, একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করেছিলো, ”আপনার বাড়ী কোথায়?” এবং দ্বিতীয়জন উত্তর দিয়েছিল, “১০ মাইল দূরে।” তথ্য হিসেবে, আপনার কাছে এই সংলাপগুলো একেবারেই অর্থহীন – কারণ এই সংলাপের “রেফারেন্স ফ্রেম” আপনার জানা নেই। প্রথমত, আমরা জানিনা তারা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে কথাটা বলছিলেন। দ্বিতীয়ত, যদি আমরা তা জানতেও পারি, তবু আমরা জানবো না যে, ঐ সংলাপের দ্বিতীয় ব্যক্তির বাড়ী কোথায়, কারণ, সংলাপ-স্থল থেকে বাড়ীটা ঠিক কোন দিকে ১০ মাইল তা তিনি বলেননি। এজন্যই কো-অর্ডিনেট জ্যামিতিতে origin এবং axes-এর ব্যবস্থা রয়েছে – যেন যে কোন একটা বিন্দুর সঠিক অবস্থান আমরা জানতে পারি। উপরের উদাহরণের দু’জন লোক যদি ঢাকার 0-point-এ [যা কিনা ঢাকার জি,পি,ও] দাঁড়িয়ে ঐ কথাগুলো বলে থাকতো এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি যদি বলতো যে, তার বাড়ী ঐ জায়গা থেকে পূর্ব দিকে ১০ মাইল – তবে আমরা বুঝতাম যে, তার বাড়ী হয়তো কাঁচপুরের দিকে কোথাও হবে।
এখানে, বা ব্লগগুলোতেও, আমরা প্রায়ই কিছু মন্তব্য বা বিতর্ক দেখি যেখানে এই “রেফারেন্স ফ্রেম” সম্বন্ধে কোন ঐক্যমত হয়নি বা হয়ে থাকলেও তা টিকে থাকে নি। এরকম অবস্থায় যুক্তি প্রদর্শন বা তর্ক-বিতর্ক অর্থহীন বাক্যব্যয় হয়ে দাঁড়ায়! যেমন ধরুন প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদের সাথে নাস্তিকদের বিতর্ক। যিনি আল্লাহয় বিশ্বাস করেন না, তাকে কুরআন বা হাদীসের দলিল দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা কেবলই সময়ের অপচয় হতে পারে। আমরা যদি প্যারিসের বেশ্যালয় সংলগ্ন কোন পানশালায় ঢুকে “সৎ কাজের আদেশ” দিতে গিয়ে মদ্য পানরত নারী-পুরুষকে বলি, “মদ খাওয়া হারাম, আপনারা মদ খাবেন না”; তাহলে এই কথাটা বা আমাদের প্রচেষ্টা, কত অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে!! ক্ষেত্রবিশেষে কারো কাছে তা হাস্যকরও মনে হতে পারে। এখানে ঐ পানশালার অতিথিদের আল্লাহর পথে ডাকতে হলে, প্রথমে তাদেরকে এই ব্যাপারে convince করতে হবে যে, আল্লাহ্ আছেন। তারপর তাদের আরো convince করতে হবে যে, কুর’আন আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে – অথবা – রাসুল (সা.) সত্যিই আল্লাহর প্রেরিত রাসূল [দু'টো ব্যাপার মূলত একই। যদি কুর’আন সত্যিই আল্লাহর কাছ থেকে এসে থাকে, তবে মুহাম্মদ (সা.) তো অবশ্যই সত্য রাসুল, কারণ কুর’আনেই তা লেখা আছে। আবার যদি মুহাম্মদ (সা.) সত্যিই আল্লাহর রাসূল হয়ে থাকেন, তবে কুর’আন অবশ্যই আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে - কারণ, তিনি তেমনটাই বলেছেন! ] একটু ভেবে দেখলেই যে কেউ বুঝবেন যে, এই দু’টো বিষয়ই ইসলামে প্রবেশ করতে গিয়ে যে কেউ প্রথমেই প্রত্যয়ন করেন – দুটো ”শাহাদা” বা সাক্ষ্যের মাধ্যমে। একবার যখন কেউ এই দু’টো ব্যাপার মনে প্রাণে ধারণ করবেন, তখন তিনি/তারা কুর’আন ও সুন্নাহ্কে সকল বিষয়ে “রেফারেন্স ফ্রেম” হিসেবে গ্রহণ করবেন। “আমার মনে হয়”, “হয়তো”, “মিশেল ফুকোর লেখা পড়ে আমার মনে হয়েছে” – এধরনের কথা বলার আগে তিনি চিন্তা করবেন যে, আলোচ্য বিষয়ে কুর’আন-সুন্নাহর কোন দিক নির্দেশনা রয়েছে কি না। যদি থেকে থাকে, তবে ঐ বিষয়ে সেটাই হবে তার জন্য চূড়ান্ত দিক-নির্দেশনা।
আমরা যখন কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে বা বিশেষ interest group-এর জন্য কোন গ্রুপ খুলি, তখনও সেখানে কি করা যাবে বা কি করা যাবে না সেটাও একদম স্পষ্ট হওয়া উচিত – যাতে অহেতুক বচসা বা সময়ের অপচয় না হয়।
Processing your request, Please wait....












ভালো বলেছেন, 100% TRUE….
তবে পিস ইন ইসলাম কেবল ইসলাম বিষয়ক হওয়াতে এখানে এ জাতিয় হুকুম আহকামের রেফারেন্স হতে পারে? আপনার কি মত?
বিপ্লবী, আপনা যুক্তি চমত্কার। ভাল লেগেছে। এই ব্লগটি যেহেতু ইসলাম বিষয়ক সেহেতু এই ব্লগের জিরো পয়েন্ট হলো যেটি আমি মনে করি সেটি- লা-ইলাহা ইল্লাললাহু মুহাম্মদুর রাসুল উল্যাহ। তবে এই ব্লগে এর বাহিরের মানুষকে এখানে প্রবেশ নিষেধ করেনা, যদিনা শর্ত ভঙ্গ করেন।
এই লা-ইলাহা ইল্লাললাহু মুহাম্মদুর রাসুল উল্যাহ। জিরো পয়েন্ট মেনে নেবার পরও কোন একটি বিষয়ে দুনিয়ার সব মুসলমান ঐক্যমত্য আসবে না। কারণ আল্লাহ মানবকে ঐ ভাবেই বানিয়েছেন। এটি মানব মনের সহজাত প্রক্রিয়া।
তাইতো আজ মুসলমানদের মধ্যে হাজার রকম ফেরকা। আসলে যে কোন দৃশ্যমান একটি বস্তুকে মানুষ তার অবস্থান গত পার্থক্যের জন্য দৃষ্টি গত পার্থক্যে হয় এবং এই দৃষ্টিগত কারণেই মানুষের বোধগত পার্থক্য থেকে যায়।
আর এই কারণে PEACE IN ISLAM একটি ফ্লাটফর্ম সৃষ্টি করেছে যাতে এখানে মুক্ত ভাবে জ্ঞানের আলোচনা করে আমরা যেন ১০০ ভাগ না হলেও যতটুকু পারা সম্ভব একে অন্যের কাছে আসতে পারি।
এখানে যেমন বিজ্ঞানকে কোরান সুন্নাহর নামে অস্বীকার করা যাবেনা আবার তেমনি অস্বীকার করা কোরান সুন্নাহকে বিজ্ঞানের নামে।
তার মানে এই না কোরান ব্যাখ্যা কারীর ব্যাখ্যা চোখ বুজে মেনে নেওয়া,বা সুন্নাহর নামে যে কোন বিষয় তৌহিদের পরিপন্থী কিছু মেনে নেওয়া। ধন্যবাদ।
এখানে, বা ব্লগগুলোতেও, আমরা প্রায়ই কিছু মন্তব্য বা বিতর্ক দেখি যেখানে এই “রেফারেন্স ফ্রেম” সম্বন্ধে কোন ঐক্যমত হয়নি বা হয়ে থাকলেও তা টিকে থাকে নি। এরকম অবস্থায় যুক্তি প্রদর্শন বা তর্ক-বিতর্ক অর্থহীন বাক্যব্যয় হয়ে দাঁড়ায়! যেমন ধরুন প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদের সাথে নাস্তিকদের বিতর্ক। যিনি আল্লাহয় বিশ্বাস করেন না, তাকে কুরআন বা হাদীসের দলিল দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা কেবলই সময়ের অপচয় হতে পারে।
খুবই সুন্দর বলেছেন । বাস্তবভিত্তিক কিছু সমস্যা উল্লেখ করেছেন যেটা অবশ্যই ভেবে দেখবার মতো ।
তাই কেউ যদি এমন হয় সে শুধু নাস্তিক তাকে কোরান হাদিস থেকে দলীল দিয়ে লাভ নেই । তাকে লজিক দিয়ে বুঝাতে হবে ।
আবার কেউ যদি হয় আস্তিক , কিন্তু অন্য ধর্মে বিশ্বাসি তাকে তুলনাত্নক ধর্মতত্ব দিয়ে বুঝাতে হবে ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্য অন্যান্য ধর্মের থেকে কিভাবে এবং কেনো ?
আবার যে ধরেন মুসলমান কিন্তু হাদিসে বিশ্বাস নেই, তাকে হাদিসের রেফারেন্স দেবার আগে বুঝানো উচিত আসলে হাদিস “দলীল” হতে পারে কিনা ?
আর একটা বিষয় , অনেক সময় দেখা যায় দুপক্ষ একটি বিষয়ে সম্পুর্ন একমত হতে পারছে না । সেইক্ষেত্রে কিন্তু আমরা এটা দেখতে পারি মিনিমাম কতটুকু বিষয়ে দুইপক্ষ একমত । তাহলেও কিন্তু সিদ্ধান্তে আসা সহজ হয় । যেমন ধরুন কেউ বলল “ভাই যাই বলেন আমি পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ব না , আমার শুধু এক ওয়াক্ত নামাজ পড়া সম্ভব” । তাকে পাচ ওয়াক্তের জন্য চাপ না দিয়ে প্রথমে শুধু এক ওয়াক্ত পড়ার জন্য উৎসাহিত করা উচিত । হতে পারে এই এক ওয়াক্ত অভ্যাস হয়ে গেলে পড়ে সে আস্তে আস্তে পাচ ওয়াক্ত পড়তে শুরু করবে ।