সাংস্কৃতিক আগ্রাসন , চিয়ারস গার্ল এবং ফেয়ার এন্ড লাভলি প্রতিযোগিতা
লিখেছেন: ' হাফিজ' @ বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০০৯ (৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ)
সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়ে গেলো । এবার এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে প্রগতিবাদের নতুন ধারা সংযোজিত হয়েছে । খেলার পাশাপাশি মাঠের এক পাশে স্টেজ সাজানো হয়েছে যেখানে সংস্কৃতমনা, উচ্ছল , প্রানবন্দ কিছু তরুনি মাঠের দর্শকদের আনন্দ দেয়ার জন্য উগ্র কিছু পোষাক পরে নেচে , গেয়ে তাদের আনন্দ দেয়ার মহান ব্রতে নিয়োজিত ছিল । ক্রিকেট সস্তা নাকি এইসব তরুনীরা সস্তা ? ক্রিকেটের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাবার কারনে এদেরকে প্রডাক্ট হিসেবে প্রদর্শন করানো হয়েছে নাকি উল্টোটা । এইসব তরুনীরা সস্তা হয়ে গেছে দেখে ক্রিকেট খেলা সামনে রেখে কোনোমতে তাদেরকে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে ?
সবার উদ্দেশ্য আমার কিছু প্রশ্ন :
১) যারা এটাকি সাপোর্ট করেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন । প্রতিটি কাজের কিছু উদ্দেশ্য থাকে । এগুলোর উদ্দেশ্য কি ?
২) যদি আপনার কাছে এই কাজটিকে সুরুচির মনে হয়, তাহলে আপনি কি কল্পনা করতে পারবেন আপনার মা কিংবা বোন এই জায়গায় থাকুক ? ঠিক এই পজিশনে এমন উগ্র , অর্ধ উলংগ সাজে তারা স্টেজে আসুক আপনি কি চান ? তাদের আসা যদি আপনার খারাপ লাগে তাহলে ধরতে হবে এই কাজটি আসলেই আপনার আমার জন্য শোভন নয় ।
৩) যারা এই সব পেশায় নিয়োজিত , অর্থ্যাৎ দর্শকদের মন মাতানোর জন্য যেসব তরুনী শরীর দেখিয়ে বেড়ায়, আপনি কি চান আপনার সন্তান সেই পেশায় নিয়োজিত থাকুক ? অবশ্যই আপনি চান না । তাহলে এসব দেখে আপনার সন্তান যে ভবিষ্যতে উৎসাহী হবে না সেটা কি আপনি বলতে পারেন ?
৪) সুইডেনের একটি কম্পানি গবেষনা করে দেখেছে সবচেয়ে বেশী ডাইভোর্ষ ( Divorce) সংখ্যা যারা মডেলিং এর সাথে জড়িত তাদের মধ্যে , সবচেয়ে বেশী সাংসারিক অশান্তিতে ভোগে তারা । তাহলে এদেরকে কেনো আমরা প্রমোট করছি ?
ফেয়ার এন্ড লাভলী নামে যেসব অর্ধ-নগ্ন মেয়ে সারা বাংলাদেশে মিডিয়ার মাধ্যমে নারী জাতির অপমান করে গেলো , শুধু তারাই দায়ী নাকি আরো যারা করপোরেট গ্রুপের হোমড়া চোমড়া এগুলোকে প্রমোট করছে তারাও দায়ী ?
ল্যাপটোপ প্রদর্শনীর নামে যেসব মেয়ে ল্যাপটোপ হাতে নিয়ে দাড়িয়ে থাকে , আমরা কি তাদের কিনছি নাকি ল্যাপটোপ কিনছি । মডেলদের দেখিয়ে , তরুনদের মোহিত করে আমরা বিক্রি করছি ল্যাপটপ সেটা কি হিপোক্রেসী নয় ?
আমাদের এখনি সোচ্চার হতে হবে , আর তা না হলে একদিন পাশ্চাত্যের মতো ধীরে ধীরে আমাদের সামাজিক বন্ধন ধুলোর সাথে মিশে যাবে ।
Processing your request, Please wait....












ভাল পোষ্ট সহমত। মাছের লেজ থেকে পচন শুরু হয় আর সমাজ আর দেশের পচন মাথা থেকে। এখন করনিয়টা কি বলবেন কি?
আমার মতে প্রথমে আমাদের নিজেদের পর্দা করা উচিত, স্বামী স্ত্রী আত্নিয় স্বজনদের মধ্যে হিজাবের গুরুত্ব এবং বেহায়াপনার খারাপ দিকগুলো তুলে ধরা উচিত । আর খেয়াল রাখা উচিত সন্তানরা যেন এগুলোতে গা ভাসিয়ে না দেয় । এগুলো আমার মত, আপনার আরো সুচিন্তিত মতামত দিলে ভালো হয় ।
আমি মনে করি আমরা কোন বিচ্ছিন্ন জগতে বাস করিনা এবং ব্রিটিশ আমলও নয়। আমাদের সন্তানরা বাস করছে গ্লোবাল ভলেজে এবং ২১ শতাব্দিতে তাই আপনার বর্ণিত পদ্ধতির সাথে সাথে যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেমন- গানের বিপরীতে গান দিয়ে প্রটেকশন দিতে হবে, তেমনি সিনেমা , নাটক, কার্টুন বিনোদনের প্রতিটি সেক্টরে আমাদের সন্তানদেরকে আমাদের চেতনার আলোকে শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে ডিফেন্স নিতে হবে। ধর্মান্ধতা না শিখিয়ে মানব প্রেম শিক্ষা দিতে হবে। আফগান, পাকিস্থান, সৌদি ইসলাম নয় । কোরান ও সুন্নাহ মোতাবেক ২১ শতকি ইসলাম শিখাতে হবে।
আমাদের সবার উদ্দেশ্য সুন্দর একটি ইসলামি সমাজ গড়ে তোলা, সবাইকে মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
আমি একটা বিষয় কিছুতেই বুঝতে পারিনা যখন নারীরা নারী অধিকার নারী অধিকার করে চিল্লায় তখন তাদের সাথে কিছু পুরুষরাও গলা মেলায়। ভালো কিন্তু যখন এসব করা হয় তখন এসব নারী সংগঠন কেন প্রতিবাদ করে না। তারা তখন কোথায় যায়?
আর যেসব নারীরা এতে Participate করে তারা কি ধরনের মনমনসিকতার ? তারা কি নিজের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন নয়?
আর বাংলাদেশের সরকারই বা কিরকম এতা করার অনুমতি দেয় কিভাবে?
ভাই সরকারের কোনো দোষ নেই, আমার মতে । কেননা জনগন যেটা চায় সরকার সেটাই সাপোর্ট করে । দোষ আমাদের । আমাদের জনমত তৈরী করা উচিত এবং এই প্রজন্মকে সাবধান করা উচিত ।
agree 50%.
A good leader can also steer the direction of the nation by creating better consensus.
আমাদের এইসবের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে।