লগইন রেজিস্ট্রেশন

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের সন্মানের মাপকাঠি-

লিখেছেন: ' দেশী৪৩২' @ বুধবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০০৯ (২:০০ অপরাহ্ণ)

বর্তমানে পাশ্চাত্যের বিধর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে আমরা মোসলমানরাও অনেকে মানুষের সন্মানের মাপকাঠি নির্দিষ্ট কিছু বস্তুর উপর নির্ভরশীল বলে মনে করি।আমদের সমাজে একেকজন একেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে একেকজন সন্মান করি।কেউ কেউ মনে করি বয়সে বেশী হলেই সে বেশী সম্নানীত , কেউ মনে করি অর্থসম্পদ যার বেশী সেই বেশী সন্মানিত,কেউ মনে করি যার জ্ঞান বেশী বা যে বেশী রাষ্ট্টীয় পদমর্যাদার অধিকারী সেই বেশী সন্মানিত।অবশ্য পাশ্চাত্যের ধর্মহীন বা বিধর্মীরা এসব বিষয়কেই সন্মানের মাপকাঠি বলে মনে করে।তাদের মতে ” Money is second God” অর্থাৎ টাকা পয়সাই দ্বিতীয় প্রভূ(নাউযুবিল্লাহ)। তাদের দৃষ্টিতে টাকা পয়সাই হছ্ছে সন্মানের বড় মাপকাঠি ।
এখন দেখা যাক ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের মধ্যে কে সবচাইতে বেশী সন্মানিত।আললাহ তা’আলা পবিত্র কালাম পাকে এরশাদ করেন- ”ইন্মা আকরাকুম ইনদাল্লাহি আত্‌ক্বাকুম” অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যাক্তি বেশী সন্মানিত যে সবচেয়ে বেশী তক্‌ওয়াধারী (আল্লাহকে যে সব চেয়ে বেশী ভয় করে ও পরহেজগার)।
বিদায় হজ্বের সময় রসুল পাক (সাঃ) বলেন- ”আজ থেকে তোমাদের মধ্যে আরব অনারব,সাদা কালো কাউর মধ্যে কোন ভেদাভেদ রইল না শুধু মাত্র তাক্‌ওয়া(আল্লাহ ভীতি বা পরহেজগারী) ছাড়া।আল্লাহকে ভয় করে তার আদেশ গুলোকে সঠিকভাবে মেনে চলা ও তা নিষেধকৃত সবকাজ থেকে বিরত থাকা বা নিজকে রক্ষা করাকে তাক্‌ওয়া বা পরহেজগারি বলে।
তাক্‌ওয়া বা পরহেজগার শব্দটির অর্থ সম্বন্ধে বিভিন্ন ওলামা বিভিন্ন মত পোষন করেছেন।রসুল পাক (সাঃ) কোরআনের একটি আয়াত দ্বারাই পরহেজগারীর অর্থ করেছেন।”নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে ন্যায়পরায়ন ও পরোপকারি হওয়ার নির্দেশ দান করেছেন।আরও আদেশ করেছেন, নিজেদের আত্নীয়স্বজনকে দান কর।লজ্জাহীনতা,অবাধ্যতা এবং কুকথা বলা হতে বিরত থাক।আল্লাহ তায়ালা তোমাদিগকে উপদেশ দান করিতেছেন,হয়ত তোমরা উপদেশ শুনবে।”
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাছ রাঃ বলেন যে ব্যাক্তি শিরক,কবিরাগুনাহ এবং লজ্জাহীনতা থেকে বেচে থাকে সে-ই পরহেজগার।ইবনে ওমর রাঃ বলেন,নিজকে অন্যের চাইতে বড় মনে না করাই পরহেজগারী।হাসান রাঃ বলেন যে ব্যাক্তি অন্যকে দেখিয়া বলে সে আমার চাইতে ভাল, সে-ই পরহেজগার।ওমর ইবনে খাত্তাব রাঃ একবার কা’আব ইবনে আহবারকে জিজ্ঞাসা করলেন , আপনি কি কখনও কন্টকাকীর্ন পথে চলেছেন?তিনি জবাব দিলেন হ্যা,কাপড় ছিড়িবার ভয়ে কাপড় খুব উপরে তুলিয়া চলিয়াছি।কা’আব ইবনে আহবার বলিলেন ,পরহেজগারীর অবস্হাও তাই।এক শায়ের বলিয়াছেন ,ছোট বড় পাপ হতে দুরে থাকাই পরহেজগারী বা তাক্‌ওয়া।যেমন কন্টকময় সরু পথে চলাকালীন পথিক ভয় করে ,তুমিও তেমনি পাপকে ভয় কর।
হযরত ওমর ইবনে আবদুল আযীয রাঃ বলেন,দিনের রোযা এবং রাতের নামাজই তাক্‌ওয়া নয় বরং আল্লাহকৃত হারামকে বর্জন করা ও ফরজকে যথাযথভাবে আদায় করাই তাক্‌ওয়া বা পরহেজগারী।
তলব ইবনে হাবীবকে লোকগন বলিল,পরহেজগারীর পূর্ন ব্যাখ্যা কি? তিনি জবাবে বলিলেন,আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক কাজ করাই পরহেজগারী।সাথে সাথে আল্লাহর নিকট পুন্যের আশা করিতে এবং অন্তরে লজ্জিত হইতে হইবে।বকর ইবনে ওবায়দুল্লাহ বলেন,যতক্ষন পর্যন্ত লোকের অন্তর পানাহারের হারাম ও সন্দেহজনক বস্তু হতে পবিত্র না হয় এবং অযথা ক্রোধান্বিত হওয়া হতে বিরত থাকতে না পারে , ততক্ষন পর্যন্ত মানুষ পরহেজগার হতে পারে না।শহর ইবনে খোশাদ বলেন, যে কাজে কোন পাপ নাই অথচ করিলে কোন পাপ হতে পারে,এই সন্দেহে সে কাজ পরিত্যাগ করাই পরহেজগারী।
হযরত সুফিয়ান ছওরী রাঃ হযরতফুজায়েল ইবনে আয়ায রাঃ বলেন, কেউ নিজের জন্য যা পছন্দ করে, অন্যের জন্য তাই পছন্দ করাই পরহেজগারী।অন্যের জন্য বেশী পছন্দ করাকে পুর্ন পরহেজগারী বলে।
তাহারা আরও বলেন,হযরত সাররি সাকতী রাঃ কে এক ব্যাক্তি সালাম করিলে তিনি রাগত স্বরে তার জবাব দিলেন।রাগ হওয়ার কারন সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলিলেন,আমি অবগত হইয়াছি সালামদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে আল্লাহ তাআলা একশত রহমত ভাগ করে দেন।সালামদাতা যদি আগ্রহভরে সালাম দেন তবে তাহাকে নব্বইটি রহমত এবং গ্রহীতা যদি অসন্তুষ্টভাবে জবাব দেন তবে তাহাকে দশটি রহমত দেয়া হয়।সালামদাতা নব্বই রহমতের ভাগী হউক,এই আশায়ই আমি বদমেজাজী হয়ে সালামের উত্তর দিয়েছি।
মুহাম্মদ ইবনে আবি তিরমিজী রাঃ বলেন,যাহার কোন শত্রু নাই তিনি পরহেজগার।হযরত সাররি সাকতী রাঃ বলেন,যে ব্যাক্তি নফসের সাথে শত্রুতা পোষন করে ,সে-ই পরহেজগার।হযরত শিবলি রাঃ বলেন,
যে ব্যাক্তি আল্লাহ ছারা অন্য কাহাকেও ভয় করে না সে-ই পরহেজগার।মুহম্মদ ইবনে হানিফ রাঃ বলেন ,যে বস্তু আল্লাহ হতে দুরে রাখে তাহা হতে দুরে থাকাই পরহেজগারী।কাসেম ইবনে কাসেম রাঃ বলেন শরীয়তের আদব রক্ষা করে চলাই পরহেজগারী।আবু ইয়াজিদ বলেন বিশ্বাস এবং কথার সন্দেহ হইতে বাচিয়া থাকাই হইল পরহেজগারী।
যখন কথা বলিবে আল্লাহর ওয়াস্তে বলিবে,চুপ থাকিলে আল্লার ওয়াস্তে চুপ থাকিবে এবং যিকির করিলে আল্লার ওয়াস্তেই করিবে।
ফুজায়েল ইবনে আয়াজ রাঃ বলেন ,যতক্ষন শত্রু তোমার নিকট বন্ধুর ন্যায় আচরন পাওয়ার আশা করতে না পারে, ততক্ষন তুমি পরহেজগার নও।সহল বলেন রসুক পাক সাঃ এর সুন্নত অনুযায়ী চলার নামই পরহেজগারী।
কোন কোন বুজুর্গ বলেন,পরহেজগারীর চিহ্ন তিনটি যথা্ঃ ১।যে বস্তু না পাওয়া যায় উহার জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করা।২।যাহা পাওয়া যায়,তাহাতে সন্তুষ্ট থাকা।আর যাহা হারাইয়া যায় তজ্জন্য ধৈর্যাবলম্বন করা।
কেউ বলেন, বিপদাপদে ধৈর্যবলম্বন করা,আল্লাহর বিধানে সন্তুষ্ট থাকা,নিয়ামত লাভে শোকর আদায় করা এবং কোরআনের আদেশানুযায়ী চলা পরহেজগারীর লক্ষন
অপরদিকে নামাযে ইমাম হওয়া সম্পর্কে হাদীস শরীফ থেকে যে
সকল শর্তের কথা জানা যায় তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হছ্ছে -
১।যে ব্যক্তি কোরআন মজীদ সম্পর্কে সর্বাপেক্ষা বেশী অভিজ্ঞ সেই ইমাম হবে।
২।যদি কোরআন সম্পর্কে সবাই সমান অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হয় তবে হাদিস বিষয়ে যার বেশী জ্ঞান আছে সেই ইমাম হবে।
৩।যদি তাতেও সবাই সমান হয় তবে যে ব্যাক্তি প্রথম হিজরত করেছে
সেই ইমাম হবে।
৪।যদি তাতেও সবাই সমান হয় তবে যে বয়োজ্যেষ্ট সেই ইমাম হবে।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৬২৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)