একটি শিক্ষনীয় ও চমকপ্রদ ঘটনা ( ইবনে হাজার আসকালানী )
লিখেছেন: ' হাফিজ' @ শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০০৯ (১:২৯ পূর্বাহ্ণ)
হযরত ইবনে হাজার আসকালানী (রহ:) যখন প্রধান বিচারপতীর পদে সমাসীন তখন একটি মজার ও শিক্ষনীয় ঘটনা ঘটে ।
একদা তিনি কায়রো শহরের যে পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন তার পাশে ছিল জনৈক ইহুদীর তেলের মিল । ক্লান্ত শ্রান্ত দেহে তিনি তেলের মিলে কাজ করছিলেন । প্রধান বিচারপতিকে পথ দিয়ে যেতে দেখে সেই ইহুদী এগিয়ে এলেন । তিনি ইবনে হাজার আসকালানীকে বললেন “আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে , প্রশ্নটি হলো আপনাদের নবী কি সত্যই বলেছেন , এ পৃথিবী মুমিন মুসলমানদের জন্য দোযখ স্বরূপ আর অবিশ্বাসীদের জন্য বেহেশত স্বরূপ ? ”
ইবনে হাজার আসকালানী (রহ:) বললেন – হ্যা তিনি ঠিকই তা বলেছেন ।
সেই ইহূদী লোকটি তখন বলল : “সেটা যদি হয়তাহলে আপনি আমাকে বলুন আপনি কোন দোযখে আছেন এবং আমি কোন বেহেশতে আছি” ।
ইবনে হাজার আসকালানী (রহ:) তৎক্ষনাৎ বললেন "আল্লাহ তা'আলা মুমিন, বিশ্বাসীদের জন্য বেহেশতে যে নেয়ামতরাজী , অফুরন্ত সুখ-শান্তি রেখেছেন তার তুলনায় এই পার্থিব জীবন বিষাদময়, দোযখ-স্বরূপ । আর অবিশ্বাসীদের জন্য যে ভয়াবহ শাস্তি , ভীতি এবং দুর্বিষহ জবীন দোযখে রয়েছে তার তুলনায় এই পৃথিবী তাদের জন্য বেহেশত-স্বরূপ ।
ইবনে হাজার আসকালানী (রহ:) এর জবাব শ্রবণ করে সাথে সাথে ইহুদি লোকটি বলল “আমি আজিই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করব, আমাকে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় দিন”
[ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ:) এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় : তিনি ছিলেন অসাধারন একজন জগত বরেন্য আলেম । তাকে মারজা আল-উলামা ( পন্ডিতদের কেন্দ্রবিন্দু , হুজ্জাতুল ফুকাহা প্রভিতি উপাধিতে ভুষিত করা হয়েছে । তার লেখা ১৫০ এর অধিক গ্রন্হের সর্বশেষ্ট ধরা হয় "ফাতহুল বারী" নামক বোখারী শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্হটিকে । ৩০ বছর পরিশ্রম করে ১২ খন্ডে তিনি কিতাবটি রচনা করেন । কায়রোর আমর ইবনে আস এবং আল আযহার মসজিদের খতিব থাকা অবস্হায় উনি এক হাজারেরও বেশী খুতবা দিয়েছেন । ৮২৭ হিজরী সনে তিনি কায়রোতে প্রধান বিচারপতীর পদে অধিষ্ঠিত হন এবং ২১ বছর কার্যক্রম পরিচালনা করেন । ]
Processing your request, Please wait....












হাফিজ ভাই বর্তমানের যুগ সমস্যার আলোকে এবং এর সমাধাণ মুলক রচনা নিয়ে আসুন। অতীত চারিতা আমাদের বর্তমানের খুব একটা কাজে আসবে কি? ধন্যবাদ।
দুটোই দরকার, বর্তমানকেও যেমন আমরা উপেক্ষা করতে পারি না আবার অতীত আদর্শকে ফেলে দিতে পারি না । এইসব কীর্তিমান পুরুষদের আদর্শকে অনুসরন করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।