লগইন রেজিস্ট্রেশন

মহানবী স. এর সাথে বেয়াদবী, বাড়াবাড়ি ও দলাদলী কাম্য নয়

লিখেছেন: ' guest' @ রবিবার, অক্টোবর ২১, ২০১২ (৭:০৭ অপরাহ্ণ)

ঐক্যই মুসলিম বিশ্বের প্রধান ভিত্তি। বিভিন্ন দল মত, গোত্র, বর্ণের বিভেদ মুছে দিয়ে মহানবী স. সকল মুসলমানদের একতা বাঁধনে বেঁধে ছিলেন। বলা বাহুল্য এই একতা ভিত্তি ছিল ঈমান। ঈমান যত মজবুত হবে মুসলমানদের একতার বাঁধনও তত মজবুত হবে। আর ঈমান যত দুর্বল হবে একতার বাঁধনও তত দুর্বল হবে। সাহাবাদের সময়ের ঈমান আজ অনুপস্থিত। তাই একতাও আজ নেই মুসলমানদের মাঝে অনুপস্থিত। ইসলামের নামে আজ কত দল, কত মত, কত প,থ আর কত বিভেদ। বিভেদের দেওয়াল আজ আলেমদের মাঝেও। অল্প কিছু ইসলামের নামের দল বাদে অধিকাংশ ইসলামী দলের নেতাই বেশ বড় মাপের আলেম। মাওলানা সাঈদী, মুফতি আমিনী, মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা আশরাফ, মুফতি ইজহার, চরমোনাই পীর সাহেব প্রমুখ। এঁরা সকলেই দেশ বরেন্য আলেম। কিন্তু একই দলের ব্যানারে একত্রিত হতে পারেন নি। যাই হোক এটা আজ আলোচনা করার ইচ্ছে নেই। আলোচনা করার ইচ্ছা মহানবী স. এর অবমাননা দিয়ে মুসলমানদের মধ্যে আরেক দফা দলাদলী ও রেষারেষি নিয়ে।

বিভিন্ন ইসলামী দল, ইসলামী গ্রুপ ও সংগঠন এ নিয়ে বিভিন্ন মিছিল, প্রতিবাদ সভা, আলোচনা সভা, স্মারক লিপি পেশ ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করেছে এবং এখনও করছে। কিছু কিছু নিরীহ দল ও নিরীহ মুসুল্লি আবার এসব ঝামেলায় যেতে চায় না। এদের একটা বড় উহাদরণ হল তাবলীগ জামাত। এদের কর্মকান্ড রহস্য জনক ও প্রশ্ন সাপেক্ষ। সে আলোচনায় যাচ্ছি না আপাততঃ। কিন্তু সমস্যা হল এক গ্রুপ যখন কোন একটা কর্মসূচী দেয় আরেক গ্রুপ তাতে যায় না। বরং নিজেরাই আরেকটা আয়োজন করতে আগ্রহী। এনিয়ে আবার অন্যদের অভিযোগের শেষ নেই। দেখলেন এত বড় একটা কর্মসূচী দিলাম, এত জরূরী একটা বিষয়, ঈমানী একটা ব্যাপারে অথচ অমুকে আসলো না, তমুকে আসলো না। এরা এলে আরও বড় হত বাতিল ভয় পেত ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ মুসলমানদের আবেগ নিয়েও আজ দলাদলী হচ্ছে। যে জিনিসে মুসলমানদের ঐক্য আরও ঘনীভূত হবার কথা ছিল সেখানে ফাটলই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নবীজি স. এর অবমাননা নিঃসন্দেহে একটা নিন্দনীয় ব্যাপার। আমরা এতে মর্মাহতঃ। কিন্তু এনিয়ে বাড়াবাড়ি কাম্য নয়। আমরা শুনেছি প্রতিবাদের তিনটি মাধ্যম নবীজি শিখিয়ে গেছেন। হাত দ্বারা প্রতিবাদ, মৌখিক প্রতিবাদ ও অন্তরে ঘৃণা করা। বেচারা ইহুদীর ছেলে অবমাননা করেই গা ঢাকা দিয়েছে। সামনে এসে মুখ দেখানোর জো নেই। আমি জানি না কোন মুসলমানের সামনে আসলে ওর অবস্থা কি হবে। যেহেতু পালিয়েছে তাই হাত দিয়ে বাঁধা দেয়ার আপাততঃ উপায় নেই। যদিও হাত দিয়ে বাঁধা দেয়ার উপায় শুধু মারামারি নয়। আরও উত্তম সব উপায় আছে। এবং নবীজি স. সেগুলোই ব্যবহার বেশী করেছেন। মৌখিক প্রতিবাদও আপাততঃ উপায় নেই যেহেতু লোকটি পলাতক। তবে ইতিমধ্যেই আমেরিকান সরকার ও গুগল কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ভাবে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকেই কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জাননানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার আমাদের ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। আমাদের ১৬ কোটি মানুষের পক্ষ থেকেই তাই এই দায়িত্ব আদায় হয়ে গেছে। এজন্য সকলের দরকার ছিল সরকারকে ধন্যবাদ জানানো। অথচ হয়েছে উল্টো। হরতাল ডাকা হয়েছে। হরতালে ঐ কাফেরদের কি ক্ষতি হল জানি না। কিন্তু বাংলাদেশে মহানবীর কোটি কোটি উম্মতের অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে। নেয়ামতের নাশোকরী করলে আল্লাহ তায়ালা নেয়ামত কেড়ে নেন। হতে পারে এজন্য পরে এমন সরকার আল্লাহ চাপিয়ে দিবেন যারা প্রতিবাদও করবে না। আর কোন মুসলমান আছে যে অন্তরে এই আবমননাকে ঘৃণা করে নি? অর্থাৎ নবীজি বর্ণিত তিন উপায়ের মধ্যে দুইটিই হয়ে গেছে। আরেকটি হয়নি আমাদের অপারগতার কারণে।

এরপর এনিয়ে আরও ঘাঁটাঘাঁটি করা আমি মনে করি বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন। নবীজির হাদিস তোমরা খারাপের আলোচনা কর না ভালোর আলোচনা কর। মহানবীর অবমাননার চেয়ে খারাপ আর কি হতে পারে? এর আলোচনা আর কত? আমরা যোল কোটি মানুষ কি এর প্রতিবাদ করিনি? আমাদের হৃদয়ের রক্ত কি ঝরে নি? আসলে এসব লোকদের প্রতিবাদ উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হল পানি ঘোলা করে স্বার্থ হাসিল করা। এই খারাপীর আলোচনা এখনই বন্ধ করা দরকার। না হয় মুসলমানদের ফাটলই বৃদ্ধি পাবে। দরকার নিঃস্বার্থ নবীজির আদর্শের আলোচনা ও চর্চা বাড়িয়ে দেয়া। ইনশাআল্লাহ মুসলমানদের ঐক্যই বৃদ্ধি পাবে এতে করে।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৬৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)