লগইন রেজিস্ট্রেশন

তাৎক্ষনিক রচনায় বিস্নয়কর নজরুল

লিখেছেন: ' হাফিজ' @ সোমবার, নভেম্বর ৯, ২০০৯ (১:৪৮ পূর্বাহ্ণ)

অসামান্য প্রতিভাবান কবি কাজী নজরুল ইসলাম যখন ইসলামি হামদ , নাত , গজল রচনা শুরু করলেন , তখনকার একটি ঘটনা । শিল্পী আব্বাসউদ্দিন একদিন অনকে খোজাখুজি করে নজরুলকে না পেয়ে সকালে তার বাসায় গেলেন । বাসায় গিয়ে দেখলেন নজরুল গভীর মনোযোগ দিয়ে কি যেন লিখছেন । নজরুল ইশারায় আব্বাসউদ্দিনকে বসতে বললেন । আব্বাস উদ্দিন অনকেক্ষন বসে থাকার পর জোহরের নামাজের সময় হলে তিনি উসখুস করতে লাগলেন ।

নজরুল বললেন “কি তাড়া আছে , যেতে হবে ? ”
আব্বাসউদ্দিন বললেন “ঠিক তাড়া নেই, তবে আমার জোহরের নামাজ পড়তে হবে । আর এসেছি একটা ইসলামি গজল নেবার জন্য । গজল না নিয়ে আজ যাওয়া হচ্ছে না” । [ নজরুলকে যেহেতু বাউন্ডেলে স্বভাবের কারনে পাওয়া যেত না , তাই সবাই এইভাবে লেখা আদায় করত ]

নামাজ পড়ার কথা শুনে নজরুল তাড়াতাড়ি একটি পরিস্কার চাদর তার ঘরের আলমারি থেকে বের করে বিছিয়ে দিলেন । এরপর আব্বাস উদ্দিন যথারীতি জোহেরর নামাজ শেষ করার সাথে সাথে নজরুল আব্বাসউদ্দিনের হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললেন “এই নাও তোমার গজল” ।

আব্বাস উদ্দিন বিস্নয়ের সাথে দেখলেন তার নামাজ পড়তে যে সময় লেগেছে ঠিক সেই সময়ের মধ্যে নজরুল সম্পুর্ণ একটি নতুন গজল লিখে ফেলেছে । নীচে গজলটি দেয়া হলো :


হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ
দিলাম তোমার চরণ তলে হ্রদয় জায়নামাজ

আমি গোনাহগার বে-খবর
নামাজ পড়ার নাই অবসর

তব, চরণ-ছোওয়ার এই পাপীরে কর সরফরাজ । ।
হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ । ।

তোমার অজুর পানি মোছ আমার পিরহান দিয়ে
আমার এই ঘর হউক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে ;

যে শয়তান ফন্দিতে ভাই
খোদার ডাকার সময় না পাই
সেই শয়তান থাক দূরে (শুনে ) তকবীরের আওয়াজ । ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৫৮ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৯ টি মন্তব্য

  1. নজরুল ইসলাম একজন অসামান্য প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। একথা সর্বজন স্বীকৃত। আসলে নজরুল ছিলেন স্বাভাব কবি যে কারণে পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই কবিতা রচনা করতে পারতেন। তবে একথা আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা যে নজরুল যেমন হামদ নাত লিখে গেছেন তেমনি প্রচুর হিন্দু দেবী কালীকে নিয়েও বহু শ্যামা সঙ্গীত লিখেছেন। শুধু তাই নয়। তার ছেলে বুলবুলকে হারিয়ে কবি নিজে কালী পূঁজাও করেছেন। আবার “বল বীর উন্নত মম শির, শির নেহারী নত শীর ঐ শিকল হিমাদ্রির, দ্যুলোক গোলোক ছেদিয়া উঠিয়াছি আমি বিশ্ববিদাত্রীর” নজরুল শুধু ইসলামের কল্যাণ করেনি অকল্যাণ করেছেন প্রচুর যা হাদিশ অস্বীকার কারীদের চেয়ে মারাত্বক সরাসরি আল্লাহর একত্ববাদের বিরুদ্ধে পষ্ট এবং প্রমাণিত। অথচ এই নজরুলকে নিয়ে আপনার লেখায় বেশ গর্ব প্রকাশ পায়। যাহা আহলে সুন্নাতুল জামাতের আক্বিদা বিরুধী বলে আমি মনে করি। ধন্যবাদ।

    হাফিজ

    আমি সেটা মনে করি না । কেননা একজন কবিতায় কি লিখল না লিখল সেটা আগে তার থেকে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া উচিত । তার কোনো লেখায় কিংবা প্রবন্ধে কোনো সময় পাওয়া যাবে না সে ইসলামের বিপক্ষে কিছু বলেছেন । এমন বহু মুসলমান সাহিত্যিক পাওয়া যাবে যারা উপমার আশ্রয় করে কবিতায় লিখেছে । কবিতার যেকোন সরাসরি লেখা কেউ কোনোদিন দলীল হিসেবে নেয় না ।

    পারস্যের কবি হাফিজ বলেছে “পীর সাহেব বললে জায়নামাজ সরাসরি শরাব দিয়ে রংগীন করতে” যেটা শুধুমাত্র উপমা এবং কবিতায় এটা গ্রহনযোগ্য ।

    নজরুল আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকীদার বিপক্ষে কিছু বলেছে কিনা সেটা জানার জন্য তার বক্তব্য বিচার করতে হবে । এমন কোনো বক্তব্য আপনি রেফারেন্স দিতে পারবেন ?

    নজরুলের যেটা পূজার ঘটনা পাওয়া যায় সেটা তার অসুস্হ হবার সময়কার ঘটনা যেটাকে উপজীব্য করে হিন্দুরা অনেক সময় বলে থাকে যেটার কোনোটাই গ্রহন যোগ্য নয় ।

    হাফিজ

    নজরুল শুধু ইসলামের কল্যাণ করেনি অকল্যাণ করেছেন প্রচুর যা হাদিশ অস্বীকার কারীদের চেয়ে মারাত্বক সরাসরি আল্লাহর একত্ববাদের বিরুদ্ধে পষ্ট এবং প্রমাণিত

    যেকোন একটা রেফারেন্স দেন যেটা তার বক্তব্যে আছে যে সে একত্বাবাদের বিপক্ষে বলেছেন ?

    মর্দে মুমিন

    আপনি এত জানেন এবং উনার কালী পুঁজা করার খবর রাখেন না এ এক অবাক বিষয়! শ্যামা সঙ্গীত কি একত্ববাদের প্রতিভূ?

    হাফিজ

    আমি কি বলেছি আমি কালি পূজা করার খবর রাখি না । আপনি মনে হয় না কমেন্ট ভালো করে পড়েছেন । আমার কমেন্ট দেখুন

    নজরুলের যেটা পূজার ঘটনা পাওয়া যায় সেটা তার অসুস্হ হবার সময়কার ঘটনা যেটাকে উপজীব্য করে হিন্দুরা অনেক সময় বলে থাকে যেটার কোনোটাই গ্রহন যোগ্য নয় ।

    হাফিজ

    আমি কি বলেছি আমি কালি পূজা করার খবর রাখি না । আপনি মনে হয় না কমেন্ট ভালো করে পড়েছেন । আমার কমেন্ট দেখুন

    নজরুলের যেটা পূজার ঘটনা পাওয়া যায় সেটা তার অসুস্হ হবার সময়কার ঘটনা যেটাকে উপজীব্য করে হিন্দুরা অনেক সময় বলে থাকে যেটার কোনোটাই গ্রহন যোগ্য নয় ।

    সে মানসিক ভারসাম্য হারানোর সময়কার ঘটনা তার পূজা । এটা কোনোমতেই দলীল হতে পারে না । আর এই পূজার ঘটনা আমরা শুধুমাত্র জানতে পারি হিন্দুদের থেকে । সুতরাং গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু ?

  2. ওকে। আমাকে নজরুলের শ্যামা সঙ্গীতের বই কালেকশনের জন্য আজিজ মার্কেট যেতে হবে। এখানে মূখ্য নয় নজরুল কি করেছেন শুধু তুলনা করতে আমি বলতে চাইছি কালী পূঁজা ও শ্যামা সঙ্গীত রচনা করে কবি কি আপনার দৃষ্টিতে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করেন নাই কি? এটাই ছিল আমার প্রশ্ন।

    হাফিজ

    ওকে। আমাকে নজরুলের শ্যামা সঙ্গীতের বই কালেকশনের জন্য আজিজ মার্কেট যেতে হবে।

    আমি তো স্বীকার করছি সে শ্যামা সংগীত রচনা করেছে সুতরাং আপনার কষ্ট করে আজিজ মার্কেটে যাওয়ার দরকার নাই :)

    খানে মূখ্য নয় নজরুল কি করেছেন শুধু তুলনা করতে আমি বলতে চাইছি কালী পূঁজা ও শ্যামা সঙ্গীত রচনা করে কবি কি আপনার দৃষ্টিতে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করেন নাই কি?

    কোনো কিছু শরীক করা নির্ভর করে সে কি বিশ্বাস করছে তার উপরে । সেই বিশ্বাস টা আমরা জানতে পারি তার বক্তব্যের মাধ্যমে । সে যদি এই উদ্দেশ্য লিখে থাকে যে , হিন্দু ধর্মের কালচার কি সেটা সে প্রকাশ করছে , তাহলে শিরক হবে না আর সে যদি বিশ্বাস করে দেব দেবীও স্রষ্টা তাহলে তো সেটা অবশ্যই শিরক । এমন কোনো দলীল আছে কি সে দেব দেবী স্রষ্টা হিসেবে বিশ্বাস করত ?

  3. @মর্দে মুমিন,

    আর একটা ব্যাপার …নজরুলের সাহিত্য উল্লেখ করার উদ্দেশ্য এই নয় যে , তাকে আদর্শ মুসলিম হিসেবে প্রচার করা । তার সাহিত্যের যে অংশের সাথে ইসলামের সংঘর্ষ নেই সেগুলোই আমি এখানে উল্লেখ করেছি ।

    যেমন , আমি যদি দেখি কার্লাইল, রবীন্দ্রনাথ যেকেউ ইসলামের পক্ষে কোনো লেখা লিখে গিয়েছে , তাহলে তাদেরটা আমি উল্লেখ করতে পিছপা হবো না ? যদি আমার ধারনা ভুল হয় তাহলে অবশ্যই শেয়ার করেন আপনারা ।