লগইন রেজিস্ট্রেশন

ভোগবাদী অর্থনীতি মরে শুধু অসহায়, এটিই কি যোগ্যতমের টিকে থাকা( সারভাইবল অব ফিটেস্ট)

লিখেছেন: ' রাতদিন' @ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৮, ২০১০ (৮:৪৭ অপরাহ্ণ)

এই সারভাইবল অদ ফিটেস্ট দিয়ে হিটলার তার কাজকে জায়েজ করে নিতে পারেন, আর কমিঊনিস্ট আন্দোলনের নেতারাও তাদের কুকর্ম জায়েজ করে নিতে পারেন। এ এক মজার খেলা।

খবরের প্রকাশ ভারতে গত ১১ বছরে প্রায় দুই লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন ঋণের ভারে ও অভাবের তাড়নায় জর্জরিত হয়ে ভারতে গত ১১ বছরে প্রায় দুই লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। ২০০৮ সালে আত্মহত্যা করেছেন ১৬ হাজার ১৯৬ জন কৃষক। ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।
২০০৮ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য কৃষি ঋণের টাকা মওকুফ করে দেয়; কিন্তু তার পরও কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
ভারতের বড় পাঁচটি রাজ্যে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটেছে। এই পাঁচটি রাজ্য হলো—মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়। অতিবৃষ্টি, খরা ও ঋণ পরিশোধ করতে না পারা এবং অভাবের কারণে এসব রাজ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটেছে।
১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৮—এই দীর্ঘ ১১ বছরের হিসাব থেকে দেখা গেছে, ওই সময় ভারতে এক লাখ ৯৯ হাজার ১৩২ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। মোট আত্মহত্যার ৬৬ শতাংশের বেশি ঘটেছে ওই পাঁচটি রাজ্যে। এর মধ্যে আবার ৪১ হাজারের বেশি আত্মহত্যা করেছেন কেবল মহারাষ্ট্রে।-প্রথম আলো

খাদ্য এবং বাণিজ্য নীতি বিশ্লেষক দিবেন্দ্র শর্মা তার ব্লগ গ্রাউন্ড রিয়ালিটিতে জানাচ্ছেন:

জুলাই (২০০৯) মাসে ভারতে ৬০ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছে। আগস্টের ১০ তারিখের মধ্যে আরো দশ জন কৃষক নিজের জীবন নিয়ে নেয়। এই ধরনের বেদনাদায়ক অপরাধ মূলক কাজ নিবৃত্ত করার জন্য শহুরে উচ্চবিত্ত ও নীতি নির্ধারকরা যদিও বেশ কিছু কমিটি ও ত্রাণের কথা বলেছে, তা সত্ত্বেও কৃষিতে এই প্রাণঘাতী নাটকীয়তা চলছে। এর দুর্ভাগ্যজনক দিকটি হচ্ছে কেউ এসে এর কারণটি দূর করার চেষ্টা করছে না, যার কারণে মানব দুর্ভোগের এই শোক গাঁথা কখনই শেষ হচ্ছে না।

এ কাহিনীগুলি খবরের কাগজের নিচে পরে থাকে। ভারত** নিয়ে যারা উচ্ছাস প্রকাশ করেন, তারা এ ব্যাপার গুলি নিয়ে মাথাও ঘামান না। তারা চোখে মুখে শুধু এক জিনিস ই দেখেন তা হল ইসলাম। ইসলামের বিরুধিতা করাই তাদের একমাত্র কাজ। দুর্ভাগা ঐ মানুষ গুলিকে নিয়ে তাদের কোন বিশ্লেষন নেই। করতে চায়-ও না(হয়ত থলির বেড়াল বের হয়ে যায়)। যাইহোক, কয়দিন আগে শিবসেনা হুমকি দিল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের, তাদের নাকি ইন্ডিয়াতে খেলতে দেওয়া হবে না। কিন্তু এ নিয়েও তাদের কোন বিশ্লেষন পাবেন না। যদি কোন মুসলমান ভুল করেও কিছু করে তাহলে দেখবেন বিশ্লেষন হাজির। হাজির না হয়েই যাবে কোথায়। এটাই হইতেছে যুক্তিবাদী মানবতাবাদীদের আসল পরিচয়। মাঝে মাঝে যে তারা ঐ সব ব্যাপারে বলে না, তাও নয়। তাও ভাল করে দেখলে; দেখবেন, তা লোক দেখানো। কি আর বলবেন, যুক্তিবাদের উপর তো আর কোন কথা নেই। আমাদের কথার তাই কোন দাম নেই। কিন্তু কে আসল যুক্তিবাদী তা কোন আদালতে সমাধান করা হয়েছে তা তারা বলেন না। আসল কথায় আসি, এই কৃষকদের মৃত্যুগুলি সারভাইবেল অব ফিটেস্ট আকারে হারিয়ে যাবে, প্রকৃতি এদের সিলেক্ট করে নি। তাদের মতে, অযোগ্য মানুষদের এরকম পরিনতিই কাম্য। একদিকে তারা বলবে যোগ্যতমের টিকে থাকা, আরেক দিকে বলবে ভাল কাজ কর। তারা ভাল করেই জানে সাধারনত মানুষ টিকে থাকাই বেচে নিবে। এই টিকে থাকার জন্য অন্যায় করবে। আবার, ঐ দিকে বলা হয় গড নেই, তাই কে তাকে শাস্তি দিবে? আর যোগ্য না হলে ন্যাচার তাকে ধরে রাখবে না। অতএব অন্যায় করে হলেও যোগ্য হতে হবে, তাই খেলতে হবে খেলা আর এই খেলায় বলি হবে হাজার হাজার অসহায় মানুষ। ভোগবাদী অর্থনীতির খেলা।

[[ন্যাচারাল সিলেকশনের পক্ষে বা বিপক্ষে নেই, শুধু অনুভূতি শেয়ার করলাম]]

**ভারত এর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বা অন্য কিছু নিয়ে নয়, যারা ভারতের উন্নতি আর শক্তির কথা বলে মুসলমানদের কে ভারতকে ফল করতে সাজেশন দেন তাদের ব্যাপারে। এখানে ভারতের বা এর জনগনের বিপক্ষে বলা নয়, ভারত বা এর জনগন অবশ্যি ভাল।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৪২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. ফুয়াদ ভাই, এই পোস্টে আপনি কি বলতে চান, আমি বুঝতে পারছিনা । একটু ব্যখ্যা করবেন কি? ধন্যবাদ।

  2. বেচারা কৃষকদের কথা শুনে খুবই দুঃখ লাগলো।