লগইন রেজিস্ট্রেশন

ফিতনা ফাসাদ ও আল কুরানের সমাধান

লিখেছেন: ' রাতদিন' @ শনিবার, এপ্রিল ১০, ২০১০ (৯:১১ অপরাহ্ণ)

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম,

কুরান আনলি আর কোরান নট আনলি নিয়ে বড় রকমের বাড়া বাড়ি হয়ে যেতেছে। কোরান নট আনলি যে কারা তা আমার জানা নেই, আহলে সুন্নাতুয়াল জামাত বা সুন্নি নামে যাদের ডাকা হয় তারা হাদিস মেনে চলে, আরেকটি জামাত হল শিয়া যারা আহলে বায়াতকে মেনে চলে তাদের সংরক্ষিত হাদিস ও মানে। যাইহোক, এণ্টি-ভন্ড এবং বাকিরা যুক্তিসংগত কথা বলতেছেন কিংবা না। এভাবে ব্লাগিয় যুদ্ধ চলতেছে। কোরান আনলি দের দিকে আমি আগে একটি লেখা লিখেছিলাম “ তিনি মনগড়া কিছু বলেন না ” । আপনারা এটি পড়ে ফেলতে পারেন। এখন মূল বিষয়ে আসি।

আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতরণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক। (১৫:৯)

এখানে এন্টি ভন্ড সাহেব বলতেছেন ঃ

মনে করেন, আসলে আমাদের কাছে এই কোরান যাদের মাধ্যমে এসে পৌঁছেছে, তারা আসলে অতি দুষ্ট লোক। তারা এতই দুষ্ট এবং ভন্ড এবং ক্রিমিনাল যে নিজেদের স্বার্থে তারা প্রথেমে চেঞ্জ করছে হাদীস, আর তার্পর চেঞ্জ কর্ছে কোরান। এবং তারা যে অসংখ্য চেঞ্জ করছে, তার মধ্যে এক্টা হইলো (যেন তাদের করা চেঞ্জগুলো মুসলিম সমাজ চট করে গ্রহণ করে) উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা আয়াত।

মানে হইলো, আল্লাহ নিজেই কোরান সংরক্ষণ কর্বেন, এমন কথা আল্লাহ আসলেই দিছেন কিনা সেইটা পর্যন্ত নিশ্চিত না। অন্যভাবে ভাব্তে গেলে আল্লাহ নিজেই সংরক্ষণ কর্বেন—হতে পারে এই প্রমিজটাই হয়তো “তিনি যে সংরক্ষণ করেন্নাই”, তার এক্টা বড় প্রমাণ।

হইতে পারে-না?

উনি একটি প্রশ্ন তুলেছেন। এ রকম হতে পারে কি না? ধরেন হতে পারে। কিন্তু যাবেন কই? আল কুরান যে পাঠিয়েছেন তিনি এই বিষয়েও অবগত আছেন। চলুন দেখে নেই তিনি কি করেছেন।

সূরা হাসরের ফাকের মধ্যে আল্লাহ যেখানে নিজের পরিচয় বলতেছেন সেখানে ফাকের মধ্যে the Guardian of Faith শব্দটি ঢুকিয়ে দিয়েছেন। দেখুন?

Allah is He, than Whom there is no other god;- Who knows (all things) both secret and open; He, Most Gracious, Most Merciful.

Allah is He, than Whom there is no other god;- the Sovereign, the Holy One, the Source of Peace (and Perfection), the Guardian of Faith, the Preserver of Safety, the Exalted in Might, the Irresistible, the Supreme: Glory to Allah. (High is He) above the partners they attribute to Him.

He is Allah, the Creator, the Evolver, the Bestower of Forms (or Colours). To Him belong the Most Beautiful Names: whatever is in the heavens and on earth, doth declare His Praises and Glory: and He is the Exalted in Might, the Wise. [Surah 59. Al-Hashr Ayat 22-24]

এই ফাকের মধ্যে এই শব্দ ঢুকানোর মর্যাদা কি? এখানেই আসল রহস্য। তিনি ভাল করেই জানেন ভবিষতে কেউ আসবে আর বলা শুরু করবে যে ঐ আয়াত যে আয়াতে আল্লাহ নিজেই আল কুরানের সংরক্ষক বলেছেন, সেই আয়াত ই যদি জাল হয়। তাহলে সত্য পথযাত্রীদের জন্য সত্য বের করার একটী পদ্ধতি বের করে রাখা উচিত। সূরা হাসরের আয়াত গুলিতে তিনি ঐ কাজটি-ই করেছেন। ভাল করে দেখুন, কেউ যদি আল কুরান জাল করে এই আয়াত ”আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতরণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক। (১৫:৯)” ঢুকানোর ইচ্ছা থাকে, তাহলে ডাইরেক্ট ঢুকিয়ে দিবে, কিন্তু আল্লাহর পরিচয়ের মাঝখানে the Guardian of Faith এই কথা ঢুকানোর চিন্তা মাথায় ও আসবে না, কারন যেখানে আল্লাহর পরিচয় বর্ননা করা হয়েছে, তার ফাকে মধ্যে আবার কি কাজ। তারা যত বড় বিজ্ঞানিক-ই হোক আর ধান্দা বাজই হোক না কেন, তাদের মাথায় ই এত দূর খেলবে না। এই যুক্তি তখন-ই খেলবে, যখন (১৫ঃ৯) আয়াত নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে। তারপর আরেকটি জিনিস দেখেন, বিষয়টি আল্লাহ সুবাহানাতালা উনার পরিচয়ের সাথেই তুলনা করে ফেলেছেন, উনি কে ধরতে গেলেই, বা বুঝতে গেলেই the Guardian of Faith বিষয়টি চলে আসবে। কিভাবে একটি গোল চক্র তৈরি করে রেখেছেন, যা তার নিজের পরিচয়ের ক্ষেত্রেই বসিয়ে দিয়েছেন। মানে উনাকে জানতে গেলেই এটিও জানতে হবে। এটা এমন এক কৌশল যা কোন মানুষ চাইলেও করতে পারবে না। ভাবুন, ভাবতে দোষ নেই। সহজেই এই ইংগিত বুঝতে পারবেন ইনশা-আল্লাহ।

আরো আছে , সূরা বাকারার দুই এবং তিন নম্বর আয়াত দেখেন,

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য

যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে
তিন নম্বর আয়াতে যাদের বলা হয়েছে, তারা কি বিশ্বাসীরা নয়? অবশ্য-ই, কিন্তু প্রথমেই তো আল্লাহ পাক বলে ফেলেছেন “যাতে কোনই সন্দেহ নেই”

মানে বিশ্বাসী হইতে চাইলেই, এতে কোন সংদ্ধেহ রাখা যাবে না। আল্লাহ পাক আগেই জানতেন, এ নিয়ে ঝামেলা হতে পারে, তাই আগেভাগেই সমাধান দিয়ে রেখেছেন।

তারা বলেঃ তার প্রতি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয়নি কেন? বলে দিনঃ আল্লাহ নিদর্শন অবতরণ করতে পূর্ন সক্ষম; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে (সূরাঃ ৬ আয়াত ৩৭-৩৮)

কে কি বলল তা পরের বিষয়, আল্লাহ পাক কোন বিষয় বাদ রাখেন নি। এটাই সত্য। আপনাকে এবার খুজে বের করতে হবে, কি করবেন না করবেন। চলুন দেখে নেই।

“অতপর কোন ব্যাপারে তোমরা যদি একে অপরের সাথে মতবিরোধ করো, তাহলে সে বিষয়টি (ফয়সালার জন্যে) আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহর উপর এবং শেষ বিচার দিনের উপর ঈমান এনে থাকো! (তাহলে) এই পদ্ধতীই হবে (তোমাদের বিরোধ মীমাংসার) সর্বোৎকৃষ্ট উপায় এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়সমূহের ব্যাখ্যার দিক থেকেও (এটি) হচ্ছে উত্তম পন্থা।” (সূরা নিসাঃ ৫৯)

ভাই মতের বিরুদ্ধ হলেই, আল্লাহ পাক তার এবং তার রাসূলের দিকে যাইতে বলেছেন। আবার উপরে বলেছেন, ”আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি” । অতএব তিনি যেকোন সমস্যা সমাধান আল কুরানে দিবেন না, তা কি করে হয়? (যেহেতু এখানে রাসূল ব্যাবহার করা হয়েছে, সেহেতু হাদিস ও চলে আসে)

অতএব, পৃথিবীতে যত সমস্যা আছে, বা আসবে তার সকল সমস্যার সমাধান আল কুরানে দেওয়া আছে, এখন আপনাকে বের করে নিতে হবে। এই কাজটি সব থেকে ভাল পারতেন, আমাদের প্রিয় নবী, শেষ নবী, আল্লাহ পাকের রাসূল হযরত মুহাম্মদ সঃ। আর আপনি চাইলেও তার মত পারবেন না। তবে হ্যা, আপনার জগতে নুতুন যে সমস্যা আসবে, তার সমাধান হয়ত আপনি করলেও করতে পারবেন। এ বিষয়ে আগ্রবর্তী ছিলেন আমাদের রাসূল সঃ এর সাহাবী গন। কিন্তু যে সব বিষয় রাসূল সঃ বলেগিয়েছেন তারা সেই সব বিষয়, রাসূল সঃ এর বর্নিত পন্থায় ই করে গেছেন। এখন, তাদের জমনায় কি নুতুন সমস্যা আসে নি? এসেছে এবং সমাধান ও করেছেন। এ প্রসংগে হযরত আলী রাঃ এর নাম চলে আসে, তিনি কঠিন কঠিন সমস্যার সমাধান, ডাইরেক্ট আল কুরান থেকে নিয়ে আসতেন। ইভেন মেডিকেল সাইন্সের বিষয় ও। বাচ্চা জন্মের সময়ের ব্যাপারে তিনি সমাধান নিয়ে এসেছিলেন। তিনি খলিফা রাশেদিন এর যুগে, একের পর এক সমাধান নিয়ে আসতেন। অতএব, আল কুরান যে কোন সাধারন গ্রন্থ নয়, তা আপনি বুঝতে পেরেছেন আশা করি।

তাহলে আরেক প্রশ্ন চলে আসবে, আল কুরান তাহলে খুব ই কঠিন? সবাই বুঝতে পারে না। ইত্যাদি ইত্যাদি। এ ব্যাপারটি ও আল্লাহ পাক ভাল করেই জানেন, আর আপনি কত দূর বুঝবেন, তাও তিনি ভাল করেই জানেন।

আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?(৫৪ঃ১৭)
তাহলে, আপনি যে রাসূল সঃ এর মত বুঝেন না, তাহলে কি দারাইলো। আল্লাহ পাক এ বিষয়টিও জানেন, তাই তিনি বলে দিয়েছেন,

“যে ব্যক্তি তার কাছে প্রকৃত সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধচারণ করবে এবং বিশ্বাসীদের অনুসৃত পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করবে, তাকে আমি সেই দিকেই পরিচালিত করব যেদিকে সে ধাবিত হয়েছে, তাকে আমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো, (আর) তা কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল” (সূরা নিসাঃ ১১৫)

মানে সহজ, রাসূল সঃ এবং বিশ্বাসীদের পথ কোন টি? যে পথ আমাদের অনুষরন করতে হবে। মানে সহজ রাসূল সঃ এবং তার সাহবীদের পথ। অন্য কোন পথ বা মতের কোন স্থান নেই। অনুষরন করতে গেলেই, দেখতে হবে তারা কি করেছেন? তাইতো হাদিস নিয়ে আমাদের গবেষনা করতেই হবে। জোগার করে রাখতেই হবে।

এটা আবার কিভাবে করা যাবে, এক্ষেত্রেও আপনাকে আল কুরান সাহায্য করবে, চলুন, ফারুক ভাই লা ইলাহা ইল্লালাহ মুহামাদুর রাসূল আল্লাহ কলিমা শাহাদত কেই চেল্যঞ্জ করে বসেন। আমার লেখাটি ছিল এই রকম,

আরেকটি বিষয় দেখেন যদি রাসূল সঃ এর হাদিস না শুনেন তাহলে, “লা ইলাহা ইল্লাহ মুহামাদুর রাসূলউল্লাহ” এর তাত্‌পর্যই বুঝলেন না। “লা ইলাহা ইল্লাহ” নাই কোন রব আল্লাহ ছাড়া। এখন এই আল্লহ পাক কোন্‌ আল্লাহ পাক? এজন্যই পরবর্তীতে আসতেছে, “মুহাম্মাদুর রাসূলউল্লাহ” হযরত মুহাম্মদ সঃ আল্লাহ পাকের রাসূল। মানে হইতেছে হযরত মুহাম্মদ সঃ যে আল্লাহ পাকের কথা বলতেছেন, এই আল্লাহ পাকই ঐ আল্লাহ পাক।

তার মানে হযরত মুহাম্মদ সঃ এর কথা শুনতে হবে। এ কথা মেনে নিয়েই আপনি মসুলমান হয়েছেন।

শাহাদতের ব্যাপারে অনেক অনেক হাদিস ছাড়াও, আপনি আজানের মধ্যেও শাহাদা দেখতে পাবেন। যাইহক,

সূরা কাফিরুনে আসেনঃ

বলুন, হে কাফেরকূল

আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর।

সত্যায়নঃ “লা ইলাহা”

এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি
এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।
সত্যায়নঃ ইল্লালাহ (রাসূল সঃ যার ইবাদত করেন)

তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।
সত্যায়নঃ রাসূল সঃ যার ইবাদত করেন তিনি হইতেছেন প্রকৃত আল্লাহ (পাক), মানে হইতেছে “মুহামাদুর রাসূল্লুল্লাহ”।

তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।

এই অংশটুকূ ও তুলে ধরলাম। যে বিষয়ে কথা হইতেছে, সেই বিষয়ে এটিও গুরুত্ব পূর্ন, ঝগরা বিবাত থেকে দূরে থাকার জন্য।

আমার আরো কথা ছিল, কিন্তু এখন আর পারতেছি না। তাই সূরা নাস দিয়ে শেষ করতেছি এবং বলে রাখতেছি, আল্লাহ পাক ই সব থেকে ভাল জানেন, তিনি আমাকে এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন। আমিন। (এই সূরা কোন নিয়ে কেউ আঘাত পাবেন না, আশা করি, এটি আমি দুয়া হিসাবে দিয়েছি, আল্লহ পাকের রহমতের জন্য)

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার

মানুষের অধিপতির

মানুষের মা’বুদের
তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে
জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৫৫৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)