লগইন রেজিস্ট্রেশন

হাদীস কোরানের ব্যাখ্যা। আসলেই কি তাই?

লিখেছেন: ' ফারুক' @ বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০০৯ (১২:৫১ অপরাহ্ণ)

সহীহ বুখারী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদীসগ্রন্থ। দেখা যাক বুখরীর হাদীস থেকে আমরা কি ধরনের কোরানের ব্যখ্যা পাই। আমার এই বক্তব্যের রেফারেন্সের জন্য ডঃ মুহাম্মদ মুহসিন খানের লেখা (ইসলামিক ইউনিভার্সিটি , মদিনা মুনাওয়ারা) ‘সহীহ আল-বুখারী’ ৬ষ্ঠ খন্ড , প্রকাশক কিতাব ভবন নয়া দিল্লি , দেখতে পারেন।

যদিও কোরানে ১১৪ টা সূরা আছে , বুখারী কিন্তু সকল সূরার সকল আয়াতের ব্যখ্যা দেন নি। ২৮ টি সুরার ব্যাখ্যা সম্বলিত কোন হাদীস বুখারীতে নেই। সূরা বাক্কারাহতে ২৮৬ টি আয়াত আছে , বুখারীতে মাত্র ৫০ টির মতো আয়াতের ব্যাখ্যা সম্বলিত হাদীস পাবেন। এর অর্থ দাড়ায় ২০% আয়াতের ব্যাখ্যা আছে , বাকি ৮০% এর জন্য আপনাকে উলামাদের কল্পনাশক্তির উপরে নির্ভর করা লাগবে।

এখন দেখা যাক ব্যাখ্যার ধরন। সূরা আল-কাওসারে(১০৮) ৩টি আয়াত আছে। একটি মাত্র শব্দের ব্যাখ্যার মধ্য দিয়েই পুরা সুরার ব্যাখ্যা সম্পন্ন করাকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। বুখারী বলেছেন – ‘কাওসার’ জান্নাতের একটি নদী। বুখারী যে আরবি জানতেন না এটা মনে হয় তার একটা উদাহরন। কারন ‘কাওসার’ মানে পর্যাপ্ত পরিমানে ভালো কিছু। ‘কাথির’ মানে অনেক , পর্যাপ্ত।

সুরা হুদ(১১)

إِلَى اللّهِ مَرْجِعُكُمْ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ 04

আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

أَلا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُواْ مِنْهُ أَلا حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ 05

জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে।

وَمَا مِن دَآبَّةٍ فِي الأَرْضِ إِلاَّ عَلَى اللّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ 06

আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।

এই আয়াতগুলোর মানে বোঝা কি কষ্টকর? সরল মানে দাড়ায় – আমরা সকলেই আল্লাহ্‌র কাছে ফিরে যাব। কোন কিছুই আল্লাহ্‌র কাছ থেকে লুকানো সম্ভব না। প্রতিটি জীবিত প্রাণী , ক্ষুদ্র ও বৃহৎ , সকলের রেকর্ড তার কাছে আছে।

বুখারীর হাদীস থেকে উপরোক্ত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা – ভলুম ৬ হাদীস নং ২০৩ – মুহাম্মদ বিন আব্বাদ বিন জাফর বর্ননা করেছেন – “তিনি ইবনে আব্বাসের এই আয়াতের ব্যখ্যায় বলতে শুনেছেন – কিছু লোক যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে খোলা জায়গায় বসত , তখন কাপড় দিয়ে নিজেদেরকে ঢেকে নিত , যাতে আকাশ থেকে তাদেরকে দেখা না যায়। এই লোকদের উদ্দেশ্যেই ৫ নং আয়াত নাযিল হয়।” বুখারীর এই হাদীসের বর্ননার কারন এটাই বুঝানো যে , যেহেতু আল্লাহ সবকিছুই জানেন ও দেখেন , ফলে পেশাব পায়খানার সময় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার কোন দরকার নেই । এই আয়াতের পরে যে সকল সাহাবা স্ত্রীদের সাথে সফর করতেন , তারা সংযম পরিত্যাগ করেন , কারন আল্লাহ যখন সব দেখতে পান , তখন আর সংযম করে ফায়দা কি। তাহলেই বুঝুন ব্যাখ্যার কি দশা!!

এই রকম বিকৃত ব্যখ্যা আরো অনেক আয়াতের দেয়া হয়েছে। যেগুলো লিখে কয়েক খন্ডেও শেষ করা যাবে না।

পরিশেষে বলব – যে ২৮ টি সূরার ব্যখ্যার কোন হাদীসই পাওয়া যায় না , সে সম্পর্কে কি বলবেন , হাদীস কোরানের ব্যাখ্যা , এই মতবাদের সমর্থকরা? এই সূরাগুলো হলো 23, 27, 29, 35, 51, 57, 58, 64, 67, 69, 70, 73, 76, 81, 82, 86, 88, 89, 90, 94, 100, 101, 103, 104, 105, 106, 107, এবং 109। বুখারী বলেছেন , এই সূরাগুলোর ব্যাখ্যায় কোন হাদীস নাই।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩৬৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. ধন্যবাদ ভাই আপনাকে বিষয়টি নিয়ে আবারো আলোচনা করার জন্যে,
    আশাকরি এই আলোচোণা থেকে আমরা নতুন কিছু শিখতে বা জানতে পারবো,
    কিন্তু আমি আমার প্রশ্নের সম্পুর্ন উত্তর পাইনি, তাই আমার প্রশ্নের উত্তর গুলি দিলে আমি খুব আনন্দিত হবো,
    আমি এই মুহুর্তে আপনার লিখা সম্পর্কে কিছু বলতে চাচ্ছি না, আগে আপনার সম্পুর্ন মতামত চাই, তার পর আমি
    বিস্তারিত আলোচনা করবো আপনার লিখা সম্পর্কে আল্লাহ চাহে তো, এখন দয়া করে নিচের প্রশ্নের উত্তর দেন,

    আল-কুরআনের বাহিরে সহিহ হাদিছে কি কিছু আছে, যা আল-কুরআনে নাই ?
    আপনার মতে হাদিছ গুলি কি বা কেন, আপনার কি মনে হয় ?

    ফাহাদ হুসাইন

    আপনি অন্য এক জায়গায় বলেছেন, আল-কুরআনকে আল্লাহ বিস্তারিত গ্রন্থ বলেছেন, বিস্তারিত শব্দের অর্থ যদি হয় প্রথম থেকে শেষ
    পর্যন্ত সম্পুর্ন আলোচনা , তাহলে এই বিস্তারিত শব্দ দিরে আপনি কি বুঝিয়েছেন ?
    নিচের বিষয়গুলি কি আল-কুরআনে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে?

    যেমনঃ
    ১)-আল-কুরআনে বলা আছে নামাজের কথা, কিন্তু ৫ ওয়াক্ত নামাজ এর কথা ওজু করার কথাও বিস্তারিত উল্ল্যেখ আছে বলে আমার জানা নাই।
    ২)-রোজ়া রাখার কথা আল-কুরআনে বলা আছে, কিন্তু কিভাবে, কখন, রোজা রাখতে হবে বা কি কি কারনে রোজ়া নষ্ট হয়, তার বিস্তারিত আলোচনা নাই।
    ৩)-হজ্ব বা যাকাতের কথাও আল-কুরআনে বলা আছে, কিন্তু আমরা বিস্তারিত ভাবে আল-কুরআন থেকে এ সম্পর্কে আলোচনা পাই না।

    আমি মাত্র ৩টি বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম, কিন্তু এমন আরো ওনেক বিষয় আছে, যা আল-কুরআনে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা হয়েছে।
    আসলে আমি যা বঝাতে চাচ্ছি, তা হচ্ছে আল-কুরআনে সব বিষয়ই আছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা অনেক সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা হয়েছে, বিস্তারিত ভাবে
    আল-কুরআনে অনেক কিছুই আলোচনা করা হয়নি।

    (মূল প্রশ্ন)
    তাই আমরাকি বলতে পারিনা যে, আল-কুরআনে বিস্তারিত ভাবে অনেক কিছুই আলোচনা করা হয় নি এবং বিস্তারিত শব্দটি সঠিক নয় ?