লগইন রেজিস্ট্রেশন

ভবিষ্যতের পথে

লিখেছেন: ' রাতদিন' @ শনিবার, নভেম্বর ২১, ২০০৯ (৬:৩১ পূর্বাহ্ণ)

কি সুন্দর আমাদের এই পৃথিবী । আহা, এই পৃথিবী সব সময় এই রকম থাকবে না, পরিবেশ ধ্বংস নিয়ে যতই আমরা আন্দোলন করি না কেন । আমাদের সূর্য, যা আমাদের আলো আর শক্তি দেয় সে কি এই রকম থাকবে সব সময়, সূর্য মামার বয়স যখন ৫.৬ বিলিয়ন বছর হবে , মানে আজ থেকে মাত্র ১.১ বছর পর, তিনি তার তীব্র ক্ষোভ থেকে ১০% বেশী উজ্জ্বলতা প্রকাশ করবেন । আর তাতেই আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীর বারোটা বেজে যাবে । অধিক থেকে অধিক উত্তপ্ত হবে আর পানি বাষ্পে পরিণত হতে থাকবে দ্রুত গতিতে , ভূমির বেশীর ভাগ প্রাণী মারা যাবে , সাথে আমরাও । তবে ঐ সময় আমাদের জন্য মায়া কান্না করার কেউ থাকবে না মনে হয় । কিছু অনুজীব চরমজীবি প্রাণী আর মহাসাগরের স্বল্প কিছু জীব থাকবে হয়ত । তাহলে আমাদের কাহিনী ওইখানে শেষ । কিন্তু আমরা ভাগিনারা না থাকলে কি হবে, সূর্য মামা ঠিক ই থাকবেন । উনার বয়স যখন ৯ বিলিয়ন বছর হবে , মানে আজ থেকে ৪.৫ মিলিয়ন বছর পর ভাগিনা হারানোর দুঃখে বর্তমানের চেয়ে ৪০% বেশী উজ্জ্বলতা প্রকাশ করবেন । আর তাতেই পৃথিবীর বাকি প্রানী গুলিও খতম হয়ে যাবে । আর তাতে সূর্যমামা আরো ক্ষেপে যাবেন আর তাই এতদিনের কষ্টের জমানো হিলিয়াম ব্যবহার করা শুরু করবেন । তখন সূর্য মামার বয়স হবে ১০.৯ বিলিয়ন বছর । বয়স বাড়ার সাথে সাথে উনার সাইজ ও বড় হয়ে যাবে, তিনি বর্তমানের চেয়ে ১.৫ গুন বড় হয়ে যাবেন ।
ওকিপিডিয়া থেকে বিগ কাঞ্চ Big Crunch Wikipedia
পরবর্তিতে ৭০০ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত উনার তাপমাত্রা একই থাকবে , কিন্তু উনার বড় হয়ে উঠা থামবে না । যতক্ষণ পর্যন্ত উনার সারফেইস কিছুটা ঠাণ্ডা হওয়া শুরু না হয় । কিন্তু ততক্ষণে তিনি ২.৫ গুন বড় হয়ে যাবেন ।

কিছুকাল পর, উনার বয়স যখন ১১.৬ হলে তিনি প্রায় ছোট-খাট দানব নক্ষত্রে পরিণত হবেন । দানব হয়ে ওঠার পর উনার আর ছোট থাকতে মন চাইবে না, তাই তিনি দ্রুতগতিতে বড় হতে থাকবেন । তাতে কিছুটা বাধ সাধবে ঝড় । ১২.১ বিলিয়ন বছর বয়সে ঐ ঝড় গুলি উনার ৩০% ভর সোলার সিস্টেমে ছড়িয়ে দেবে । তবুও সূর্য মামার বড় হওয়া থেমে থাকবে না । উনি দ্রুত লাল দানব নক্ষত্রের সর্ব্বোচ্চ সাইজ অর্জন করবেন । তখন উনার বয়স হবে প্রায় ১২.২ বিলিয়ন বছর । তিনি এই সময় কিছুটা রেস্ট নিবেন , তখন উনার উজ্জ্বলতা বর্তমানের চেয়ে প্রায় ২৩০০ গুন বেশী হবে । তিনি প্রায় ১১০ মিলিয়ন বছর এই অবস্থায় থাকবেন । তারপর উনার হিলিয়ামের অবস্থা টাইট হয়ে যাওয়ায় , অক্সিজেন আর কার্বন ব্যবহার করা শুরু করবেন , আর তাই আবারো দ্রুত বড় হতে থাকবেন । মাত্র ২০ মিলিয়ন বছরে লাল দানবের ২য় পর্যায়ে চলে যাবেন । তখন তিনি প্রায় ৮০ গুন বড় হবেন , ৩০০০ গুন উজ্জ্বল হবেন । আস্তে আস্তে পেলেন্টারি নেবুলাতে পরবেন বা হবেন । তারপর বিভিন্ন প্রক্রিয়া পার হয়ে ঠাণ্ডা আর কালো হয়ে শেষ হবেন । এর ভিতর মামার আরো কাহিনী আছে , কিন্তু এত কিছু তো বলা সম্ভব না । যাইহোক, এর ভিতরে আমাদের বেচে থাকার কিছু সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে । মঙ্গল গ্রহের তাপমাত্রা একটা সময় পৃথিবীর তাপমাত্রার কাছাকাছি হবে । তখন যদি আমরা সেখানে পালিয়ে যাই, তাহলে কিছু কাল সেখানে থাকতে পারবো । কিন্তু মঙ্গল ও আমাদের মামার কবলে পরবে, তখন হয়তো সোরজগতের বাহিরে কোন গ্রহ অথবা চাদে থাকতে পারি । কিন্তু শেষ মেষ আমাদের বেচে থাকা হবে না , অপেন ইউনিভার্স আর ক্লোজ অথবা ফ্লেট ইউনিভার্স যাইহোক ।

রব্রট ফ্লোরস্ট বলেছেন , “Some say the wrold will end in fire, some say in ice” . ক্লোজ ইউনিভার্স হলে তা আগুনে গিয়ে শেষ হবে, অপেন বা ফ্লেট হলে আইসে গিয়ে শেষ হবে । এটা কে বলা হয় বিগ চিল ।

এই বিশাল বিশ্ব এ সময় বলে আসলে কিছু নেই , সময় হইতেছে জগতের গতি । এই মহাবিশ্ব এ কেন বুদ্ধি (মানুষ) সৃষ্টি হবে এই স্বল্প সময়ের জন্য , কেন আদিল ভাই কিংবা ফুয়াদ হবে । তাই আমি মনে করি এখানে আল্লাহ সুবাহানাতালার হাত আছে । সবাইকে ধন্যবাদ । আমার লেখায় ভুল কিংবা বানান ভুল থাকতে পারে । এ জন্য দুঃখিত ।

Reference : 1 Astronomy By Cynthia Phillips Ph.D, and Shana Priwer
2 Encyclopedia of astronomy Edited by Paul Murdin & Margaret Penston

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৩৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৫ টি মন্তব্য

  1. গবেষকরা ভেবে দেখেছেন যে এই দৃশ্য জগত্টা কোন না কোন ভাবে একটা আরেকটার উপর অধিনস্ত। আর গবেষক রা এও ভেবে দেখেছেন যে কোনো স্বত্বা যদি এই প্রভাবমুক্ত থাকে তবে তিনি সেই প্রভাবমুক্ত স্বত্বাই পারে জগত্কে সৃষ্টি-শাষন-পরিপালন-ধ্বংষ করতে।
    যেমন ইব্রাহীম আলাইহে ওয়াসাল্লামের কথা ভাবুন ” যখন রাত্র ঘনিয়ে এল এবং তিনি তারকা রাজি দেখলেন বল্লেন এগুলো আমার রব, আর যখন তা হারিয়ে গেল তিনি বল্লেন আমি হারিয়ে যাওয়া স্বত্বাকে ভালবাসি না, আর যখন তিনি চন্দ্রকে দেখলেন তিনি বল্লেন এটা আমার রব, আর যখন তাও হারিয়ে গেল তিনি বল্লেন: যদি প্রতিপালক আমাকে হেদায়াত দান না করেন তবি আমি ভ্রান্তদের অন্তুর্ভুক্ত হব, আর যখন সূর্য্যকে দেখলেন বল্লেন এটা আমার রব, এটাই বড়, আর যখন তাও অস্তগেল তিনি বল্লেন হে আমার জাতি আমি তোমাদের শিরিককৃত প্রভুদের থেকে মুক্ত। সূরা আনআম ৭৪-৭৭
    ( না সূর্য্য প্রভু না চন্দ্র না অন্য কোন তারকা, আর ইব্রাহীম আ: এর জাতি এসব কে প্রভু বলে বিশ্বাস করতো যেমনটি এস্ট্রোলজির অনেক বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস যে অমুক গ্রহের বিকিরণ-ইত্যাদি ইত্যাদির কারণে এই এই প্রতিক্রিয়া হয় এবং এভাবে একটির সাথে একটির ঘর্ষণে পৃথীবির সৃস্টি কিংবা এভাবে এভাবে অমুক গ্রহের কারনে পৃথীবি ধ্বংস হয়ে যাবে, এসবই মুশরিক এহুদী নাসারাদের এস্ট্রোলজিক্যল গবেষণা ।
    আল্লাহ ইব্রাহীম আ: এর তারকাবিজ্ঞানকে কোরানে ঈমানদারদের জন্য উপস্থাপন করেছেন, যে তিনি কিভাবে এসবের মাঝে আল্লাহকে খুজেঁ পেলেন।
    পোষ্ট টি মন্দ নয় তবে ইংরেজ এস্ট্রলজিকাল বিজ্ঞানের সাথে কোরানেও এর বিজ্ঞান ও বাস্তবতা নিয়ে কি বলছে তা পড়তে ও জানতে হবে । কারণ ওদের গবেষনা ও থিওরি রচনার পিছনে অনেক সূক্ষ কূটচাল আছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের লোকদের তারা এসব জগতের স্রষ্ঠা থেকে ভুলিয়ে এর সৃষ্টির পিছেপরার বুদ্ধি শিখায়। (Y)

    fuad

    ধন্যবাদ । আমি আমার নিজের মত করে উপস্থাপন করেছি । কিন্তু আমরা তো পড়াশুনা বাদ দিয়ে দিয়েছি । তবে আপনাকে ধন্যবাদ ।

    the muslim

    @বাংলা মৌলভী,
    আপনাকে ধন্যবাদ মনের কথাটা বলে দেয়ার জন্য। আমাদেরকে কোরান ও সুন্নাহর আলোকে চিন্তা করা উচিৎ। যে জ্ঞান আমাদের কে স্রষ্টার কাছ থেকে দুরে সরিয়ে দেয় বা মনে বেপরওয়া ভাব সৃষ্টি করে, এই ধরনের জ্ঞান অর্জন করার ক্ষেত্রে সাবধাণতা অবলম্বন করা উচিৎ। আল্লাহ পাক আমাদের হেদায়াত করুন। (F)

  2. ধন্যবাদ, সুন্দর বিষয় উপস্থাপন করার জন্য।

  3. এই মহাবিশ্ব এ কেন বুদ্ধি (মানুষ) সৃষ্টি হবে এই স্বল্প সময়ের জন্য , কেন আদিল ভাই কিংবা ফুয়াদ হবে । তাই আমি মনে করি এখানে আল্লাহ সুবাহানাতালার হাত আছে ।

    ভাই, পবিত্র কোরানের বিভিন্ন স্হানে মানুষ সৃষ্টির কারন সম্পর্কে পরিস্কার ভাবে বলা আছে। যেমনঃ

    “যিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য যে, তোমাদের মধ্যে কে কর্মে শ্রেষ্ঠ”– সুরা মুলক ২

    আমি শুধু একটি আয়াত উল্লেখ করলাম।মানুষ সৃষ্টির কারন অনুধাবন করার জন্য আমাদের বিজ্ঞান এর উপর ভরসা করার আগে কোরআন শরীফ এর উপর ভরসা করা উচিৎ । সৃষ্টি বা সৃষ্টি তত্ব বুঝার জন্য আমাদের বিজ্ঞানীদের উপর নির্ভর হওয়াটা “তাকওয়া” অবলম্বনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

    জ্ঞান অর্জন করা খারাপ কিছু না। কিন্তু সবাই এর সঠিক ব্যবহার করতে পারবে না। যদি পারতো তাহলে প্রযুক্তি বাড়ার সাথে সাথে এত নাস্তিকের জন্ম হত না।

    ধন্যবাদ। অনেক কিছু শিখতে পারলাম আপনার কাছ থেকে। (F)